মারায়ন তং এ ক্যাম্পিং

যুক্ত করা হয়েছে
ভালো লেগেছে
1

বান্দরবন জেলার আলিকদম উপজেলাধীন মিরিঞ্জা রেঞ্জের সর্বোচ্চ চূড়া মারায়ন তং যার উচ্চতা ১৬৪০ ফুট। এই পাহাড়টা অন্যান্য পাহাড়ের মতো না। একেবারে ৭০ ডিগ্রী কৌণিক। তাই অনেক বেশি কঠিন এই পাহাড়ে উঠা।

আমি আগে থেকেই এসব তথ্য জানতাম তাই আমার গ্রুপের মেম্বারদের বলেছি আলীকদম থেকে এক ঘন্টা মতো হাঁটলেই হয়ে যাবে। ছোট একটা পাহাড়। তাদেরকে মিথ্যা বলতে হয়েছে বাধ্য হয়ে কারণ ছোট ছোট স্কুল ফ্রেন্ডগুলো বেশিরভাগই বিবাহিত। এখন তাদের ঘুরাঘুরি আর পাহাড় চড়ার জন্য মনে জোর থাকলেও কোমরে জোর নাই 😂

মারায়ন তং জাদি

আমাদের সবার বাড়ি চকরিয়া হওয়ায় বিকালে দুটি বাইক নিয়ে রওনা দিলাম ছয়জনের একটা টিম। সন্ধ্যা নাগাদ “আলীকদম আবাসিক বাজারে” পৌছে গেলাম। ওখানে আগে থেকেই স্থানীয় “বাবু ভাইকে” বলে রাখছিলাম বাইক দুটো রাখার জন্য। ওনি আমাদের সাথে যাওয়ার জন্য একজন-দুজন না… চারজন ছেলে দিলেন আমাদের সাথে পাহাড়ে যাওয়ার জন্য। আবাসিক বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র, বেশি করে খাওয়ার পানি আর বারবিকিউ করার জন্য মুরগি নিয়ে রওনা দিলাম।

রাত হয়ে যাওয়াতে একটা সুবিধাই হলো আমার জন্য। এই রাতের অন্ধকারে পাহাড় কত উঁচু কিংবা কত ডিগ্রী কৌণিক তা দেখার কিংবা আন্দাজ করার সুযোগ আমার বন্ধুরা পাচ্ছেনা 🤣 বাকিটা কাল সকালে পাহাড় থেকে নামার সময় দেখা যাবে। রাতের অন্ধকারে ওরা একটু একটু উঠছিলো আর হাপাচ্ছিলো আর সাথে আমার চৌদ্দ দুগুনে আঠাশ গুষ্টি উদ্ধার করতেছিলো। সাথে থাকা চারজন গাইড ওদের অবস্থা দেখে হাসতেছিলো। যাই হোক, এভাবে দেড় ঘন্টা পাহাড় উঠার পর অবশেষে উঠে পৌছালাম সেই স্বপ্নের “মারায়ন তং জাদি”র চূড়ায়। উঠার পর শান্তির হিমেল হাওয়া আর পূর্ণিমা রাতে আকাশে কোটি কোটি তারার মেলা দেখে তারা আমাকে ধন্যবাদ দিতে লাগলো 😍

মারায়ন তং জাদি

পাহাড়ের চূড়ায় একটা বৌদ্ধ মন্দির আছে। মন্দিরে আছে একটি বুদ্ধমূর্তি। একটি ছোট বটগাছসহ আরো দুটি গাছ। এবার তাঁবু টাঙানোর পালা। দক্ষিণ দিকে মাতামুহুরি নদী আর পাহাড়িদের গ্রামের দৃশ্য আর পূর্বদিকে সবুজ ক্ষেতের মাঝ দিয়ে মাতামুহুরির বয়ে চলা। তাই পূর্বদিকেই টাঙালাম আমাদের তাঁবুগুলো। এরপর আগুন জ্বালিয়ে আগে থেকে রেডি করে আনা মুরগী গুলোকে বারবিকিউ বানানোর জন্য কয়লার উপরে দিলাম। আহা!! পুরো জীবনটা যদি এমন হতো। খেয়ে দেয়ে কিছুক্ষ্ণ ফটো সেশন হলো। এরপর কিছুক্ষ্ণ তাস খেলাও হলো, রাত তিনটার দিকে গানের কলি শেষে সবাই টায়ার্ড। ঘুমাতে গেলো সবাই। আর আমার টাইম শুরু।

মারায়ন তং জাদি

দুই বট গাছের মাঝখানে “হ্যামক” বানিয়ে শুয়ে পড়লাম। জীবন, অতীত, ভবিষ্যৎ, পরিবার সবকিছু নিয়ে চিন্তা করতে করতে একসময় ভোর হলো। ক্যামেরা আর ট্রাইপড নিয়ে পুরো সূর্য উঠার টাইম ল্যাপ্স তুললাম। সামনে কুয়াশার চাদরে ঢাকা নিচু নিচু পাহাড় গুলো। মাতামুহুরী নদী এঁকে বেঁকে চলে যাচ্ছে পাহাড়ের বুক চিরে। আস্তে আস্তে সূর্য উপরে উঠতে লাগলো আর সেই সাথে গরমও।

নিচে নামার সময় আমার বন্ধুরা বলতেছিলো, কালকে রাতের আঁধারে আমরা সত্যি সত্যিই এই পাহাড় বেয়েছিলাম? নিজেদের নিয়ে নিজেরাই গর্ববোধ করতেছিলো। 😂

মারায়ন তং জাদি

সবার শেষে একটা অনুরোধ – আমরা যেসব প্লাস্টিক জাতীয় জিনিষ নিয়ে গিয়েছিলাম সব ব্যাগে ভরে নিয়ে এসেছি। আর তাও না পারলে সব প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস এক জায়গায় করে রাতে ক্যাম্প ফায়ার করলে ওখানে দিয়ে পুড়িয়ে ফেলুন।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।