জ্যুকো ভ্যালী ট্রেকিং – স্বপ্নময় যাত্রার পথে

যুক্ত করা হয়েছে
ভালো লেগেছে
3

বিগত সাত বছর ধরে ভ্রমন যেন এক নেশায় পরিণত হয়েছে। কয়েক বছর আগে ভ্রমনসঙ্গী নয়ন বলেছিল, “চল দোস্ত, নাগাল্যান্ড (Nagaland) যাই।” চিন্তা করছিলাম নাগাল্যান্ড এটা আবার কোথায়? হঠাৎ একদিন একটি ছবি চোখে পড়ল। সারি সারি, সাজানো-গুছানো পাহাড় মনে হয়, যেন আকাশে হেলান দিয়ে আছে। দৃষ্টি কাঁড়ল ছবিটি। দেখলাম এটি ভারতের নাগাল্যান্ডে অবস্থিত নাম তার জ্যুকো ভ্যালী। কিন্তু সময়ের স্রোতে, ব্যস্ততার টানে ভুলে গেলাম সেই পাহাড়ের কথা। একদিন বাসায় বসে প্ল্যান করছি বন্ধু নয়নের সাথে ঈদ-ঊল-ফিতরের বন্ধে কোথায় যাওয়া যায়? হঠাৎ মনে পড়ল সেই জ্যুকো ভ্যালীর কথা, আর ঐদিনই সব ফাইনাল করে ফেললাম এবার যাবই যাব। এই ট্যুরের মেম্বার হয়ে গেলাম পাঁচজন।

নির্ধারিত দিনে যাত্রা শুরু হল। বর্ডার হিসেবে বেছে নিলাম সিলেটের তামাবিল বর্ডার। কেননা যাবই যেহেতু একেবারে মেঘালয় আর আসাম রাজ্যও ঘুরে আসব। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস তাড়াতাড়ি হয়ে গেল। কিন্তু বিপাকে ফেলে দিল ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন। একদিকে ঈদের ছুটির কারনে টুরিস্টের প্রচন্ড চাপ, অন্যদিকে ইমিগ্রেশনের ঢিলেঢালা ভাব এবং দুর্নীতির আঁচড় আমাদেরকে চার ঘন্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য করল। গতবার মেঘালয় যাওয়ার বদৌলতে পরিচিত ড্রাইভার সজল সেই সকাল ১০টা থেকে ভারতের ইমিগ্রেশনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। বিকাল প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে আমাদের গাড়ী আসাম রাজ্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল। কেননা ঐ রাতেই আমাদের ট্রেনের টিকেট কাটা নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরের উদ্দেশ্যে। অনেক বাধা-বিপত্তি পেড়িয়ে ট্রেন ছাড়ার প্রায় ৪৫ মিনিট আগে আমরা পৌঁছে যাই আসাম/গুয়াহাটি রেল স্টেশনে। হালকা খাওয়া-দাওয়া সেরে উঠে পড়লাম ট্রেনে। নির্ধারিত সময়েই ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করল। সারাদিনের ক্লান্তিতে অল্প সময়েই সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম।

জ্যুকো ভ্যালী ট্রেকিং

পরদিন যথাসময়েই ট্রেন ডিমাপুরে হাজিরা দিল। ডিমাপুরে নেমে প্রথম কাজ FRRO Form পূরণ করে কোহিমার জন্য পারমিশন নেওয়া। শুনেছিলাম জ্যুকো ভ্যলী ট্রেক শুরু করা যায় ভিশেমা এবং জাখামা এই দুই জায়গা থেকেই। ভিশেমা দিয়ে গেলে নাকি অপেক্ষাকৃত সহজ। তাই যাওয়ার লিস্টে ভিশেমা এবং ফিরে আসার লিস্টে জাখামাকে রাখলাম। ডিমাপুর থেকে একটি গাড়ী ঠিক করলাম সরাসরি ভিশেমা পর্যন্ত, ভাড়া পড়ল ৩০০০ রুপি। পাহাড়ী রাস্তা ধরে প্রায় তিন ঘন্টা জার্নি করে পৌছলাম ভিশেমাতে। সেখানে “DZUKOU ENTRY POINT” এ জনপ্রতি ২০০ রুপি, প্রতি ক্যামেরার জন্য ২০০ রুপি নিয়ে আমাদের একটি রশিদ ধরিয়ে দিল। বলা বাহুল্য, যদি কোন পলিথিন নিয়ে যান, তবে তারা সেগুলো রেখে দিবে। ভ্যালীর পরিবেশ রক্ষার জন্যই তাদের এই উদ্যোগ।

যাই হোক দুপুর ১২টায় ট্রেকিং শুরু হল। প্রথমদিকে গাড়ীর রাস্তার মত পাহাড়ী পথ। চারিদিকে পাহাড়ী দৃশ্য দেখতে দেখতে হাঁটতে লাগলাম। পরে শুনলাম এই রাস্তাটি চাইলে গাড়ী করেও যাওয়া যায় ভাড়া পড়ে প্রায় ১৫০০ রুপির মত। ট্রেকিং করতে পছন্দ করি বিধায় হাঁটতে লাগলাম। প্রথমবারের মত ট্রেকিংয়ে আসা রিটনদা নিজেকে নিয়ে চিন্তিত, তিনি কি পারবেন? অথচ সবাইকে অবাক করে দিয়ে ট্রেকিংয়ে তিনিই সবার আগে ছিলেন। গাড়ীর রাস্তা শেষ করার পর শুরু হল পাহাড় বেয়ে উঠা। অনেকটা রাস্তাই সিঁড়ি করে দেওয়া আছে। এদিকে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এল এখনও অনেকটা পথ বাকী। আরও প্রায় দুই ঘন্টার মত হাঁটতে হবে। এদিকে দেখা দিল পানির অভাব। এই প্রথমবার নাইট ট্রেকিং করতে হবে, একথা ভাবতেই মনে রোমাঞ্চের ছোঁয়া পাচ্ছি আবার ভয়ও করছে। বেশ কিছুক্ষণ হাঁটার পর অনেক দূরে বেস ক্যাম্পের আলো দেখা যাচ্ছে। কিন্তু রাস্তা এতই প্যাঁচানো যে আলো দেখা গেলেও পৌঁছাতে সময় লেগে গেল আরও এক ঘন্টা। শেষমেষ প্রায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে বেসক্যাম্পে পৌঁছলাম। অন্ধকারের কারনে ঐদিন আর জ্যুকো ভ্যালী দেখা হল না। তাড়াতাড়ি খাবার খেয়ে নিলাম আলু ভাজি, ডাল আর ভাত। এগুলো ছাড়া নাকি আর কিছু পাওয়াও যায় না। ক্ষিদের কারনে এগুলোই অমৃত মনে করে গিলতে লাগলাম। রাতে শুতে গিয়ে দেখি শীতের দাপটে টিকা দায়। মনে মনে ভাবছি দেশে গরমের জ্বালায় অতিষ্ঠ আর এখানে শরীরে তিন-চারটা কাপড় পড়েও ঠান্ডা ঠেকানো যাচ্ছে না। যাই হোক কোনমতে রাত কাটালাম।

জ্যুকো ভ্যালী ট্রেকিং

পরদিন খুব ভোরে উঠেই বাইরে চলে গেলাম। প্রথমবারের মত দেখা মিলল সেই স্বর্গরাজ্যের। যার টানে এত দূরে আসা নাম তার জ্যুকো ভ্যালী। ছবিতে ঠিক যেমনটা দেখেছিলাম ঠিক তেমনই। মনে হচ্ছে যেন উঁচু উঁচু পাহাড়গুলো আকাশে হেলান দিয়ে আছে, আর কত সাজানো-গুছানো। কিছুক্ষন পর পর উপর থেকে মেঘ মাটিতে নেমে আসছে, কখনও মেঘের ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে মিষ্টি রোদ। নীচের ভ্যালীতে হলুদ, সাদা, বেগুনী রঙ্গের ফুল দেখতে পাচ্ছি। সে এক অন্য রকমের অনুভূতি। বিভিন্ন দেশ থেকে আগন্তুকদের সাথে কথা বলে অনুভূতির মাত্রা আরও বেড়ে গেল। এখানে কেউ কাউকে চিনেনা, অথচ সবাই কত অল্প সময়ের মধ্যে আপন হয়ে যায়।

জ্যুকো ভ্যালী ট্রেকিং

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এই ভ্যালীর উচ্চতা ২৪৩২ মিটার। দুর্লভ প্রজাতির জ্যুকো লিলি ফুল একমাত্র এই ভ্যালীতেই দেখা যায়। একটি টীম অলরেডি রওয়ানা হয়েছে নীচের ভ্যালীর উদ্দেশ্যে। আমরাও তাড়াতাড়ি নাস্তা খেয়ে, হেলিপ্যাডে কিছুক্ষণ সময় পার করে বেড়িয়ে পড়লাম ভ্যালীর দিকে। মনে হচ্ছিল যেন স্বর্গের রাস্তা ধরে হাঁটছি। ভ্যালীতে যাওয়ার জন্য রাস্তা করা আছে। আমাদের পিছন পিছন আরও দুটি দল যোগ দিল। তারা কেউ এসেছে মনিপুর থেকে, কেউবা ফ্রান্স আবার কেউ নেদারল্যান্ড থেকে। একটি ব্যাপার খেয়াল করলাম এই ভ্যালী এখনও অনেকের কাছে অজানা, আর তাই বোধ হয় এত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। অর্ধেক নামার পর যখন উপরের দিকে তাকিয়ে দেখলাম কিছু পাহাড়ের চূঁড়া মেঘে ঢেকে আছে, মনে মনে বলছিলাম, “এই তোমাদের দেখার জন্য এত দূরে আসা।” উপর থেকে দেখা যাচ্ছে নীচে একটা ঝিরি বয়ে যাচ্ছে, যা ভ্যালীতে যোগ করেছে অন্য মাত্রার সৌন্দর্য্য্। ভ্যালীতে পৌঁছে দেখি চারিদিকে বিভিন্ন রঙ্গের ফুল, একটা ঠান্ডা বাতাসের পরশ। আর সেই বাতাসে মৃদু মৃদু দুলছে ফুলগুলো। আবেগের ঠেলায় বন্ধু নয়নকে বলেই ফেললাম, “ কি রে ভাই, আমি কি সুইজারল্যান্ডে চলে এলাম নাকি?” শুধুমাত্র জুন-জুলাই মাসেই নাকি এই ফুলগুলো ফোটে। আর শীতকালে মাঝে মাঝে স্নো-ফল হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই আবহাওয়ার রুপ পাল্টাচ্ছে এই রোদ, তো এই মেঘে চারপাশ ঢেকে যাচ্ছে, আবার মাঝে মাঝে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। সবাই ছবি তোলা নিয়ে ব্যস্ত আর আমি মাঝে মাঝে হারিয়ে যাচ্ছি জ্যুকো ভ্যালীর রূপে। ভাবছি আবার ফিরে যেতে হবে কালো ধোঁয়ার সেই ব্যস্তময় শহুরে জীবন-যাপনে, তবে আবার ফিরে আসব তোমার মুক্ত আর পরিশুদ্ধ বাতাস নেওয়ার জন্যে।

কিভাবে যাবেন

(পদ্ধতি-০১)

দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে সিলেট চলে যান। সিলেটের তামাবিল বর্ডারে নির্ধারিত কাজ সেরে ডাউকিতে যাবেন। সেখান থেকে শিলং, শেয়ারড জীপ ভাড়া জনপ্রতি ২০০ রুপি, শিলং থেকে যেতে হবে আসাম/গুয়াহাটি শেয়ারড জীপ ভাড়া জনপ্রতি ২০০ রুপি। গুয়াহাটি থেকে ট্রেনে নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর, স্লিপার ক্লাস ভাড়া ১৮০ রুপি। ডিমাপুর থেকে কোহিমা শেয়ারড জীপ ভাড়া জনপ্রতি ৩০০ রুপি। কোহিমা থেকে ভিশেমা গাড়ীতে জনপ্রতি ৫০ রুপি। আর সেখান থেকে ট্রেকিং শুরু।

(পদ্ধতি-০২)

দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে সিলেট চলে যান। সিলেটের তামাবিল বর্ডারে নির্ধারিত কাজ সেরে ডাউকিতে যাবেন। ডাউকি থেকে সরাসরি আসাম/গুয়াহাটি রিজার্ভ গাড়ী (৫ জনের) আনুমানিক ৪০০০-৪৩০০ রুপি, (৭-৮ জনের) আনুমানিক ৬৫০০-৭০০০ রুপি। ডিমাপুর থেকে সরাসরি রিজার্ভ গাড়ী (৫ জনের) আনুমানিক ৩০০০ রুপি, (৭-৮ জনের) আনুমানিক ৪৫০০ রুপি। আর সেখান থেকে ট্রেকিং শুরু। গাড়ী রিজার্ভের জন্য যোগাযোগ করতে পারেন ড্রাইভার সজল – ০০৯১৮৭৮৭৭১২৮৭৭ (WhatsAPP), ০০৯১৯৮৬২৭৮৩৩০৯। তিনি অনেক হেল্পফুল, সবচেয়ে সুবিধা হল তিনি বাংলা জানেন।

জ্যুকো ভ্যালী ট্রেকিং

(পদ্ধতি-০৩)

আগরতলা বর্ডার পার হয়ে আগরতলা টু গুয়াহাটি এয়ারে। ভাড়া সময় সাপেক্ষে কম-বেশি হয়, তবে আনুমানিক ২৫০০-৩৫০০ রুপির মধ্যে হয়ে থাকে। তারপর গুয়াহাটি থেকে উপরের যে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

থাকার ব্যবস্থা

জ্যুকো ভ্যালীর বেস ক্যাম্পে থাকতে পারবেন। ডরমিটরী জনপ্রতি ৫০ রুপি। এছাড়া বালিশ, কম্বল, ফ্লোর মেট, চাঁদর প্রতিটি ৫০ রুপি করে। প্রাইভেট রুম ১৫০০ রুপি, (৫-৬ জন) থাকতে পারবেন। তাঁবু ভাড়া দেওয়া হয়, ২ জনের তাঁবু ১২০০ রুপি আর নিজে তাঁবু নিয়ে গেলে ১০০ রুপি ভাড়া দিতে হবে।

খাওয়া-দাওয়া

আলুভাজি, সাদাভাত আর ডাল ২০০ রুপি। ডিমভাজি ৮০ রুপি, চা ২০-৩০ রুপি, নুডুলস ৬০-৯০ রুপি। এছাড়াও বিস্কুট, কেক ইত্যাদি পেয়ে যাবেন। তবে অতিরিক্ত টুরিস্ট হলে এসবের অভাব হতে পারে। এছাড়া চাইলে কিচেন ভাড়া করে নিজেরাও রান্না করা যাবে।

জ্যুকো ভ্যালী ট্রেকিং

কিছু টিপসঃ

  • ট্রেইলে যাওয়ার আগে যতটুকু পারেন শুকনো খাবার নিয়ে যাবেন। তাছাড়া এসব উপরেও কাজে আসবে।
  • গরম কাপড় নিয়ে যাবেন, কারন রাতে অনেক ঠান্ডা পড়ে।
  • ডিমাপুর নেমে পুলিশ স্টেশনের পাশে কমিশনার কার্যালয় থেকে পারমিশন নিয়ে নিন। কোহিমা যাওয়ার চেকপোস্টে তা দেখাতে হবে।
  • জ্যুকো ভ্যালী যাওয়ার ক্ষেত্রে লিস্টে ভিশেমাকে রাখুন এবং আসার ক্ষেত্রেও ভিশেমাকে রাখুন। তবে যাদের কষ্টসাধ্য ট্রেকিং পছন্দ, তারা আসার ক্ষেত্রে জাখামা দিয়ে আসতে পারেন।
  • স্থানীয়দের সাথে বন্ধুসুলভ আচরন করুন, দেখবেন তারা কতটা হেল্পফুল।
  • এই ভ্যালীর লিলি ফুল খুবই দুর্লভ প্রজাতির, তাই দয়াকরে এই ফুল ছিঁড়বেন না।
  • টীম বড় হলে রিজার্ভ গাড়ী নিয়ে যাওয়াই উত্তম। ড্রাইভার সজলের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, বিপদে আপনার পাশে দাঁড়াবে। শিলংয়ে রাতে দেড় ঘন্টা ঘুরে যখন হোটেল পাচ্ছিলাম না, তখন তিনিই আমাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। দেখেছি অনেক বাংলাদেশী টুরিষ্ট তাদের ফ্যামিলি নিয়ে রাস্তায়/বাস স্ট্যান্ডে রাত কাটিয়েছে।
  • যে কোন সিজনেই জ্যুকো ভ্যালী যাওয়া যায়। কারন বিভিন্ন সিজনে এর রূপ বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে, তবে জুন-জুলাই এবং নভেম্বর-জানুয়ারীতে টুরিস্ট অনেক বেশি থাকে।

জ্যুকো ভ্যালীর যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলবেন না। তারা পরিবেশকে বাঁচানোর জন্য সেখানে পলিথিনও নিয়ে যেতে দেয় না। সবশেষে সুন্দর ভ্রমন কামনা করি “হ্যাপী ট্রাভেলিং”।

ট্যুর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আমাদের ভিডিও দেখতে পারেন:

১ম পার্ট: https://youtu.be/z_QiNpjNs5A
২য় পার্ট: https://www.youtube.com/watch?v=i5Au1nzzw_s

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।