আমাদের অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে ট্রেকিংয়ে লম্বা সময়ের হাঁটার জন্য নিজেকে কিভাবে প্রস্তুত করে গড়ে তুলবো। খুব সহজেই ৮ টি ধাপ এর মাধ্যমে আপনি নিজেকে ট্র্যাকিং এর জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারবেন।
১. এখনই হাঁটতে শুরু করুন
অনেক দিন পরে ট্যুরে যাবেন? ভাবছেন খুব তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে? ভুল ভাবলেন। প্রশিক্ষনে “তাড়াতাড়ি” নামের শব্দের স্থান নেই। প্রথম ধাপ, হাঁটা শুরু করে দিন এখনই। অবাক করার বিষয় যে অনেকেই এটি করেন না।
প্রশ্নঃ একটি দীর্ঘ হাঁটার নিজেকে জন্য প্রস্তুত করার সেরা উপায় কি?
উত্তরঃ বেশ কিছু দীর্ঘ পথ হেটে অতিক্রম করা।
শুরু করুন অল্প দূরত্বের সাথে। ধীরে ধীরে দূরত্বের পরিমাপ বাড়ান। হাটা শুরু করার প্রথম দিকে এক দিন অন্তর অন্তর হাটবেন। এক দিন করে রেখে দিবেন কারন শরীর যেন মাঝের দিনে গঠন ঠিক করতে পারে। শরীর ফিট হতে থাকলে প্রতিদিন হাটুন। প্রতি দিন ব্যাক-টু-ব্যাক সেশনগুলি করার চেষ্টা করুন – এটি দশ দিনের ট্র্যাকের নিরলস প্রকৃতির জন্য আপনার স্ট্যামিনা তৈরি করতে সহায়তা করবে, যেখানে আপনার বিশ্রামের দিনের বিলাসিতা থাকবে না। আদর্শভাবে, আপনি ৪-৬ ঘন্টা হেঁটে যেতে সক্ষম হবেন আরামদায়কভাবে।
২. আপনার রুটিনে লেগ ভিত্তিক কার্ডিও রাখুন।
দীর্ঘ হাঁটার পাশাপাশি , আপনি আপনার দৈনন্দিন রুটিন মধ্যে কিছু লেগ ভিত্তিক কার্ডিও কাজ করা উচিত। সাইক্লিং আপনার পায়ে পেশী তৈরি করার জন্য উপযুক্ত। তবে ফুটবল এবং সাঁতারও বেশ কার্যকর।
৩. সুযোগ পেলে সিঁড়ি বেয়ে উঠা নামা করুন
সিঁড়ি বেয়ে উঠা-নামা পায়ের পেশী গঠনে সহায়তা করে। লিফট অথবা ইস্কেলেটর এর পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
৪. সঠিক ভাবে হাঁটার অভ্যাস করুন
আমরা ১ বছর বয়স থেকেই হাটতে শুরু করি কিন্তু এটা জানি না অনেকে হাঁটার সঠিক নিয়ম কি। তাই আমাদের জানা উচিত হাঁটার সঠিক পদ্ধতি। এটা আমাদের লম্বা পথ চলার জন্য সহায়ক হবে।
প্রথমে আপনার পায়ের পাতার হিল অংশটি মাটিতে পড়বে এবং ধীরে ধীরে সামনের অংশ পড়বে আঙ্গুল পর্যন্ত। হাঁটার সময় আপনার চোখ সামনে থাকবে আর ঘাড় সোজা থাকবে এবং বুক উচু থাকবে। এভাবে হাঁটলে আপনার পায়ের পেশী সঠিক ভাবে গঠন হবে এবং আপনি হেঁটে আনন্দ উপভোগ করবেন।
৫. দুর্গম রাস্তা আর বৈরী আবহাওয়ায় হাঁটার অভ্যাস করুন
আমরা সচরাচর ফুটপাত কিংবা রাস্তায় হেঁটে অভ্যস্ত। শুধু এতে সীমাবদ্ধ না থেকে মাটির রাস্তা, উচু রাস্তা অথবা আঁকাবাঁকা রাস্তা এগুলোতেও অভ্যাস করুন হাঁটার। সাথে সাথে বৈরী আবহাওয়া যেমন বৃষ্টি, ঠান্ডা, গরম, ঝড়ো বাতাস এগুলোতেও হাঁটার অভ্যাস করুন। কারণ আবহাওয়া সর্বদা আপনার অনুকূলে নাও থাকতে পারে।
৬. ব্যাকপ্যাক নিয়ে হাঁটুন
ট্রেকে আমাদের পিঠে ব্যাগ নিয়ে লম্বা সময় হাটতে হয় তাই এর অভ্যাস থাকা ভালো । পিঠের ব্যাগ এ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে হাঁটবেন। এতে লম্বা পথ ভারী জিনিস নিয়ে হাঁটার জন্য আপনি প্রস্তুত থাকবেন।
৭. হাঁটার সময় পানি পান করবেন আর শুকনা খাবার খাবেন
শরীর কে তরতাজা রাখতে পানির বিকল্প নেই। তবে হাঁটার সময় একবারে বেশি পানি খাওয়া যাবে না। অল্প করে সিপ দিতে হবে। আপনি চাইলে ৫ মিনিট পর পর সিপ দিতে পারেন। সাথে শরীরে শক্তি যোগান দিতে চকোলেট , খেজুর , বাদাম, ফ্রুট বার, শুকনা ফল খেতে পারেন। তবে কখনোই একবারে বেশি খাবেন না। অল্প পরিমাণে খেতে হবে। ২০ মিনিট পরপর খাবেন।
৮. ভালো জুতো কিনতে হবে
১ জোড়া ভালো জুতো কিনতে হবে যা হবে ট্রেকিং উপযোগী। ট্রেকিং উপযোগী জুতো কিভাবে বুঝবেন ?
- পানি প্রতিরোধী হবে
- বাতাস প্রবেশ করবে
- সোলে ভালো গ্রিপ থাকবে
জুতো জোড়া যেন আপনার পায়ের মাপ মতন হয়। এবং এটা আপনি বেশি ব্যবহার করতে চেষ্টা করবেন। দিনের বেশিরভাগ সময় ওই জুতো পরে থাকবেন। এবং অবশ্যই মোজা পরে হাঁটবেন। জুতো জোড়া পরে থাকতে আপনার পা কমফোর্ট জোন খুঁজে পাবে এবং মোজা পরে থাকলে মাসেল একত্রিত থাকবে। অবশ্যই লং মোজা ব্যবহার করবেন এক্ষেত্রে ।
ধন্যবাদ সবাইকে। আপনার ভ্রমণ আনন্দদায়ক হোক।
সকলের প্রতি অনুরোধ, এই বর্ষায় এডভেঞ্চার এর নেশায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকবেন। মনে রাখবেন, জীবন একটাই, আর একটা দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। তাই আমাদের সবার ভ্রমণ নিরাপদ হোক এটাই হোক আমাদের সকলের চাওয়া।