🍷👣 সলো ট্রিপ ইন গোয়া🌴

যুক্ত করা হয়েছে
ভালো লেগেছে
0

এবারের আমার এক মাসের ইন্ডিয়া ট্যুরের (মার্চ ১৯ টু এপিল ১৯) মাঝে গোয়ায় ৬ দিন থাকা হয়েছিল। এখানে আমি আমার গোয়া ভ্রমণের বিস্তারিত অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। কর্ণাটক এর গোকর্ণ থেকে আমি ডিরেক্ট পানাজি চলে আসি। গোয়ায় ব্যাচেলর এবং সলো ট্রাভেলারদের থাকার জন্য আঞ্জুনা, ভাগাটর ও আরমাম্বলই বেষ্ট মনে হয়েছে আমার মতে। শুধু আমার মতে না পরিসংখ্যান মতে 🙂

Booking.com এর সাহায্য দুই দিন আগেই ভাগাটরে আবস্থিত ড্রিম হোস্টেল বুকিং করে রেখিছিলাম। প্রতি রাত ২৫০ রুপি সাথে বুফে ব্রেকফাস্ট ও কিচেন সুবিধা। তাই আমার গন্তব্য এখন পানাজি থেকে ভাগাটর। পানাজি থেকে প্রথমে যেতে হয় মাপুসা এবং মাপুসা থেকে ভাগাটর ও আঞ্জুনার বাস একই। সময় ১ ঘন্টার মতো লেগেছিলো ও ভাড়া ৩০ রুপি। গোয়ার বাসগুলোর সাউন্ড সিস্টেম খুব ভালো আর মোটামোটি উচ্চ সাউন্ডেই গান বাজে। তাই সিটি বাসেও একটা পার্টি পার্টি ভাব কাজ করে। সন্ধ্যায় হোস্টেলে চেকইন করে ফ্রেশ হয়ে স্যুপ বানিয়ে কমন রুমে চলে আসি। খেয়াল করলাম যে যার মত বসে আছে, কেউ পেইন্ট করছে কেউ লিখছে কেউবা আবার পুল ও দাবা খেলছে। আমার রুমে একটা ছেলে ছিলো, বাড়ি কোচিন, পেশায় আর্টিস্ট। ওর লাইফ স্টাইল হলো ছবি আকে, ছবি সেল করে আর ঘুরে বেড়ায়। কথা বলে ভালোই লাগলো, খুবি ফ্রেন্ডলি।

রাতে কিছু করা যায় কিনা জিজ্ঞেস করাতে ও বললো পার্টিতে যাবে কিন্তু পার্টিতে এন্টিফি ৫০০ রুপি। তার নিজের জন্য এবং লিলি ও এরিক এর জন্য সে এন্টি ফ্রি করছে কারন আমাদের হোস্টেলের ম্যানাজার আবার সেখাকার ডিজে। আমিও বললাম আমি ৫০০ রুপি দিয়ে পার্টিতে যাওয়ার বান্দা না। ও হাসি দিয়ে বললো দেখি তোমারটাও ফ্রি করতে পারি কি না। একটু পর হাসিমুখে ফিরে এসে জানালো আমরটাও ফ্রি করতে পেরেছে। আমাকে সামান্য একটা কাজ দিলো। কাজ হলো লিলি ইংলিশ বুঝে না (ইসেয়, নো আর গুড ছাড়া) তাই ও যা বলবে তুমি গুগল ট্রান্সলেট করে বুঝিয়ে দিবে। রাত ১০ টার দিকে চলে গেলাম পার্টিতে আমাদের হোস্টেল থেকে ২ কিমি এর মত হবে, রাতে হেটেই গিয়েছি।

পার্টিতে গিয়ে আরো অনেকের সাথে পরিচয় হলো। গান বাজনা নাচা নাচি করে ৩টার দিকে রুমে চলে আসি। সকাল ১১ টায় ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সারলাম কিন্তু খুব গরম থাকার কারনে কোথাও আর ঘুরতে যাইনি। বাজার থেকে ৪ টা রুপচাদা মাছ এনে রান্না করালাম, লিলি ফ্রাইড রাইচ করলো আর সালহে (আমরা ওকে আর্টিস্ট বয় বলে ডাকতাম) ও ভেজ রান্না করলো। বিকেলে আমরা ৪জন ২টা স্কুটার ভাড়া করে ফেলি। দিনে ২০০রুপি করে। সেদিন থেকে নেক্সট ৫দিন একই রুটিনে চলতে থাকলো। রুটিন হলো – ১১-১২ টায় ঘুম থেকে উঠে রান্না করে একবারে দুপুরের খাবার খেয়ে স্কুটি নিয়ে বিড়িয়ে পরা, চাপড়া ফোর্ট, আগুডা ফোর্ট, আরাম্বল, কোভলাম, আঞ্জুনা ইত্যাদি জায়গাগুলো (দিনে ১টি করে শুধু ঘুরে ছিলাম)। সন্ধ্যার পর পর্টিতে যাওয়া। রাত ২-৩ টায় বিচে যেয়ে আড্ডা, সাথে ল্যাটানো। ভোর হলে রুমে এসে ১১-১২টা পর্যন্ত ঘুমানো।

৬ দিন গোয়া ভ্রমণ শেষে আমি, আরিক ও লিলি হাম্পি চলে আসি। হাম্পির গল্প অন্য আরেক দিন হবে। হলিডে কাটানোর জন্য দুইতিন বছর পর পর হলেও গোয়া যাওয়া উচিত।

খরচ

আমার ৬দিনে গোয়ায় খরচ হয়েছিল ৪০০০ রুপির মত, শুধু গোয়া টু গোয়া। কলতাকা – গোয়া – কলকাতা ট্রেন ভাড়া ১৫০০ রুপি (স্লিপার) আর যেতে সময় ৪০ ঘণ্টা। ডরমিটরিতে থাকতে ১৫০ থেকে ৩০০ রুপি লাগবে। রান্না করে খেলে কত লাগবে সেটার ধারনাতো আপনাদের আছেই। এছাড়া প্রতি মিল ৪০ রুপি ভেজ, ১০০ রুপি নন ভেজ।

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

🎣 💜 Backpacker Trekker Solo Traveler 📷 Cyclist👣 ♥Nature🍖 Foodie but tiny 🔭♥Movies 🌍 History

লেখক পরিচিতি