জানুয়ারির শেষ – ফেব্রুয়ারি
টিউলিপ ফোটার ভরা মৌসুম
- বাগানজুড়ে ৫–৯ রঙের হাজারো টিউলিপ ফোটে
- মনোরম শীতল আবহাওয়া ও ফটোগ্রাফির সেরা সময়
- তাজা টিউলিপ স্টিক কেনার সুযোগ পাওয়া যায়
উত্তরের হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া এখন আর শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা কিংবা সমতলের চা বাগানের জন্যই পরিচিত নয়; শীতের ভরা মৌসুমে এখানে ফোটে শীতপ্রধান দেশের রাজসিক ফুল টিউলিপ। তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা দর্জিপাড়া ও শারিয়ালজোত গ্রামে গড়ে ওঠা তেঁতুলিয়ার টিউলিপ বাগান (Tulip Garden, Tetulia) দেখলে মনে হয় যেন বাংলাদেশের বুকে একখণ্ড নেদারল্যান্ডস বা কাশ্মীর নেমে এসেছে।
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ESDO)-এর উদ্যোগে স্থানীয় প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তাদের শ্রমে গড়ে উঠেছে এই খামারভিত্তিক টিউলিপ বাগান। বিশেষ তাপমাত্রা ও রোদ নিয়ন্ত্রিত শেডের নিচে সারি সারি লাল, হলুদ, গোলাপি, সাদা ও কমলা রঙের হাজারো টিউলিপ ফুলের সমারোহ দেখতে প্রতিদিন দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা ভিড় জমান।
| অবস্থান | দর্জিপাড়া ও শারিয়ালজোত গ্রাম, তিরনইহাট ইউনিয়ন, তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় |
| জায়গার ধরন | মৌসুমি টিউলিপ ফুলের খামার ও ইকো-কমিউনিটি ট্যুরিজম স্পট |
| উদ্যোক্তা ও পরিচালনা | স্থানীয় নারী উদ্যোক্তাবৃন্দ ও ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ESDO) |
| প্রথম যাত্রা | ২০২২ সাল থেকে প্রতি বছর শীত মৌসুমে |
| ফুল ফোটার মূল মৌসুম | জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস (আবহাওয়াভেদে মার্চের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত) |
| খোলার সময় | মৌসুমে প্রতিদিন সকাল ৮:০০টা থেকে বিকেল ৫:৩০টা পর্যন্ত |
| প্রবেশমূল্য | জনপ্রতি ৫০ টাকা (স্থানীয়দের জন্য ক্ষেত্রবিশেষে ২০–৩০ টাকা) |
| ফুল কেনার দাম | প্রতি স্টিক টিউলিপ ফুল ১০০ টাকা |
নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি করা উন্নত মানের বাল্ব (বীজ) থেকে এই বাগানে ৫ থেকে ৯টি প্রজাতির রকমারি রঙের টিউলিপ চাষ করা হয়। বাগানজুড়ে রাজসিক ভঙ্গিতে ফুটে থাকে লালিবেলা (লাল), মিস্টিক ভ্যান ইজক (গোলাপি), ডেনমার্ক ও স্ট্রং গোল্ড (হলুদ), সানি প্রিন্স, পিঙ্ক আর্ডোর, প্যারেড, অক্সফোর্ড, কমলা ভ্যান বরলশ, অ্যাপেলডর্ন ও ব্লাশিং এলিট জাতের টিউলিপ। একসাথে ১২ থেকে ৪০ হাজার পর্যন্ত টিউলিপ যখন সারি বেঁধে ফোটে, তখন পুরো বাগানটি এক জীবন্ত রঙিন ক্যানভাসে পরিণত হয়।
টিউলিপ মূলত শীতপ্রধান দেশের ফুল হওয়ায় সূর্যের অতিরিক্ত তাপ ও আলো নিয়ন্ত্রণ করতে পুরো বাগানের ওপর বিশেষ ছাউনি (শেড নেট) এবং চারপাশে সুরক্ষা জাল বসানো হয়েছে। বাগানের বাইরে রঙিন পতাকা ও ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে নান্দনিক প্রবেশপথ, যা ছবি তোলা ও ফটোগ্রাফির জন্য চমৎকার।
দর্শনার্থীরা শুধু বাগান ঘুরে দেখাই নয়, চাইলে প্রিয়জনের জন্য বাগান থেকে সরাসরি তাজা টিউলিপ ফুল কিনেও নিতে পারেন (প্রতিটি স্টিকের মূল্য সাধারণত ১০০ টাকা)। পাশাপাশি দর্জিপাড়া ও শারিয়ালজোত গ্রামের যে নারী উদ্যোক্তারা পরম যত্নে ভিনদেশি এই ফুল ফুটিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে সরাসরি টিউলিপ চাষের অভিজ্ঞতা শোনার সুযোগ মেলে।
সাধারণত টিউলিপ চাষের জন্য দিনের বেলা ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং রাতে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়। বাংলাদেশে শীতকালে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা দীর্ঘ সময় এই সীমার কাছাকাছি থাকায় ২০২২ সালে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (PKSF) ও ইএসডিও (ESDO) প্রথমবারের মতো পাইলট প্রকল্প হিসেবে দর্জিপাড়া ও শারিয়ালজোত গ্রামের ৮ জন নারী উদ্যোক্তার মাধ্যমে ৪০ শতাংশ জমিতে ৬ প্রজাতির ৪০ হাজার টিউলিপ চাষ শুরু করে।
প্রথম বছরেই অভাবনীয় সাফল্য আসায় এরপর থেকে প্রতি বছর জানুয়ারির প্রথমার্ধে নেদারল্যান্ডস থেকে বাল্ব এনে রোপণ করা হয়। রোপণের ১৮ থেকে ২০ দিনের মধ্যে কলি আসে এবং অনুকূল আবহাওয়ায় ২৫ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত ফুল স্থায়ী হয়।
টিউলিপ বাগান সারা বছর থাকে না। এটি সম্পূর্ণ মৌসুমি বাগান। সাধারণত প্রতি বছর জানুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে বাল্ব রোপণ করা হয় এবং জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে বাগানে ফুল ফুটে থাকে। মার্চের পর গরম বাড়লে ফুলের মৌসুম শেষ হয়ে যায়। তাই শুধু টিউলিপ দেখার উদ্দেশ্যে গেলে অবশ্যই জানুয়ারির শেষ থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ভ্রমণের পরিকল্পনা করুন।
ঢাকার গাবতলী, শ্যামলী, কল্যাণপুর, মিরপুর ও উত্তরা (আব্দুল্লাহপুর) থেকে প্রতিদিন সকাল ও রাতে পঞ্চগড় এবং সরাসরি তেঁতুলিয়া/বাংলাবান্ধাগামী এসি ও নন-এসি বাস ছেড়ে যায়। সড়কপথে ঢাকা থেকে তেঁতুলিয়ার দূরত্ব প্রায় ৫০৫ কিলোমিটার; পৌঁছাতে সময় লাগে ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা। এই রুটে হানিফ এন্টারপ্রাইজ, নাবিল পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, এনা পরিবহন, বাবুল পরিবহন ও বরকত ট্রাভেলস নিয়মিত চলাচল করে।
| বাসের ধরন | উল্লেখযোগ্য পরিবহন | ঢাকা–পঞ্চগড়/তেঁতুলিয়া ভাড়া |
|---|---|---|
| নন-এসি চেয়ার কোচ | হানিফ, নাবিল, শ্যামলী, বাবুল, বরকত | ১,১০০–১,৩০০ টাকা |
| এসি ইকোনমি / বিজনেস ক্লাস | নাবিল এসি, হানিফ এসি, এনা, শ্যামলী | ১,৬০০–২,২০০ টাকা |
তেঁতুলিয়া বা বাংলাবান্ধাগামী সরাসরি বাসে উঠলে বাসের সুপারভাইজারকে বলে তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বা তিরনইহাট সংলগ্ন স্টপেজে নামতে পারবেন। আর পঞ্চগড় সদরের বাসে গেলে পঞ্চগড় নেমে লোকাল বাসে তেঁতুলিয়া যেতে হবে।
আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য ট্রেন সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম। ঢাকার কমলাপুর ও বিমানবন্দর রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন ৩টি আন্তঃনগর ট্রেন সরাসরি পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করে (সপ্তাহে ৭ দিনই চলে, কোনো সাপ্তাহিক বন্ধ নেই):
| আসনের শ্রেণি | ঢাকা–পঞ্চগড় ট্রেনের ভাড়া (ভ্যাটসহ) |
|---|---|
| শোভন চেয়ার | ৬৫০ টাকা |
| প্রথম শ্রেণি (সিট / বার্থ) | ৯৯৫ / ১,৪৯০ টাকা |
| স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার) | ১,২৩৭–১,৩৩৪ টাকা |
| এসি সিট | ১,৪৮৪–১,৫৯৯ টাকা |
| এসি বার্থ | ২,২২৫–২,৩৯৮ টাকা |
চট্টগ্রাম থেকে সড়ক ও রেল—উভয় পথেই তেঁতুলিয়ার টিউলিপ বাগানে আসা যায়:
পঞ্চগড় রেলস্টেশন বা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের পাশের ধাক্কামারা মোড় থেকে সারাদিন তেঁতুলিয়া ও বাংলাবান্ধাগামী লোকাল বাস পাওয়া যায়। পঞ্চগড় থেকে তেঁতুলিয়ার দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার; বাস ভাড়া জনপ্রতি ৫০–৬০ টাকা এবং সময় লাগে ১ ঘণ্টা।
তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা (উপজেলা সদর) বা তিরনইহাট থেকে দর্জিপাড়া ও শারিয়ালজোত গ্রামের টিউলিপ বাগানের দূরত্ব প্রায় ৪–৫ কিলোমিটার। তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বা ভ্যানে জনপ্রতি ২০–৩০ টাকা (রিজার্ভ ১০০–১৫০ টাকা) ভাড়ায় ১৫–২০ মিনিটেই সরাসরি দর্জিপাড়া টিউলিপ বাগানে পৌঁছানো যায়। দলবেঁধে গেলে পঞ্চগড় শহর থেকেই সারা দিনের জন্য প্রাইভেট কার (২,৫০০–৩,০০০ টাকা) বা মাইক্রোবাস (৩,৫০০–৪,৫০০ টাকা) রিজার্ভ করে টিউলিপ বাগানসহ পুরো তেঁতুলিয়া ঘুরে দেখতে পারেন।
সময় দরকার: 9 hours
পঞ্চগড় বা তেঁতুলিয়ায় পৌঁছে এক দিনে দর্জিপাড়া টিউলিপ বাগান, চা বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট এবং তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো ঘুরে দেখতে এই রুট প্ল্যানটি অনুসরণ করতে পারেন।
তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো ও মহানন্দা নদীর পাড়ে সকাল:
সকালে তেঁতুলিয়া পৌঁছে নাস্তা সেরে প্রথমেই মহানন্দা নদীর তীরে ঐতিহাসিক তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো ও পিকনিক কর্নারে যান। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও ওপারের ভারতের পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করুন।
দর্জিপাড়া ও শারিয়ালজোত টিউলিপ বাগান পরিদর্শন:
ডাকবাংলো বা তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা থেকে অটোরিকশা নিয়ে তিরনইহাট ইউনিয়নের দর্জিপাড়া গ্রামে টিউলিপ বাগানে যান। ৫০ টাকার টিকিট কেটে সকালের মিষ্টি রোদে রঙিন টিউলিপ ফুল দেখুন, ছবি তুলুন এবং চাইলে তাজা টিউলিপ স্টিক কিনে নিন।
বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট ও দুপুরের খাবার:
টিউলিপ বাগান থেকে তিরনইহাট হয়ে দেশের সর্বউত্তরের সীমান্ত বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও জিরো পয়েন্ট ঘুরে দেখুন। এরপর তেঁতুলিয়া বাজারে ফিরে দুপুরের খাবার সেরে নিন।
কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট ও ডাহুক টি রিসোর্টে বিকেল:
ফেরার পথে রওশনপুরে কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট এবং ডাহুক নদীর পাড়ে ডাহুক টি রিসোর্ট ও সমতলের চা বাগানে বিকেল কাটিয়ে পঞ্চগড় ফিরে রাতের ট্রেন বা বাস ধরুন।
তেঁতুলিয়া ভ্রমণ
তেঁতুলিয়ায় টিউলিপ ফুল ফোটে শুধুমাত্র মাঘ–ফাল্গুন মাসের তীব্র ও মাঝারি শীতে। তাই বাগানভর্তি ফুল পেতে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ভ্রমণ করুন।
জানুয়ারির শেষ – ফেব্রুয়ারি
অক্টোবর – নভেম্বর
মার্চ – সেপ্টেম্বর
বাগানে প্রবেশ ফি মাত্র ৫০ টাকা হলেও ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া ভ্রমণের মূল খরচ নির্ভর করে বাস বা ট্রেনের টিকিট এবং লোকাল যাতায়াতের ওপর। নিচে জনপ্রতি আনুমানিক খরচের একটি হিসাব দেওয়া হলো:
| খরচের খাত | বিবরণ | আনুমানিক খরচ (জনপ্রতি) |
|---|---|---|
| টিউলিপ বাগানে প্রবেশ টিকিট | দর্জিপাড়া টিউলিপ খামার | ৫০ টাকা (ফুল কিনলে ১০০ টাকা/স্টিক) |
| ঢাকা–পঞ্চগড় ট্রেন ভাড়া (একমুখী) | শোভন চেয়ার ৬৫০ টাকা; স্নিগ্ধা ১,২৩৭–১,৩৩৪ টাকা | ৬৫০–১,৩৩৪ টাকা |
| ঢাকা–তেঁতুলিয়া বাস ভাড়া (একমুখী) | নন-এসি ১,১০০–১,৩০০ টাকা; এসি ১,৬০০–২,২০০ টাকা | ১,১০০–২,২০০ টাকা |
| পঞ্চগড়–তেঁতুলিয়া–দর্জিপাড়া লোকাল ভাড়া | বাস (৫০–৬০ টাকা) + অটোরিকশা (২০–৩০ টাকা) | ১৫০–৩০০ টাকা (যাওয়া-আসা) |
| খাবার খরচ (প্রতিদিন) | সকালের নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার | ৪০০–৬০০ টাকা |
| আবাসিক হোটেল / রিসোর্ট (প্রতি রাত) | বাজেট হোটেল থেকে টি-রিসোর্ট (ডাবল রুম) | ৬০০–৩,৫০০ টাকা |
মোট সম্ভাব্য বাজেট: ঢাকা থেকে রাতের ট্রেনে বা বাসে গিয়ে পরদিন সারাদিন টিউলিপ বাগান ও তেঁতুলিয়ার সব স্পট ঘুরে রাতের ট্রেনে ফিরে আসলে জনপ্রতি প্রায় ২,২০০ থেকে ৩,৫০০ টাকায় (নন-এসি) ভ্রমণ শেষ করা যায়। ১ রাত থাকলে বাজেট রাখুন ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা।
টিউলিপ বাগানসহ তেঁতুলিয়ার দর্শনীয় স্থানগুলো সকালে ঘুরে দেখার জন্য তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরে বা চা বাগানের রিসোর্টে থাকাই সবচেয়ে সুবিধাজনক। এছাড়া পঞ্চগড় জেলা শহরেও বেশ কিছু আবাসিক হোটেল রয়েছে:
তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা বাজারে সাধারণ মানের বেশ কয়েকটি বাঙালি খাবার হোটেল রয়েছে—যেখানে গরম ভাত, মহানন্দা ও ডাহুক নদীর তাজা ছোট মাছ, দেশি মুরগি, হাঁসের মাংস ও নানা রকম ভর্তা পাওয়া যায়। পঞ্চগড় ও তেঁতুলিয়া অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবে সিদল ভর্তা, পেলকা (শাকের ঝোল) এবং চা বাগানের তাজা অর্গানিক গ্রিন টি ও মালাই চা অবশ্যই চেখে দেখবেন।
দর্জিপাড়া টিউলিপ বাগান দেখার পাশাপাশি একই দিনে তেঁতুলিয়া ও পঞ্চগড়ের এই জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলো সহজেই ঘুরে আসতে পারবেন।
ভারত সীমান্তঘেঁষা মহানন্দা নদীর উঁচু পাড়ে ঐতিহাসিক ডাকবাংলো ও কাঞ্চনজঙ্ঘা ভিউ পয়েন্ট
দূরত্ব ৫–৬ কিমি
(টিউলিপ বাগান থেকে)
বাংলাদেশের সর্বউত্তরের শূন্যরেখা এবং চার দেশের সংযোগকারী স্থলবন্দর
দূরত্ব ১০–১২ কিমি
(টিউলিপ বাগান থেকে)
রওশনপুরে দেশের একমাত্র অর্গানিক চা বাগান ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ
দূরত্ব ১২–১৫ কিমি
(টিউলিপ বাগান থেকে)
ডাহুক নদীর তীরে সমতলের সবুজ চা বাগান ও ইকো রিসোর্ট
দূরত্ব ১৮–২০ কিমি
(টিউলিপ বাগান থেকে)
পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজের পাথরের জাদুঘর ও মোগল আমলের প্রাচীন মসজিদ
দূরত্ব ৩৮–৪৫ কিমি
(টিউলিপ বাগান থেকে)
একই ট্রিপে দর্জিপাড়ার টিউলিপ বাগানের সাথে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, তেঁতুলিয়া চা বাগান এবং পঞ্চগড় শহরের রকস মিউজিয়াম ঘুরে দেখলে ভ্রমণ ষোলোকলা পূর্ণ হবে।
পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার তিরনইহাট ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা দর্জিপাড়া ও শারিয়ালজোত গ্রামে তেঁতুলিয়ার টিউলিপ বাগান অবস্থিত। তেঁতুলিয়া চৌরাস্তা থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৪–৫ কিলোমিটার।
টিউলিপ শীতপ্রধান দেশের মৌসুমি ফুল। প্রতি বছর জানুয়ারির প্রথমার্ধে বাল্ব রোপণ করা হয় এবং জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে পুরো ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে বাগানে টিউলিপ ফুল ফুটে থাকে। বছরের অন্য সময় বাগানে টিউলিপ থাকে না।
বাগানে প্রবেশের টিকিট মূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা। দর্শনার্থীরা চাইলে বাগান থেকে তাজা টিউলিপ ফুল কিনতেও পারেন—প্রতিটি টিউলিপ স্টিকের দাম ১০০ টাকা।
ঢাকার কমলাপুর থেকে একতা, দ্রুতযান বা পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনে সরাসরি পঞ্চগড় নেমে বাসে তেঁতুলিয়া এবং সেখান থেকে অটোরিকশায় দর্জিপাড়া টিউলিপ বাগানে যাওয়া যায়। অথবা গাবতলী/শ্যামলী থেকে হানিফ, নাবিল বা বাবুল পরিবহনের বাসে সরাসরি তেঁতুলিয়া নেমে অটোরিকশায় বাগানে পৌঁছাতে পারবেন।
নেদারল্যান্ডস থেকে আমদানি করা বাল্ব থেকে এখানে লালিবেলা (লাল), মিস্টিক ভ্যান ইজক (গোলাপি), স্ট্রং গোল্ড ও ডেনমার্ক (হলুদ), সানি প্রিন্স, পিঙ্ক আর্ডোর, প্যারেড, অক্সফোর্ড ও অ্যাপেলডর্নসহ ৫ থেকে ৯ প্রজাতির রঙিন টিউলিপ চাষ করা হয়।
কাঞ্চনজঙ্ঘা সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায় অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে, যখন আকাশ মেঘ ও কুয়াশামুক্ত থাকে। টিউলিপ ফোটে জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারি মাসে; এ সময় সকালে কুয়াশা কম থাকলে এবং আকাশ পরিষ্কার থাকলে মাঝে মাঝে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলতে পারে।
তেঁতুলিয়ায় থাকার জন্য ডাহুক নদীর পাড়ে ডাহুক টি রিসোর্ট (০১৩১৫-১৩৩৮৬৬), মহানন্দা নদীর তীরে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো (০১৭৫১-০২৬২২৫) এবং তেঁতুলিয়া চৌরাস্তায় কাজী ব্রাদার্স হোটেল ও সীমান্তপাড় হোটেল রয়েছে। এছাড়া পঞ্চগড় শহরে হোটেল মৌচাক ও সেন্ট্রাল গেস্ট হাউজে থাকা যায়।
একই দিনে দর্জিপাড়া টিউলিপ বাগানের সাথে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট ও স্থলবন্দর, কাজী অ্যান্ড কাজী টি এস্টেট, সমতলের চা বাগান এবং পঞ্চগড়ের রকস মিউজিয়াম সহজেই ঘুরে দেখা যায়।
Leave a Comment