আড়িয়াল বিলে জলকেলি

যুক্ত করা হয়েছে
ভালো লেগেছে
0

হাইওয়ের দু’পাশে বিস্তির্ণ সবুজ মাঠ। ঘণ্টাখানেক চোখ মেলে দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর বাজার। বাস থেকে নেমেই চোখে পড়ল অসাধারণ সৌন্দর্য। সব দোচালা-চৌচালা টিনের বাড়ি। বর্ষায় প্রতিটি বাড়ির ঘাটেই বেঁধে রাখা চার-পাঁচটা নৌকা। যা বাড়ির সৌন্দর্য্য বাড়িয়েছে আরও। বাজারের কালভার্টের নিচ দিয়ে বিলের দিকে ছুটছে খালের পানি। সেদিকে তাকিয়ে মনটা বেশ ভরে উঠল।

আড়িয়াল বিল

ভোরবেলাতেই গুলিস্তান থেকে বাসে উঠেছি। সঙ্গে বন্ধুরা। এক বন্ধু শ্রীনগরেই থাকে। ভেজবাজারে আগে থেকেই ট্রলার ঠিক করে রেখেছিল ও। উঠে পড়তেই ট্রলার ছেড়ে দিল মাঝি। ধীরে ধীরে ঢেউহীন এক পানির রাজ্যে প্রবেশ করতে লাগলাম। এগোতেই দেখি, টলটলে জল-জঙ্গলে মাথাচাড়া দিয়েছে শাপলা ফুল। আকাশজুড়ে সাদা মেঘের সঙ্গে সমান্তরালে উড়ছে অসংখ্য সাদা বক।

মূল আড়িয়াল বিলে ঢোকার আগে পানি বেশ ঘোলা। অল্প এগোতেই বদলে যেতে থাকে দৃশ্য। সবুজে সমারোহে বুদ হয়ে পড়ছে জোড়া জোড়া চোখ। নীলচে পানিতে স্পষ্ট হওয়া সাদা মেঘের প্রতিবিম্ব দেখে যে কেউ মায়াবী জগতের ভাবনায় ডুবে যেতে পারবে। বাঁক পেরোতেই চোখে পড়ে অদ্ভুত এক দৃশ্য! অগণিত কচুরিপানাকে একত্র করে তৈরি হওয়া নৌকা টানছেন এক লোক।

আড়িয়াল বিল

হঠাৎ করেই বৃষ্টি এসে গেল। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি মাথায় ঢুকে পড়ি কচুরিপানার জঙ্গলে। আবিদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্যামেরা বের করে ফটাফট ছবি তুলে চলে কচুরিপানাময় নৌকার। বন্ধু অবশ্য আমার ভুল ভাঙিয়ে বলল, ‘এটা কিন্তু ভেলা না, পুরোটাই কচুরিপানা।’ বিস্ময়ে বাকরুদ্ধ আমরা। ‘কচুরিপানারও নৌকা হয়?’

আরেকটা বাঁক নিতেই শাপলা ফুলের অরণ্যে গিয়ে পড়ি। হিজল গাছের আঁকাবাঁকা প্রতিবিম্বর সঙ্গে মন গ্রাস করছে ভুবনচিলের পাখা গুটিয়ে বসে থাকা। এলোমেলো জলপথ পাড়ি দিতেই সামনে পড়ল টলটলে পানি। জলে নামতে উসখুস করছিল আমাদের এক বন্ধু। লাইফজ্যাকেট সঙ্গেই নিয়ে এসেছিলাম। বিলম্ব না করে পরে ফেললাম, সাবধানের মার নেই।

আড়িয়াল বিল

নেমে পড়লাম! শীতল জলে যেন স্বর্গীয় স্বস্তি! উফ! নতুন জল, নতুন আবহাওয়া। ঠান্ডা লাগলে বিপদ হতে পারে! সবাই মিলে কিছুক্ষণ হুটোপুটি করে দ্রুতই উঠে পড়লাম।

ক্ষুধা পেয়েছে বেশ। মাওয়া ঘাটের যাওয়ার কথা ছিল। শ্রীনগর ফিরে চললাম। বন্ধুর বাসায় দাওয়াত। বাসায় জামা কাপড় পাল্টে খেতে বসতেই দেখি একগাদা খাবার! সরষে বাটা দিয়ে ইলিশ!

ভ্রমণের আগে সতর্কতা

লাইফ জ্যাকেট পরে নৌকায় উঠবেন। পাখিদের ঢিল মারবেন না। পানিতে প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ ফেলবেন না।

আড়িয়াল বিল

যেখানে খাবার পাবেন

খেতে চাইলে মাওয়া ঘাটেই খেতে পারেন। কাছে পিঠে কারও বাসা ছাড়া ভালো খাবার পাবেন না। সেজন্যে সঙ্গে করে খাবার নিয়ে যেতে পারেন। তবে হাঁসাড়া বাজার দিয়ে গেলে সকালের নাস্তাটা সেরে নিতে পারবেন। পরোটা-ভাজির নাস্তা বেশ সুস্বাদুও। সঙ্গে রসগোল্লার স্বাদ জিহ্বাতে লেগে থাকবে নিঃসন্দেহে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকা থেকে আড়িয়াল বিলে (Arial Beel) এক দিনেই ঘুরে আসা যায়। ঢাকার গুলিস্তান থেকে ‘ইলিশ’ গাড়িতে করে মাওয়া ফেরিঘাটের দিকে রওনা দেবেন। মাঝপথে শ্রীনগরের ভেজবাজারে নেমে পড়বেন। সেখান থেকে ভালো একটা ট্রলার ভাড়া নিয়ে বিল ঘোরা যায়। গুলিস্তান থেকে বাসে ভাড়া পড়বে ৫০ থেকে ৭০ টাকা। এ পথের ভালো বাস ‘ইলিশ’ পরিবহন ও বিআরটিসি। আড়িয়াল বিলে বেড়িয়ে আবার গাদিঘাটে এসে ফেরার রিকশা পাবেন। তিন-চার ঘণ্টার জন্য ট্রলার ভাড়া নেবে পাঁচ থেকে সাতশ’ টাকা। আর সারাদিনের জন্য পনেরোশ’ টাকা।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।