ঘুরে এলাম সাগর কন্যা কুয়াকাটা থেকে

যুক্ত করা হয়েছে
ভালো লেগেছে
0

শহর ছেড়ে প্রশান্তির জন্য যেতে পারেন সাগরের তীরে। বাংলাদেশে বেশ কিছু সি-বীচ থাকলেও কুয়াকাটা (Kuakata) একদমই ব্যাতিক্রম। অনন্য গুণের জন্যই কুয়াকাটাকে বলা হয় সাগর কন্যা। কোলাহল মুক্ত নিরিবিলি নেই কোন মানুষের গাদাগাদি যেখানে আপন মনে নিজের মতো করে সময় কাটিয়ে দিতে পারেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা।

কম খরচে কোথায় ঘুরবেন? কি কি দেখবেন?

কুয়াকাটা বিখ্যাত সূর্যদয় ও সূর্যাস্তের জন্য। এছাড়াও বেশ কিছু টুরিস্ট স্পট আছে যা ঘুরে দেখলে কুয়াকাটা ভ্রমণ পরিপূর্ণ হবে।

সি-বীচ

প্রশস্ত সি-বীচ কোলাহল মুক্ত ও নিরিবিলি। যেখানে নিজের মতো করে সময় কাটাতে পারেন। বসে থাকার জন্য ২০/৩০ টাকা ঘণ্টায় আরামদায়ক চেয়ার ভাড়া পাবেন। বাড়তি আনন্দের জন্য ফোর হুইলার ইজি বাইক পাবেন। এছাড়াও স্পীড বোডে জন প্রতি ২০০/- টাকায় সমুদ্র ভ্রমণ করতে পারবেন। সব শেষে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারেন।

সূর্যদয়

সূর্যদয় দেখার জন্য যেতে হবে ৭/৮ কি.মি দূরে। এজন্য আগের দিন বাইক কন্টাক করে রাখতে হবে। মেইন রোডে অনেক বাইক ভাড়া পাবেন। তারদের হোটেলের নাম ও রুম নাম্বার দিয়ে দিবেন। তারা ৪/৪.৩০ টায় এসে আপনাকে হোটেল থেকে স্পটে নিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে আপনি একটা প্যাকেজ করে নিবেন। সূর্যদয়, ঝাউবন, লাল কাঁকড়ার চর ও স্বর্ণমন্দির। জনপ্রতি ৪০০/৫০০ টাকা নিবে।

সুন্দরবন ডেল্টা (ফাতরার চর)

সি-বীচ থেকে একটা প্যাকেজ পাবেন স্পীডবোডে করে সুন্দরবন ডেল্টা (ফাতরার চর), লাল কাঁকড়ার চর, শুঁটকী পল্লী ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে। জন প্রতি ৪০০/- টাকা নিবে। দুই শিফটে নিয়ে যায়। সকাল এবং দুপুর ২ টায়। দুপুর ২ টায় যাবেন তাহলে ফিরার পথে সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে স্পীডবোড থেকে সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পাবেন।

বারমিস মার্কেট

হোটেল থেকে দু’কদম হাঁটলেই বারমিস মার্কেট পাবেন। অনেক রকম পণ্যের সমারহ। তবে মেয়েদের জন্য জামা কাপড় আর আঁচারে ভরপুর। আর যা প্রসাধনী চোখে পড়ল তা সব মেয়েদের জন্য।

স্বর্ণ মন্দির

বারমিস মার্কেটের সাথে স্বর্ণ মন্দির। ২০/- টাকা প্রবেশ ফি। জুতা খুলে চলে যান ভিতরে। ছোট এবং সুন্দর, এক নজরে দেখে শেষ হলেও মন জুড়িয়ে যাবে।

শতবর্ষী নৌকা

বারমিস মার্কেটের দক্ষিণ পাশের গেট দিয়ে বের হয়েই রাস্তার সাথে নৌকাটি দেখতে পাবেন অথবা বীচ রোডে যে কাউকে বললে দেখিয়ে দিবে।

ঝাউবন

যারা শুধু ঝাউবনে যেতে চান তারা বীচ ধরে পূর্ব দিকে হাঁটলে পেয়ে যাবেন ঝাউবন। তবে অনেকটা সময় হাঁটতে হবে। তার চেয়ে বরং বাজার থেকে জন প্রতি ২০/- টাকা দিয়ে ভ্যানে করে আরামে চলে যান ঝাউবন। আশাকরি দারুন লাগবে। হাতে সময় নিয়ে ঘুরে ঘুরে দেখুন আর সাথে ইচ্ছা মতো ছবি তুলুন।

কুয়াকাটা

মিসরিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির

কুয়াকাটা থেকে ৬/৭ কি.মি. দূরে এই বৌদ্ধ মন্দির। মোটর সাইকেলে জনপ্রতি ১০০/- টাকায় দেখে আসতে পারেন এই বৌদ্ধ মন্দিরটি। গ্রামের মাঝে এই মন্দিরটি এক সময় বাংলাদেশের বৃহৎ বৌদ্ধ মন্দির ছিল।

কুয়াকাটা যাওয়ার উপায়

লঞ্চ এবং বাস দুই ভাবেই কুয়াকাটা যেতে পারেন। আরামদায়ক ও এঞ্জয় করে যেতে চাইলে যেতে হবে লঞ্চে। প্রতিদিন সদরঘাট থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটা লঞ্চ ছেড়ে যায়। তার মধ্যে সুন্দরবন, প্রিন্স আওলাদ ও কুয়াকাটা অন্যতম। সিঙ্গেল এসি কেবিন ১০০০-১১০০/- টাকা ডাবল কেবিনের ১৮০০-২০০০/- টাকা। ভি.আই.পি কেবিন ৫০০০-৭০০০/- টাকা।

পটুয়াখালী লঞ্চ ঘাটেই যাত্রা শেষ নয়। পটুয়াখালী লঞ্চ ঘাট থেকে অটো রিক্সায় জনপ্রতি ২০/- টাকা দিয়ে যেতে হবে পটুয়াখালী বাস স্ট্যান্ডে। এখান থেকে ১৪০/- টাকা দিয়ে ২/২.৩০ ঘণ্টায় কুয়াকাটা।

এছাড়া সায়েদাবাদ, কল্যাণপুর ও গাবতলি বাস স্ট্যান্ড থেকে কুয়াকাটার বাস পাবেন। নন এসির ভাড়া ৫৫০/- টাকা আর এসির ভাড়া ১০০০/- টাকা।

কুয়াকাটা

কুয়াকাটা থাকার হোটেল

অনেক হোটেল ও রিসোর্ট আছে। এছাড়াও থ্রি স্টার মানেরও হোটেল পাবেন। ভাড়া ৫০০/- টাকা থেকে ৫০০০/- টাকা পর্যন্ত। নিজের পছন্দ ও বাজেটের মধ্যে দেখে শুনে হোটেল নিন। সিজন/ অফসিজন এর উপর ভাড়া উঠা নামা করে।

বাইকার

খাওয়া

খাওয়ার জন্য ভালো মানের তেমন রেস্টুরেন্ট নেই। আশেপাশে যে সব রেস্টুরেন্ট আছে সে গুলোতেই সেরে নিন। কিছু কিছু হোটেলে খাবার সার্ফ করে থেকে। তবে সন্ধ্যায় বিচে বারবিকিউ, ফিস ফ্রাই খেতে পারেন। দারুন টেস্টটি এই সামুদ্রিক ফিস ফ্রাই। একবার টেস্ট করে দেখতে পারেন।

প্রকৃতিকে তাদের মতো করে থাকতে দিন। পরিবেশ রক্ষায় সচেতন হন। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলে দিবেন না। প্লাস্টিক প্যাকেট, পানির বোতলের কাজ শেষ হলে প্রয়োজনে হাতে/ব্যাগে রাখবেন, হোটেলে এসে ময়লার ঝুড়িতে ফেলবেন। প্লাস্টিক বোতল ভাসতে দেখলে অনেক খারাপ লাগে। ময়লা, চিপসের প্যাকেট এবং বোতল নির্দিষ্ট স্থানে ফেলবেন। মনে রাখবেন, আপনার আজকের ফেলে যাওয়া ময়লার কারনেই হইতো যে অপরুপ সৌন্দর্যের বর্ননা করে গেলাম, তা অন্যরা উপভোগ করতে পারবে না।
×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.