থাইল্যান্ডের ভিসা প্রসেসিং প্রক্রিয়া

যুক্ত করা হয়েছে
ভালো লেগেছে
2

প্রাকৃতিক রূপলাবণ্যের ও আধুনিকতায় শীর্ষে থাকা থাইল্যান্ডে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান রয়েছে, যা আগত দর্শনার্থীদের ব্যাপক আনন্দ দেয়। গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শীতকালের তিনটি ঋতুতে সারা বছর পার হয়ে যায়। অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এ দেশের সমুদ্রসৈকত, ভূদৃশ্য তদুপরি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসংবলিত থাইল্যান্ড বিশ্বের পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।

ঢাকাতে থাই দূতাবাসের হয়ে ভিসা আবেদন জমা নেয় VFS Global । ওদের বর্তমান অফিস গুলশান বিএনপি কার্যালয়ের কাছে। বিস্তারিত তথ্য এখান থেকে জেনে নিন

প্রথম পর্ব – প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রঃ

১। এখান থেকে এপ্লিকেশন ফর্ম পূরণ করে প্রিন্ট করে নিন। ফর্মের ২ জায়গায় স্বাক্ষর দিতে হয় – একটু খেয়াল করলেই খুঁজে পাবেন। পাসপোর্টের সাক্ষরের সাথে মিল রেখে দিবেন অবশ্যই।

২। অফিস থেকে একটা নো অবজেকশন সার্টিফিকেটের ব্যবস্থা করে ফেলুন – আপনার নাম, পদবী, পাসপোর্ট নাম্বার এবং কবে থেকে কবে ছুটিতে থাকবেন এই তথ্যগুলি থাকতে হবে।

৩। আপনার একটা পার্সোনাল লেটার – যেখানে আপনি বলবেন যে আপনি ঘুরতে যেতে চান, ঘুরতে যাওয়ার তারিখ সহ। আপনি যদি আপনার পরিবারকে সাথে নিতে চান তাহলে তাদের পাসপোর্ট এর নাম্বার আর নাম সহ বলবেন যে তাদের খরচ আপনি বহন করবেন।

৪। শেষ ছয় মাসের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট। ব্যাংক এর সিল অথবা স্বাক্ষর ছাড়া ওরা গ্রহণ করে না –  ইন্টারনেট  ব্যাঙ্কিং থেকে ডাউনলোড করলেও ব্যাঙ্ক থেকে সিল এবং স্বাক্ষর নিয়ে নিন। একা গেলে ৬০,০০০ আর পরিবারসহ গেলে ১,২০,০০০ টাকা ন্যূনতম ব্যাল্যান্স থাকা লাগবে।

৫। ব্যাঙ্ক সলভেন্সি সার্টিফিকেট অবশ্যই লাগবে, শুধু  ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্টে হবে না – আপনার ব্যাঙ্ক একাউন্টটি কত দিনের পুরনো এটা ওরা দেখে। আমি কোথাও দেখিনি, কিন্তু শুনেছি যে, কমপক্ষে ছয় মাসের পুরনো ব্যাঙ্ক একাউন্ট না থাকলে নাকি ভিসা দেয় না।

৬। উড়োজাহাজের বুকিং, রিটার্ন সহ। ভিসা পাওয়ার আগেই টিকিট কাটার প্রয়োজন নেই।

৭। সাদা অথবা হাল্কা ব্যাকগ্রাউন্ড এ তোলা ছবি। সাইজ ৩.৫ x ৪.৫ সেন্টিমিটার হতে হবে। ছবি লাগবে ২ টি – একটা আঠা দিয়ে লাগাতে হবে আরেকটা স্টাপল করে তার উপরে।  দাঁত দেখা গেলে সেই ছবি ওরা নিতে চায় না – সুতরাং গম্ভীর হয়ে ছবি তুলতে হবে (হাস্যকর শোনালেও সত্যি)।

৮। পাসপোর্ট এর ডাটা পেজ এর ফটোকপি।

৯। আগে থাই ভিসা থাকলে তার ফটোকপি (এবং সেই পাসপোর্ট টি)।

১০। আপনার সাথে যারা যাচ্ছেন তাদের কেউ ছাত্র/ছাত্রী হলে (মানে আপনার পুত্র/কন্যা অথবা স্ত্রী), তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে দেয়া আইডি কার্ডের ফটোকপি দিতে হবে।

১১। আপনি যতজন লোকের খরচ বহন করবেন সবার জন্যই সব কাগজের ফটোকপি নিয়ে যেতে হবে। ধরুন আপনার সাথে আপনার এক মাস বয়সের বাচ্চা যাবে। তার জন্যও সব কাগজের একটা করে ফটোকপি জমা দিতে হবে (যেমন – ব্যাঙ্ক সলভেন্সি সার্টিফিকেট, ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট, উড়োজাহাজের রিটার্ন বুকিং টিকেট ইত্যাদি)।

১২। চিকিৎসার জন্য যারা যাবেন তাদের জন্য থাইল্যান্ডের যে হাসপাতালে চিকিতসা করাবেন সেই হাসপাতালের এয়্যাপয়েন্ট লেটার/ বুকিং ফরম এবং স্থানীয় ডাক্তারের পরামর্শ পত্র।

২য় পর্বঃ

  • সিঙ্গেল এন্ট্রি টুরিস্ট ভিসার জন্য প্রত্যেককে সর্বমোট ৩৪৪০/- টাকা করে জমা দিতে হয়। আপনি কয়টি এপ্লিকেশন জমা দিচ্ছেন সেটা হিসাব করে ভাংতি টাকা নিয়ে যাবেন – ওখানে একটা কাগজ সেটে দিবে যেখানে লেখা থাকে যে ওরা কোন ভাংতি টাকা ফেরত দিবে না!
  • রবি থেকে বৃহস্পতি ৮:৩০ টা থেকে ১১:০০ টার ভেতর ওদের ওখানে ঢুকে পড়তে হবে। অন্যের পাসপোর্ট ও আপনি জমা দিতে পারবেন – শুধু তার কাছ থেকে একটা অথরাইজেশন লেটার নিতে হবে আর আপনার আইডিটা সাথে রাখবেন।
  • কাগজপত্র নিরীক্ষণের পর, টাকা জমা দিতে হবে(এক তলায়), এরপর সেই টাকার রিসিপ্ট নিয়ে পাসপোর্ট জমা দিতে হবে(দোতলায়)। ওটা পাসপোর্ট ফেরত নেওয়ার সময় দেখাতে হবে। ওখানে সবাই বেশ সাহায্য করে – সব কাগজ ঠিকমত নিয়ে গেলে সহজেই জমা দিতে পারবেন।  এরপর সাধারণত তিন কার্যদিবস পরে আপনার পাসপোর্টটি ফেরত পেয়ে যাবেন।
  • ফর্ম জমা দেওয়ার দু-একদিন পর আপনাকে থাই দূতাবাস থেকে ফোন দিয়ে সাধারণ কিছু প্রশ্ন করতে পারে। সুতরাং কদিন ফোনের দিকে চোখ রাখবেন।

ভিসা জমা দেবার সময়ঃ

প্রতি রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সকাল ৮ঃ৩০ টা থেকে ১১ঃ০০ টা পর্যন্ত ভিসার আবেদন পত্র জমা নেয়া হয়। ডিপ্লোমেটিক ও অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীরা সকাল ৮ঃ৩০ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন। পাসপোর্ট তোলার সময় বিকেলে ১ঃ৩০ টা থেকে ৪ টা পর্যন্ত।

ভিসার আবেদন জমা দেবার স্থানঃ

হাউজ নং- ০৩, রোড#৮৮, গুলশান-২, ঢাকা।

চেম্বার হাউজ, ফোরথ ফ্লোর, আগ্রাবাদ সি/এ, চট্টগ্রাম – ৪১০০।

নির্ভানা ইন, সেভেনথ ফ্লোর, মির্জা জঙ্গল রোড, রামের দিঘীর পার, সিলেট – ৩১০০।

থাই দুতাবাসের ঠিকানাঃ

১৮-২০ মাদানী রোড, বারিধারা, ঢাকা-১২১২। ফোনঃ ৮৮১২৭৯৫-৬, ৮৮১৩২৬০-১, ফ্যাক্সঃ-৮৮৫৪২৮০/৮৮৫৩৯৯৮

থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দুতাবাসের ঠিকানাঃ

বাড়ি# ৭২৭, থংগলোর, সই-৫৫, সুলতুম্ভিট রোড, ব্যাংকক-১০১১০, থাইল্যান্ড। ফোনঃ- ৩৯২৯৩৭-৮, ফ্যাক্সঃ-৩৯১৮০৭০

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.