চেরাপুঞ্জি ভ্রমণ কথা

যুক্ত করা হয়েছে

চেরাপুঞ্জি এর সকালটা একটু আলাদা। ইউরোপীয় স্টাইলে গড়া বাড়িঘর আর সুন্দর পরিষ্কার রাস্তাঘাট এ শহরটাকে এক অন্য রকম সৌন্দর্য্য দান করছে। আর সাথে আছে মেঘের আনাগোনা। ঘুম ভেঙ্গে রুমের পাশের ছাদে টবে লাগানো ফুলগুলো আর দূরের পাহাড়ে গড়ে ওঠা শহরের সৌন্দর্য অবলোকন করতে করতে অন্যদের উঠে পড়ার তাগাদা দিলাম। ওরা দেরি করায় নিজেকে কিছু সময় দিতে একা একাই বেরিয়ে পড়লাম। দোতলা বাড়ির সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতেই দেখা হয়ে গেলো বাড়িওয়ালা আন্টির সাথে। খানিক উষ্ণ সম্ভাষণ বিনিময় করে আমি নেমে পড়লাম চেরাপুঞ্জির রাস্তায়৷

শহরের স্থানীয় অধিবাসীরা খাসি উপজাতির। খ্রিস্টান ধর্মে বিশ্বাসী। খাসি ভাষায় চেরাপুঞ্জি (Cherrapunji) শহরের নাম অবশ্য সোহরা। প্রশস্ত হাইওয়ে এড়িয়ে কিছুটা অপ্রশস্ত রাস্তা ধরে এগিয়ে চললাম শহরের একটু ভিতরের দিকে। লোকজন আর যান চলাচল শুরু হয়ে গেছে। রোডসাইডে কতকগুলো লোকাল রেস্ট্যুরেন্টের খিড়কি দিয়ে ধোঁয়া বের হচ্ছে। রান্নাবান্নার কাজ শুরু হয়ে গেছে বোঝা যাচ্ছে। আমি এগিয়ে যাচ্ছি সামনের অন্য আরেকটা গলি ধরে। গির্জার চূড়ায় সকালের মিষ্টি রোদ পড়ে এক অন্যরকম আবহ সৃষ্টি করেছে। এখানকার প্রায় সব গুলো বাড়িঘরেই ব্রিটিশ স্টাইলের ছাপ রয়ে গেছে। প্রায় প্রতিটা বাড়ির আঙ্গিনাই বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ আর টবে সাজানো। আরেকটু আগাতেই একটা স্কুল পড়লো সামনে। বাচ্চাকাচ্চারা স্কুলের দিকে যাচ্ছে। দেরি হয়ে যাচ্ছে চিন্তা করে ফিরতি পথ ধরে ফিরে চললাম আবার গতরাতের হোমস্টের দিকে।

পুরো চেরাপুঞ্জি শহরটাই এত পরিষ্কার যে চাইলেই আপনি বাহিরের জুতা সেন্ডেল ঘরেও ব্যবহার করতে পারেন। এই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ শহরের বাসিন্দারা নিজেই করে স্বতস্ফূর্তভাবে। মিউনিসিপ্যাল থেকে কোনো বেতনভূক্ত কর্মচারী নেই রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখার জন্য।

রুমে ফিরে রেডি হয়ে গত দিনের পরিচিত সেই স্থানীয় ছেলেটার ট্যাক্সিতেই রওনা দিলাম চেরাপুঞ্জি এর অন্যতম আকর্ষণ ডাবল ডেকার লিভিং রুট (Double Decker Living Root Bridge) ব্রিজের উদ্দেশ্যে। এটা পড়েছে তাইরনা ভিলেজে। আমাদের গাড়ি ট্রেক পয়েন্ট পার্কিং পর্যন্ত যেতে পারবে। তারপর আমাদের ট্রেক করে নিচে নেমে ব্রীজ পর্যন্ত যেতে হবে। প্রায় ৩৫০০ সিঁড়ি নিচে নেমে দেখা মিলবে বিখ্যাত সেই ব্রীজের৷ যেতে সময় লাগবে প্রায় ২ ঘন্টার মতো। এই একই র‍্যুট ধরে আরও ঘণ্টা দেড়েক ট্রেক করলে খুব সুন্দর একটা ঝর্ণার দেখা পাওয়া যায়৷ নাম রেইনবো ফলস। বিশাল এই ঝর্ণাটা চেরাপুঞ্জির অন্যতম একটা আকর্ষণ। আমাদের হাতে সময় না থাকায় এবারের প্ল্যানের বাইরেই রাখতে হলো ঝর্ণাটাকে।

চেরাপুঞ্জি

লোকাল একটা রেস্ট্যুরেন্টে বসে আলু পরোটা আর কড়া-লিকার-চিনি-বেশি-দুধ চা দিয়ে ব্রেকফাস্ট সেরে চেরাপুঞ্জি থেকে প্রায় ১৫ কিলো দূরে তাইরনা ভিলেজে চলে আসলাম। পথে একটা জায়গায় গাড়ি থামিয়ে দু’চোখে মুগ্ধতা নিয়ে দুই পাহাড়ের মাঝের সমতল ভূমি দেখলাম কিছুক্ষণ। এ সমতল ভুমি আর কিছুই নয়! আমাদের বাংলাদেশ। সুনামগঞ্জ জেলার ছাতকের অংশ। ওখানকার লাফার্জ সিমেন্ট ফ্যাক্টরীতে সামনের এই পাহাড়গুলো থেকেই লাইমস্টোন বা চুনাপাথরের সাপ্লাই যায় কনভ্যেয়র বেল্টের মাধ্যমে।

চেরাপুঞ্জি

তাইরনা গ্রামের পার্কিং এ গাড়ি রেখে দেরি না করে শুরু করে দিলাম ব্রীজ অভিমুখে যাত্রা। ঘন জঙ্গলের মধ্য দিয়ে সিঁড়ি ভেঙ্গে নিচে নামতে হবে প্রায় ৪৫ মিনিটের মতো। তারপর সামনে পড়বে একটা গ্রাম। এই গ্রাম থেকে বামের রোডটা ধরে আরও প্রায় ৪৫ মিনিটের মতো নামার পর তাইরনা ভিলেজের নিচে এসে পৌঁছলাম। পথে খুব সুন্দর কয়েকটা ঝর্ণা আর স্বচ্ছনীল জলের ল্যাগুনের দেখা মিললো। কয়েকটা সাসপেনশন ব্রীজের মাধ্যমে এপার-ওপার যোগাযোগ রক্ষা হয়েছে। ব্রীজগুলোও অনেক সুন্দর। এখানে একটা র‍্যুট ব্রীজের দেখা মিললো বাট এটা সিঙ্গেল ডেকার। এবার উপরে উঠার পালা। ২০ মিনিটের উপর যাত্রার পর আমরা ডাবল ডেকার রুট ব্রীজের টিকেট কাউন্টারে চলে আসলাম। জনপ্রতি ২০ রুপি, DSLR এর জন্য ২০ রুপি আর গো-প্রোর জন্য ১০০ রুপি দিয়ে ঢুকে গেলাম ব্রীজ এরিয়াতে।

সাসপেনশন ব্রীজ, চেরাপুঞ্জি

গাছের শেকড় পেঁচিয়ে যে এরকম একটা স্থাপনা গড়ে উঠতে পারে তা কারোরই কল্পনায় আসবেনা। অসাধারণ এরকম ব্রীজের একতলা ভার্সনের অভাব নেই পুরো মেঘালয় রাজ্যে। বাট দো’তলা এই একটাই যতদূর জানি। এর একপাশে সুন্দর একটা ঝর্ণা আছে আর তার স্রোতধারা ব্রীজের নিচ দিয়ে গড়িয়ে গিয়ে একটা সুন্দর সুইমিং পুল টাইপের সৃষ্টি হয়েছে। এটাকেই এরা ন্যাচারাল সুইমিং পুল বলে। আমরা কিছুক্ষণ ফোটোসেশন করে ঝর্ণার পানিতে হাবুডুবু খেলাম। সকাল সকাল রওনা দেওয়াতে এই এলাকায় আমরাই প্রথম পর্যটক। একটু পরই অন্য পর্যটকরা এসে পড়লে নির্বিঘ্নে আর উপভোগ করা যাবে না। দু’জন দেশী আপুও ইতোমধ্যে জুটে গেলো ঝর্ণার পাদদেশে। ঢাকা থেকে দুই বান্ধবী মিলে তারা এসেছেন ঘুরতে। অনেক্ষণ ধরে স্বচ্ছ পানিতে দাপাদাপি করে আপুদের দিয়ে একটা গ্রুপ ছবি তুলে নিয়ে ফিরতি পথ ধরলাম। ৩৫০০ সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামা যতটা কষ্টের তারচেয়েও হাজারগুণ কষ্টের ব্যাপার উপরে উঠাটা! হাঁচড়েপাঁচড়ে অভিকর্ষকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে(!), পুরো পথের মধ্যে কম করে হলেও বিশ(!) বার যাত্রাবিরতি নিয়ে বেলা ১ টার দিকে হাঁপাতে হাঁপাতে উঠে চলে আসলাম পার্কিং এড়িয়ার গাড়ির কাছে। অনেক কষ্ট হলেও যে স্মৃতি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি তা অমূল্য!

ডাবল ডেকার ব্রীজ, চেরাপুঞ্জি

সোজা ব্যাক করে চলে গেলাম হোমস্টেতে। ফ্রেশ হয়ে ব্যাকপ্যাক গুছিয়ে, আন্টিকে ধন্যবাদ আর বিদায় জানিয়ে বাংলাদেশে আসার দাওয়াত দিয়ে আবার বের হয়ে গেলাম চেরাপুঞ্জির অন্যান্য আকর্ষণ গুলো দেখতে।

শহরের ট্যাক্সিস্ট্যান্ড ছাড়িয়ে গাড়ি এখন ছুটে চলেছে অন্যপ্রান্তে। আমাদের এখনকার প্ল্যান একে একে সেভেন সিস্টার ফলস, মৌসমাই কেইভ, ইকোপার্ক আর নোহকালিকাই ফলস দেখে বিকেলের মধ্যে শীলং এর অল্টো বা টাটা সুমো পাকড়াও করা। এই চারটা টুরিস্ট পয়েন্টই শহরের প্রায় কাছে হওয়ায় এগুলোতে ট্যুরিস্ট আর লোকাল পিপলদের ভীড় বেশিই থাকে। প্রত্যেকটা পয়েন্টেই এন্ট্রি ফি, ক্যামেরা ফি আর পার্কিং ফি আছে। আমরা সব গুলোর সৌন্দর্যই একে একে উপভোগ করলাম। সেভেন সিস্টার ফলসে অনেকগুলো ঝর্ণা পাশাপাশি থাকায় এরকম নামকরণ হয়েছে। খুব সুন্দর ঝর্ণাধারাগুলো একসাথে মিলিত হয়ে পাহাড়ের পাদদেশে গিয়ে একটা বড়সড় নদীর মতো তৈরি হয়েছে। উপত্যকা ধরে এগিয়ে গেছে সেই স্রোতধারা কোনো এক অজানা গন্তব্যে! দূরথেকেই পাদদেশে উপত্যকায় গড়ে ওঠা অনেকগুলো গ্রাম নজরে আসে। খানিক পরপরই মেঘ এসে ঢেকে দেয় পুরো উপত্যকাটা। সেই সাথে মেঘের আড়ালে ঢাকা পড়ে সেভেন সিস্টারের ঝর্ণাধারাগুলোও।

সেভেন সিস্টার্স ফলস, চেরাপুঞ্জি

মৌসমাই কেইভ হলো এ এলাকায় খুঁজে পাওয়া অনেকগুলো প্রাকৃতিক গুহাগুলোর মধ্যে অন্যতম। আমাদের দেশের খাগড়াছড়ির আলুটিলা গুহার মতোই অনেকটা তবে পার্থক্য হলো এর ভিতরে জায়গায় জায়গায় আলোর ব্যবস্থা করা আছে আর আয়তনও বড়।

মৌসমাই কেইভ
মৌসমাই কেইভ

মৌসমাই কেইভ থেকে ফিরে চলে এলাম ইকোপার্কে। সেভেন সিস্টারের মাথার উপর দাঁড়িয়ে আছি বলা যায়। পাশ দিয়েই ঝর্ণার স্রোতধারা এসে হঠাৎ করেই আর প্রবাহিত হওয়ার জায়গা না পেয়ে সোজা নিচের দিকে গড়িয়ে পড়ে ঝর্ণায় রূপ নিয়েছে। পার্কের মতো করে গড়ে তোলায় বাচ্চাকাচ্চাদের কাছে খুব ভালো একটা জায়গা মনে হচ্ছে। কয়েকটা দোলনায় ভাগাভাগি করে অনেকগুলো পিচ্চিপাচ্চা দোল খাচ্ছে আর তাঁরস্বরে চেঁচাচ্ছে। বেশি সময় নষ্ট না করে ফটাফট কয়েকটা ছবি নিয়ে নোহকালিকাই ফলসের দিকে দৌঁড় লাগালাম।

নোহকালিকাই ফলসটাই আমাদের সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছিলো। মুগ্ধ হওয়ার মতোই এর রূপসৌন্দর্য্য! ইন্ডিয়ার সবচেয়ে উঁচু জলপ্রপাতের তকমাটা এর গায়েই লেগে আছে। প্রায় এগারোশো ফিট (১১১৫ ফিট) উঁচু থেকে গড়িয়ে পড়া এ জলপ্রপাতের নামকরণের পিছনে এক করুণ ইতিহাস আছে বলে খুঁজে পেলাম।

জনশ্রুতি আছে এরকম যে, নোহকালিকাই ঝর্নার কাছের একটি গ্রামে লিকাই নামের এক কুলি ছিলো। হঠাৎ একদিন সে মারা যায় এবং তার স্ত্রী (যার নাম ‘কালিকাই’, খাশিয়া ভাষায় ‘কা’ বলতে মেয়ে বুঝায়) ও কন্যা সন্তান তার মৃত্যুতে একা হয়ে পরে এবং জীবিকার তাগিদে তার স্ত্রীকেও আবার কুলির কাজ বেছে নিতে হয়। পরবর্তীতে কালিকাই দ্বিতীয় বিয়ে করে কিন্তু তার কাজের কারণে পরের স্বামীকে খুব বেশি সময় দিতে পারত না।বাসায় যতটা সময় থাকত তার সন্তানে বেশি সময় দিত। দ্বিতীয় স্বামী এতে হিংসায় ক্ষিপ্ত হয়ে একদিন কালিকাই কাজে থাকা অবস্থায় তার মেয়েকে খুন করে এবং মেয়ের মাংস রান্না করে রাখে। কাজ শেষে ঘরে ফেরার পর কালিকাই ক্লান্ত বাসায় কাউকে পায় না । ক্ষুধার্ত কালিকাই ঘরে থাকা সেই রান্না করা মাংস খেয়ে নেয়। খাবার পর পান খাবার অভ্যাস বলে কালিকাই সুপারি কাটার যন্ত্রের পাশে গিয়েই মানুষের কাটা আঙ্গুল দেখতে পায়। নিজের অবর্তমানে সন্তানের ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বুঝতে পেরেই উন্মাদ হয়ে যায় সে। সুপারি কাটার যন্ত্র নিয়ে চিৎকার করতে করতে দৌড়ে গিয়ে এই ঝর্নার উপর থেকে লাফ দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয়। এর থেকেই এই ঝর্নার নামকরন ‘নোহকালিকাই’! খাসিয়া ভাষায় ‘নোহ ‘মানে লাফ দেয়া।

নোহকালিকাই ফলস, চেরাপুঞ্জি

চেরাপুঞ্জি শহরে ফিরে ভাগ্যক্রমে শিলংয়ের লাস্ট সুমোটা পেয়ে গেলাম। পাহাড়ি রাস্তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে শিলং বড়বাজার পৌঁছে গেলাম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা কুঠিবাড়ি আছে শিলং এ। সেটা দেখে আশেপাশে একটা চক্কর মেরে আর কিছু স্ট্রিটফুড খেয়ে একটা সুজুকি সুইফট ভাড়া করে ফেললাম আসামের রাজধানী গৌহাটি পর্যন্ত। মেঘালয় ছেড়ে আসামের দিকে যখন আমাদের গাড়ি ছুটে চলেছে তখন ঘড়িতে প্রায় সাড়ে ৭ টা বেজে গিয়েছে। অন্ধকার নেমে আসা পাহাড়ি শহরে একে একে জ্বলে উঠতেছে নিয়ন বাতি। দূর পাহাড়ের গায়ে জোনাকি পোকার মতো টিমটিমে জ্বলতে থাকা বাতিগুলো এক অসীম ঘোরলাগা ভালোলাগার সৃষ্টি করে।

শিলং শহরে ঢুকতে আর বের হতে গেলে ঢাকা শহরের মতোই মোটামুটি জ্যাম-জেলির শিকার হতে হয়৷ বাট সব গাড়িগুলোই নির্দিষ্ট লেইন মেনে চলায় জ্যাম-জেলি ব্যাপক আকার নিতে পারে না। শিলং টু গৌহাটি ফোর লেনের হাইওয়ে এক কথায় জোশ। এত সুন্দর হাইওয়েতে স্পিডোমিটারের কাঁটা শ’য়ের নিচে রাখাও যেন পাপ! আমাদের ড্রাইভার পাপের পথে পা না বাড়িয়ে সাড়ে ন’টার মধ্যেই আমাদের গৌহাটি রেলস্টেশনের সামনে নামায়ে দিলো। ভাড়া মিটিয়ে পাশের এক বাঙ্গালি হোটেল থেকে ফিশ থালি দিয়ে পেটপুজো করে নিলাম। তারপর স্টেশনে ঢুকে কাউন্টার থেকে ফর্ম ফিলাপ করে রাত ১১ঃ৩৫ এর নাগাল্যান্ড এক্সপ্রেসের ৪ টা স্লীপার ক্লাসের টিকিট কেটে নিলাম নাগাল্যান্ডের শহর ডিমাপুর পর্যন্ত। স্টেশনে মানুষজনের ভীড়ের কারণে পা ফেলানোই দায়! ইন্ডিয়ান সিম কার্ড না থাকায় স্টেশনের ফ্রী ওয়াইফাইয়ে কানেক্ট করা যাচ্ছিলো না। অবশেষে রেলওয়ে পুলিশের দুই অমায়িক সদস্যের সহায়তায় ফ্রী ওয়াইফাইয়ের পুরোপুরি ফায়দা লুটে নিলুম!

১১ঃ৩৫ এর ট্রেন ১১ঃ৩৫ এই ছেড়ে দিলো। ফোন আর গোপ্রোটা চার্জে লাগিয়ে লোয়ার বার্থে গা এলিয়ে দিলাম। মাথার মধ্যে ঘুরছে সারাদিনে কত কি দেখলাম, শুনলাম, জানলাম!

ট্রেন ছুটে চলেছে তার নিজস্ব গতিতে। দু’পাশের সবকিছু শোঁ শোঁ করে পিছনে ছুটে যাচ্ছে। শুধু রাত জাগা ওই চাঁদটাই আমাদের সঙ্গ দিয়ে আসাম থেকে নাগাল্যান্ড ছুটে চলেছে!

ওহ ভালো কথা! ইন্ডিয়ান ট্রেন কি বাংলাদেশের ট্রেনের চেয়ে একটু বেশি গতিতেই চলে? হবে হয়তো…!

হিসেব-নিকেশ

  • ব্রেকফাস্ট আলু পরোটা ১০ রুপি/পিস, চা ১০ রুপি।
  • সব গুলো স্পটেই এন্ট্রি ফি, ক্যামেরা-গোপ্রো ফি, পার্কিং ফি আছে ২০-৫০ রুপি করে জায়গা ভেদে।
  • সারাদিনের সব স্পটের জন্য চেরাপুঞ্জিতে ট্যাক্সিভাড়া রিজার্ভ ১৩০০ রুপি।
  • লোকাল সুমো চেরাপুঞ্জি টু শিলং ৭০ রুপি পারহেড।
  • শিলং টু গৌহাটি সুজুকি সুইফট রিজার্ভ ১৩০০ রুপি। লোকাল সুমো আছে ২৫০ রুপি।
  • ফিশ থালি ৮০ রুপি, ভেজ থালি ৫০ রুপি।
  • গৌহাটি টু ডিমাপুর নাগাল্যান্ড এক্সপ্রেস স্লীপার ক্লাস (রিকমেন্ডেড) ১৬৫ রুপি পারহেড, জেনারেল ক্লাস ৯০ রুপি পারহেড।

** ঘুরতে গেলে পরিবেশ পরিষ্কার রাখবেন। হ্যাপী ট্রাভেলিং ❤

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।