কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত

ভালো লেগেছে
29
ট্রিপ
৩ দিন
খরচ
৬০০০ টাকা

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা (Kuakata Sea Beach) যা পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত। কুয়াকাটা দক্ষিণ এশিয়ায় একটি মাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়। সমুদ্রের পেট চিরে সূর্য উদয় হওয়া এবং সমুদ্রের বক্ষে সূর্যকে হারিয়া যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা নিঃসন্দেহে দারুন ব্যপার।

কুয়াকাটা বেরী বাঁধ পেরিয়ে সমুদ্র সৈকতের দিকে যেতেই বাম দিকে ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে মিউজিয়াম স্থাপন করা হয়েছে। এরপরই কয়েক গজ দক্ষিণে “ফার্মস এন্ড ফার্মস” এর রয়েছে বিশাল নারিকেল বাগানসহ ফল ও ফুলের বাগান। এ বাগানের মধ্যে স্থাপন করা হয়েছে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট, এ পিকনিক স্পট পরিদর্শনের পরেই রয়েছে কাংখিত ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বিশাল সমুদ্র সৈকত। এ সৈকতের পূর্ব দিকে এগুলোই প্রথমে দেখা যাবে  নারিকেল বাগান, সুন্দর আকৃতির ঝাউ বাগান। বন বিভাগের উদ্দ্যোগে বিভিন্ন প্রজাতির ঝাউগাছ লাগিয়ে সমুদ্র সৈকতের শোভা বর্ধন করা হয়েছে। এ নারিকেল ও ঝাউবাগানের মধ্যেও রয়েছে পিকনিক স্পট যেখানে পর্যটকরা দল বেঁধে বনভোজনের অনাবিল আনন্দে নিজেদের একাকার করে তোলে। তার থেকে একটুই পূর্ব দিকে আগালেই চর-গঙ্গামতির লেক, সেখান থেকে একটু ভিতরে দিকে এগুলেই  সৎসঙ্গের শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম ও মিশ্রীপাড়া বিশাল বৌদ্ধ বিহার। সমুদ্র সৈকতের পশ্চিম দিকে লেম্বুপাড়ায় প্রতি বছর আশ্বিন থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত জেলেরা প্রাকৃতির উপায়ে গড়ে তুলে শুটকী পল্লী। এ শুটকী পল্লীতে সাগরের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ প্রাকৃতিক উপায়ে শুটকীতে রূপান্তরিত করে সারা দেশে সরবরাহ করে।

কুয়াকাটাতে সূর্যোদয় দেখার জন্য ঝাউবনে যাওয়াই ভালো। সেখান থেকেই সূর্যাস্ত ভালো দেখা যায়, সমুদ্রের পেট চিড়ে কিভাবে সূর্য উঠে তা দেখার জন্য আপনার মতো আরও অনেক লোকই আপনার আগে চলে যাবে সেখানে সন্দেহ নেই। সকাল বেলা হেটে হেটে ঝাউবনে যেতে সময় লাগবে ২০ মিনিট। আর ভ্যানে  গেলে লাগবে ১০ মিনিট। সেখানে সারি সারি গাছ ভালো লাগবে। এই বনটি সরকার বনায়ন পরিকল্পনার অধীনে তৈরী করেছে। কারো কারো কাছে সূর্যোদয়ের চেয়ে সূর্যাস্তের দৃশ্যটা বোধহয় বেশি চমৎকার লাগে। সুর্যটা সমুদ্রে ডুবে যাওয়ার সময় রংয়ের পরিবর্তনটা আপনি স্পষ্টই দেখতে পাবেন।

সমুদ্রের গর্জন দিনের বেলা সাধারণত আশে পাশের শব্দের কারনে শোনা যায় না। সমুদ্রের যে একটা ভয়ংকর রূপ আছে তা বোঝা যায় রাতে। যদি রাতে সমুদ্রের গর্জন শুনতে চান তবে অবশ্যই যেতে পারেন সেখানে। নিরাপত্তা জনিত কোন ভয় নেই সেখানে। তবে সাবধানে থাকাই ভালো। সত্যি কথা বললে রাতের সমুদ্রের গর্জন সত্যিই ভয়ংকর। সৈকতের কাছাকাছি কোন হোটেলে থাকলে গর্জন হোটেল থেকেও শোনা যেতে পারে।

দর্শনার্থী ও ভ্রমণ পিপাসুদের জন্য এই সৈকতে আছে ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল ও ঘোড়া। ভাড়া সাধারণত দূরত্ব ও সময় অনুযায়ী হয়। কুয়াকাটার আশে পাশের বেশ কয়েকটি চর আছে। সেগুলি দেখতে আপনি যেতে পারেন স্পিডবোট ও ট্রলার কিংবা ইঞ্জিন চালিত বড় নৌকায় করে। কুয়াকাটায় সমুদ্র সৈকতের আশেপাশে বেশ কয়েকটি পিকনিক স্পট রয়েছে। সেগুলিতে রান্না করার সকল ব্যবস্থা আছে। চুলা, খড়ি, হাড়ি, পাতিল থেকে বাবুর্চি পর্যন্ত।

সমুদ্র উপকূলে পর্যটকদের ভ্রমণের  জন্য রয়েছে সমুদ্র ভ্রমণকারী জাহাজ ও ট্রলার এবং স্পিড বোট। এসব জাহাজ ও ট্রলারে উঠে পর্যটকরা সুন্দরবনের অংশ বিশেষ ফাতরার চর, সোনার চর, কটকা, হাঁসার চর, গঙ্গামতির লেক ও সুন্দরবন সহ গভীর সমুদ্রে বিচরণ করে অফুরস্ত আত্মতৃপ্তিতে নিজেদের ভরে তোলে। সমুদ্র ভ্রমণকারী জাহাজে থাকা খাওয়ার সু-ব্যবস্থা রয়েছে।

কুয়াকাটায় সীমিত সংখ্যক দোকান আছে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ও সৌখিন জিনিসপত্র ক্রয় করতে পারবেন সেসব দোকান থেকে। দাম অপেক্ষাকৃত একটু বেশি হলেও অনেক নতুন নতুন আইটেম পাবেন। কুয়াকাটায় দেখার আরেক আকর্ষণ শুঁটকিপল্লি। কুয়াটায় শুটকি পল্লী থাকায় এখানে অনেক কম দামে বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের শুটকি পাবেন। ইলিশ, রূপচাঁদা, হাঙর, লইট্যা, শাপলাপাতাসহ অসংখ্য প্রজাতির মাছ রোদে শুকিয়ে শুঁটকি বানিয়ে বিদেশে রপ্তানি করা হয়। বিশাল এলাকায় চ্যাঙ বানিয়ে শুঁটকি তৈরির পদ্ধতি দেখা আরেক মজার অভিজ্ঞতা।

একনজরে কুয়াকাটা এর দর্শনীয় স্থানগুলো

  • কুয়াকাটা বৌদ্ধ মন্দির
  • ঐতিহ্যবাহী শতবর্ষী নৌকা
  • কুয়াকাটার কুয়া
  • কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান
  • কাউয়ার চর
  • চর গঙ্গামতী
  • ঝাউ বন
  • লাল কাঁকড়ার চর
  • রূপালী দ্বীপ
  • বৌদ্ধ বিহার
  • মিষ্টি পানির কূপ
  • রাখাইন পল্লী
  • বার্মিজ মার্কেট
  • শুঁটকি পল্লী
  • ঝিনুক বীচ
  • লেবুর চর
  • তিন নদীর মোহনা
  • সুন্দরবনের পূর্বাংশ (ফাতরার বন)
  • স্বপ্ন রাজ্য
  • পাখি মারা পানি যাদু ঘর

রাখাইন পল্লী

কলাপাড়া উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতের মনোরম দৃশ্য উপভোগের সাথে পর্যাটকদের জন্য রয়েছে বারতি আকর্ষন আদিবাসী রাখাইনদের স্থাপথ্য নিদর্শন। রাখাইন সম্প্রদায়ের প্রায় দুইশত বছরের পুরানো ঐতিহ্য রয়েছে। “গৌতম বুদ্ধের” বিশাল আকৃতির মূর্তি দেখতে পারেন। দেশের সবচেয়ে বড় বৌদ্ধ মন্দিরটির অবস্থান কুয়াকাটা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে রাখাইন পল্লীতে। গৌতম বুদ্ধের এই ধ্যানমগ্ন মূর্তিটি ৩৬ ফুট উঁচু এবং এর ওজনসাড়ে ৩৭ মন। কুয়াকাটা থেকে সেখানে যাওয়ার জন্য মটর সাইকেল প্রধান বাহন। জানা গেছে, মন্দিরের নির্মান সৌন্দর্য চীনের স্থাপত্য অনুসরন করা হয়েছে।দেখে মনে হবে থাইল্যন্ড বা মিয়ানমারের কোন মন্দির।মন্দিরের ভিতরের ভাব গম্ভীর পরিবেশ।

আরাকান রাজ্য থেকে বিতারিত হয়ে আসা রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরা তাদের রাজা মং এর নেতৃত্বে সাগর পাড়ি দিয়ে প্রথমে চট্রগ্রাম এবং পরে পটুয়াখালীর (Patuakhali) এ জঙ্গলাকীর্ণ এলাকায় তাদের বসতি স্থাপন করে। নিজস্ব ঐতিহ্য ও কৃষ্টে গড়ে তোলে নিজেদের আবাসস্থল। তৎকালীন সরকার রাখাইন সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওই সময় ৩ একর এবং তাদের নিজস্ব পল্লীব জন্যে ১২ একর করে সম্পত্তি প্রদান করেন। এখনও তাদের ঐতিহ্যবাহী কলাপাড়ায় বিদ্যমান আছে।

ইকোপার্ক ও জাতীয় উদ্যান

সমুদ্র সৈকতের একেবারে কোল ঘেঁষে প্রায় ২০০ একর জায়গায় ষাটের দশকে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা নারিকেল কুঞ্জ, ঝাউবন, গঙ্গামতি সংরক্ষিত বন, পশ্চিমদিকের ফাতরার বন ও মহিপুরের রেঞ্জের বনাঞ্চল নিয়ে গড়ে উঠেছে ইকোপার্ক ও জাতীয় উদ্যান। সমুদ্রের অব্যাহত ও অপ্রতিরোধ্য ভাঙ্গনে ইতিমধ্যেই নারিকেল কুঞ্জ অনেক খানিই বিলিন হয়েছে। এর পূর্ব দিকে বনবিভাগ কর্তৃক ১৫ হেক্টর বালুভূমিতে তৈরি করা হয়েছে মনোলোভা ঝাউবন। মানব সৃষ্ট হলেও গোধূলী বেলায় সমুদ্র সৈকতে দাড়িঁয়ে ও বিশেষ করে পূর্ণ চন্দ্রালোকিত জ্যোৎস্না রাতে যখন বেলাভূমি থেকে নারিকেল বীথি ও ঝাউবাগানের দিকে দৃষ্টি নিপতিত হয় তখন নিতানত্দ বেরসিক দর্শকের কাছে ও তা এক অমলিন স্বর্গীয় আবেদন সৃষ্টি করে। আর দিনে ঝাউবনের ভিতর দিয়ে যখন সমুদ্রের নির্মল লোনা বাতাস বয়ে যায় তখন বতাসের শোঁ শোঁ আওয়াজ এক নিরবিচ্ছিন্ন ঐক্যতান করে শ্রোতার কানে আনে অনির্বাচনীয় মাদকতা।

চরগঙ্গামতি

কুয়াকাটার মূল ভূখন্ডের পূর্বদিকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পর্যাটক আকর্ষনের আর একটি লোভনীয় স্থান চর গঙ্গামতি। এখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। এখানে একবার ভ্রমনে আসলে গঙ্গামতির লেকের স্বচ্ছ জলাধার, যার একতীরে ক্রমশ ঢালু হয়ে সাগরের বুকে নেমে যাওয়া ভাঁজপড়া বালিয়াড়ি আর অন্যতীরের সমতলভুমি পেরিয়ে বিসত্দির্ন বনের মনোলোভা দৃশ্য ভোলা যায় না। এখানে কেওড়া, গেওয়া, ছৈলা, খৈয়া ইত্যাদি হরেক রকমের গাছগাছালি ছাড়াও আছে বুনোশুয়োর, বন মোরগ আর বানরের কিচির মিচির শব্দ। এছাড়াও এর কাছেই রয়েছে রাখাইনদের বৌলতলীপাড়া।

কুয়াকাটা যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে সড়কপথে এর দূরত্ব ৩৮০ কিলোমিটার, বরিশাল থেকে ১০৮ কিলোমিটার। ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি বাস এখন সরাসরি কুয়াকাটা যায়।  ঢাকা থেকে সরাসরি  দ্রুতি পরিবহন, সাকুরা পরিবহনসহ একাধিক পরিবহনের গাড়ীতে গাবতলী কিংবা সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড থেকে কুয়াকাটায় যেতে পারবেন। আপনি এসব বাসে গেলে আপনাকে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত থেকে ২০০ মিটার দূরে নামিয়ে দিবে। ভাড়া ৫০০-৫৫০। ঢাকা থেকে কুয়াকাটা বাসে যেতে মোট সময় লাগে প্রায় ১২/১৩ ঘন্টা। খুলনা থেকে কুয়াকাটার উদ্দেশ্যে সকাল ৭ টায় একটি বিআরটিসি বাস ছাড়ে। খুলনা থেকে যেতে সময় লাগে প্রায় ৭/৮ ঘন্টা। আর উত্তরবঙ্গ থেকে আসতে চাইলে সৈয়দপুর থেকে খুলনা পর্যন্ত রূপসা অথবা সীমান্ত আন্তঃনগর ট্রেনে করে আসতে পারবেন। রাত্রের টেনে আসলে সকাল ৭ টার বিআরটিসি বাসে করে কুয়াকাটা যেতে পারবেন।

ঢাকা সদরঘাট থেকে বিলাস বহুল ডাবল ডেকার এম.ভি পারাবত, এম.ভি সৈকত, এম.ভি সুন্দরবন, এম.ভি সম্পদ, এম.ভি প্রিন্স অব বরিশাল, এম.ভি পাতারহাট, এম.ভি উপকূল লঞ্চের কেবীনে উঠে সকালের মধ্যে পটুয়াখালী কিংবা কলাপাড়া নেমে রেন্ট-এ-কার যোগে/কুয়াকাটার বাসযোগে কুয়াকাটা পৌঁছাতে পারেন। ঢাকা থেকে উল্লেখিত রুট সমূহের লঞ্চগুলো বিকাল ৫ থেকে সন্ধ্যা ৭ টার মধ্যে লঞ্চ ঘাট ত্যাগ করে থাকে। লঞ্চে সিঙ্গেল কেবিন ভাড়া ১০০০ টাকা এবং ডাবল কেবিনের ভাড়া ১৮০০ টাকা।

কুয়াকাটায় থাকার ব্যবস্থা

কুয়াকাটায় আছে দুইটি ডাক বাংলো এবং  সাগর কন্যা পর্যটন হলিডে হোমস। এলজিইডির রয়েছে দুটি, সড়ক ও জনপথের একটি, জেলা পরিষদের দুটি রাখাইন কালচার একাডেমীর একটি রেস্ট হাউস। এসকল স্থানে থাকতে হলে  সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পূর্ব অনুমতি নিতে হয়। এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে এ পর্যটন নগরীতে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় প্রায় অর্ধশতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল। আধুনিক মান সম্মত হোটেল গুলোর মধ্যে রয়েছে- হোটেল নীলঞ্জনা, হোটেল বি-ভিউ, হোটেল গোল্ডেন প্যারেজ, হোটেল বীচ-ভেলী, হোটেল ফ্যামিলী হোমস, কুয়াকাটা গেষ্ট হাউজ, হোটেল সাগর কন্যা, হোটেল আল হেরা, হোটেল আকন, হোটেল সি-গার্ডেন, হোটেল স্মৃতি সহ আরো বেশ কিছু হোটেল ও মোটেল।

১. হলিডে হোমস (পর্যটন করপোরেশন), কুয়াকাটা
ফোন : ০১৭১৫-০০১১৪৮৩
ভাড়াঃ নন এসি টুইন : ১১০০ টাকা ও ইকোনমি : ৮০০ টাকা

২. ইয়োথ ইন (পর্যটন করপোরেশন), কুয়াকাটা
ফোন : ০৪৪২৮-৫৬২০৭
ভাড়াঃ নন এসি টুইন : ১৫০০ টাকা ও এসি টুইন : ২৫০০ টাকা

৩. হোটেল স্কাই প‌্যালেস, পর্যটন এরিয়া, কুয়াকাটা
ফোনঃ ০১৭২৭-৫০৭৪৭৯, ০১৭২৭-০৩০২৪৮, ০১৭১৬-৭৪৯০২৭
ভাড়াঃ নন এসি কাপল : ১২০০ টাকা  ও নন এসি টুইন : ১৪০০ টাকা

৪. হোটেল বনানী প‌্যালেস, পর্যটন এরিয়া, কুয়াকাটা
ফোনঃ ০১৭১-৩৬৭৪১৯২, ০১৯১১-৬৭২১৩৫, ০১৭১২-৮৪৯৩৭৩
ভাড়াঃ নন এসি টুইন/কাপল : ১২৫০ টাকা (নীচতলা), ১৬৫০ টাকা (উপরের তলা), ডরমেটরী : ৪০০০ টাকা (৮ বেড)

৫. হোটেল নীলাঞ্জনা, রাখাইন মার্কেট, কুয়াকাটা
ফোনঃ ০১৭১২-৯২৭৯০৪
ভাড়াঃ নন এসি সিঙ্গেল : ৮৫০ টাকা, নন এসি টুইন : ১৪৫০ টাকা

৬. বিশ্বাস সি প‌্যালেস হোটেল, বেড়ি বাধ, কুয়াকাটা
ফোনঃ ০১৭৩-০০৯৩৩৫৬
ভাড়াঃ নন এসি টুইন : ১৮০০ টাকা, ৩ বেডেড রুম : ২০০০ টাকা

৭. সাগর কণ্যা রিসোর্ট লিমিটেড, পশ্চিম কুয়াকাটা, কুয়াকাটা
ফোনঃ ০১৭১১-১৮১৭৯৮
ভাড়াঃ নন এসি কাপল : ১২০০ টাকা (নীচতলা), ১৫০০টাকা (উপরের তলা) , নন এস টুইন : ১৮০০ টাকা

৮. হোটেল কুয়াকাটা ইন, সদর রোড, কুয়াকাটা
ফোনঃ ০১৭৫-০০০৮১৭৭
ভাড়াঃ ইকোনমি টুইন/কাপল : ১৫০০ টাকা , ইকোনমি ফ্যামিলি রুম : ১৮৫০ টাকা (১ ডাবল, ১ সিঙ্গেল)

৯. কিংস হোটেল, সাগর পাড়, কুয়াকাটা
ফোনঃ ০১৭১৩-২৭৭৬৩০
ভাড়াঃ ইকোনমি ডাবল : ৬০০ টাকা, নন এসি ডিলাক্স : ৮০০ টাকা

কোথায় খাবেন

ঘরোয়া পরিবেশে মান সম্মত খাবারের জন্য হোটেল সেফার্ড, খাবার ঘর-১, খাবার ঘর-২, এসব খাবারের হোটেল গুলো আপনার আবাসিক হোটেলে খাবার সরবরাহ করে থাকে। এছাড়া পর্যটন এলাকায় ছোট ছোট অনেক খাবারের হোটেল রয়েছে – কলাপাড়া হোটেল, হোটেল মান্নান, হোটেল বরিশাল ইত্যাদি। এসব হোটেলে কম খরচে মান সম্মত খাবার পাওয়া যায় ও সরবরাহ করা হয়।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

  • 339
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    339
    Shares
দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. Kuakata adhole jemon vebechilam temon ta noy. Nishhondehe place ta vhalo but transport system ta worst. E chara okhankar obokathamo vhalo na, vhalo hotel nai. Manush joner bebohar o temon vhalo na. Kichu syndicate ache okhane jara gesen tara janen.
    Shob kichu miliye place ta vhalo tobe keo Cox’s Bazar er moja oikhane giye niben vable tar jonno mosto boro vhul hobe.

  2. অসাধারণ

  3. কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতটাই আলাদা,সুন্দর শান্ত আর ছিমছাম। সুন্দরবনের পূর্বাংশ আর ঝাউবন ও বেশ ভালো লেগেছে।আর সত্যিই সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয় এককথায় অস্থির।তবে বৌদ্ধ মন্দিরে তেমন আহামরি কিছু নাই রাস্তাও ভালো না।আর বিচে অটো চলে বেশ,কম ভাড়ায় সেগুলোতেও ঘোরা যায়,বাইকেই চড়তে হবে নট নেসেসারি। বরিশাল হয়ে গেলে পায়রা নদী পড়ে মাঝে,ইভেন কুয়াকাটা যাবার রাস্তাও চমৎকার।

  4. বীচের ধার ঘেষে মোটর বাইক রাইডিং, রাখাইন পল্লী, বৌদ্ধ মন্দির, লাল কাঁকড়ার চর, ঝাউবন, কাউয়ার চর, ঝিনুক বীচ, শুটকি পল্লী, লেবুর চর, জাতীয় উদ্যান আর অসাধারণ সূর্যাস্ত!
    কুয়াকাটা একটা ভালোবাসা… ❤

  5. কুয়াকাটায় থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা ভালোই। আপনি যে ধরনের বাজেট ট্রিপ দিতে চান সকল ধরনের ব্যবস্থা এখানে পাবেন।

  6. সাগরের পাড় ঘেসে বাইকে যেতে পানির খুব কাছ থেকে হর্ন বাজিয়ে পিচ্চি পিচ্চি মাছগুলির রুপালি মাথা বের করে লাফিয়ে পালানোর সৌন্দর্যের কথা ভোলার না। 💜💜💜

  7. কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট অনেক কোলাহল পূর্ণ। যারা নিরিবিলি থাকতে পছন্দ করেন তারা জিরো পয়েন্ট থেকে কিছুটা দূরে থাকার চেষ্টা করবেন।

    কুয়াকাটাতে বাটপার লোকজনে ভরা। বাইক এ উঠার আগে খুব ভালভাবে দামাদামি করে নিতে হবে কারন তারা অনেক বেশী ভাড়া দাবী করতে পারে।

    কুয়াকাটা তে সকল খাবার হোটেল এ প্যাকেজ সিস্টেম। হোটেল এর লোকেরা প্যাকেজ এ ১৬০-১৭০ টাকা চেয়ে বসে কিন্তু দামাদামি করে খাবার ১১০-১২০ টাকায় খাওয়া যায়।

  8. সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং মোমেন্ট ছিলো বিচের জিরো পয়েন্ট ধরে লেবুর চর হয়ে তিন নদীর মোহনা পর্যন্ত হেটে যাওয়া। মাঝে ব্যাক করার সময় সানসেট পয়েন্ট থেকে পুরা সূর্যাস্ত উপভোগ করা। লাইফটাইম এক্সপেরিয়েন্স। ওখানকার ভাড়ায় চালিত বাইক দিয়ে গেলে আপনি পুরা সূর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন না। ওরা অত সময় দিবে না।

  9. কুয়াকাটায় মেইন বীচ এর বাম দিকে ১২ টি স্পট রয়েছে। তার মধ্যে জনপ্রিয় হলো বৌদ্ধ মন্দির, শুটকি পল্লী, লাল কাকড়ার চড়, গংগামতীর চর, কুয়াকাটার কুয়া, জাতীয় উদ্যান এবং আরো অনেক। এগুলো ঘোরার বেস্ট সময় হচ্ছে সকাল বেলা এবং ঘোরার বেস্ট মাধ্যম মটর সাইকেল। এছাড়া অটোরিক্সা আছে, চাইলে ঐগুলো দিয়েও ঘুরতে পারেন। তবে ঐগুলাতে না ওঠাই বেটার কেননা ঐগুলা সব স্পট কাভার দিতে পারবেন না সময়ের অভাবে।

    বিকালের দিকে যেতে পারেন ডান পাশের ৬ টা স্পটে। জনপ্রিয় স্পটগুলা হলো লেবুর বন, তিন নদীর মোহনা, সুন্দরবনের পুর্বাংশ। এখেত্রেও ঘোরার বেস্ট মাধ্যম মোটর সাইকেল। ডান পাশের ৬ টা স্পটের ভাড়া নিবে বাইক প্রতি ৩০০ টাকা আর বাম পাশের ১২ টা স্পট ভাড়া নিবে বাইক প্রতি ৪০০-৬০০ টাকা। বাইকে ২ জন উঠা যাবে। ভাড়া অনেক বেশি চাইবে, দর কষাকষি করে নিতে হবে।

    তবে বীচে কি.মি. প্রতি বাইক ভাড়া পাওয়া যায়। কেউ ভূলেও ঐটায় উঠবেন না। ১ কি.মি. ঘোরার পরে বলবে ৫ কি.মি. ঘুরেছেন। বাধ্য হয়ে ভাড়া দেওয়া লাগবে। এছাড়া ট্রলারে করেও এগুলার কিছু কিছু স্পট ঘুরতে যাওয়া যায়। ট্রলারে করে ফাতরার চর ঘুরতে যেতে পারেন।

  10. নিরিবিলি শান্তিতে দুদিন বেড়াতে চাইলে আমি বলবো কক্সবাজারের থেকে কুয়াকাটা ভালো অপশন। পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত রাস্তা ভালো হওয়াতে এখন জার্নিটাও অনেক কমফোর্টাবল হয়ে গেছে কারন ঢাকা থেকে পটুয়াখালী পর্যন্ত বেশ কিছু দারুন লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করে থাকে।

    যদি কক্সবাজারের সাথে হোটেল, রেস্টুরেন্ট, বুথ অথবা আনুষাঙ্গিক অন্য সুযোগ সুবিধার কথা চিন্তা করেন তাহলে কুয়াকাটা এখনও অনেক পিছিয়ে।

  11. আগের চেয়ে রাস্তা ভালো হওয়াতে যেতে কোন সমস্যা হয় নাই। নিরিবিলি একটা পরিবেশ। বড় একটা দল এর সাথে যাওয়াতে বেশ উপভোগ করেছি। পর্যটন হোটেল এ উঠেছিলাম।

  12. কুয়াকাটায় ১৬/১৮ টা স্পট আছে যা আপনি ঘুরে দেখতে পারবেন এবং স্পট গুলো বাইকে চেপে ঘুরে দেখতে হয়। আমরা লেবুর চর, সানসেট পয়েন্ট, তিন নদীর মোহনা, শুটকি পল্লী,গঙ্গামতির চর, কাউয়ার চর, লাল কাকড়ার চর, কুয়াকাটার কুয়া, ঝাউবন, রাখাইন তাঁতপল্লী সহ মোটামূটি ১০টি স্পট ঘুরে দেখেছিলাম। বাইকে পার পারসন ৩৫০ এর মত পরসে। আপনি চাইলে আরও দামাদামি করে নিতে পারবেন।

  13. কুয়াকাটা সমুদ্র মাত্র ২০ কিলোমিটার লম্বা। রাস্তা থেকে সৈকতে এসে নামলে ডানে লেবুচর ও ফাতরার বন এবং বামে গঙ্গামায়ার চর। ছোট এই সৈকতে তেমন কোন আভিজাত্য বা চাকচিক্য নেই। তবে এ যেন প্রকৃতির নিজের হাতে সাজানো কোন ছবি। দেখলেই কেমন যেন আপন আপন মনে হয়। একদিকে চোখ রাখলে কেবল সাগর আর জলরাশি আর অন্যদিকে নারিকেল গাছের সারি। নারিকেল গাছের চিরিচিরি পাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যাস্ত যেন এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। আর রাতটি যদি হয় পূর্নিমার রাত তবে আপনি নির্ঘাত হারিয়ে যাবেন নষ্টালজিয়ায়।

  14. Kuakata – The Land of Beauty.

  15. ভালো মানের খাবার রেস্টুরেন্টের খুব একটা নেই বললেই চলে। খুব উন্নতমানের হোটেল গুলোতে ভালো রেস্টুরেন্ট আছে কিন্তু বাহিরে নেই বললেই চলে।

  16. কুয়াকাটা গিয়ে একটা বিষয় দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। এখানকার মানুষ খুব অতিথিপরায়ণ। তারা খুবই সহজ সরল আর হেল্পফুল। যদি কেউ বিপদে পরে তাহলে সবাই যেভাবে এগিয়ে আসে অন্য কোথাও এটা দেখিনি আমি।

  17. কুয়াকাটায় রাখাইনদের তৈরি শীতের চাদর বেশ আকর্ষণীয়। সুলভ মূল্যে বেশ ভালো মানের চাদর পাওয়া যায়।

  18. সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত দেখার জন্যে বেষ্ট জায়গা এটি।

  19. কুয়াকাটায় সবচেয়ে আমরা যে সমস্যাটির সম্মুখীন হয়েছি তা হচ্ছে খাবার দাবার। মান খুবই খারাপ আর দামও অনেক। হোটেলের কর্মচারী এবং ম্যানেজারদের ব্যাবহারও যথেষ্ট খারাপ। আমরা এক এক দিন এক হোটেলে খেয়েছি। তূলনামুলক ভাবে রাজধানী হোটেলে খাবার এবং ব্যাবহার যথেষ্ট ভালো। তাই ঐটাতে খাবার চেষ্টা করবেন। আর যেকোন খাবার খাওয়ার আগে সব কিছুর দাম জিজ্ঞেস করবেন। তা নাহলে ওরা আপনার থেকে গলাগাটা দাম রাখবে। অবশ্য এমনিতেও খাবারের দাম অনেক বেশি।