কাশ্মীরের কথা উঠলেই ডাল লেক, গুলমার্গ কিংবা পাহালগামের ছবি মনে আসে। কিন্তু পরিচিত সেই দৃশ্যের বাইরে, পায়ে হেঁটে একটু ভেতরে গেলে কাশ্মীরকে অন্যভাবে চেনা যায়। অরু গ্রামের পথ ছেড়ে এগোলেই বন, নদী আর সবুজ উপত্যকার মাঝ দিয়ে শুরু হয় তারসার মারসার ট্রেক (Tarsar Marsar Trek)। নামে তারসার আর মারসার থাকলেও পথে দেখা মেলে সুন্দরসারেরও। তবে এই ট্রেকের গল্প শুধু তিনটি হ্রদে আটকে নেই। বনের ছায়া পেরিয়ে খোলা ভ্যালিতে উঠে আসা, চড়াইয়ের ফাঁকে একটু বসা, বিকেলের আলোয় ক্যাম্পের চারপাশ দেখা—এসব নিয়েই পুরো যাত্রা। হাঁটতে ভালোবাসেন আর কয়েক দিন তাঁবুতে কাটাতে আপত্তি নেই? তাহলে রুটটি আপনার ভালো লাগতে পারে। শুধু মনে রাখা দরকার, এটি অল্টিটিউড ট্রেক, তাই প্রস্তুতিটাও সেভাবেই নিতে হবে।
ট্রেক সারসংক্ষেপ
- ট্রেকের ধরন
- ক্যাম্পিং
তারসার মারসার ট্রেকিং রুটে যা যা দেখবেন
তারসার: পাহাড়ঘেরা নীল জলের হ্রদ
বাদামের মতো গড়নের তারসারকে ঘিরে আছে পাহাড়। পরিষ্কার আকাশে নীল জল, পাথুরে ঢাল আর কোথাও লেগে থাকা বরফ একসঙ্গে চোখে পড়ে। এত দূর হাঁটার পর হ্রদের কাছে এসে একটু থামতে ইচ্ছে হওয়াই স্বাভাবিক। ক্যামেরা হাতে ব্যস্ত হওয়ার আগে চারপাশটা দেখে নেওয়া যায়। একই জায়গা, অথচ আলো বদলালে দৃশ্যটাও অন্য রকম লাগে। তারসারের আশপাশে থাকার সুযোগ এই ট্রেকের অন্যতম আকর্ষণ; ক্যাম্পের জায়গা ঠিক হয় স্থানীয় নিয়ম ও গাইডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।
মারসার: মেঘের আড়ালে থাকা জলরাশি
তারসারের সঙ্গে মারসারের মেজাজের বেশ তফাত। মারসার প্রায়ই মেঘের আড়ালে চলে যায়, আবার ফাঁক পেলেই দেখা দেয়। প্রচলিত রুটে উঁচু ভিউ পয়েন্ট থেকেই হ্রদটিকে দেখা হয়; তীরে নেমে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে না। ফলে এখানে পৌঁছানোর আনন্দের সঙ্গে একটু অপেক্ষাও জড়িয়ে আছে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে অনেকটা দেখা যাবে, মেঘ নামলে হয়তো অল্পই। পাহাড়ে বেড়ানোর এই অনিশ্চয়তাটুকু মেনে নিয়েই আসা ভালো।
সুন্দরসার, লিদ্দারওয়াট ও শেকওয়াস
তারসার আর মারসারের নাম বেশি শোনা গেলেও সুন্দরসারকে বাদ দিলে যাত্রাটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আর হ্রদে পৌঁছানোর আগের দিনগুলো কাটে লিদ্দারওয়াট ও শেকওয়াসের তৃণভূমির পথে। কোথাও নদী সঙ্গ দেয়, কোথাও বন সরে গিয়ে সামনে খুলে যায় উপত্যকা। পথে পশুপালকদের বসতিও চোখে পড়তে পারে। তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের মাঝ দিয়েই আমাদের বেড়ানোর পথ—তাই ছবি তোলার আগে একটু কথা বলে অনুমতি নেওয়াই সুন্দর আচরণ।
তারসার মারসার ট্রেকের সেরা সময়
কোন সময় গেলে কেমন কাশ্মীর দেখতে চান, তার ওপরও তারিখ বেছে নেওয়া যায়। জুলাইয়ের শুরুতে উঁচু পথে বরফের চিহ্ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আগস্টে সবুজ ঘাস আর বুনো ফুলের রং বেশি চোখে পড়ে। সেপ্টেম্বরের দিকে সেই সবুজে বাদামি আভা আসে, রাতও ঠান্ডা হতে থাকে। সাধারণভাবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের প্রথম ভাগের মধ্যেই এই ট্রেকের প্ল্যান করা হয়।
অবশ্য পাহাড়ে রোদ দেখে বেরোলেই সারা দিন রোদ থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বৃষ্টি বা কুয়াশায় পথের গতি কমে যেতে পারে, ঠান্ডা বাতাসেও বিরতি নিতে হতে পারে। তাই গরম কাপড়ের পাশে বৃষ্টির প্রস্তুতিও চাই। শীতের কাশ্মীরে বেড়াতে যাওয়া আর এই রুটে ট্রেক করতে যাওয়া এক কথা নয়।
কিভাবে যাবেন
এই রুটের পরিচিত বেস ক্যাম্প অরু। সেখানে যাওয়ার সাধারণ পথ শ্রীনগর → পাহালগাম → অরু। কোনো দলের সঙ্গে গেলে বেশির ভাগ আয়োজনের শুরু হয় শ্রীনগরের নির্ধারিত মিলনস্থল থেকে। তবে গাড়ির ব্যবস্থা প্যাকেজের মধ্যে আছে কি না, সেটা বুকিংয়ের সময়ই জেনে নিলে পরে হিসাব মেলাতে সুবিধা হবে।
- বিমানে: শ্রীনগর বিমানবন্দরে পৌঁছে গাড়িতে অরুর দিকে যাওয়া যায়। ফ্লাইটের সময় ও ভাড়া ভ্রমণের তারিখ অনুযায়ী যাচাই করুন।
- রেল বা সড়কে: যাত্রার শহর অনুযায়ী চালু ট্রেন, সংযোগ ও সড়কের অবস্থা মিলিয়ে পরিকল্পনা করুন। পুরোনো সময়সূচি বা নির্দিষ্ট ভাড়া ধরে বুকিং করবেন না।
- অরু পর্যন্ত: পাহালগাম হয়ে গাড়িতে বেস ক্যাম্পে পৌঁছাতে হবে। স্থানীয় গাড়ি ব্যবহারের নিয়ম ও সম্ভাব্য গাড়ি বদলের বিষয় আয়োজকের সঙ্গে পরিষ্কার করুন।
সম্ভব হলে ট্রেক শুরুর আগের দিন শ্রীনগরে পৌঁছান। পথে দেরি হলেও তখন একটু সময় হাতে থাকে। ফেরার দিনও একই কথা প্রযোজ্য: দীর্ঘ হাঁটা সেরে অরুতে নামবেন, তারপর গাড়িতে শ্রীনগর। সেই রাতেই ফ্লাইট ধরার তাড়া থাকলে শেষ দিনটা অকারণ চাপের হয়ে যাবে। বাড়তি অন্তত একটি দিন হাতে রাখা তাই বেশ কাজে দেয়।
৭ দিনের সম্ভাব্য ট্যুর প্ল্যান
অরু থেকে যাত্রা শুরু করে আবার অরুতে ফেরার সাত দিনের একটি ট্যুর প্ল্যান নিচে দেওয়া হলো। দূরত্বগুলো আনুমানিক; ক্যাম্পের জায়গা ও দলের পরিকল্পনায় কিছুটা হেরফের হতে পারে।
১ম দিন: শ্রীনগর থেকে অরু
প্রথম দিনটা মূলত বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর। পেহেলগাম হয়ে অরু যেতে সাধারণত প্রায় ৪–৫ ঘণ্টা লাগে, যদিও রাস্তার পরিস্থিতিতে সময় বাড়তে পারে। পৌঁছে একটু বিশ্রাম, গাইডের সঙ্গে পরিচয় আর পরের কয়েক দিনের কথা শুনেই সন্ধ্যাটা কেটে যাবে। ব্যাগের কোন জিনিস কোথায় রেখেছেন, সেটাও এই ফাঁকে দেখে নেওয়া ভালো। সকালে বেরোনোর সময় তখন আর খোঁজাখুঁজি করতে হবে না।
২য় দিন: অরু থেকে লিদ্দারওয়াট
এবার শুরু আসল হাঁটা। অরু থেকে লিদ্দারওয়াট প্রায় ১০ কিলোমিটার; পথে বন, নদী আর তৃণভূমির দেখা মিলবে। প্রথম দিনের উৎসাহে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে হতে পারে, কিন্তু সামনে আরও কয়েক দিনের পথ আছে। স্বচ্ছন্দ গতি ধরে, মাঝে পানি খেয়ে আর দৃশ্য দেখতে দেখতে এগোনোই ভালো। ক্যাম্পে পৌঁছে জুতা খুলে বসার আনন্দটাও তো ট্রেকের অংশ।
৩য় দিন: লিদ্দারওয়াট থেকে শেকওয়াস
এদিনের পথ প্রায় ৫–৬ কিলোমিটার। আগের দিনের চেয়ে দূরত্ব কম, তবে উচ্চতা বাড়তে থাকবে। খোলা উপত্যকায় হাঁটার সঙ্গে নতুন উচ্চতায় শরীরকে সময় দেওয়াও দিনের একটা বড় কাজ। শেকওয়াসে রাত কাটানো তাই সূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি দিন বাঁচানোর জন্য এই বিরতি বাদ দেওয়া ঠিক হবে না।
৪র্থ দিন: শেকওয়াস থেকে তারসার
হাঁটতে হাঁটতে তারসারে পৌঁছানোর দিন। প্রায় ৪–৫ কিলোমিটার পথ, কিন্তু চড়াই আছে বলে ঘড়ির হিসাবে সময় কম ধরে লাভ নেই। হ্রদের কাছে পৌঁছানোর পর আবহাওয়া ভালো থাকলে আশপাশটা দেখার সময় পাওয়া যায়। বাকি বিকেলটা খুব বেশি কিছু না করেও কাটানো যায়—ক্যাম্পের কাছে বসে পাহাড় আর জল দেখেই। কোথায় পর্যন্ত ঘোরা যাবে, গাইডের কাছ থেকে শুনে নেবেন।
৫ম দিন: তারসার পাস হয়ে সুন্দরসার
এই দিনে প্রায় ৫–৬ কিলোমিটার হাঁটা, সঙ্গে তারসার পাস পার হওয়ার অভিজ্ঞতা। ওঠার পর আবার নামতে হবে, তারপর সুন্দরসারের দিকে পথ। এত দিন যে উপত্যকার মধ্যে ছিলেন, গিরিপথ পেরিয়ে তার বাইরে আরেকটি দৃশ্য খুলে যায়। নামার সময় ঢিলা পাথরে পা রাখার ব্যাপারে একটু বেশি মনোযোগ চাই। এখানে ধীরে চলাই স্বাভাবিক, তাড়াহুড়ার কোনো দরকার নেই।
৬ষ্ঠ দিন: মারসার দর্শন করে হোমওয়াস
সুন্দরসার থেকে মারসার ভিউ পয়েন্ট ঘুরে হোমওয়াসে নামার দিনটি তুলনামূলক লম্বা—আনুমানিক ৯–১১ কিলোমিটার। মারসার কতটা দেখা যাবে, তা অনেকটাই মেঘের ওপর নির্ভর করবে। আবহাওয়া খারাপ হলে গাইড ভিউ পয়েন্টের পরিকল্পনা বদলাতেও পারেন। সেই সিদ্ধান্ত মেনে বাকি পথের জন্য শক্তি বাঁচিয়ে রাখুন।
৭ম দিন: হোমওয়াস থেকে অরু, তারপর শ্রীনগর
শেষ দিনের প্রায় ১৩ কিলোমিটার হাঁটা শেষে পরিচিত অরুতে ফিরে আসবেন। এবার গাড়িতে শ্রীনগর। শেষ দিন বলে পথ হালকা মনে হলেও টানা নামায় হাঁটুতে চাপ পড়ে, তাই গতি সামলে চলুন। অরুতে পৌঁছে ফেরার গাড়ি আর শ্রীনগরের রাতের থাকার ব্যবস্থা করা থাকলে দিনের শেষে নিশ্চিন্ত থাকা যায়।
হাঁটাটা কতটা কঠিন?
ছবি দেখে পথটাকে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা সহজ ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। তারসার মারসার মাঝারি মাত্রার ট্রেক। টানা কয়েক দিন হাঁটা, পাথুরে অংশ আর লম্বা উতরাইয়ের জন্য পায়ের জোর ও সহনশীলতা দরকার। তারসার পাসের নামার পথ এবং সুন্দরসার থেকে মারসারের সংযোগ ট্রেইল বাড়তি আকর্ষন যোগ করে।
প্রস্তুতি শুরু করতে খুব জটিল কিছু লাগে না। নিয়মিত হাঁটা দিয়ে শুরু করুন, সঙ্গে সিঁড়ি ওঠা আর পায়ের শক্তি বাড়ানোর অনুশীলন। অভ্যাস হলে ধীরে ধীরে দূরত্ব বাড়াতে পারেন। আর ট্রেকিং জুতাটা কেনার পর তুলে রাখবেন না; আগে কয়েক দিন পরে হাঁটুন। কোথাও ঘষা লাগছে কি না, বাড়িতেই বুঝতে পারা ভালো। বয়স ও ফিটনেসের শর্ত আয়োজকভেদে আলাদা হতে পারে, তাই নিজের দলের শর্তটাও দেখে নিন।
শরীর খারাপ লাগলে অবহেলা নয়
উচ্চতায় ওঠার পর মাথাব্যথার সঙ্গে বমিভাব, মাথা ঘোরা বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি হলে তা গাইডকে সঙ্গে সঙ্গে জানান। উপসর্গ নিয়ে আরও ওপরে উঠবেন না। অবস্থার অবনতি, বিশ্রামেও শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি বা হাঁটায় ভারসাম্য হারালে দ্রুত নিচে নামানো ও জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। ভালো ফিটনেস থাকলেও হাই অল্টিটিউড সিকনেস হতে পারে।
আগে থেকে কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে যাত্রার কথা চিকিৎসককে জানান। উচ্চতার ওষুধও তাঁর পরামর্শ ছাড়া শুরু করবেন না। দলের সঙ্গে যাওয়ার আগে জরুরি চিকিৎসা ও অসুস্থ কাউকে নিচে নামানোর ব্যবস্থা কী, তা জেনে রাখলে নিজের এবং পরিবারের দুশ্চিন্তা কমবে। পথে নদী বা ঝরনা পার হওয়ার সময় গাইডের দেখানো পথেই চলুন।
থাকা, খাবার ও পানির ব্যবস্থা
অরুতে হোমস্টে বা আয়োজকের আবাসনে রাত কাটিয়ে পরের দিনগুলো তাঁবুতে থাকার প্রস্তুতি নিতে হবে। শহরের হোটেলের মতো সুবিধা এখানে আশা না করাই ভালো। তাঁবুতে কয়জন থাকবেন, স্লিপিং ব্যাগ ও ম্যাট দেওয়া হবে কি না, টয়লেটের ব্যবস্থা কেমন—বুকিংয়ের আগে এই সাধারণ প্রশ্নগুলো করে নিন। রাতে আরাম করে ঘুম হওয়া পরদিনের হাঁটায় অনেক সাহায্য করে।
খাবার নিয়ে বিশেষ কোনো চাহিদা বা অ্যালার্জি থাকলে আগে থেকেই আয়োজককে বলুন। হাঁটার ফাঁকে খাওয়ার জন্য হালকা কিছু নাশতা ব্যাগে রাখা যায়। পানির ব্যাপারেও একটু খেয়াল চাই। পাহাড়ি ঝরনার জল দেখতে পরিষ্কার লাগলেও সরাসরি পান না করে পরিশোধিত পানি ব্যবহার করুন। সকালে বেরোনোর আগে বোতল ভরে নিলে পথে সুবিধা হবে।
খরচের পরিকল্পনা করুন
বাজেটের হিসাব করতে গিয়ে শুধু ট্রেক প্যাকেজের দাম দেখলে পুরো আইডিয়া পাবেন না। শ্রীনগরে যাওয়া-আসা, বাড়তি রাতের হোটেল, গাড়ি আর সরঞ্জাম ভাড়া সব মিলিয়ে টাকার অঙ্কটা বাড়বে। দল কত বড় এবং কী ধরনের সেবা নিচ্ছেন, তার ওপরও খরচ কমে বাড়ে। হিসাবের খাতগুলো আলাদা করে লিখে নিলে সহজ হবে। আর ভারতীয় রুপির সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার অঙ্ক যেন মিশে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখুন।
- নিজের শহর থেকে শ্রীনগর যাতায়াত এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথির খরচ।
- শ্রীনগরে ট্রেকের আগে-পরে থাকা ও খাবার।
- শ্রীনগর–অরু যাওয়া-আসার গাড়িভাড়া।
- ট্রেক প্যাকেজ বা গাইড, ক্যাম্পিং সরঞ্জাম, খাবার ও প্রযোজ্য অনুমতির খরচ।
- ব্যক্তিগত সরঞ্জাম ভাড়া, ব্যাগ বহনের আলাদা সেবা ও প্রযোজ্য কর।
- বিলম্ব বা জরুরি পরিস্থিতির জন্য অতিরিক্ত অর্থ।
দাম তুলনা করার সময় দেখুন কোন প্যাকেজে কী আছে। গাড়ি, খাবার বা ব্যাগ বহনের খরচ আলাদা হলে কম দামের প্যাকেজও শেষে বেশি পড়তে পারে। বাতিল হলে টাকা ফেরতের নিয়ম আর জরুরি উদ্ধার খরচের কথাও আগে লিখিতভাবে জেনে রাখুন। পরে ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার চেয়ে শুরুতেই পরিষ্কার কথা বলে নেওয়া ভালো।
সঙ্গে কী নেবেন
- পোশাক: দ্রুত শুকায় এমন জামা ও ট্রেকিং প্যান্ট, থার্মাল, ফ্লিস, গরম জ্যাকেট এবং জলরোধী বাইরের স্তর।
- পা ও হাতের সুরক্ষা: ভালো গ্রিপের ব্যবহৃত ট্রেকিং জুতা, বাড়তি মোজা, গ্লাভস, গরম টুপি ও রোদ আটকানোর টুপি।
- ব্যাগ: আরামদায়ক ব্যাকপ্যাক, রেইন কভার এবং পোশাক শুকনা রাখার ভেতরের জলরোধী ব্যাগ।
- হাঁটার সহায়ক: ট্রেকিং পোল, হেডল্যাম্প ও অতিরিক্ত ব্যাটারি।
- ব্যক্তিগত ব্যবহার: পানির বোতল, সানগ্লাস, সানস্ক্রিন, লিপবাম, টিস্যু ও বর্জ্য ফেরত আনার ব্যাগ।
- ওষুধ ও নথি: নিজের নিয়মিত ওষুধ, প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসাসামগ্রী, পরিচয়পত্রের কপি এবং জরুরি যোগাযোগের লিখিত তালিকা।
- ইলেকট্রনিকস: পাওয়ার ব্যাংক ও প্রয়োজনীয় চার্জিং কেবল। তাঁবুতে চার্জ দেওয়ার সুবিধা থাকবে ধরে নেবেন না।
বাংলাদেশি ও অন্যান্য বিদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য
বাংলাদেশ থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করলে টিকিট কাটার আগে অনুমতির বিষয়টি পরিষ্কার করে নিন। ভারতে ঢোকার ভিসা থাকলেই নির্দিষ্ট এই ট্রেকিং রুটে যাওয়ার অনুমতি আছে, এমন ধরে নেওয়া যাবে না। নিজের জাতীয়তা, পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য অনুযায়ী অংশ নিতে পারবেন কি না, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আয়োজকের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া দরকার।
আয়োজককে শুরুতেই বলুন আপনি কোন দেশের নাগরিক। কী কাগজ লাগবে, কোনো নিবন্ধন বা বাড়তি অনুমতি প্রয়োজন কি না এবং কত আগে জমা দিতে হবে—এসবের লিখিত উত্তর রাখুন। পাসপোর্ট ও ভিসার কপিও সঙ্গে রাখবেন। বিমা করলে সেটি আপনার পরিকল্পিত উচ্চতায় ট্রেকিং এবং জরুরি উদ্ধার খরচ কভার করে কি না, শর্তগুলো পড়ে নিন।
মোবাইল নেটওয়ার্ক ও যোগাযোগ
কয়েক দিন নিয়মিত ফোনে কথা বলা যাবে না, এমন প্রস্তুতি নিয়েই বেরোনো ভালো। পরিবারকে আগে থেকে ফেরার সম্ভাব্য দিন আর আয়োজকের যোগাযোগ দিয়ে রাখুন। তাহলে এক-দুই দিন খবর না পেলে তাঁরা অকারণে উদ্বিগ্ন হবেন না। আপনার সিম বা রোমিং কোথায় কাজ করবে, সেটি সেবাদাতার কাছে জেনে নিন। প্রয়োজনীয় নথি ফোনে অফলাইনে রাখার পাশাপাশি জরুরি নম্বরগুলো কাগজেও লিখে রাখুন। পাওয়ার ব্যাংক এখানে কাজে লাগবে।
যাওয়ার আগে আরও কিছু প্রশ্ন
প্রথমবার বলেই বাদ দিতে হবে, তা নয়। তবে নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস, ভালো প্রস্তুতি এবং আয়োজকের যোগ্যতার শর্ত পূরণ করা দরকার। আগে ছোট কোনো ট্রেক করে দেখলে নিজের গতি ও ব্যাগ বহনের অভ্যাস সম্পর্কে ধারণা পাবেন। প্রথম ভ্রমণেই সবচেয়ে ছোট সময়ে রুট শেষ করার চেষ্টা না করাই ভালো।
ওপরে দেওয়া সূচিতে মারসারকে ভিউ পয়েন্ট থেকে দেখে হোমওয়াসে নেমে আসা হয়। মারসারের তীরে ক্যাম্প করা এই পরিকল্পনার অংশ নয়। বুকিংয়ের আগে আপনার দলের ক্যাম্পগুলো কোথায় হবে, সেটি মিলিয়ে নিন।
অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইড বা দায়িত্বশীল কোনো দলের সঙ্গে যাওয়াই ভালো। পাহাড়ের পথ চেনা ছাড়াও আবহাওয়া বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং প্রয়োজনে সাহায্যের ব্যবস্থা করা জরুরি। ফোনে মানচিত্র থাকলে সুবিধা হয়, কিন্তু সব পরিস্থিতির সমাধান তাতে পাওয়া যাবে না।
না, দুটি আলাদা রুট। এখানে যে তারসার মারসারের সূচি দেওয়া হয়েছে, সেটি অরু থেকে শুরু হয়ে অরুতেই ফেরে। বুকিংয়ের আগে রুটের নাম আর দিনভিত্তিক পরিকল্পনা মিলিয়ে নিলেই বিষয়টা পরিষ্কার হবে।
তারসার মারসার থেকে ফেরার সময় কোন দৃশ্যটা বেশি মনে থাকবে, তা আগে বলা মুশকিল। তারসারের নীল জল হতে পারে, আবার লেকে পৌঁছানোর আগের কোনো নাম না-জানা বাঁকও হতে পারে। তাই হাঁটার হিসাবের পাশাপাশি একটু থামার সময়ও রাখুন। এত দূরে এসে উপত্যকাটাকে শুধু পেরিয়ে গেলে তো চলবে না, একটু দেখে নেওয়াও চাই।
আমাদের সবার ভ্রমণ নিরাপদ হোক, এটাই হোক আমাদের সকলের চাওয়া।