অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি
হেমন্ত ও শীতকাল
- প্রাচীন গড় ও দিঘীর পাড়ে হাঁটার জন্য শুকনো পথ
- অক্টোবর–নভেম্বরে মেঘমুক্ত আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ
- জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতে তেঁতুলিয়ায় টিউলিপ ফুলের মৌসুম
পঞ্চগড়ের প্রাচীন ভিতরগড় দুর্গ নগরীর উৎখননকৃত প্রাচীন ইটের স্থাপনা। ছবি: Najmul Huda, উইকিমিডিয়া কমন্স, CC BY-SA 4.0।
প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে বড় দুর্গনগরীর খোঁজ পেতে চাইলে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের ভিতরগড় দুর্গ নগরী (Bhitar Garh) ঘুরে আসুন। চার স্তরের সুবিশাল প্রতিরক্ষা প্রাচীর, পরিখা আর ৫৩ একরের স্বচ্ছ জলের মহারাজার দিঘী মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজার বছরের পুরনো এই নগরীর ধ্বংসাবশেষ ইতিহাসপ্রেমী যেকোনো ভ্রমণকারীর মনে দাগ কাটবে।
ভিতরগড় পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা এলাকায় অবস্থিত। প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এই প্রত্নস্থলটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ দুর্গনগরী হিসেবে পরিচিত। পঞ্চগড় ভ্রমণে এলে পঞ্চগড় থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা আর তেঁতুলিয়ার চা বাগান ঘোরার পাশাপাশি এই প্রাচীন রাজধানীটি সহজেই আপনার তালিকায় রাখতে পারেন।
| অবস্থান | অমরখানা ইউনিয়ন, পঞ্চগড় সদর (জেলা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিমি উত্তর-পূর্বে) |
| জায়গার ধরন | প্রাচীন দুর্গনগরী ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন |
| আয়তন ও সময়কাল | প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার; আনুমানিক ৬ষ্ঠ–৭ম শতকে গড়ে ওঠা স্বাধীন নগররাষ্ট্র |
| প্রধান আকর্ষণ | চার স্তরের গড় ও পরিখা, ৫৩ একরের মহারাজার দিঘী, দশটি বাঁধানো ঘাট ও উৎখননকৃত প্রাচীন মন্দির-স্তূপ |
| যাওয়ার উপযুক্ত সময় | দিনের আলোতে, সকাল থেকে বিকেল (সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সন্ধ্যার আগে ফেরা ভালো) |
| ঘুরতে সময় রাখুন | প্রায় দেড় থেকে ২ ঘণ্টা |
| প্রবেশমূল্য | কোনো টিকিট লাগে না; উন্মুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা |
ভিতরগড় দুর্গনগরীর দ্বিতীয় আবেষ্টনীর ভেতরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ বিশাল ‘মহারাজার দিঘী’। প্রায় ৫৩ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই প্রাচীন দিঘীর চারপাশে ইট ও মাটি দিয়ে তৈরি প্রায় ৬ মিটার উঁচু পাড় রয়েছে। পাড়সহ দিঘীটি উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ৩৭৬ মিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৬৯১ মিটার দীর্ঘ। এর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে তিনটি করে এবং উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ে দুটি করে মোট ১০টি ইট-বাঁধানো প্রাচীন ঘাটের চিহ্ন দেখা যায়। গভীর ও স্বচ্ছ পানির এই দিঘীর পাড়ে দাঁড়ালে প্রাচীন রাজত্বের বিশালতা সহজেই অনুভব করা যায়।
ভিতরগড়ের সবচেয়ে অনন্য বৈশিষ্ট্য এর চারটি ক্রমিক আবেষ্টনী (দেয়াল) ও পরিখা—একটির ভেতরে আরেকটি। প্রথম ও দ্বিতীয় আবেষ্টনীর দেয়াল ইটের তৈরি এবং বাইরের দিকে বুরুজযুক্ত; তৃতীয় ও চতুর্থ আবেষ্টনী মূলত মাটির গড়। ২০০৮ সাল থেকে প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখননে প্রথম আবেষ্টনীর ভেতরে একটি ক্রুশাকৃতির মন্দির এবং স্তম্ভযুক্ত বারান্দাসহ পিরামিডাকৃতির একটি স্তূপের ভিত্তি আবিষ্কৃত হয়েছে। এছাড়া তালমা ও শালমারা নদীর পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রাচীন আমলে নির্মিত পাথরের বাঁধ (বীর বাঁধ, পাথরঘাটা ও দোমনী), ফুলপুকুরী, কোদালধোয়া, মলানী ও সিঙ্গারী দিঘী এবং চতুর্থ আবেষ্টনীর দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের ছোট দুর্গ ‘ধুমগড়’ ঘুরে দেখতে পারেন। এখান থেকে পাওয়া কালো পাথরের মনসা মূর্তির ভগ্নাংশসহ নানা প্রত্নবস্তু বর্তমানে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের রকস মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।
স্থানীয় জনশ্রুতি ও ১৮০৯ সালে ফ্রান্সিস বুকাননের জরিপ অনুযায়ী, ভিতরগড় ছিল ‘মহারাজা’ নামে পরিচিত পৃথু রাজার রাজধানী। কথিত আছে, কিচক নামের এক বহিরাগত জনগোষ্ঠীর আক্রমণে পরাজয় আসন্ন দেখে পৃথু রাজা নিজের মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষায় পরিবার-পরিজন ও রক্ষীবাহিনীসহ মহারাজার দিঘীর জলে আত্মাহুতি দেন। ঐতিহাসিকদের মতে, ৬ষ্ঠ শতকের শেষভাগে বা ৭ম শতকের শুরুতে প্রাচীন বাণিজ্য সড়ক ও নদীপথের ওপর একটি সার্বভৌম নগররাষ্ট্র হিসেবে ভিতরগড় গড়ে ওঠে, যার সঙ্গে নেপাল, ভুটান, সিকিম, তিব্বত, আসাম ও বিহারের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল।
পরবর্তী সময়ে পাল শাসনামল, ১২৫৭ সালে সুলতান মুঘিসউদ্দীনের কামরূপ অভিযান, ১৪৫৮ সালে সুলতান হোসেন শাহের শাসন এবং ১৬শ শতকে কোচ রাজবংশের ইতিহাসের সঙ্গেও এই অঞ্চলের নাম জড়িয়ে আছে। দুর্গের বাইরের আবেষ্টনীর উত্তরাংশ বর্তমানে ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার ভেতরে পড়েছে। ২০০৮ সাল থেকে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুসনে জাহানের নেতৃত্বে এখানে ধারাবাহিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা ও খননকাজ পরিচালিত হয়। খননে আটটি স্থাপনার ভিত্তির পাশাপাশি দেড় হাজার বছরের পুরনো মৃৎপাত্র, মাটির প্রদীপ, পোড়ামাটির পুঁতি এবং তামা ও লোহার সামগ্রী পাওয়া গেছে।
ভিতরগড় কোনো ঘেরা জাদুঘর বা পার্ক নয়—প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে থাকা গ্রামীণ জনপদ, চা-বাগান ও ফসলি জমির ভেতরে এর প্রাচীন দেয়াল ও ঢিবিগুলো অবস্থান করছে। তাই প্রথমে সরাসরি ‘মহারাজার দিঘী’কে কেন্দ্র করে ভ্রমণ শুরু করলে আশপাশের গড় ও উৎখননস্থলগুলো খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। উত্তর ও পূর্ব দিকের অংশ ভারতীয় সীমান্তের খুব কাছে হওয়ায় সীমান্ত পিলারের কাছাকাছি যাবেন না এবং বিকেলের মধ্যেই মূল সড়কে ফিরে আসুন। প্রাচীন ঢিবি থেকে ইট খোলা বা দেয়ালে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
সড়কপথে যমুনা সেতু হয়ে ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ের দূরত্ব প্রায় ৪১২–৪৩৮ কিলোমিটার। ঢাকার গাবতলী, মাজার রোড, শ্যামলী, কল্যাণপুর ও আব্দুল্লাহপুর থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, নাবিল পরিবহন ও শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের এসি ও নন-এসি বাস প্রতিদিন চলাচল করে; সময় লাগে সাড়ে ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা। বিআরটিএর সেপ্টেম্বর ২০২৬ তালিকায় গাবতলী–পঞ্চগড় রুটে নন-এসি বাসের সরকারি ভাড়া ৫১ আসনে ১,০৭৯ টাকা ও ৪০ আসনে ১,৩৭৬ টাকা (কাউন্টারে সাধারণত নন-এসি ১,১০০–১,২০০ টাকা এবং এসি ১,৫০০–২,২০০ টাকা নেওয়া হয়)।
ট্রেনে যেতে চাইলে ঢাকার কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশন থেকে পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত প্রতিদিন তিনটি আন্তঃনগর ট্রেন চলে—একতা এক্সপ্রেস (৭০৫) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে রাত ৯টায় পৌঁছায়, দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৭) রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে পৌঁছায় এবং পঞ্চগড় এক্সপ্রেস (৭৯৩) রাত ১১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে পৌঁছায়। ফেরার পথে পঞ্চগড় থেকে দ্রুতযান সকাল ৭টা ২০ মিনিটে, পঞ্চগড় এক্সপ্রেস দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে এবং একতা এক্সপ্রেস রাত ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে ছাড়ে। যাত্রার আগে ‘রেল সেবা’ অ্যাপ বা রেলওয়ের ওয়েবসাইটে আসন ও সময় মিলিয়ে টিকিট কেটে নিন।
| আসনের শ্রেণি | ঢাকা–পঞ্চগড় ট্রেনের ভাড়া (ভ্যাটসহ) |
| শোভন চেয়ার | ৭৪০ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ১,৪২১ টাকা |
| এসি সিট | ১,৭০২ টাকা |
| এসি বার্থ | ২,৫৪৮ টাকা |
পঞ্চগড় শহর বা চৌরঙ্গী মোড় থেকে তেঁতুলিয়া–বাংলাবান্ধা মহাসড়ক ধরে প্রায় ১১ কিলোমিটার উত্তরে গেলে অমরখানা ইউনিয়নের বোর্ড বাজার (বা জগদল বাজার) পড়বে। সেখান থেকে ডান দিকে (পূর্ব দিকে) পাকা ও আধা-পাকা গ্রামীণ সড়ক ধরে আরও প্রায় ৫ কিলোমিটার গেলেই ভিতরগড়ের মহারাজার দিঘী। পঞ্চগড় শহর থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ইজিবাইক রিজার্ভ করে সরাসরি মহারাজার দিঘী ও ভিতরগড় ঘুরে আসা সবচেয়ে সুবিধাজনক; যাওয়া-আসা ও অপেক্ষাসহ রিজার্ভ ভাড়া আগে থেকেই কথা বলে ঠিক করে নিন।
আপনি যদি বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট বা তেঁতুলিয়া যাওয়ার পথে ভিতরগড় দেখতে চান, তবে একই অটো বা গাড়িতে অমরখানা হয়ে মহারাজার দিঘী দেখে আবার মূল মহাসড়কে উঠে তেঁতুলিয়ার দিকে চলে যেতে পারবেন।
সময় লাগবে: 2 days
পঞ্চগড় পৌঁছে ভিতরগড় ও মহারাজার দিঘী ভ্রমণ:
রাতের দ্রুতযান এক্সপ্রেস বা বাসে সকালে পঞ্চগড় শহরে নেমে হোটেলে ব্যাগ রাখুন ও নাস্তা সেরে নিন। এরপর অটো রিজার্ভ করে অমরখানা হয়ে ভিতরগড় দুর্গনগরী, ৫৩ একরের মহারাজার দিঘী, প্রাচীন গড় ও মন্দিরের উৎখননস্থল ঘুরে দেখুন।
রকস মিউজিয়াম, মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও বারো আউলিয়া মাজার:
ভিতরগড় থেকে শহরে ফিরে সরকারি মহিলা কলেজের রকস মিউজিয়ামে ভিতরগড়সহ অঞ্চলের প্রাচীন পাথর ও প্রত্নবস্তু দেখুন। দুপুরের খাবার সেরে আটোয়ারী উপজেলায় গিয়ে মুঘল আমলের মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও বারো আউলিয়ার মাজার ঘুরে দেখুন; সময় থাকলে বোদার বদেশ্বরী মন্দির বা দেবীগঞ্জের গোলকধাম মন্দিরও দেখে নিতে পারেন।
তেঁতুলিয়া, কাঞ্চনজঙ্ঘা ভিউ ও সমতলের চা-বাগান:
পরদিন ভোরে তেঁতুলিয়ার পথে রওনা হোন। অক্টোবর–নভেম্বর মাসে আকাশ পরিষ্কার থাকলে মহানন্দা নদীর তীর ও তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নার থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়া দেখুন। এরপর কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, সমতলের চা-বাগান এবং শীত মৌসুমে তেঁতুলিয়ার টিউলিপ বাগান ঘুরে দেখুন।
বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট দেখে ঢাকার পথে ফেরা:
দুপুরে তেঁতুলিয়ায় খাবার সেরে দেশের সর্বউত্তরের শেষ প্রান্ত বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট ও স্থলবন্দর ঘুরে আসুন। বিকেলের মধ্যে পঞ্চগড় শহরে ফিরে রাত ৯টা ১০ মিনিটের একতা এক্সপ্রেস ট্রেন বা রাতের বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিন।
পঞ্চগড় ও ভিতরগড় ভ্রমণ
অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পঞ্চগড় ও ভিতরগড় দুর্গনগরী ঘোরার সেরা সময়। হেমন্তে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ থাকে আর শীতে শুকনো আবহাওয়ায় দিঘীর পাড় ও প্রাচীন গড় ধরে হাঁটা অনেক আরামদায়ক।
অক্টোবর–ফেব্রুয়ারি
মার্চ–মে
জুন–সেপ্টেম্বর
পঞ্চগড়ের ট্যুর প্ল্যান সাজানোর সময় ঐতিহ্য ও প্রকৃতি—দুটোই মিলিয়ে নিন। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের মধ্যে ভিতরগড়ের পাশাপাশি আটোয়ারীর মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও বার আউলিয়া মাজার, বোদার বোদেশ্বরী মন্দির এবং দেবীগঞ্জের গোলকধাম মন্দির ঘুরে দেখতে পারেন। আর প্রকৃতির টানে তেঁতুলিয়ার কাজী এন্ড কাজী টি স্টেট, শীতের টিউলিপ বাগান ও মহানন্দা তীরের তেঁতুলিয়া ডাক বাংলো আপনার ভ্রমণকে পূর্ণতা দেবে।
ভিতরগড় বা অমরখানা এলাকায় রাতে থাকার কোনো হোটেল নেই। পঞ্চগড় জেলা শহরে থেকে সহজেই দিনে দিনে ভিতরগড় ও আশপাশের সব জায়গা ঘুরে আসা যায়। আর চা-বাগানের নিরিবিলি পরিবেশে থাকতে চাইলে তেঁতুলিয়ার ডাহুক টি রিসোর্ট বা মহানন্দার পাড়ের ডাকবাংলো বেছে নিতে পারেন। নিচে পরিচিত আবাসনগুলোর ধরন ও যোগাযোগের নম্বর দেওয়া হলো (ভাড়া সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, যাওয়ার আগে ফোনে জেনে নিন):
মহারাজার দিঘীর পাড়ে ও অমরখানা বোর্ড বাজারে সাধারণ চা-নাস্তা ও হালকা খাবারের ছোট দোকান পাবেন। তবে দুপুর বা রাতের ভারী খাবারের জন্য পঞ্চগড় শহরের রেস্তোরাঁগুলোই ভরসা:
মহারাজার দিঘীর পাড় বেশ উঁচু ও ঢালু—বর্ষায় বা শিশিরভেজা সকালে নামার সময় সাবধানে পা ফেলুন। দিঘীর স্বচ্ছ পানিতে প্লাস্টিকের বোতল বা চিপসের প্যাকেট ফেলবেন না; সীমান্তঘেঁষা এই প্রত্নস্থলের পরিচ্ছন্নতা ও ঐতিহাসিক মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।
পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে অবস্থিত।
প্রায় ২৫ বর্গকিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত চার স্তরের প্রতিরক্ষা প্রাচীর ও পরিখাঘেরা এই নগরী বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ প্রাচীন দুর্গনগরী। এখানে ৫৩ একরের ঐতিহাসিক মহারাজার দিঘী ও দেড় হাজার বছরের পুরনো মন্দির-স্তূপের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে।
ইট ও মাটির উঁচু পাড়ে ঘেরা মহারাজার দিঘীতে পূর্ব ও পশ্চিমে ৩টি করে এবং উত্তর ও দক্ষিণে ২টি করে মোট ১০টি ইট-বাঁধানো প্রাচীন ঘাট রয়েছে।
না, এটি উন্মুক্ত প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা; প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা ফি লাগে না।
ঢাকা থেকে বাসে বা একতা, দ্রুতযান ও পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে পঞ্চগড় শহরে নেমে অটোরিকশা রিজার্ভ করে অমরখানা বোর্ড বাজার হয়ে সরাসরি ভিতরগড় ও মহারাজার দিঘী যাওয়া যায়।
ভিতরগড় তেঁতুলিয়া মহাসড়কের কাছে হওয়ায় একই ট্যুরে রকস মিউজিয়াম, তেঁতুলিয়ার চা-বাগান, কাঞ্চনজঙ্ঘা ভিউ পয়েন্ট, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও বদেশ্বরী মন্দির সহজেই ঘুরে দেখা যায়।
Leave a Comment