ডে ট্যুরে নিকলী হাওর

যুক্ত করা হয়েছে
ভালো লেগেছে
0
ট্রিপ
১ দিন
খরচ
১০০০ টাকা

ঈদ এর আগে থেকে প্ল্যান ছিল ঈদ এর পরে ছুটিতে কোথায় যাওয়া যায়। তাই নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচলা চলছিল। কিন্তু হঠাৎ প্ল্যান করা হয় তাই ঈদ এর ২ দিন পরে আমাদের যাত্রা শুরু হয় নিকলী হাওর (Nikli Haor) এর উদ্দেশ্যে।

নিকলী হাওর
নিকলী হাওর

আমাদের যাত্রা শুরু হয় গোলাপবাগ বাস কাউন্টার থেকে। যাতায়াত অথবা অনন্যা পরিবহন এর বাস কিশোরগঞ্জ গিয়ে থাকে। আমাদের গ্রুপ ছিল ৪ জনের। নির্দিষ্ট সময় থেকে কিছু পরে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। টিকেট কেটে উঠি যাতায়াত বাসে। কিছুক্ষনের মধ্যে ই বাসটি কাউন্টার ত্যাগ করে যাত্রা শুরু করে। বাসটি ছাড়ার কিছুক্ষনের মধ্যেই আকাশ যেন অন্ধকার হয়ে আসছিল এবং ঝড়ো হওয়ার সাথে বৃষ্টি নেমে পরে। একটু শংকিত ছিলাম হাওরে যাওয়ার পরে যদি এই রকম বৃষ্টি থাকে তাহলে আমাদের হয়তো ট্যুর এর আনন্দে ভাটা পরতে পারে। যাইহোক আমাদের যাত্রা এর প্রধান বাহন যাতায়াত বাসটি চলতে থাকে। কিন্তু কিছুক্ষন পর পর কাউন্টার এর যাত্রী উঠছিল মনে হচ্ছিল এ যেন অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে চিটিং সার্ভিস।

আমাদের বাসটি ছেড়ে ছিল ৮.৩০ নাগাদ। আর আমরা কটিয়াদী পৌঁছাই প্রায় দুপুর ১ টা বাজে। কটিয়াদী থেকে সিএনজি অথবা অটো করে যেতে হবে নিকলী। ঈদ এর পরে তাই এমন ভাড়া চাচ্ছিল যাহা আমাদের চিন্তার বাহিরে ছিল। পরবর্তীতে সিএনজি তে না গিয়ে অটো ভাড়া করি। আমাদের ৪ জনের রিজার্ভ ছিল নিকলী পর্যন্ত। প্রায় ১.৩০ ঘন্টা সময় লেগেছিল নিকলী বেড়িবাঁধ এ পৌঁছাতে। নিকলী পৌঁছানোর পরে দুপুরের খাবার না খেয়ে ই ট্রলার ভাড়া করে আমাদের ইচ্ছে পূরণ করার উদ্ধত হই। এখানেও আশায় ঘুরু বালির মতো অবস্থা। ১ ঘন্টার জন্য রিজার্ভ আর ভাড়া অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক চাইল। আমরাও হাল ছাড়িনাই। ছয়শত টাকার ভাড়া করা ট্রলার টি নিয়ে হাওর এর ভ্রমণ উপভোগ করা শুরু করি। এই এক ঘন্টা যেন অনেক দ্রুত ই চলে যাচ্ছিল। এর মধ্যে মাঝির সাথে খোশগল্প আর প্রচন্ড বাতাস , সাথে মারাত্মক রকমের ধোলানো তো ছিলই। ১ ঘন্টা শেষ করে চলে আসি ঘাটে। দুপুরের খাবার এর পরে নিকলীর বেড়িবাঁধে কিছুক্ষন আড্ডা। খাঁটি গরুর দুধের চা। মৃদু বাতাস। অসম্ভব ভালো লাগা। আবার আমাদের যাত্রা শুরু হয় যান্ত্রিক শহরের দিকে। আমাদের এই ট্যুর এর গল্প এই পর্যন্তই।

নিকলী হাওর
নিকলী হাওর

সকল খরচের তালিকা ( ঈদ এর পরে হওয়ার কারণে ভাড়ায় কিছুটা অস্বাভাকিতা থাকতে পারে )

  • ঢাকা টু কটিয়াদী বাস ভাড়া – ২৫০ টাকা (প্রতি জন)
  • কটিয়াদী থেকে নিকলী অটো ভাড়া – ৫০০ টাকা ( রিজার্ভ)
  • ট্রলার ভাড়া ১ ঘন্টার জন্য – ৬০০ টাকা (ভালোই বড় মাপের ছাউনি যুক্ত ট্রলার ছিল)
  • ফেরার সময় অটো ভাড়া – ৩৫০ টাকা
  • বাস ভাড়া কটিয়াদী টু ঢাকা – ১৮০+২০ (ঈদ বখশিস) = ২০০ টাকা (প্রতি জন)

তাহলে আমাদের প্রতিজনের খরচ = ৯৯৫ টাকা।

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.