পেহেলগাম

ভালো লেগেছে
0
Ratings
রেটিংস ( রিভিউ)

কাশ্মীরি ভাষায় নাগ মানে ঝর্ণা এবং অনন্ত মানে অসংখ্য। তাই অনন্তনাগ মানে অসংখ্য ঝর্ণা। কাশ্মীরের পেহেলগাম (Pahalgam) জম্মু কাশ্মীর প্রদেশের অনন্তনাগ জেলার অন্তর্গত। স্থানীয়রা একে ইসলামাবাদ নামে ডাকে। সম্রাট আওরঙ্গজেব ১৭০০ সালে এর নাম রাখেন ইসলামাবাদ। পরে মহারাজা গোলাব সিং ১৮৫০ সালের দিকে আবার এর নাম রাখেন অনন্তনাগ। শ্রীনগর – জম্মু হাইওয়ে ধরে প্রথমে অনন্তনাগ হয়ে পেহেলগাম। দূরত্ব শ্রীনগর থেকে ৯৬ কিঃ মিঃ। এশিয়ার সুইজারল্যান্ড খ্যাত কাশ্মীরের পেহেলগাম পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। প্রাইভেট জিপে যেতে সময় লাগে কম বেশি সাড়ে তিন ঘন্টার মত। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সবকিছু বরফে ঢাকা পড়ে বিধায় পর্যটক আগমন হ্রাস পায়।

কাশ্মীরের অর্থকারী ফসলের মধ্যে আপেল ও জাফরান অন্যতম। অনন্তনাগ জেলায় সবচেয়ে বেশি আপেলের বাগান। পেহেলগাম যেতে রাস্তার দু’ধারে এসব বাগান চোখে পড়বে। প্রচুর পরিমানে জাফরানও চাষ হয় এই অঞ্চলে। খাবারের রং, ঘ্রান ও স্বাদ বাড়িয়ে তুলতে জাফরানের জুড়ি মেলা ভার। পাকস্থলীরও নানাবিধ রোগের উপশম করে। হাইওয়ে সংলগ্ন ড্রাইফুড এর দোকান থেকে জাফরান, কাজুবাদাম, আখরোট, কিসমিস ও নানান ধরনের মসলা কিনতে পারবেন। চায়ের মত বিশেষ পানীয় কাওয়া বা কাহওয়া এবং কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী খাবার ওয়াজওয়ান খেতে ভুলবেন না। পেহেলগাম যেতে আপনার সফর সঙ্গী হবে লিডার নদী। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে পাথরের উপর দিয়ে গড়িয়ে পড়া পানি আপনার চোখ ও মন দুটোকেই ভরিয়ে দিবে।

বরফে মোড়ানো পর্বতশৃঙ্গগুলো এবং পাইন গাছের সবুজ ভ্যালিগুলো খুবই মনোরম। পেহেলগাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য, জলবায়ু, ক্যাম্পিং সহ বলিউডের মুভি দৃশ্যের শুটিংয়ের জন্য বিখ্যাত। তাইতো পর্যটকদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষনীয় গন্তব্য হল পেহেলগাম।

পেহেলগাম এর দর্শনীয় স্থানসমূহ

  • লিডার নদী
  • পেহেলগাম ভ্যালি
  • বেতাব ভ্যালি
  • আরু ভ্যালি
  • চন্দনওয়ারী
  • পেহেলগাম ভিউপয়েন্ট
  • মিনি সুইজারল্যান্ড খ্যাত বাইসারান
  • ধাবিয়ান
  • কাশ্মীর ভ্যালী ভিউপয়েন্ট
  • কানিমার্গ
  • ওয়াটারফল
  • তুলিয়ান ভ্যালী
  • মামলেশ্বর মন্দির
  • কোলাহাই হিমবাহ ইত্যাদি

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

পেহেলগাম ভ্রমনের উপযুক্ত সময় মার্চ – নভেম্বর। এটি সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় রূপ নেয় এপ্রিল-মে মাসে। তবে যারা স্নোফল দেখতে কাশ্মীর যেতে চান তাদের জন্যে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি উত্তম। কারন এ সময়টায় কাশ্মীরে সব থেকে বেশী স্নোফল পাবার সম্ভাবনা থাকে।

কাশ্মীর কিভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে সরাসরি জম্মু যাওয়ার দুটি ট্রেন আছে। হিমগিরি ও জম্মু তাওয়াই। হিমগিরি সপ্তাহে ৩ দিন (মঙ্গল, শুক্র ও শনিবার) রাত ১১:৫০ টায় হাওড়া থেকে জম্মুর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সময় লাগে ৩৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। আর জম্মু তাওয়াই প্রতিদিন চললেও সময় একটু বেশি লাগে। ভাড়া পড়বে ১২০০ থেকে ৫০০০ পর্যন্ত স্লিপার,এসি থ্রি/টু টায়ার আর বাথ। জম্মু নেমে শ্রীনগর যেতে হবে বাস বা রিজার্ভ কারে করে। বাসের ভাড়া পড়বে ‪৮০০-১৫০০‬ রুপি। আর গাড়ি ভাড়া পড়বে ৫০০০-৮০০০‬ রুপি পর্যন্ত। গ্রুপের সদস্য সংখ্যার ওপরে নির্ভর করে গাড়ি নেবেন। জম্মু থেকে শ্রীনগর যেতে সময় লাগবে ৮-১০ ঘণ্টা। চাইলে ৫২ কিমি এগিয়ে উদামপুর নাগাদ যাওয়া যায়, তারপর সেখান থেকে ১৫২ কিমি ট্যাক্সিতে প্রায় ৫/৬ ঘন্টায় বানিহিল নাগাদ যেয়ে বাকি অংশ মানে বানিহিল থেকে শ্রীনগর নাগাদ রেলে যাওয়া যায়। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচে। এই পথে পাহাড়ের নীচ দিয়ে প্রায় ১১২৫০ মিটার লম্বা টানেল পার হয়ে যেতে হয়, তাছাড়া উদামপুর ও জম্মুর মধ্যেও অনেকগুলো টানেল রয়েছে।

এছাড়াও কলকাতা থেকে দিল্লী যেতে পারেন বেশ আয়েশ করে রাজধানী এক্সপ্রেসে। ভাড়া পড়বে ‪৩০০০-৪০০০‬ টাকা শ্রেণিভেদে। তবে সব খাবার এই টিকেট ভাড়ার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকে। দিল্লীতে সারা দিন ঘুরে রাতের রাজধানী এক্সপ্রেসে যেতে পারেন দিল্লী থেকে জম্মু পর্যন্ত। রাতে ছেড়ে সকালে পৌঁছায়। জম্মু থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত আগের মতো বাস বা গাড়ি রিজার্ভ করে।

এয়ারে কাশ্মীর যেতে হলে ঢাকা থেকে আন্তর্জাতিক বিমানে প্রথম যেতে হবে দিল্লি ইন্ধিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, সেখান থেকে শ্রীনগর। অথবা ঢাকা থেকে কলকাতা যাবেন ট্রেনে বা বাসে পরে সেখান থেকে ডোমেস্টিক বিমানে জম্মু অথবা শ্রীনগর বিমানবন্দরে যাওয়া যাবে। কলকাতা থেকে সরাসরি শ্রীনগরে কোনো ফ্লাইট নেই তাই দিল্লী হয়ে যেতে হয়।

পেহেলগাম যাওয়ার উপায় এবং খরচ

এছাড়াও আপনি জম্মু নেমে শ্রীনগর না গিয়ে সরাসরি পেহেলগাম যেতে পারেন। সরাসরি পেহেলগাম যেতে হলে আপনাকে জম্মু থেকে গাড়ী ভাড়া করতে হবে। রিজার্ভ করলে ভাড়া পড়বে ৭০০০-৮০০০ রুপি। পেহেলগাম থেকে চান্দেনওয়ারী যেতে সময় লাগে ৩০ মিনিট। চান্দেনওয়ারী,আরু ভ্যালী আর বেতাব ভ্যালী এই ৩ জায়গা দেখতে গাড়ী ভাড়া ১৬০০ রুপি।

শ্রীনগর থেকে গাড়ি ভিজার্ভ করে দিনে দিনে পেহেলগাম ঘুরে আবার শ্রীনগর চলে আসা যায়। তবে পেহেলগামে -১ রাত থাকা উচিত প্যাহেলগাম এর আসল সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে চাইলে।

  • 55
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    55
    Shares
দিক নির্দেশনা

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending