সাতলার শাপলা বিলে একদিন

যুক্ত করা হয়েছে

স্থানঃ সাতলা, উজিরপুর, বরিশাল।
সময়কালঃ ১/৯/২০১৮

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বন্ধু আর বান্ধবী বরিশাল আসার দাওয়াত দিলো। আমি এক পায়ে রাজি তবে ছোট একটা শর্তে। সাতলার শাপলা বিল দেখাতে হবে। ৩৩ বছরে কেউ কথা না রাখলেও আমার বন্ধুরা কথা রেখেছে।

সাতলার শাপলা বিল

শনিবার সকাল ৫ঃ৩০ এ মাহেন্দ্র (বরিশালেই পাওয়া যায়। সিএনজির বরিশাল ভার্সন) করে যাত্রা শুরু করে ৮ টার দিকে চলে গেলাম সাতলায়। আগের দিন বন্ধুরা মিলে গল্প করতে করতে সাড়ে চারটায় ঘুমাইছি তাই পুরো যাত্রাপথ ঢুলে ঢুলে গেছি।

গ্রামের ভিতরে ঢুকতেই এক পালোয়ান আমাদের গাড়ি আটকালো। চোখ কচলে কথাবার্তা বলে জানলাম সে চাইছে আমরা যেন তাদের নৌকায় করে বিলে যাই। দর দাম করে আমরা চললাম তাদের সাথে (দর দাম করে নিবেন নতুবা পরে আফসোস হতে পারে, তবে আমরা যাদের সাথে ঘুরেছি তারা বেশ ভাল)। ছবি তুলতে চাইলে একাধিক নৌকা নিয়ে যাবেন, কাজে দিবে।

নৌকায় করে ১০ মিনিটেই চলে গেলাম বিলের মাঝখানে। চারপাশে যেদিকে চোখ যায় বহুদূর পর্যন্ত শুধু শাপলা আর শাপলা। রোদের তীব্রতাও বাড়তেছে তাই দেরি না করে ফটাফট কিছু ছবি তোলা হল।

সাতলার শাপলা বিল

দুইটা কাপল ছিল আমাদের সাথে তাই তাদের ছবি তোলা দেখলাম মুগ্ধ নয়নে আর আশা করতে থাকলাম (মনে মনে) একদিন আমারো বউ হবে হু!! আমিও ছবি তুলব। 😎😎

সাতলার শাপলা বিল

রোদের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে ফুলের সৌন্দর্য কমতে শুরু করে। সতেজ ভাবটাও অত থাকে না। একই সাথে গরম ও বাড়ে অনেক। তাই যত ভোরে যাওয়া যায় ততই ভাল। সতেজ শাপলা দেখে মন জুড়িয়ে বরিশালের পথে ফেরত চলে আসবেন।

সাতলার শাপলা বিল

নোটঃ বরিশাল থেকে সাতলার রাস্তা ভাল। গাড়ি রিজার্ভ করে নিতে পারেন অথবা চাইলে বাসেও যেতে পারবেন। সকাল ৬ টায় বাস ছাড়ে নতুল্লাবাদ বাস স্ট্যান্ড থেকে। রাস্তায় বাজার পাওয়া যায় যেখানে নাস্তা করে নিতে পারবেন।

সরাসরি ঢাকা থেকে এসে সাতলা গিয়েও ঘুরে আনন্দ পাওয়া যাবে। ৪ঃ৩০ এ লঞ্চঘাট থেকে গাড়ি নিয়ে ৭ টার মধ্যেই চলে যাওয়া যাবে সাতলা। তবে হাজার বছর ধরে উপন্যাসের টুনি আর মন্টু মিয়ার মত শাপলা তুলতে চাইলে আপনাকে উজিরপুরে থাকতে হবে। উপজেলা ডাক বাংলোতে যোগাযোগ করে আসতে হবে সেক্ষেত্রে।

হ্যাপি ট্রাভেলিং !!

ছবি ও লেখা স্বত্ব লেখক।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।