সিকিম

ভালো লেগেছে
9
Ratings
রেটিংস ( রিভিউ)

ভারতের উত্তর পূর্বে অবস্থিত দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম রাজ্য সিকিম (Sikkim) প্রকৃতি প্রেমিকদের কাছে এক স্বর্গ যার দক্ষিণ দিক ঘেরা আছে পশ্চিমবঙ্গ দ্বারা, দক্ষিণ-পূর্ব দিকে ভূটান, পশ্চিমদিকে নেপাল এবং উত্তর-পূর্ব দিকে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত। সুন্দর পাহাড়, গভীর উপত্যকা এবং জীব বৈচিত্র্যে ভরা সিকিম পর্যটকদের কাছে একটি অতি পছন্দের জায়গা। গ্যাংটক এই রাজ্যের রাজধানীসহ সিকিমের বৃহত্তম শহর হিসাবেও পরিচিত এবং এটি শিবালিক পর্বতের উপরে ৫৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত। মোট ৬ লাখেরও বেশি জনসংখ্যা সহ সিকিমের মোট আয়তন হল মোটমুটি প্রায় ৭০০০ বর্গ কিলোমিটার। রাজ্যের অধিকাংশ এলাকা পার্বত্যময় হওয়ায় সিকিমে গ্রীষ্মকালে বেশ দারুন একটা আবহাওয়া বিরাজ করে, তাপমাত্রা ২৮ ডিগ্রীর বেশি অতিক্রম করে না। অন্যদিকে শীতকালে তাপমাত্রা হিমাঙ্কেরও নীচে নেমে যাওয়ার কারণে এখানকার বাসিন্দারা মেরুদন্ড শিহরিত কম্পন অনুভব করে। ১৯৭৫ সালে সিকিম, ভারতের একটি অংশ হয়ে ওঠে এবং তারপর থেকে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিকাঠামো, দেশের বাকি রাজ্যগুলির মতোই মেনে চলে। সঠিক নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত ৩২ জন সদস্যকে নিয়ে এখানকার বিধানসভা পরিষদ গঠিত।

ভারতের প্রথম রাজ্য হিসেবে সিকিমকে রাসায়নিক মুক্ত বা অর্গানিক রাজ্য হিসেবে ঘোষনা করা হয়েছে ২০১৬ সালে। সিকিমে চাষবাসে কীটনাশকের ব্যবহার রীতিমত অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। কেউ জমিতে কীটনাশক ব্যবহার করলে এক হাজার চারশো ডলার বা সমপরিমাণ পর্যন্ত অর্থ জরিমানা হতে পারে। এমনকি জেল হতে পারে প্রায় তিন মাসের জন্য।

সিকিমের পূর্ব থেকে পশ্চিম, উত্তর থেকে দক্ষিণ সমস্তটাই বৈচিত্র্যময়। পাহাড়-পর্বত, পাহাড়ি ঝর্ণা, ঔষধি গাছের জঙ্গল, ঘন বন, সবকিছু মিলিয়ে এক আলাদা মাত্রা পায়ে সিকিম। সিকিম প্রদেশটিতে চারটি জেলায় বিভক্ত। উত্তর সিকিম, পূর্ব সিকিম, দক্ষিণ সিকিম এবং পশ্চিম সিকিম। চলুন দেখে নেই প্রতেকটি জেলার গুরুত্ত্বপূর্ণ স্থানসমূহ যেখানে ঘুরতে না গেলেই নয়।

সিকিম এর দর্শনীয় স্থানগুলো

উত্তর সিকিম

সিঙ্গিক, লাচুং, ইয়ুমথাং, কাটাও, কালা পাত্থার, জিরো পয়েন্ট, লাচেন, গুরুদংমার লেক। বাংলাদেশীরা কাটাও, গুরুদংমার, জিরো পয়েন্ট এর পারমিশন পাবেন না।

পূর্ব সিকিম

ঋষিখোলা, আরিতার, জুলুক, নাথাং ভ্যালি, কুপাপ লেক, সাজং, নাথুলা, ছাঙ্গু লেক, গ্যাংটক। বাংলাদেশী সহ বিদেশীরা নাথুলা এর পারমিশন পাবেন না।

দক্ষিণ সিকিম

নামচি, সিকিপ, টেমি টি গার্ডেন, সামদ্রূপটসে, রাবাংলা, বোরং, রিনচেনপং, কালুক।

পশ্চিম সিকিম

পেলিং, ভার্সে, ওখড়ে, গেজিং, উত্তরে, সিংসর ব্রিজ, হি-বারমিওক, ইউকসম, রিনচেনপং, কাঞ্চনজঙ্ঘা ফলস, খেছিপরি লেক

সিকিম এ তিনটে জায়গা খুব গুরুত্বপূর্ণ – 

  • এক নাম্বার জায়গাটি হলো সিংতাম। এখান থেকে পূর্ব (গ্যাংটক ) আর উত্তর (মঙ্গন) সিকিম এর রাস্তা আলাদা হয়।
  • দুই নাম্বার জায়গাটি হলো জোরথাং। এখান থেকে পশ্চিম (পেলিং) আর দক্ষিণ (রাবাংলা) সিকিম এর রাস্তা আলাদা হয়। পশ্চিম সিকিমের যাওয়ার প্রধান পথই হলো জোড়থাং। জোড়থাং থেকে পশ্চিম সিকিমের সমস্ত জায়গার শেয়ার গাড়ী মেলে।
  • তিন নাম্বার জায়গাটি হলো লেগশিপ। এখান থেকে পশ্চিম (পেলিং), দক্ষিণ (জোরথাং) ও পূর্ব (রাবাংলা হয়ে গ্যাংটক) সিকিম যাওয়া যায়।

সিকিম ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

উত্তর সিকিম যাওয়ার সময় হলো সেপ্টেম্বর শেষ থেকে নভেম্বর এবং ফেব্রুয়ারী শেষ থেকে মে। এর আগে-পরে গেলে বরফে রাস্তা বন্ধ থাকার সম্ভাবনা থাকবে। এছাড়া উত্তর সিকিম খুব ধস প্রবন এলাকা, তাই বছরের যে কোনো সময়ই রাস্তা বন্ধ থাকতে পারে। দক্ষিণ ও পশ্চিম সিকিম সারা বছরই যাওয়া যায়, তবে বর্ষায় কোনো কোনো জায়গা যেতে সমস্যা হতে পারে। পূর্ব সিকিম এ জুলুক ও নাথাং ভ্যালি এবং ছাঙ্গু লেক সহ বাবমন্দির/নাথুলা যেতে গেলে সেপ্টেম্বর শেষ থেকে নভেম্বর এবং ফেব্রুয়ারী শেষ থেকে মে এর মধ্যে যাওয়াই ভালো। গ্যাংটক যে কোনো সময়ই যাওয়া যায়।

সিকিম কিভাবে যাবেন

এনজেপি স্টেশন বা বাগডোগরা এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি বা শেয়ার জিপ মেলে গ্যাংটক যাওয়ার জন্য। দু’ জায়গাতেই প্রিপেড ট্যাক্সি পাওয়া যায়। চেষ্টা করবেন সিকিম রেজিস্ট্রেশনের গাড়ি নিতে। ওয়েস্ট বেঙ্গল রেজিস্ট্রেশনের গাড়ি নিলে সেই গাড়ি নামিয়ে দেবে গ্যাংটক সিটি সেন্টারের ২ কিমি নীচে দেওরালিতে। সেখান থেকে লোক্যাল ট্যাক্সি নিয়ে হোটেলে পৌঁছোতে হবে।

এছাড়া সিকিম ন্যাশনালাইজড ট্রান্সপোর্টের (SNT) বাস চলাচল করে শিলিগুড়ি-গ্যাংটক রুটে। এনজেপি স্টেশন থেকে অটো ধরে চলে আসুন শিলিগুড়ির হিলকার্ট রোডে, তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনালের পাশে এসএনটি বাসস্ট্যান্ডে।

চাইলে কলকাতা থেকে বিমানে পাকিয়ং যেতে পারেন। পাকিয়ং থেকে জীপে গ্যাংটক।

আসলে সিকিমে ঢোকার অনেকগুলো রাস্তা রয়েছে। আপনার ট্যুর প্ল্যানের উপর ডিপেন্ড করে আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন দিক দিয়ে সিকিমে ঢুকবেন।

সিকিম এর রেস্ট্রিকটেড এরিয়া কোনগুলো এবং পারমিট পাবার উপায় জেনে নিন

সিকিম ভ্রমণে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য যা মনে রাখা আবশ্যক

  • গ্যাংটকে রোপওয়ে চালু থাকে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টে পর্যন্ত।
  • নাথুলা ও নর্থ সিকিম ভ্রমণে সিকিমের পর্যটন ও অসামরিক পরিবহণ দফতরের ছাড়পত্র সংগ্রহ করতে হবে। কোনো রেজিস্টার্ড ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। অনুমতিপত্রের জন্য ফোটো আইডি এবং দু’টি পাসপোর্ট সাইজের ছবি লাগবে। সরকার অনুমোদিত যে সব ট্রাভেল এজেন্ট অনুমতিপত্র সংগ্রহে সাহায্য করতে পারেন তাদের তালিকার জন্য দেখুন:
    www.sikkimtourism.gov.in/Webforms/General/TATO/TATO_List.aspx
  • নাথুলা যাওয়া যায় বুধবার থেকে রবিবার।
  •  নর্থ সিকিম ভ্রমণসূচিতে কাটাও থাকে না। সময় থাকলে গাড়ির ড্রাইভারদের অতিরিক্ত টাকা দিলে তাঁরা সানন্দে কাটাও নিয়ে যান। বাংলাদেশীদের জন্যে এটা নয়।
  • গ্যাংটকের সব সার্বজনীন এলাকায় ধূমপান, আবর্জনা ছড়ানো এবং থুথু ফেলা আইনত অনুমোদিত নয়।
  • সিকিমে বিদেশীদের জন্য অবাধ প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে। তাদেরকে একটি সংরক্ষিত অঞ্চলের অনুমতিপত্র বা আর.এ.পি. নিয়ে যেতে হয়। এখানে প্রবেশ বিনামূল্যে এবং শুধুমাত্র একটি বৈধ পাসপোর্ট এবং একটি ভারতীয় ভিসা প্রয়োজন।
  • নির্দিষ্ট কিছু এলাকায়, বিশেষ করে সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায়, বিদেশীদের প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয় না। যেমন নাথুলা পাস, জিরো পয়েন্ট এসব এলাকায় বিদেশীদের প্রবেশ নিষেধ।
  • সিকিমে কিন্তু আধার চলে না, পার্মিট করতে হলে ভোটার কার্ড অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে (ভারতীয়দের জন্যে প্রযোজ্য)।
  • 884
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    884
    Shares
দিক নির্দেশনা

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending

  1. যারা বৃষ্টিতে পাহাড়ে যেতে ভয় পান, তাদের না যাওয়াই ভালো। কিন্তু যারা প্রকৃতিকে বৃষ্টিভেজা দিনে উপভোগ করতে চান তারা অবশ্যই যান। এ অনুভুতি কোন দিন ভুলতে পারবেন না।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  2. এক ছুট্টে পাহাড়ের মধ্যে হারিয়ে যেতে চাইলে সিকিম হলো অনন্য এবং অদ্বিতীয়। আঁকাবাঁকা রাস্তা দিয়ে সবুজ পাহাড়ের বুক চিড়ে, পাহাড়ের কোলে নিশ্চিন্তে দুদণ্ড কাটাতে চাইলে সিকিম! মন মোড় মেঘের সঙ্গী হতে চাইলে সিকিম! রং বেরঙের হরেকরকম ফুলের মাঝে মন-প্রজাপতি ডানাদুটো মিলতে চাইলে, সব পিছুটানকে উপেক্ষা করে পারি দিতে হবে সিকিমে! মেঘবৃষ্টির মধ্যে মনকে ভেজাতে হলে যেতে হবে সিকিম!

    সারাটাদিন বৃষ্টিস্নাত হওয়ার পর ঝকঝকে আকাশে, এক আকাশ তারা, আর ঐ সামনের পাহাড়গুলোয় আলেয়ার মতো আলোর স্তূপের মধ্যে নির্ভেজাল জমাটি আড্ডা দিতে চাইলে, অবশ্যই যেতে হবে সিকিম! আর ঠিক এমন একটা সন্ধ্যে কাটানোর পর, পরদিন সকালে হাতের নাগালে, ঠিক একটা পাহাড় পরে হাতের মুঠোয় কাঞ্চনজঙ্ঘাকে পেতে হলে, সব দ্বিধা দ্বন্দ্ব কাটিয়ে যেতে হবে সিকিম! সবশেষে বলতে হয়, নিজের সঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রেমে নতুন করে পড়তে হলে যেতে হবে সিকিম!

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  3. অপূর্ব জায়গা এই সিকিম। নর্থ, সাউথ, ইস্ট, ওয়েস্ট যে দিকেই যান, এক এক দিক এক এক রকম। সব জায়গাগুলোই অতুলনীয়। তবে খুব কমপক্ষে চারবার না গেলে সিকিম এর সব জায়গা দেখা যায় না। আর যতবার যাওয়া হয় ততবারই সমান ভালো লাগে, আর আবার যাওয়ার আশা জেগে থাকে। আমার তিনবার হয়েছে যাওয়া, তাও মনে হয় কিছুই দেখা হয়নি। এবার গেলাম সিলারীগাঁও সিল্ক রুট। উফফফফ, কি যে দেখলাম জন্ম জন্মান্তরেও ভুলিব না!

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  4. সিকিম এক কথায় অনবদ্য, ওখানকার মানুষের ব্যবহার সত্যি খুব ভালো। ওখানকার পরিবেশ আপনার চোখ জুরানোর জন্য যথেষ্ট। ১ সপ্তাহের জন্য কোন জায়গায় ঘুরে আসতে ইচ্ছে করলে সিকিম আপনার জন্য পারফেক্ট..!!!

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  5. পাহাড় আমার সবসময়ই প্রিয় আর তাই এই নিয়ে ২ বার সিকিম যাওয়া। তবে সিকিম এমন এক জায়গা যেখানে ১০০০ বার গেলেও মন ভরবে না। তাই আবার সুযোগ পেলেই ছুটব। স্বর্গ দেখিনি কিন্তু স্বর্গের থেকে কম হবে না নিশ্চিত। শেষে একটা কথা বলবো, ভারতবর্ষ নিখুঁত ভাবে ঘুরলে আর বিদেশ ঘোরার দরকার পড়ে না, যদিও এটা সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব বক্তব্য। ঘুরে আসুন সিকিম, প্রাণ খুলে কিছুদিন এই দূষণ থেকে গিয়ে নতুন ভাবে নিশ্বাস নিয়ে আসুন।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না