অক্টোবর–মার্চ
শীতকাল
- ফুলের বাগান সবচেয়ে রঙিন থাকে
- নদীর পাড়ে হাঁটার আরামদায়ক আবহাওয়া
- একই ট্রিপে তেঁতুলিয়া থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ
ছবি: পঞ্চগড় ভ্রমণ গাইড (পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন)
পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে, ঐতিহাসিক মীরগড়ে করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক যা লোকমুখে মীরগড় ইকোপার্ক নামেও পরিচিত। সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নে প্রায় ২১ একর পরিত্যক্ত সরকারি জমিতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পার্কটি নির্মিত হয়েছে, আর ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই এটি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
পঞ্চগড় নামের উৎস যে পাঁচটি গড়, মীরগড় তার একটি। নদীর বাঁক, ফুলের বাগান, চা বাগান, কৃত্রিম লেক, ফোয়ারা আর হাঁটার পথ মিলিয়ে শহরের কাছেই পরিবার নিয়ে বিকেল কাটানোর জন্য জায়গাটি এখন পঞ্চগড়বাসী ও পর্যটকদের প্রিয়।
| অবস্থান | মীরগড়, ধাক্কামারা ইউনিয়ন, পঞ্চগড় সদর |
| আয়তন | প্রায় ২১ একর |
| পরিচালনা | পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন |
| চালু | মার্চ ২০২৫ |
| পঞ্চগড় শহর থেকে দূরত্ব | প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে |
| প্রবেশমূল্য | ৩০ টাকা (রাইডের টিকিট আলাদা) |
| খোলার সময় | সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যে ৬টা |
নদীর ধার ঘেঁষে বানানো পাকা ওয়াকওয়ে আর বেঞ্চে বসে করতোয়ার বাঁক ও সূর্যাস্ত দেখা পার্কের সবচেয়ে উপভোগ্য অভিজ্ঞতা। সন্ধ্যায় পুরো এলাকা রঙিন আলোয় সাজে।
পরিকল্পিত নকশার ফুলের বেড, সৌন্দর্যবর্ধক গাছ আর ছোট্ট চা বাগান পার্কটিকে ছবি তোলার দারুণ জায়গা বানিয়েছে।
পার্কের ভেতরে কৃত্রিম লেক ও বড় পানির ফোয়ারা আছে; রাতে আলোকসজ্জায় ফোয়ারাগুলো আরও আকর্ষণীয় দেখায়।
শিশুদের জন্য আলাদা খেলার জায়গা ও বিভিন্ন রাইড রয়েছে; রাইডের টিকিট প্রবেশমূল্যের বাইরে আলাদাভাবে কাটতে হয়।
বাঁশ-কাঠ ও ইকো ট্যুরিজমের আদলে বানানো ছাউনি ও বসার ঘরে পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দেওয়া যায়।
ভিতরগড়, মীরগড়, হোসেনগড়, রাজনগড় ও দেবেনগড়—এই পাঁচটি গড় থেকেই পঞ্চগড় নামের উৎপত্তি। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মীরগড় সদর উপজেলার প্রাচীন জনপদ; “মীর” শব্দ থেকে ধারণা করা হয় এখানে একসময় মুসলিম অভিজাতদের বসতি ছিল, আর করতোয়া নদীপথে চলত পণ্য পরিবহন। নদীর চরে জেগে ওঠা পরিত্যক্ত খাস জমি দখলমুক্ত রাখতে জেলা প্রশাসক মো. সাবেত আলীর উদ্যোগে এখানে ইকো পার্কটি গড়ে তোলা হয়।
প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৩০ টাকা। শিশুদের রাইডের জন্য আলাদা টিকিট লাগে।
খোলার সময় – সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা, তবে যাওয়ার আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে (ফোন: ০৫৬৮-৬১২০০) ফোন করে সময় নিশ্চিত হয়ে নিন।
ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর ও সায়েদাবাদ থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস সরাসরি পঞ্চগড় যায়; সময় লাগে প্রায় ১০–১২ ঘণ্টা। রেলপথে কমলাপুর থেকে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস চলাচল করে। সর্বশেষ সময়সূচী ও ভাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেটিং সাইট বা বাস কাউন্টার থেকে জেনে নিন।
শহর থেকে অটোরিকশা, ইজিবাইক বা রিকশায় প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে মীরগড়ে গেলেই পার্কের প্রধান ফটক। চালককে “মীরগড় ইকো পার্ক” বললেই চিনবে।
সময় দরকার: 2 days
দুই দিনে জেলা প্রশাসন ইকো পার্কসহ পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়ার প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে এই রুট প্ল্যানটি অনুসরণ করতে পারেন।
রকস মিউজিয়াম:
ভোরে পঞ্চগড় পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসের রকস মিউজিয়াম দেখুন।
ভিতরগড় ও মহারাজার দীঘি:
প্রাচীন ভিতরগড় দুর্গনগরী ও বিশাল মহারাজার দীঘি ঘুরে শহরে ফিরে দুপুরের খাবার সেরে নিন।
জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক:
বিকেলে মীরগড়ে করতোয়ার তীরের ইকোপার্কে ফুলের বাগান, লেক ও ওয়াকওয়ে ঘুরে নদীর পাড়ে সূর্যাস্ত দেখুন, তারপর রাতে তেঁতুলিয়ায় চলে যান।
তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো ও কাঞ্চনজঙ্ঘা:
ভোরে মহানন্দার পাড়ে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো চত্বরে যান; আকাশ পরিষ্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়।
বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট:
দেশের সর্বউত্তরের বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট ও স্থলবন্দর এলাকা ঘুরে দেখুন।
চা বাগান ও মুক্তাঞ্চল পার্ক:
তেঁতুলিয়ার সমতলের চা বাগান দেখে পঞ্চগড়ে ফেরার পথে চাওয়াই ব্রিজের মুক্তাঞ্চল পার্কে থামুন, এরপর রাতের বাস বা ট্রেনে ঢাকায় রওনা দিন।
পঞ্চগড় ভ্রমণ
ইকোপার্কটি সারা বছর খোলা থাকলেও অক্টোবর থেকে মার্চের শুকনো ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় ফুলের বাগান সবচেয়ে সুন্দর থাকে, আর একই ট্রিপে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সম্ভাবনাও থাকে।
অক্টোবর–মার্চ
এপ্রিল–জুন
জুলাই–সেপ্টেম্বর
ইকোপার্ক দেখার পাশাপাশি পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়ার এই দর্শনীয় স্থানগুলো একই ট্রিপে ঘুরে আসতে পারেন।
পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে দেশের একমাত্র পাথরের জাদুঘর
দূরত্ব প্রায় ৫ কিমি
(মিরগড় ইকোপার্ক থেকে আনুমানিক)
পঞ্চগড়ের পাঁচ গড়ের অন্যতম প্রাচীন দুর্গনগরী ও বিশাল দীঘি
দূরত্ব প্রায় ২০ কিমি
(মিরগড় ইকোপার্ক থেকে আনুমানিক)
আটোয়ারী উপজেলায় মুঘল আমলের ঐতিহাসিক মসজিদ
দূরত্ব প্রায় ২০ কিমি
(মিরগড় ইকোপার্ক থেকে আনুমানিক)
চাওয়াই নদীর তীরে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত পার্ক
দূরত্ব প্রায় ২০ কিমি
(মিরগড় ইকোপার্ক থেকে আনুমানিক)
মহানন্দার পাড়ে ডাকবাংলো; পরিষ্কার আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়
দূরত্ব প্রায় ৪০ কিমি
(মিরগড় ইকোপার্ক থেকে আনুমানিক)
দেশের সর্বউত্তরের সীমান্ত বিন্দু ও স্থলবন্দর
দূরত্ব প্রায় ৬০ কিমি
(মিরগড় ইকোপার্ক থেকে আনুমানিক)
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মীরগড়ে, করতোয়া নদীর তীরে; জেলা শহর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে।
জনপ্রতি ৩০ টাকা। শিশুদের রাইডের জন্য আলাদা টিকিট লাগে।
সূত্রভেদে সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা এবং সকাল ৯টা–রাত ৯টা দুই রকম তথ্য পাওয়া যায়; যাওয়ার আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে (০৫৬৮-৬১২০০) ফোন করে নিশ্চিত হোন।
করতোয়ার পাড়ের ওয়াকওয়ে, ফুলের বাগান, চা বাগান, কৃত্রিম লেক, ফোয়ারা, শিশুদের রাইড, ইকো-আদলের বসার ঘর ও সন্ধ্যার আলোকসজ্জা।
শহরের কাছেই নদী, ফুল আর সবুজে কয়েক ঘণ্টা কাটাতে চাইলে পঞ্চগড় ভ্রমণে জেলা প্রশাসন ইকো পার্ক তালিকায় রাখুন।
Leave a Comment