নিকলী হাওর

ভালো লেগেছে
23

হাতে একদিন সময় নিয়ে ঢাকা থেকে খুব অল্প বাজেটের মাঝেই ঘুরে আসুন কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী হাওর (Nikli Haor) থেকে। হাওড়ের দ্বিগন্ত বিস্তৃত স্বচ্ছ জলরাশির বুকে নৌকায় ঘুরে বেড়ানো, পানির মাঝে জেগে থাকা দ্বীপের মত গ্রাম, রাতারগুলের মত ছোট জলাবন, হাওড়ের তাজা মাছ ভোজন। সব মিলিয়ে একদিনের ট্যুরের জন্য আদর্শ একটি জায়গা। জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট প্লেসগুলোতে মানুষের ভিড়ে যখন অতিষ্ট, সেক্ষেত্রে কিশোরগঞ্জ জেলার এই নিকলী হাওর আপনাকে দেবে নিজের মত করে নিরিবিলিতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য সুন্দর একটি দিন। ইচ্ছে হলে বড় নৌকা ভাড়া নিয়ে রাতে নৌকায় থাকার ব্যবস্থা আছে।

রাতের বেলা জায়গাটা অতোটা নিরাপদ নয়। তাই বড় গ্রুপ না হলে নৌকায় রাতে না থাকাই বেটার।

একদিনের প্ল্যান

কমলাপুর থেকে সকাল ৭.১৫ তে এগারোসিন্ধুর ট্রেনে উঠলে ১১ টায় কিশোরগঞ্জ নামিয়ে দেবে। স্টেশান থেকে নিকলি হাওড় সিএনজিতে যেতে সময় লাগবে একঘন্টা। যেখানে সিএনজি নামিয়ে দেবে, পাশেই কিছু হোটেল পাবেন মোটামুটি মানের। হাওড়ের ফ্রেশ মাছ দিয়ে লাঞ্চ সেরে ঘাট থেকে দরদাম করে নৌকায় উঠে যাবেন। হাওড়ে ঘুরে সন্ধ্যার মাঝে ঘাটে ফিরে আসবেন। নিকলি থেকে কিশোরগঞ্জ ফিরে রাতের বাসে ঢাকায়।

কখন যাবেন

বর্ষার শেষে এখনই হাওড় ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।

যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে ট্রেন বা বাসে প্রথমেই চলে যান কিশোরগঞ্জ (Kishoreganj) শহর। কিশোরগঞ্জ রেল স্টেশন এর সামনে থেকে সিএনজিতে উঠে নিকলি। ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করে হাওড় ঘরে দেখুন।

এছাড়া ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে নিকলীর সরাসরি বাস আছে। বাস ভাড়া ১৫০-২৫০ টাকা। আবার সায়েদাবাদ থেকে কিশোরগঞ্জের বাসে গিয়ে কালিয়াচাপরা সুগার মিল গিয়ে টেম্পুতে নিকলী হাওরের সামনেই নামা যাবে। ১৬০ কি.মি. দূরত্ব। সময় লাগবে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা (যাত্রাবাড়ীর ট্রাফিক জ্যাম বাদে)।

সায়েদাবাদ এর গোলাপ বাগ থেকে বাসে উঠে পুলেরঘাট নামতে হবে, এটাই সহজ রুট। পুলেরঘাট নেমে দুপুরের খাওয়া খেয়ে অটোতে একজন ৬০ টাকা করে চলে যাবেন সোজা বেড়িবাধ স্পটে। সময় লাগবে ৩০-৩৫ মিনিট। এখান থেকে বড় নৌকা গুলো ঘন্টা হিসেবে ভাড়া দেয়। ঘন্টায় ৭০০ টাকা করে। ছোট নৌকা গুলোতে ভাড়া পড়বে ৩০০-৪০০ টাকা ঘন্টা।

তাছাড়া ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনে সরারচর কিংবা মানিকখালি ষ্টেশনে নেমে সিনজি দিয়ে যেতে সময় লাগবে ১ ঘন্টা।

কোথায় থাকবেন

নিকলীতে কোনো আবাসিক হোটেল নেই। রাতে থাকতে চাইলে যেতে পারেন কিশোরগঞ্জে। গাঙচিল, শ্রাবণী আর আল-মুসলিমের মতো উন্নত হোটেলগুলোতে থাকতে পারেন।

খরচ

ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জ ট্রেনে ১৭৫ টাকা / বাস ভাড়া ২০০ টাকা। কিশোরগঞ্জ থেকে নিকলি সিএনজি ভাড়া ১০০ টাকা প্রতিজন।

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

  • 471
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    471
    Shares

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. nice

  2. জায়গাটা অনেক সুন্দর

  3. নিকলীবাসীর পক্ষ থেকে অনেক ধন্যবাদ এমন একটা লেখার জন্য। তবে এই আর্টিকেলের সাথে আরো কিছু দর্শনীয় স্থানের নাম সংযুক্ত করার অনুরোধ করছি। নিকলী উপজেলা সদর ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান হলোঃ (১) ১৬৮০ খৃস্টাব্দে নির্মিত “গুরই শাহী মসজিদ”, (২) ১৭০৭ খৃস্টাব্দে নির্মিত “গুরই শাহী মসজিদ”, (৩) বাংলার ৩৬০ জন আউলিয়ার একজন হযরত শাহ গুন জালাল (রাঃ) এর মাজার, (৪) পাহাড় খাঁ (রাঃ) এর মাজার, (৫) হাজী সাহেবের মাজার, (৬) লাল গোস্বামীর আখড়া, (৭) নারায়ণ গোঁসাই এর আখড়া, (৮) চন্দ্রনাথ গোস্বামীর আখড়া ইত্যাদি। বর্ষাকালে ঘুরাফেরার জন্য স্পীডবোট ভাড়া পাওয়া যায়। নিকলীর প্রকৃত রূপ বর্ষাকালেই দেখা যায়। সবাইকে ভ্রমনের আমন্ত্রণ রইল।

  4. নীল আকাশের নিচে পানির কল কল শব্দে নিজেকে রিফ্রেশ করতে চান, তারা আসতে পারেন নিকলী হাওরে। রাস্তার দুইপাশে শুধু পানি আর পানি। অপূর্ব সুন্দর সেই দৃশ্য। হাওরে যাওয়ার জন্য এই সময়টাই একদম পারফেক্ট।