বাংলাদেশ · গন্তব্য

শ্রীমঙ্গল

২১টি দর্শনীয় স্থানের গাইড

Explore

দর্শনীয় স্থানসমূহ

ছবি, গল্প আর দিকনির্দেশ — প্রতিটি স্থানের বিস্তারিত গাইড।

মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জি

বাংলাদেশের চা-বাগানের রাজধানী শ্রীমঙ্গল শুধু চা-বাগানেই নয়, তার বৈচিত্র্যময় পাহাড়ি সংস্কৃতিতেও সমৃদ্ধ। শ্রীমঙ্গল শহরের কাছেই অবস্থিত মাগুরছড়া খাসিয়াপুঞ্জি (Magurchara…

চামুং রেস্টুরেন্ট

বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল ভ্রমণকারীদের কাছে সবসময়ই আকর্ষণীয়। সবুজ পাহাড়, চা-বাগান আর ঝর্ণার পাশাপাশি এখানে খাবারের স্বাদও সমানভাবে…

রাবার বাগান

সিলেটে বিভাগের অধীনে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল, বাংলাদেশের চা-বাগানের রাজধানী হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সবুজের এই নগরী শুধু চায়ের জন্যই…

ভাড়াউড়া লেক

ভাড়াউড়া লেক (Bharaura Lake) মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের ভাড়াউড়া চা-বাগানের ভেতর শংকরটিলায় অবস্থান যেখানে রয়েছে জলপদ্মের মেলা। ভাড়াউড়া লেকের…

Travel notes

যাত্রা ও তথ্য

সড়ক, নৌপথ, ভাড়া আর স্থানীয় টিপস — এক জায়গায়।

পরিবার পরিজন নিয়ে নিরিরিলি চা বাগানের সান্নিধ্যে ২-৩ দিন বেড়ানোর জন্য চমৎকার জায়গা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা। যতদূর চোখ যায় কেবল সবুজের হাতছানি। চা বাগানের সারি সারি টিলা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর ঘন সবুজ অরণ্যের অপরূপ সৌন্দর্য। এ নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য আর সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে বেড়ানো যায় বারো মাসজুড়েই। এখানে যেমন রয়েছে বনভূমি, তেমনি রয়েছে হাওর আর বিল। পাশাপাশি আদিবাসী খাসিয়া, মণিপুরী, গারো, টিপরা-এদের বাড়িঘরও রয়েছে। চা শিল্পের জন্য শ্রীমঙ্গলের সুনাম ও পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। ৪২৫ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ জনপদের সাথে রেল ও সড়কপথে যোগাযোগ রয়েছে সারাদেশের। চা, রাবার, লেবু, পান, আনারস ও মূল্যবান কাঠের জন্য শ্রীমঙ্গলের খ্যাতি ব্যাপক। দেশি-বিদেশি পর্যটকের পদভারে সারাবছর মুখরিত থাকে।

শ্রীমঙ্গলের দর্শনীয় স্থান

শ্রীমঙ্গলের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – বাইক্কা বিল, মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, হামহাম জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, নীলকণ্ঠের সাত রংয়ের চা, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, ৭১’এর বধ্যভূমি, দৃষ্টিনন্দন জান্নাতুল ফেরদৌস মসজিদ, শিতেস বাবুর চিরিয়াখানা, চা গবেষণা কেন্দ্র, চা জাদুঘর প্রভৃতি।

এছাড়াও হাতে সময় থাকলে দেখতে পারেন বিভিন্ন পাহাড়-টিলাঘেরা সবুজ চা বাগান, খাসিয়া পল্লী, সিমেট্রি, হরিণছড়া গলফ মাঠ, চা কণ্যা ভাষ্কর্য, নিমাই শিববাড়ী মন্দির, লালটিলা মন্দির, মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জি, শিল্পকলা সমৃদ্ধ মণিপুরীসহ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান, বর্ষীজোড়া ইকোপার্কসহ প্রত্যক্ষ করতে পারবেন স্থানীয় উপজাতিদের জীবনধারা ও সংস্কৃতি।

শ্রীমঙ্গল যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে রেল কিংবা সড়ক পথে সরাসরি শ্রীমঙ্গল যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সিলেট এক্সপ্রেস ইত্যাদি পরিবহনের নন এসি বাস যায় শ্রীমঙ্গল। ভাড়া সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ টাকা।

ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সপ্তাহের মঙ্গলবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস, প্রতিদিন দুপুর ১২টায় জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস, শুক্রবার ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৪টায় কালনী এক্সপ্রেস, বুধবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টা ৫০ মিনিটে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল অথবা কুলাউড়া নামা যায়।

ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলের ভাড়া শোভন ২শ’ টাকা। শোভন চেয়ার ২৪০ টাকা, প্রথম চেয়ার ৩২০ টাকা, প্রথম শ্রেণি বার্থ ৪৮০ টাকা, স্নিগ্ধা ৪৬০ টাকা, এসি সিট ৫৫২ টাকা, এসি বার্থ ৮২৮ টাকা।

এছাড়া চট্টগ্রাম থেকেও সরাসরি ট্রেনে যাওয়া যায় মৌলভী বাজারের শ্রীমঙ্গল কিংবা কুলাউড়া। চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে সোমবার ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং শনিবার ছাড়া প্রতিদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন স্টেশন দুটিতে নামা যায়।

শ্রীমঙ্গল থেকে থেকে শনিবার ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ১২টা ৫৮ মিনিটে পাহাড়িকা এক্সপ্রেস এবং রোববার ছাড়া প্রতিদিন রাত ১১টা ২৪ মিনিটে উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

ঢাকার ফকিরাপুল ও সায়দাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সিলেট এক্সপ্রেস, সৌদিয়া পরিবহনের নন এসি বাস শ্রীমঙ্গল হয়ে মৌলভী বাজার। ভাড়া নন এসি বাসে সাড়ে ৩শ’ থেকে ৩৮০ টাকা।

শ্রীমঙ্গল থেকে সিএনজি, বাস, অটোরিকশায়, ট্যাক্সি করে পর্যটন স্পটগুলোয় যাওয়া যায়। প্রতিটি পর্যটন স্পটে পর্যটন গাইডও রয়েছে।