boisabi-festival-khagrachari-01
boisabi-festival-khagrachari-02
boisabi-festival-khagrachari-03
ইভেন্ট আসন্ন

বৈসাবি উৎসব

বিস্তারিত পড়ুন

অবস্থান
খাগড়াছড়ি
৬ মিনিটস
জন
আসন্ন

সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৭ – বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৭

খাগড়াছড়ি

ভ্রমণ কাহিনী

ইভেন্ট সম্পর্কে

নদীতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়িতে শুরু হয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী বা পাহাড়িদের তিনদিন ব্যাপী ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসাবি (Boisabi Festival)। প্রতি বছর চৈত্র মাসের শেষ দুই দিন এবং বৈশাখ মাসের প্রথম দিনকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীগুলোর এই সর্ববৃহৎ সামাজিক উৎসব উদযাপিত হয়।

ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই ও চাকমাদের বিজুকে একসঙ্গে বৈসাবি বলা হয়। তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটিতে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

২০২৭ সালের বৈসাবি উৎসবের সময়সূচি

  1. ১২ এপ্রিল ২০২৭ (সোমবার)

    উৎসবের প্রথম দিন চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা ভোরে চেঙ্গী নদীসহ বিভিন্ন খালে ফুল ভাসিয়ে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন।

  2. ১৩ এপ্রিল ২০২৭ (মঙ্গলবার)

    এই দিন পাহাড়িদের প্রতিটি ঘরে ঘরে ঐতিহ্যবাহী পাচন বা পাজন (বিশেষ সবজি রান্না) তৈরি করা হয় এবং অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়।

  3. ১৪ এপ্রিল ২০২৭ (বুধবার)

    পহেলা বৈশাখের এই দিনে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘সাংগ্রাই জলকেলি’ বা পানি খেলা উৎসব শুরু হয়।

  4. ১৫ এপ্রিল ২০২৭ (বৃহস্পতিবার)

    খাগড়াছড়ির বিভিন্ন মণ্ডপে মারমাদের পানি খেলা এবং ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

ফুল বিজু

ফুল বিজু হলো পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ সামাজিক উৎসব ‘বৈসাবি’র প্রথম দিনের আনন্দঘন ও পবিত্র সূচনা। প্রতি বছর চৈত্র মাসের ২৯ তারিখে (বাংলা বছরের পেনাল্টিমেট দিন, যা সাধারণত ১২ এপ্রিলে পড়ে) এই উৎসবটি অত্যন্ত উদযাপিত হয় [১]। এই বিশেষ দিনে পাহাড়ি তরুণ-তরুণী, কিশোর এবং শিশুরা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে জঙ্গল ও চারপাশ থেকে হরেক রকমের বুনো ফুল সংগ্রহ করে। এরপর তারা দলবেঁধে স্থানীয় নদী, ছড়া বা খালের ঘাটে গিয়ে কলার পাতায় ফুল সাজিয়ে শ্রদ্ধার সাথে নদীর জলে ভাসিয়ে দেয়। এই ফুল ভাসানোর মূল উদ্দেশ্য হলো গঙ্গা দেবীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পুরোনো বছরের সব দুঃখ, কষ্ট ও গ্লানি ধুয়ে-মুছে নতুন বছরকে বরণ করার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা।

নদী থেকে ফুল ভাসিয়ে ফেরার পর অবশিষ্ট ফুল দিয়ে পাহাড়িরা তাদের নিজেদের ঘরদোর, আঙিনা এবং গবাদি পশুর গোয়ালঘর অত্যন্ত চমৎকারভাবে সাজিয়ে তোলে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পাহাড়িরা এই তাজা ফুল নিয়ে স্থানীয় কিয়াং বা বৌদ্ধ বিহারে যান এবং বুদ্ধের চরণে তা উৎসর্গ করে বিশ্ব শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন। ফুল বিজুর এই দিনে পাহাড়িদের ঘরে কোনো মাংস রান্না করা হয় না, বরং তারা অত্যন্ত শান্ত ও পবিত্র পরিবেশে পরবর্তী দিনের মূল উৎসব বা ‘মূল বিজু’র প্রস্তুতি নেয়। মূলত, প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা, আত্মশুদ্ধি এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায় এই বর্ণিল ফুল বিজু উৎসবের মাধ্যমে।

গণত্মক বা পাচন

বৈসাবি উৎসবে রান্না হয় মূলত আদিবাসীদের প্রধান ও জনপ্রিয় খাবার ‘গণত্মক বা পাচন’ এ খাবার সবার ঘরে রান্না হয়। এর পাশাপাশি নানা ধরনের পিঠা, সেমাই, মুড়ি-চানাচুরসহ বিভিন্ন ধরনের ফলমূল ও ঠাণ্ডা পানীয়র আয়োজন করা হয়। Mixed Vegetable রান্না হয় মূলত ২৫ থেকে ৩০ ধরনের সবজির সংমিশ্রণে। তবে বর্তমানে পার্বত্য চট্টগ্রামে বনজঙ্গলের পরিমাণ কমে যাওয়ায় সবজির ধরনের পরিমাণও কমে যাচ্ছে।

সাংগ্রাই জলকেলি

উৎসবের তৃতীয় ও শেষ দিনে (পহেলা বৈশাখ বা ১৪ এপ্রিল) মারমা সম্প্রদায়ের হাত ধরে শুরু হয় বর্ণিল ‘সাংগ্রাই জলকেলি’ বা পানি খেলা উৎসব। মারমা তরুণ-তরুণীরা একটি নির্দিষ্ট মণ্ডপে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একে অপরের গায়ে পানি ছিটিয়ে মেতে ওঠেন। পাহাড়ি সংস্কৃতিতে এই জলকেলি কেবলই আনন্দের মাধ্যম নয়, বরং এটি পুরোনো বছরের সব পাপ, ব্যর্থতা আর মলিনতাকে পবিত্র জল দিয়ে ধুয়ে ফেলার একটি প্রতীকী আচার। পানি খেলার পাশাপাশি এই দিনে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি নাচ, গান এবং পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়, যার মাধ্যমে পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে এক পরম সম্প্রীতির আবহ তৈরি হয়।

বৈসাবি উৎসব যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে শান্তি, শ্যামলী, হানিফ ও অন্যান্য পরিবহনের বাসে খাগড়াছড়ি (Khagrachari) যেতে পারবেন। ভাড়া পড়বে ৫২০ টাকা। এছাড়াও বিআরটিসি ও সেন্টমার্টিন পরিবহনের এসি বাস খাগড়াছড়ি যায় ।

যোগাযোগ

সেন্টমার্টিন পরিবহন (Saint Martin Paribahan) – আরামবাগঃ ০১৭৬২৬৯১৩৪১ , ০১৭৬২৬৯১৩৪০ । খাগড়াছড়িঃ ০১৭৬২৬৯১৩৫৮ ।

শ্যামলী পরিবহন – আরামবাগঃ ০২-৭১৯৪২৯১ । কল্যাণপুরঃ ৯০০৩৩৩১ , ৮০৩৪২৭৫ । আসাদগেটঃ ৮১২৪৮৮১ , ৯১২৪৫৪ । দামপাড়া (চট্টগ্রাম) ০১৭১১৩৭১৪০৫ , ০১৭১১৩৭৭২৪৯ ।

শান্তি পরিবহন- আরামবাগ ( ঢাকা ) – ০১১৯০৯৯৪০০৭ । অক্সিজেন(চট্টগ্রাম) ০১৮১৭৭১৫৫৫২ ।

চট্টগ্রাম থেকেও খাগড়াছড়ি যেতে পারবেন । BRTC এসি বাস (চট্টগ্রাম) কদমতলীঃ ০১৬৮২৩৮৫১২৫ । খাগড়াছড়িঃ ০১৫৫৭৪০২৫০৭ ।

খাগড়াছড়ি শহর থেকে সিএনজি বা অটোতে করে নিউজিল্যান্ড পাড়া যেতে পারবেন, ভাড়া পরবে ১০ টাকার মত। তাই আপনি সাজেক ভ্রমণের প্ল্যান করলে অল্প সময়েই নিউজিল্যান্ড পাড়াটা ঘুরে আসতে পারেন। এছাড়া হাজাছড়া ঝর্ণাও দেখে নিতে পারেন।

কোথায় খাবেন

খাগড়াছড়ি শহরের কাছেই পানখাই পাড়ায় ঐতিহ্যবাহী সিস্টেম রেস্তোরার (System Restaurant) অবস্থান। এখানে খাগড়াছড়ির ঐতিহ্যবাহী খাবার খেতে পারবেন।  যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২৬৩৪ , ০১৫৫৬৭৭৩৪৯৩ , ০১৭৩২৯০৬৩২২ ।

কোথায় থাকবেন

খাগড়াছড়িতে পর্যটন মোটেল সহ বিভিন্ন মানের থাকার হোটেল (Hotel) আছে ।

  • পর্যটন মোটেলঃ এটি শহরে ঢুকতেই চেঙ্গী নদী পার হলেই পরবে । মোটেলের সব কক্ষই ২ বিছানার । ভাড়াঃ এসি ২১০০ টাকা, নন এসি ১৩০০ টাকা । এসি স্যুইট রুম ৩,১০০ টাকা। মোটেলের অভ্যন্তরে মাটিতে বাংলাদেশের মানচিত্র বানানো আছে । তবে পুরো খাগড়াছড়ি জেলায় বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে ভোল্টেজ ওঠানামা করায় এসি রুমগুলো নন-এসি হিসেবে ভাড়া দেয়া হচ্ছে। যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২০৮৪৮৫
  • হোটেল ইকো ছড়ি ইনঃ খাগড়াপুর ক্যান্টর্মেন্ট এর পাশে পাহাড়ী পরিবেশে অবস্থিত । এটি রিসোর্ট টাইপের হোটেল । যোগাযোগঃ ০৩৭১-৬২৬২৫ , ৩৭৪৩২২৫
  • হোটেল শৈল সুবর্নঃ ০৩৭১-৬১৪৩৬ , ০১১৯০৭৭৬৮১২
  • হোটেল জেরিনঃ ০৩৭১-৬১০৭১
  • হোটেল লবিয়তঃ ০৩৭১-৬১২২০ , ০১৫৫৬৫৭৫৭৪৬ , ০১১৯৯২৪৪৭৩০
  • হোটেল শিল্পীঃ ০৩৭১-৬১৭৯৫