পঞ্চগড়

জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক

পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে, ঐতিহাসিক মীরগড়ে করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক যা লোকমুখে মীরগড় ইকোপার্ক নামেও পরিচিত। সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নে প্রায় ২১ একর পরিত্যক্ত সরকারি জমিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পার্কটি নির্মিত হয়েছে, আর ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই এটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।

পঞ্চগড় নামের উৎস যে পাঁচটি গড়, মীরগড় তার একটি। নদীর বাঁক, ফুলের বাগান, চা বাগান, কৃত্রিম লেক, ফোয়ারা আর হাঁটার পথ মিলিয়ে শহরের কাছেই পরিবার নিয়ে বিকেল কাটানোর জন্য জায়গাটি এখন পঞ্চগড়বাসী ও পর্যটকদের প্রিয়।

এক নজরে জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক

অবস্থানমীরগড়, ধাক্কামারা ইউনিয়ন, পঞ্চগড় সদর
আয়তনপ্রায় ২১ একর
পরিচালনাপঞ্চগড় জেলা প্রশাসন
চালুমার্চ ২০২৫
পঞ্চগড় শহর থেকে দূরত্বপ্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে
প্রবেশমূল্য৩০ টাকা (রাইডের টিকিট আলাদা)
খোলার সময়সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যে ৬টা

জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক: কি কি দেখবেন

করতোয়া নদীর পাড় ও ওয়াকওয়ে

নদীর ধার ঘেঁষে বানানো পাকা ওয়াকওয়ে আর বেঞ্চে বসে করতোয়ার বাঁক ও সূর্যাস্ত দেখা পার্কের সবচেয়ে উপভোগ্য অভিজ্ঞতা। সন্ধ্যায় পুরো এলাকা রঙিন আলোয় সাজে।

ফুলের বাগান ও চা বাগান

পরিকল্পিত নকশার ফুলের বেড, সৌন্দর্যবর্ধক গাছ আর ছোট্ট চা বাগান পার্কটিকে ছবি তোলার দারুণ জায়গা বানিয়েছে।

কৃত্রিম লেক ও ফোয়ারা

পার্কের ভেতরে কৃত্রিম লেক ও বড় পানির ফোয়ারা আছে; রাতে আলোকসজ্জায় ফোয়ারাগুলো আরও আকর্ষণীয় দেখায়।

শিশুদের রাইড ও খেলার জায়গা

শিশুদের জন্য আলাদা খেলার জায়গা ও বিভিন্ন রাইড রয়েছে; রাইডের টিকিট প্রবেশমূল্যের বাইরে আলাদাভাবে কাটতে হয়।

ইকো-আদলের বসার ঘর

বাঁশ-কাঠ ও ইকো ট্যুরিজমের আদলে বানানো ছাউনি ও বসার ঘরে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেওয়া যায়।

মীরগড়ের ইতিহাস

ভিতরগড়, মীরগড়, হোসেনগড়, রাজনগড় ও দেবেনগড়—এই পাঁচটি গড় থেকেই পঞ্চগড় নামের উৎপত্তি। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মীরগড় সদর উপজেলার প্রাচীন জনপদ; “মীর” শব্দ থেকে ধারণা করা হয় এখানে একসময় মুসলিম অভিজাতদের বসতি ছিল, আর করতোয়া নদীপথে চলত পণ্য পরিবহন। নদীর চরে জেগে ওঠা পরিত্যক্ত খাস জমি দখলমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলীর উদ্যোগে এখানে ইকো পার্কটি গড়ে তোলা হয়।

জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক খোলার সময় ও টিকিট

প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৩০ টাকা। শিশুদের রাইডের জন্য আলাদা টিকিট লাগে।

খোলার সময় – সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, তবে যাওয়ার আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে (ফোন: ০৫৬৮-৬১২০০) ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।

জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে পঞ্চগড়

ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর ও সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস সরাসরি পঞ্চগড় যায়; সময় লাগে প্রায় ১০–১২ ঘণ্টা। রেলপথে কমলাপুর থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস চলাচল করে। সর্বশেষ সময়সূচী ও ভাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং সাইট বা বাস কাউন্টার থেকে জেনে নিন।

পঞ্চগড় শহর থেকে পার্কে

শহর থেকে অটোরিকশা, ইজিবাইক বা রিকশায় প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে মীরগড়ে গেলেই পার্কের প্রধান ফটক। চালককে “মীরগড় ইকো পার্ক” বললেই চিনবে।

দুই দিনের পঞ্চগড় ট্যুর প্ল্যান

সময় দরকার: 2 days

দুই দিনে জেলা প্রশাসন ইকো পার্কসহ পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়ার প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে এই রুট প্ল্যানটি অনুসরণ করতে পারেন।

  1. ১ম দিন সকাল

    রকস মিউজিয়াম:
    ভোরে পঞ্চগড় পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসের রকস মিউজিয়াম দেখুন।

  2. ১ম দিন দুপুর

    ভিতরগড় ও মহারাজার দীঘি:
    প্রাচীন ভিতরগড় দুর্গনগরী ও বিশাল মহারাজার দীঘি ঘুরে শহরে ফিরে দুপুরের খাবার সেরে নিন।

  3. ১ম দিন বিকেল

    জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক:
    বিকেলে মীরগড়ে করতোয়ার তীরের ইকোপার্কে ফুলের বাগান, লেক ও ওয়াকওয়ে ঘুরে নদীর পাড়ে সূর্যাস্ত দেখুন, তারপর রাতে তেঁতুলিয়ায় চলে যান।

  4. ২য় দিন ভোর

    তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো ও কাঞ্চনজঙ্ঘা:
    ভোরে মহানন্দার পাড়ে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো চত্বরে যান; আকাশ পরিষ্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়।

  5. ২য় দিন সকাল

    বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট:
    দেশের সর্বউত্তরের বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট ও স্থলবন্দর এলাকা ঘুরে দেখুন।

  6. ২য় দিন বিকেল

    চা বাগান ও মুক্তাঞ্চল পার্ক:
    তেঁতুলিয়ার সমতলের চা বাগান দেখে পঞ্চগড়ে ফেরার পথে চাওয়াই ব্রিজের মুক্তাঞ্চল পার্কে থামুন, এরপর রাতের বাস বা ট্রেনে ঢাকায় রওনা দিন।

পঞ্চগড় ভ্রমণ

কখন গেলে ঘুরতে ভালো লাগবে

ইকোপার্কটি সারা বছর খোলা থাকলেও অক্টোবর থেকে মার্চের শুকনো ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় ফুলের বাগান সবচেয়ে সুন্দর থাকে, আর একই ট্রিপে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সম্ভাবনাও থাকে।

  1. জানু — শীতকাল
  2. ফেব — শীতকাল
  3. মার্চ — শীতকাল
  4. এপ্রি — গ্রীষ্মকাল
  5. মে — গ্রীষ্মকাল
  6. জুন — গ্রীষ্মকাল
  7. জুল — বর্ষাকাল
  8. আগ — বর্ষাকাল
  9. সেপ্টে — বর্ষাকাল
  10. অক্টো — শীতকাল
  11. নভে — শীতকাল
  12. ডিসে — শীতকাল
★ সেরা সময়

অক্টোবর–মার্চ

শীতকাল

  • ফুলের বাগান সবচেয়ে রঙিন থাকে
  • নদীর পাড়ে হাঁটার আরামদায়ক আবহাওয়া
  • একই ট্রিপে তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ

এপ্রিল–জুন

গ্রীষ্মকাল

  • দুপুরে রোদ ও গরম বেশি
  • বিকেল থেকে সন্ধ্যা ঘোরার জন্য ভালো
  • পানি ও টুপি সঙ্গে রাখুন

জুলাই–সেপ্টেম্বর

বর্ষাকাল

  • করতোয়া ভরা ও চারপাশ সবুজ
  • ওয়াকওয়ে পিচ্ছিল হতে পারে
  • বৃষ্টিতে খোলা জায়গায় ঘোরা কঠিন

কোথায় থাকবেন

  • পঞ্চগড় শহর: পার্ক থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল ও গেস্ট হাউস আছে।
  • তেঁতুলিয়া: ভোরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে চাইলে তেঁতুলিয়ায় রাত কাটানো ভালো; সরকারি ডাকবাংলো ও বেসরকারি রিসোর্টে আগে বুকিং দিন।
কাছাকাছি গন্তব্য

জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক: আশেপাশে যা দেখবেন

ইকোপার্ক দেখার পাশাপাশি পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়ার এই দর্শনীয় স্থানগুলো একই ট্রিপে ঘুরে আসতে পারেন।

রকস মিউজিয়াম

পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে দেশের একমাত্র পাথরের জাদুঘর

দূরত্ব প্রায় ৫ কিমি

(মিরগড় ইকোপার্ক থেকে আনুমানিক)

ভিতরগড় দুর্গনগরী ও মহারাজার দীঘি

পঞ্চগড়ের পাঁচ গড়ের অন্যতম প্রাচীন দুর্গনগরী ও বিশাল দীঘি

দূরত্ব প্রায় ২০ কিমি

(মিরগড় ইকোপার্ক থেকে আনুমানিক)

মির্জাপুর শাহী মসজিদ

আটোয়ারী উপজেলায় মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মসজিদ

দূরত্ব প্রায় ২০ কিমি

(মিরগড় ইকোপার্ক থেকে আনুমানিক)

পঞ্চগড় মুক্তাঞ্চল পার্ক

চাওয়াই নদীর তীরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত পার্ক

দূরত্ব প্রায় ২০ কিমি

(মিরগড় ইকোপার্ক থেকে আনুমানিক)

তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো

মহানন্দার পাড়ে ডাকবাংলো; পরিষ্কার আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়

দূরত্ব প্রায় ৪০ কিমি

(মিরগড় ইকোপার্ক থেকে আনুমানিক)

বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট

দেশের সর্বউত্তরের সীমান্ত বিন্দু ও স্থলবন্দর

দূরত্ব প্রায় ৬০ কিমি

(মিরগড় ইকোপার্ক থেকে আনুমানিক)

সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

মিরগড় ইকোপার্ক কোথায় অবস্থিত?

পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মীরগড়ে, করতোয়া নদীর তীরে; জেলা শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে।

প্রবেশমূল্য কত?

জনপ্রতি ৩০ টাকা। শিশুদের রাইডের জন্য আলাদা টিকিট লাগে।

পার্ক কখন খোলা থাকে?

সূত্রভেদে সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা এবং সকাল ৯টা–রাত ৯টা দুই রকম তথ্য পাওয়া যায়; যাওয়ার আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে (০৫৬৮-৬১২০০) ফোন করে নিশ্চিত হোন।

পার্কে কী কী দেখার আছে?

করতোয়ার পাড়ের ওয়াকওয়ে, ফুলের বাগান, চা বাগান, কৃত্রিম লেক, ফোয়ারা, শিশুদের রাইড, ইকো-আদলের বসার ঘর ও সন্ধ্যার আলোকসজ্জা।

শহরের কাছেই নদী, ফুল আর সবুজে কয়েক ঘণ্টা কাটাতে চাইলে পঞ্চগড় ভ্রমণে জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক তালিকায় রাখুন।

Leave a Comment
Share
জায়গার ধরন: পার্ক