থাইল্যান্ড ট্যুর প্ল্যান এর সংক্ষিপ্ত গাইডলাইন

যুক্ত করা হয়েছে

দেশের বাইরে যাদের ট্যুর দেয়ার ইচ্ছা থাইল্যান্ড তাদের কাছে অনেক আকাঙ্ক্ষিত একটি জায়গা। অনেক দিন ধরে থাইল্যান্ড ট্যুর নিয়ে লিখব লিখব বলে আর লিখা হয়ে উঠছিলনা। হঠাৎ মনে হল নিজের কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করা উচিত । হয়ত কারো উপকারে আসবে 🙂

থাইল্যান্ড

প্রথমেই আপনাকে সঠিক প্ল্যান করতে হবে। অনেকেই থাইল্যান্ড বলতে খালি ব্যাংকক আর পাতায়া বুঝে, অথচ ব্যাংকক পাতায়ার চেয়েও অনেক সুন্দর জায়গা থাইল্যান্ডে আছে। প্রথমে ঠিক করতে হবে আপনি কতদিনের ট্যুর প্ল্যান করবেন। আমাদের দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনে ৭ দিন সময় বের করাই খুব কঠিন কাজ তবে আমি বলবো একটু কষ্ট করে হলেও সময় নিয়ে যাওয়া উচিত। অন্তত ১২ – ১৫ দিন।

ট্যুরের সময়সীমা ঠিক হয়ে গেলে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। একটু বলে রাখি অন্যান্য ভিসার মতো সরাসরি থাই এম্বেসিতে গিয়ে আপনি আবেদন করতে পারবেন না। তাই কোনো এজেন্সির মাধ্যমে করাই ভালো। যেই এজেন্সির মাধ্যমেই করেন ৩৮০০ – ৪০০০ টাকা লাগবে। ভিসার ব্যাপারে একটা কথা না বললেই নয় আপনার ভিসার আবেদনের জন্য পাসপোর্ট জমা দেয়ার পর থাই এম্বেসি থেকে আপনাকে ফোন করা হবে। তারপর খুবই নরমাল প্রশ্ন করবে। যেমন আপনি কত দিনের জন্য যাবেন , স্টুডেন্ট হলে আপনার আইডি কার্ডের নাম্বার ইত্যাদি। সমস্যা হচ্ছে থাই এম্বেসি থেকে আপনাকে একবারই ফোন করা হবে। একবার মানে একবারই। আপনি যে কোনো কারনেই হোক , ফোন রিসিভ করতে না পারলে ভিসা না পাওয়ার সম্ভবনা প্রায় ১০০ % 😀

ভিসা হয়ে গেলে আপনি ঢাকা থেকে ব্যাংকক যাবেন প্লেনে 😛 ব্যাংককের সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট থেকে নেমে আপনি আপনার সাথে নেয়া কিছু ডলার থাই মুদ্রায় ভাঙ্গিয়ে নিন যাতে করে আপনি এয়ারপোর্ট থেকে ব্যাংকক সিটিতে যেতে পারেন। সব ডলার এয়ারপোর্ট থেকে না ভাঙ্গানোই ভালো কারন বাইরে আপনি বেশি ভালো রেট পাবেন। এয়ারপোর্ট থেকেই আপনি ট্রাভেল সিম কিনতে পারবেন। সবাই যেই ভুলটা করে এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়েই বাইরে ট্যাক্সি ঠিক করে মেইন সিটিতে যাওয়ার জন্য এবং সেখানে ভাড়া লাগে ৪০০ থেকে ৫০০ বাত। আমিও একই ভুল করেছি 😛 কিন্তু এয়ারপোর্টের ভিতর থেকে ওদের ট্রেন আছে যা কিনা আপনাকে ব্যাংককের যে কোনো জায়গায় নিয়ে যাবে ট্যাক্সির অনেক আগে এবং ১০০ বাতের মাঝে।

সবাই ব্যাংককে মোটামুটি সুকুম্ভিত, নানা, প্রাতুরাম এসব জায়গার হোটেলই থাকে। হোটেল খরচ খুব একটা বেশি না। আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী আপনি হোটেল পাবেন booking.com অথবা agoda.com থেকে। মোটামুটি কম খরচেই আপনি ভালো হোটেল পাবেন। ব্যাংককে দেখার মতো খুব বেশি কিছু নেই আবার কমও নেই, আন্ডার ওয়াটার ওর্য়াল্ড, বুদ্ধ ধর্মের উপাসনালয়, চাতুচাক মার্কেট, এমবিকে, ফ্লোটিং মার্কেট এইসব খুবই জনপ্রিয় জায়গা। ব্যাংককে চলাচলে সবসময় ওদের স্কাই ট্রেন ব্যাবহার করা উচিত, ওই জায়গার ট্যাক্সি ড্রাইভাররাও আমাদের দেশের সিএনজি ড্রাইভারদের মতো, কেউ মিটারে যায় না এবং অতিরিক্ত ভাড়া চায়। ব্যাংকক ঘুরার জন্য ২-৩ দিনের বেশি নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

ব্যাংকক থেকে পাতায়া আপনাকে বাসে যেতে হবে। ভুলে ট্যাক্সিতে যাওয়ার চিন্তা করবেন না। ব্যাংকক থেক পাতায়া বাস ভাড়া ১২০ বাত এবং যেতে সময় লাগে ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা। একটা কথা বলে নেয়া ভালো যে নিজে নিজে বুকিং.কম থেকে হোটেল বুক করে নিবেন। আশা করি কম দামে আপনি ভালো হোটেল পাবেন।

পাতায়া ভালো জায়গা। পাতায়াতে দেখার মতো জায়গা হল কোরাল আইল্যান্ড, রিপ্লিসের বিলিভ ইট অর নট ( অবশ্যই যাওয়া উচিত ), ওয়াকিং স্ট্রীট, ফ্লোটিং মার্কেট। ওয়াকিং স্ট্রীট ১ কিলোমিটারে মতো একটি লম্বা রাস্তা। আসা করি ভালো লাগবে 😉

ব্যাংকক পাতায়া ছাড়াও আপনি ফুকেট, ক্রাবি, ফি ফি আইল্যান্ডে যেতে পারেন। এসব জায়গা ব্যাংকক পাতায়া থেকে বহুগুণে সুন্দর।

ফুকেটে আপনি ব্যাংকক থেকে বাসে অথবা প্লেনে যেতে পারেন। প্লেনে গেলে আপানার সময় বাঁচবে আর বাসে গেলে টাকা, তবে অনেক আগে থেকে প্লেনের টিকেট বুকিং করলে বেশ কমেই প্লেনের টিকেট পাওয়া যায়। ফুকেটে হোটেল খরচ ব্যাংকক পাতায়া থেকে তুলনামূলক বেশি। চেষ্টা করবেন ফুকেটের পাতং বিচের কাছাকাছি হোটেল নেয়ার, পাতং বিচ অনেক সুন্দর এবং ফুকেট শহর অনেক গোছালো।

ফুকেট থেকে আপনি ক্রাবি অথবা ফি ফি আইল্যান্ড যেতে পারবেন শিপে করে। ফি ফি আইল্যান্ড আমার দেখা থাইল্যান্ড এর শ্রেষ্ঠ জায়গা, আগেই বলে রাখি ফি ফি আইল্যান্ডে হোটেল খরচ অনেক বেশি এবং সব কিছুর দামও। ফি ফি আইল্যান্ডে আপনি স্কুবা ডাইভিং করতে পারবেন। ফি ফি আইল্যান্ড এর অপুরুপ সৌন্দর্য আপনাকে অবশ্যই মুদ্ধ করবে আশা করছি। ফি ফি আইল্যান্ড থেকে আপনি প্যাকেজে বেশ কয়েকটা দ্বীপ ঘুরে আসতে পারবেন যার মধ্যে মায়া বে উল্লেখযোগ্য।

পরিশেষে যেই কথাগুলো বিশেষভাবে লক্ষ রাখা উচিত

  • সাধারণত সব কিছু সেভেন ইলেভেন থেকে কিনবেন , অন্য জায়গা থেকে কিনলে দাম বেশি পরবে।
  • আপনি স্ট্রিপ বার এ গেলে ভুলেও আপনার মোবাইল দিয়ে ভিডিও অথবা ছবি তুলবেন না , তুললে সাথে সাথে আপনার কমপক্ষে ২০০০ বাত জরিমানা করবে বার থেকে।
  • থাইল্যান্ড এর বডি ম্যাসাজ অনেক বিখ্যাত কিন্তু ম্যাসাজ করার সময় আপনার মানিব্যাগ এবং মূল্যবান জিনিষ সাবধানে রাখুন, কারন ম্যাসাজ করার সময় আপনার রিলাক্সেশন টাইমে আপনার মূল্যবান জিনিষপত্র চুরি হতে পারে।
  • থাইল্যান্ড এ বেশির ভাগ মানুষ পার্টি মুডে থাকে তাই বেশিরভাগ সময়ই মাতাল অবস্থায় থাকে, তাই সবার আগে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।