সিকিমের গ্যাংটক এর আকাশে প্যারাগ্লাইডিং

যুক্ত করা হয়েছে
ভালো লেগেছে
3

আলহামদুলিল্লাহ ৭ দিনের সিকিম ট্যুর শেষ করে দেশে ফিরেছি কিছুদিন আগে। সিকিম ভ্রমণ নিয়ে অনেকেই বিস্তারিত লিখেছেন, রিভিউ দিয়েছেন কিন্তু প্যারাগ্লাইডিংয়ের ব্যাপারে কাউকে তেমন কিছু লিখতে দেখিনি। তাই প্যারাগ্লাইডিং এর ব্যাপারে ভাবলাম বিস্তারিত কিছু তথ্য শেয়ার করা যাক।

আমাদের প্ল্যান অনুযায়ী গ্যাংটকে ৪ রাত থাকার কথা এবং লাচুং ১ রাত। সেই হিসেবেই এমজি মার্গে আমরা হোটেল নেই সেখানে আমরা ২ রাত ছিলাম এবং বাকী দুই রাত ছিলাম এমজি মার্গ থেকে টেক্সিতে ১০ মিনিটের দুরত্বে হিল ভিউ পাওয়ার জন্য বাজরা স্টেশনের কাছের এক হোটেলে।

যাইহোক, পঞ্চম দিন আমরা সাংঙ্গু লেক ঘুড়ে এসে বাজরা স্টেশনের পাশেই একটি খাবার হোটেলে বসি লাঞ্চ করতে। বসেছিলাম জানালার পাশেই সেখান থেকে মোটামুটি পুরো গ্যাংটক শহরটা দেখা যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই চোখ আটকে গেলো আকাশে কিছু একটা উড়ছে তার উপর। হ্যা ঠিকই দেখছি প্যারাগ্লাইডিং হচ্ছে। এই জিনিশ দেখেই আমাদের একজন টিম মেম্বার মোটামুটি উতলা হয়ে গেছেন যেকোন ভাবেই হোক প্যারাগ্লাইডিং করতে হবে। তখন সময় ৪:৩২।

সিকিমের গ্যাংটক এর আকাশে প্যারাগ্লাইডিং

দ্রুত লাঞ্চ শেষ করেই খোজ নিতে বের হয়ে পরলাম কোথায় এবং কিভাবে প্যারাগ্লাইডিং করতে পারবো। কয়েকটা দোকানদারের সাথে কথা বললাম কেউই সঠিক তথ্য দিতে পারলোনা। চলে গেলাম গুগল মামার কাছে লিখে সার্চ দিলাম ‘ Sikkim paragliding ‘ সৌভাগ্যক্রমে তাদের অফিসিয়াল নামও এই নামেই ছিলো। গুগল থেকে তাদের নাম্বার নিয়ে কথা বলে নিশ্চিত হলাম কোথায় যেতে হবে এবং কিভাবে যেতে হবে। কথা শেষে ঠিক হলো আজ আর আমরা করতে পারবো না, পরদিন সকালে ৯ টায় করতে হবে।

টেক্সি ঠিক করে নিলাম রিজার্ভ যাওয়া আসা সহ। পরদিন সকাল সকাল টেক্সি চলে আসলো হোটেলের সামনে। যেতে যেতে প্যারাগ্লাইডিংয়ের ব্যাপারে টেক্সি ড্রাইভার ভাইয়ের সাথে কথা হচ্ছিলো কথায় কথায় উনি বললো – ৭০ কেজির বেশি কারো ওজন হলে সে এই রাইড দিতে পারবে না। তখনি মনের মধ্যে একটা ধাক্কা খেলাম এতো আশা নিয়ে আসলাম যদি না করতে পারি তাহলে কি হবে। আল্লাহর নাম নিতে নিতে চলে গেলাম। যাওয়ার পর প্রথমেই আমদের একে একে ওজন মাপতে শুরু করলো। আমি পায়ের জুতা খুলতে শুরু করলাম এটা দেখে তারা বলছে জুতা খুলতে হবে না। আমি তাদের বুঝাতে চেস্টা করলাম আমার ওজন বেশি হবে তাই জুতা খুলছি, তারা বারবার বলছে খুলতে হবেনা। মুখ গোমড়া করে উঠলাম ওজন মাপার মেশিনের উপরে।

স্পষ্ট ভাবেই মিটারে উঠে গেলো ৯৩ কেজি। তাদের বললাম জুতা জ্যাকেট এগুলার জন্য বেশি ওজন আমার মুখ শুকিয়ে গেছে ততক্ষনে। আমার মুখ দেখে এক আপু বল্লো সমস্যা নেই রাইড দিতে পারবেন। 😃 সাথে সাথে আমি এক লাফ দিয়ে বন্ধুদের ওপর পরলাম ফাইনালি করতে পারছি। 😀😀

ফরমালিটি অনুযায়ী পুরোন করে ফেললাম তাদের নির্ধারিত ফর্ম যেখানে লিখা ছিলো অনেকটা এরকম প্যারাগ্লাইডিং করতে গিয়ে আমার কোন প্রকার দুর্ঘটনার কারনে মৃত্যু হয় তাহলে তারা দায়ী থাকবেনা। কে ভাবে তখন এসব নিয়ে পুরো দমে মনের মধ্যে এডভেঞ্চার কাজ করছে। কখন পাহাড় থেকে লাফ দিবো। ফর্ম পূরণ শেষে তাদের নির্ধারীত গাড়িতে করে চলে গেলাম আরো ১০ কিলোমিটার উপরে, পাহাড় বেয়ে বেয়ে গাড়ী উঠে গেলো বড় একটি পাহাড়ের চুড়ায়। সেখান থেকে গ্যাংটক শহরের পুরো ভিউটা পাওয়া যাচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো চার পাশের পাহাড় গুলো শরটাকে পাহারা দিচ্ছে। স্টেডিয়ামের মতো চারো পাশেই পাহাড় আর মাঝখানে শহরটি।

ফাইনালি সব ফরমালিটিস শেষ করে একে একে সবাই পাহাড় থেকে লাফিয়ে পরলাম। লাফ দেয়ার ১০ সেকেন্ড আগে থেকে লাফানোর পর ৫ সেকেন্ট পর্যন্ত ভয় লাগছিলো তারপর আর ভয় লাগেনি। পরবর্তী ৮ মিনিট ছিলো এক স্বর্গীয় অনুভূতি। সত্যিই জীবন অনেক বেশি সুন্দর 😍😍

সিকিমের গ্যাংটক এর আকাশে প্যারাগ্লাইডিং

সিকিমে প্যারাগ্লাইডিং করার আগে আপনার যেসব তথ্য কাজে লাগবে

গ্যাংটক থেকে টেক্সি রিজার্ভ নিয়ে চলে যেতে পারবেন Sikkim Paragliding Adventure Sports Co-Operative Society Ltd. টেক্সি ড্রাইভারের সাথে অবশ্যই আগে কথা বলে নিবেন হোটেল থেকে পিকাপ এবং ড্রপ দুটোই যেনো করে। সেখানে অপেক্ষা করতে হবে যতক্ষন না রাইড শেষ হচ্ছে।

প্যারাগ্লাইডিং এর দুটি প্যাকেজ আছে।

প্রথম প্যাকেজ (২৫০০ রুপি)

Height : 1200 feet altitude (landing to take off altitude)
Duration : 5 to 8 minutes
Fly Season : September to July
Body Weight : 30 to 85 Kgs.

দ্বিতীয় প্যাকেজ (৫০০০ রুপি)

Height : 2700 feet
Duration : 22 to 25 minutes
Fly Season : October to January
Body Weight : 45 to 85 Kgs. (Depending on whether condition)

সিকিমের গ্যাংটক এর আকাশে প্যারাগ্লাইডিং

সকালের দিকে করতে পারলে বেস্ট, বেশিরভাগ সময় সকালে আকাশ পরিস্কার থাকে এবং মানুষজন কম থাকে। যদি কারো একশন ক্যামেরা থাকে তাহলে অবশ্যই সেটি নিয়ে নিবেন। সাথে ক্যামেরার সেলফিস্টিক সহ। নইলে ভিডিওর জন্য আপনাকে এক্সট্রা ৫০০/- রুপি পে করতে হবে।

আবহাওয়ার ব্যাপারে খেয়াল রাখবেন। সেখানে সবাই মোবাইলে আবহাওয়ার আপডেট দেখে বাহিরে বের হয়। যেকোন সময় বৃস্টি চলে আসতে পারে। ছাতা রাখতে পারেন সাথে। হ্যাপি ট্রাভেলিং।

  • 322
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    322
    Shares

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।