মারায়ন তং

ভালো লেগেছে
4

মারায়ন তং (Marayan Dong) বান্দরবানের আলীকদমে (Alikadam) অবস্থিত মিরিঞ্জা রেঞ্জের একটি পাহাড়। অনেকে এই পাহাড়কে মারায়ন ডং নামেও ডেকে থাকে। উচ্চতা প্রায় ১৬৪০ ফিট। পাহাড়ের একেবারে চূড়ায় রয়েছে এক বৌদ্ধ উপাসনালয়। চারদিকে খোলা ও ওপরের দিকে চালা। এতে আছে বুদ্ধের এক বিশাল মূর্তি। দর্শনীয় স্থান হিসেবেও জায়গাটা চমৎকার। ওপরের অংশটুকু সমতল। এখান থেকে যত দূর দৃষ্টি যায় শুধু পাহাড় আর পাহাড়। সেসবের ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে জনবসতি। নিচে সাপের মতো এঁকে-বেঁকে বয়ে চলেছে মাতামুহুরী নদী। তার দুই কূলে দেখা যায় ফসলের ক্ষেত।

মারায়ন তং পাহাড়ে রয়েছে বিভিন্ন আদিবাসীর বসবাস। এদের মধ্যে ত্রিপুরা, মারমা ও মুরং অন্যতম। এই পাহাড়ের নিচে থাকে মারমারা। আর পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে মুরংদের পাড়া। এরা পাহাড়ের ঢালে তাদের বাড়ি বানিয়ে বসবাস করে। মাটি থেকে সামান্য ওপরে এদের টংঘর। এসব ঘরের নিচে থাকে বিভিন্ন গবাদি পশু যেমন-গরু, ছাগল, শূকর, মুরগি। কখনো গবাদি পশুর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জ্বালানি কাঠও রাখা হয় স্তূপ করে।

পাহাড়িদের পাশাপাশি বাঙালিরাও তাদের নিত্যদিনের আয়-রোজগারের জন্য এই পাহাড়ের ওপর নির্ভরশীল। বাঙালিদের অনেকেই পাহাড়ে জন্মানো মুলি বাঁশ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে। এই অঞ্চলটাতে প্রচুর পরিমাণে তামাকেরও চাষ হয়। বলতে গেলে তামাকের চাষ ধান চাষকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে তামাকের চাষ হয় মূলত সমতলের দিকেই।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে আলীকদম বাসস্ট্যান্ড সরাসরি বাস আছে, ভাড়া পড়বে ৮৫০ টাকা। তারপর সেখান থেকে অটোতে দিয়ে আবাসিকে নেমে যাবেন, ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ২০ টাকা করে। আবাসিকে নেমে ডান পাশের রাস্তাটা ধরে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা হাঁটলেই পৌঁছে যাবেন আলীকদমের সবচেয়ে উঁচু পাহাড় মারায়াং তং। সেখানে খাবার ও পানির কোনো ব্যবস্থা নেই, কাজেই শুকনো খাবার ও পানি সমতল থেকেই নিয়ে যেতে হবে।

এছাড়া ঢাকা থেকে বাসে করে চকোরিয়া যাবেন, ভাড়া ৭৫০ টাকা। চকোরিয়া থেকে আলিকদম যাবার জন্য লোকাল জীপে উঠে পড়বেন, ভাড়া ৭০ টাকা। আলিকদম যাবার আগেই আবাসিক নামক জায়গায় নেমে যাবেন। সেখান থেকে হাতের ডানের রাস্তা ধরে ৩ ঘন্টা হাটলেই মারায়ন তং বা মেরাইথং পাহাড়ের চূড়ায় পৌছে যাবেন।

সাবধানতা

যাত্রাপথে প্রচুর পরিমাণে পানি, গ্লুকোজ, স্যালাইন, শুকনো খাবার, ফ্রাস্ট এইড বক্স, প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সঙ্গে নেবেন। রান্না করতে চাইলে প্রয়োজনীয় উপকরণ, ম্যাচ ও জ্বালানিও নিয়ে নেবেন। আগুন জ্বালাতে শুকনো কাঠের অভাব হবে না। রাতে ক্যাম্পিং করতে চাইলে সঙ্গে তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ, হালকা চাদর নিয়ে নেবেন। কেননা গরমের মৌসুমেও রাতে খানিকটা ঠাণ্ডা পড়ে পাহাড়ে। পাহাড়ে ওঠার আগে সমতলেই স্থানীয় প্রশাসনের কাউকে পেলে নিজেদের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানিয়ে রাখবেন। তাঁদের কোনো পরামর্শ থাকলে সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুনু। আর পাহাড়ে ওঠা কিংবা ক্যাম্পিং করতে চাইলে পথিমধ্যে সংশ্লিষ্ট পাড়ার হেডম্যানদের জানিয়ে রাখুন। সম্ভব হলে তাঁদের কাছ থেকে ফোন নম্বর চেয়ে নেবেন। পরে সাহায্যের প্রয়োজন হলে তাঁদের জানাতে পারেন। পাড়ার আশপাশে চলতি পথে পাহাড়িদের কোনো ফল বা ফুলের গাছ থেকে অনুমতি ছাড়া কিছু পাড়তে বা ছিঁড়বেন না। দরকার হলে কিনে নেবেন। সস্তাতেই তা পাওয়া যাবে। পাহাড়িদের ছবি তোলার ক্ষেত্রে তাদের অনুমতি নেওয়ার যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন। পাহাড়ে রান্নাবান্না করলে অবশ্যই তা সাবধানে করবেন। যাতে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে না পড়ে। চিপস, বিস্কুট, আচার কিংবা অন্যান্য ড্রাই ফুডের প্যাকেট অবশ্যই সংগ্রহ করে নিচে নিয়ে আসবে।

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. চারপাশের অপার্থিব দৃশ্য মুগ্ধ করবে যে কাউকে। সামনের মাতামুহুরি নদীর আঁকাবাঁকা বয়ে চলা নয়নাভিরাম ল্যান্ডস্কেপ চোখে ভেসে থাকবে সময়সময়। ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে সকালে মেঘের ভেলা ভিজিয়ে দিবে মন।