টাটা মেডিকেল সেন্টার কলকাতা (নিউ টাউন, রাজারহাট) পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রধান ক্যান্সার হাসপাতাল। বাংলাদেশের খুব কাছে হওয়ায় ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য অনেক বাংলাদেশি রোগী এখানে যান। এই গাইডে ভিসা, যাতায়াত, অ্যাপয়েন্টমেন্ট, ডাক্তার, খরচ, থাকা আর যোগাযোগের তথ্য এক জায়গায় দেওয়া হলো।
এই লেখায় যা থাকছে:
- টাটা মেডিকেল সেন্টার কলকাতা: পরিচিতি
- বাংলাদেশ থেকে যাতায়াত ও ভিসা
- বিভাগ ও ডাক্তার
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও রিপোর্ট পাঠানো
- ফি ও খরচ
- থাকা ও খাওয়া
- যোগাযোগ
- সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
হাসপাতালের পরিচিতি: টাটা মেডিকেল সেন্টার কলকাতা
টাটা মেডিকেল সেন্টার (TMC) টাটা গোষ্ঠীর একটি দাতব্য, অলাভজনক ক্যান্সার হাসপাতাল। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারত এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর রোগীদের কথা ভেবে ২০০৪ সালে এর পরিকল্পনা শুরু হয়। হাসপাতালটি চালু হয় ১৬ মে ২০১১, আর দ্বিতীয় পর্যায় চালু হয় ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯। এটি পরিচালনা করে Tata Medical Center Trust। হাসপাতালের ওয়েবসাইট অনুযায়ী ১৩ একর জায়গার ওপর এর শয্যা সংখ্যা ৪৩১টি (যদিও হাসপাতালের ব্রোশিওরে ৪৩৬টি লেখা)। প্রায় ৭৫% শয্যা জেনারেল ক্যাটাগরির রোগীদের জন্য রাখা, যেখানে খরচ কম।
এটি মূলত ক্যান্সার হাসপাতাল। তবে রক্তের কিছু ক্যান্সার-নয় এমন রোগের চিকিৎসাও এখানে হয়, যেখানে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট। মুম্বাইয়ের বিখ্যাত টাটা মেমোরিয়াল সেন্টারের সঙ্গে নামের মিল থাকলেও কলকাতার এই হাসপাতাল আলাদা একটি ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠান।
হাসপাতালের ঠিকানা ও লোকেশন
- ঠিকানা: 14 MAR (E-W), New Town, Rajarhat, Kolkata 700160, West Bengal, India
- হাসপাতালটি কলকাতার নিউ টাউন বা রাজারহাট এলাকায়। কলকাতা বিমানবন্দর (নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, CCU) থেকে খুব দূরে নয়। ট্রাফিক কম থাকলে গাড়িতে সাধারণত আধা ঘণ্টার মধ্যে পৌঁছানো যায় (আনুমানিক)।
- Google Maps-এ “Tata Medical Center Kolkata” লিখে সার্চ করলেই লোকেশন পাবেন।
বাংলাদেশ থেকে কিভাবে যাবেন টাটা মেডিকেল সেন্টার কলকাতা
বিমানে
- ঢাকা থেকে কলকাতা পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইটে প্রায় ১ ঘণ্টা লাগে। IndiGo (6E 1106) ও Biman Bangladesh (BG 391/395) প্রতিদিন ফ্লাইট চালায়। US-Bangla (BS 201) সপ্তাহে কয়েক দিন চলে। সব মিলিয়ে সপ্তাহে প্রায় ২০টি সরাসরি ফ্লাইট আছে (অক্টোবর–নভেম্বর ২০২৬-এর সূচি)।
- রাউন্ড-ট্রিপ ভাড়া সাধারণত আনুমানিক ১১০–১৫০ মার্কিন ডলার (নভেম্বর ২০২৬-এর হিসাব; ভাড়া প্রায়ই বদলায়)।
- অসুস্থ বা দুর্বল রোগীর জন্য বিমানই সবচেয়ে কম কষ্টের পথ।
সড়কপথে (বেনাপোল–পেট্রাপোল)
- ঢাকা থেকে বাসে বেনাপোল যান। সেখানে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস শেষ করে হেঁটে পেট্রাপোলে ভারতের ইমিগ্রেশনে যেতে হয়।
- পেট্রাপোল থেকে বাস বা ট্যাক্সিতে কলকাতা যাওয়া যায়। কাছের বনগাঁ স্টেশন থেকে লোকাল ট্রেনে শিয়ালদহও যাওয়া যায়। কলকাতা থেকে নিউ টাউনে যেতে ট্যাক্সি বা অ্যাপ-ক্যাব নিন।
- কিছু বাস কোম্পানি ঢাকা থেকে কলকাতা পর্যন্ত সরাসরি বাস চালায়, তবে সীমান্তে বাস বদলাতে হতে পারে। যাওয়ার আগে কোম্পানির কাছ থেকে বর্তমান সূচি জেনে নিন।
- ভিসায় যে স্থলবন্দরের নাম (port of entry) লেখা আছে, শুধু সেটি দিয়েই প্রবেশ করুন।
রেলপথে
- মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস জুলাই ২০২৪ থেকে বন্ধ আছে। সেপ্টেম্বর–অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত চালু করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালানোর একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
- ট্রেন আবার চালু হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঘোষণা দেখে টিকিট কাটুন। ততদিন বিমান বা বেনাপোল দিয়ে সড়কপথই ভরসা।
মেডিকেল ভিসা (Medical Visa)
- রোগীর নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ, পাসপোর্ট নম্বর, রোগ নির্ণয়ের তথ্য, পছন্দের ডাক্তারের নাম (যদি থাকে) আর সম্ভাব্য তারিখ লিখে [email protected]-এ ইমেইল করুন।
- TMC একটি Appointment বা Invitation Letter দেবে। হাসপাতালের ব্রোশিওর অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের ভিসার আবেদন AYUSH পোর্টালের মাধ্যমে হয়। রোগী আর অ্যাটেনডেন্টদের পাসপোর্টের তথ্য পেলে হাসপাতাল নিজেই রোগীর পক্ষে আবেদন করে।
- এরপর Indian Visa Online-এ ফর্ম পূরণ করে appointment.ivacbd.com থেকে IVAC-এ জমা দেওয়ার অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
- অ্যাটেনডেন্টদের Medical Escort (MX) ভিসা নিতে হবে। ভারতে গিয়ে অন্য ধরনের ভিসাকে মেডিকেল ভিসায় বদলানো যায় না।
- ভারতে পৌঁছানোর ১৪ দিনের মধ্যে রোগী ও অ্যাটেনডেন্টদের FRRO/FRO-তে নিবন্ধন করতে হবে।
খেয়াল রাখুন, TMC শুধু মেডিকেল ভিসাধারী বিদেশি রোগীদেরই নিবন্ধন করে। ট্যুরিস্ট বা অন্য ভিসায় গেলে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না।
হাসপাতালের কোন কোন বিশেষায়িত বিভাগ রয়েছে
- মেডিকেল অনকোলজি (কেমোথেরাপি, ডে-কেয়ার)
- রেডিয়েশন অনকোলজি
- সার্জিক্যাল অনকোলজি: হেড অ্যান্ড নেক, GI-HPB (খাদ্যনালি, লিভার, অগ্ন্যাশয়), ব্রেস্ট, গাইনি অনকোলজি, ইউরো অনকোলজি, সারকোমা ও স্কিন, পেরিটোনিয়াল সারফেস অনকোলজি
- হেমাটোলজি ও বোন ম্যারো (স্টেম সেল) ট্রান্সপ্লান্ট
- শিশু ক্যান্সার পরিষেবা (শিশুদের ডে-কেয়ার ও ICU)
- রেডিওলজি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, হিস্টোপ্যাথলজি ও মলিকিউলার প্যাথলজি
- প্রিভেন্টিভ অনকোলজি, প্যালিয়েটিভ কেয়ার, সাইকো-অনকোলজি ও রিহ্যাবিলিটেশন
প্রতিটি ক্যান্সারের জন্য আলাদা Disease Management Group (DMG) কাজ করে। সেখানে সার্জন, অনকোলজিস্ট, রেডিওলজিস্ট ও প্যাথলজিস্ট একসঙ্গে বসে রোগীর চিকিৎসা ঠিক করেন।
কোন রোগের জন্য কোন বিভাগে যোগাযোগ করবেন
| সমস্যা / রোগ | বিভাগ / DMG |
|---|---|
| মুখ, গলা, জিহ্বা, থাইরয়েডের ক্যান্সার | Head and Neck Surgery |
| স্তন ক্যান্সার | Breast Oncology |
| জরায়ু, ডিম্বাশয় ও জরায়ুমুখের ক্যান্সার | Gynae Oncology |
| খাদ্যনালি, পাকস্থলী, লিভার, পিত্তথলি, অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার | GI-HPB Unit |
| কিডনি, মূত্রথলি, প্রোস্টেটের ক্যান্সার | Uro Oncology |
| হাড় ও নরম টিস্যুর টিউমার, ত্বকের ক্যান্সার | Sarcoma, Skin and Soft Tissue |
| লিউকেমিয়া, লিম্ফোমা, রক্তের রোগ, বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট | Haematology / BMT |
| কেমোথেরাপি | Medical Oncology |
| রেডিওথেরাপি | Radiation Oncology |
কোন ডাক্তার বা বিভাগে যাবেন বুঝতে না পারলে চিন্তা নেই। হাসপাতাল জানায়, তাদের ফ্রন্ট-ডেস্কের কর্মীরা সঠিক ডাক্তার বা বিভাগ বেছে নিতে সাহায্য করেন।
হাসপাতালের পরিচিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক
নিচের নামগুলো টাটা মেডিকেল সেন্টারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের বিভাগভিত্তিক তালিকা থেকে নেওয়া (নভেম্বর ২০২৬)। যাওয়ার আগে জেনে নিন ডাক্তার এখনো আছেন কি না এবং কবে কবে বসেন।
| বিভাগ | চিকিৎসক |
|---|---|
| হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি | Dr Pattatheyil Arun Dr Kapila Manikantan Dr Prateek Jain Dr Guru Charan Sahu Dr Vikram D. Kekatpure |
| মেডিকেল অনকোলজি | Dr Somnath Roy Dr Arnab Bhattacharjee Dr Susmita Sadhukhan Dr Deepak Dabkara Dr Sayak Dey Dr Prashant Pandey |
| রেডিয়েশন অনকোলজি | Dr Rimpa Achari Dr Indranil Mallick Dr Sanjoy Chatterjee Dr Santam Chakraborty Dr Tapesh Bhattacharyya Dr Moses Arunsingh S Dr Divyani Chowdhury |
| ব্রেস্ট সার্জারি | Dr Rosina Ahmed Dr Sanjit Agrawal Dr Abhishek Sharma Dr Shagun Mahajan |
| গাইনি অনকোলজি | Dr Jaydip Bhaumik Dr Anik Ghosh |
| GI-HPB সার্জারি | Dr Bipradas Roy Dr Azaz Ahmed Dr Sudeep Banerjee Dr Abhimanyu Kar |
| ইউরো অনকোলজি | Dr Sujoy Gupta Dr Mayank Gupta |
ডাক্তারের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা
টাটা মেডিকেল সেন্টারের ওয়েবসাইটে প্রত্যেক ডাক্তারের নামের পাশে “View Profile” ও “View CV” লিংক আছে। সেখানে তাঁর ডিগ্রি, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার বিস্তারিত পাবেন। অফিসিয়াল তালিকায় যে পদবিগুলো দেওয়া আছে:
| ডাক্তার | যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা |
|---|---|
| Dr Pattatheyil Arun | CEO ও Senior Consultant, Head & Neck Surgery |
| উপরের অন্যান্য চিকিৎসক | সংশ্লিষ্ট বিভাগের Consultant |
হাসপাতালের মেডিকেল অনকোলজি বিভাগ জাতীয় স্বীকৃতিপ্রাপ্ত (NBE) DNB প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালায় এবং আন্তর্জাতিক ফেজ-III ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অংশ নেয়। মনে রাখবেন, নির্দিষ্ট কোনো ডাক্তার দেখাতে চাইলে Private ক্যাটাগরিতে নিবন্ধন করতে হয়।
ডাক্তার দেখানোর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার নিয়ম
- ফোনে: +91 33 6605 7222 নম্বরে কল করুন। সোম থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা, শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত (ভারতীয় সময়)। রবিবার বন্ধ।
- ইমেইলে: [email protected]। বিদেশি রোগীদের জন্য এটিই প্রধান মাধ্যম।
- সরাসরি: হাসপাতালের Appointment Desk খোলা থাকে সোম থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা, শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হলে SMS বা ইমেইলে তারিখ, সময় আর ডাক্তারের নাম জানানো হয়।
- প্রথম দিন হাসপাতালে নিবন্ধন করতে হয়। সঙ্গে পাসপোর্ট, মেডিকেল ভিসা, মোবাইল নম্বর ও নিকটাত্মীয়ের তথ্য রাখুন। নিবন্ধনের পর একটি MR নম্বর আর ছবিসহ রোগী কার্ড দেওয়া হয়। প্রথম দিন New Case Counselling Room-এ যেতে হয়।
- OPD-তে সাধারণত অপেক্ষা করতে হয়। হাসপাতাল জানায়, বেশিরভাগ রোগীকে ২ ঘণ্টার মধ্যে দেখা হয়।
নিবন্ধনের সময় General অথবা Private ক্যাটাগরি বেছে নিতে হয়। দুই ক্যাটাগরিতে চিকিৎসার মানে কোনো পার্থক্য নেই। Private ক্যাটাগরিতে খরচ কিছুটা বেশি, তবে আলাদা কেবিন পাওয়া যায় এবং সরাসরি কনসালট্যান্ট দেখেন। General ক্যাটাগরিতে খরচ কম, আর ৬ শয্যার ওয়ার্ডে থাকতে হয়। একবার ক্যাটাগরি বেছে নিলে পরে সহজে বদলানো যায় না।
অনলাইনে রিপোর্ট পাঠানোর পদ্ধতি
- নতুন রোগীরা রিপোর্ট বা ডিসচার্জ সামারি হাসপাতালের WhatsApp নম্বর +91 91473 39399-এ পাঠাতে পারেন।
- বিস্তারিত রিপোর্ট (বায়োপসি, CT/MRI/PET রিপোর্ট, আগের চিকিৎসার কাগজ) PDF করে [email protected]এ ইমেইল করুন।
- হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী, ক্যান্সার নিশ্চিত হওয়ার রিপোর্ট থাকলে রেফারেল লেটার ছাড়াই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায়।
- TMC-র টেলি-কনসালটেশন সেবা শুধু আগে থেকে নিবন্ধিত রোগীদের জন্য। এতে কেবল আগে যে ডাক্তার দেখেছেন তাঁর সঙ্গেই কথা বলা যায়। নতুন রোগী বা দ্বিতীয় মতামতের জন্য এই সেবা নেই।
OPD Consultation Fee
অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সরাসরি OPD কনসালটেশন ফির কোনো তালিকা পাওয়া যায়নি। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১৯/১২/২০১৯ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে TMC-র নিবন্ধন ফি ₹১৫০ লেখা আছে। নিবন্ধিত রোগীদের টেলি-কনসালটেশন ফি Private ক্যাটাগরিতে ₹১,০০০ এবং General ক্যাটাগরিতে ₹৬০০ (হাসপাতালের ওয়েবসাইট, নভেম্বর ২০২৬)। সরাসরি দেখানোর ফি কত, অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় জেনে নিন।
টাটা মেডিকেল সেন্টার কলকাতায় চিকিৎসা ও সার্জারির আনুমানিক খরচ
নিচের হারগুলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ১৯/১২/২০১৯ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত TMC-র General Rate Tariff থেকে নেওয়া। এগুলো পুরোনো হার, এখন বেশি হতে পারে।
| সেবা | প্রতিদিনের আনুমানিক হার (₹, ২০১৯) |
|---|---|
| জেনারেল ওয়ার্ড শয্যা | ১,৩০০ |
| প্রাইভেট শয্যা | ৫,৪০০ |
| ICU শয্যা | ২,৯০০ |
| স্টেম সেল ট্রান্সপ্লান্ট ওয়ার্ড শয্যা | ৫,৭০০ |
| ডে-কেয়ার শয্যা | ৪১০ |
| নিবন্ধন ফি (একবার) | ১৫০ |
সার্জারি, কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির মোট খরচ নির্ভর করে ক্যান্সারের ধরন ও পর্যায় এবং কোন ওষুধ ও কতগুলো সেশন লাগবে তার ওপর। নির্ভরযোগ্য কোনো উৎসে প্যাকেজ খরচ পাওয়া যায়নি, তাই এখানে দেওয়া হয়নি। হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী, ভর্তির আগে বিদেশি রোগীদের পরিকল্পিত চিকিৎসার খরচ অনুযায়ী অগ্রিম টাকা জমা দিতে হয়। বিদেশি রোগীদের জন্য ভারতীয় রোগীদের মতো সরকারি স্কিমের ছাড় প্রযোজ্য নাও হতে পারে। হাসপাতালের কাছ থেকে লিখিত খরচের হিসাব নিন।
বাংলাদেশি রোগীদের জন্য International Patient Services
- ভিসার জন্য Appointment বা Invitation Letter দেওয়া হয়। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে AYUSH পোর্টালে ভিসার আবেদনে হাসপাতাল সহায়তা করে।
- মেডিকেল ভিসার মেয়াদ বাড়াতে হলে হাসপাতাল প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্টিফিকেট দেয়। সেটি দিয়ে স্টেটের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে আবেদন করতে হয়।
- কলকাতার ভাষা বাংলা হওয়ায় বাংলাদেশি রোগীদের ডাক্তার ও কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে সাধারণত সমস্যা হয় না।
- প্রথম দিন New Case Counselling Room-এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। General ক্যাটাগরিতে নিবন্ধনের সময় সমাজকর্মীরা সাহায্য করেন।
মনে রাখবেন, অ্যাপোলো বা অন্য বড় বেসরকারি হাসপাতালের মতো এয়ারপোর্ট থেকে নিয়ে আসা বা হোটেল বুক করে দেওয়ার সুবিধা নেই। নিজেদেরই এর ব্যবস্থা করতে হতে পারে।
হাসপাতালের কাছে থাকার ব্যবস্থা
- প্রেমাশ্রয় (Premashraya): দূর থেকে আসা রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের জন্য TMC-র নিজস্ব কম খরচের থাকার জায়গা, হাসপাতাল থেকে ১ কিমির মধ্যে। থাকতে হলে TMC-র রেফারেল বা চিকিৎসার স্লিপ, পরিচয়পত্র আর সাম্প্রতিক প্রেসক্রিপশন বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ দেখাতে হয়। অনলাইনে আগাম বুকিংয়ের ব্যবস্থা নেই। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভাড়া প্রতি রাতে আনুমানিক ₹১০০–₹৪৫০ বলা হয়েছে, রুমে কতজন থাকবেন তার ওপর নির্ভর করে (২০২২–২০২৬-এর প্রতিবেদন)। সর্বশেষ ভাড়া হাসপাতালের কাছ থেকে জেনে নিন।
- নিউ টাউন ও রাজারহাটে অনেক গেস্টহাউস, সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট আর হোটেল আছে। TMC-র ওয়েবসাইটের “Accommodations Nearby” পেজে কিছু কাছের থাকার জায়গার তালিকা দেওয়া আছে।
- কেমো বা রেডিওথেরাপির মতো লম্বা চিকিৎসায় কয়েক সপ্তাহ থাকতে হতে পারে। এ জন্য রান্নার সুবিধাসহ ভাড়া বাসা অনেক সময় বেশি সাশ্রয়ী হয়।
হাসপাতালের কাছে খাবারের ব্যবস্থা
- প্রেমাশ্রয়ে ২৪ ঘণ্টার ক্যান্টিন, একসঙ্গে বসে খাওয়ার জায়গা আর একটি মুদি দোকান আছে বলে জানা যায়। রোগীর জন্য বিশেষ খাবারের অর্ডারও দেওয়া যায়।
- কলকাতায় বাঙালি খাবার সহজেই পাওয়া যায়, তাই বাংলাদেশি রোগীদের খাবার নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হয় না। নিউ টাউনে বিভিন্ন দামের রেস্তোরাঁ আর হালাল খাবারের দোকান আছে।
- কেমোথেরাপি চলাকালে বাইরের খাবারে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই কী খাবেন, তা ডাক্তার বা ডায়েটিশিয়ানের কাছ থেকে জেনে নিন।
হাসপাতালের যোগাযোগ নম্বর ও অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অ্যাপয়েন্টমেন্ট | +91 33 6605 7222 | [email protected] |
| অন্যান্য তথ্য | +91 33 6605 7000 | [email protected] |
| WhatsApp (নতুন রোগীদের রিপোর্ট পাঠানোর জন্য) | +91 91473 39399 |
| মতামত বা অভিযোগ | +91 33 6605 7095 | +91 93309 03299 |
| ওয়েবসাইট | tmckolkata.com | International Patient Services |
টাটা মেডিকেল সেন্টার কলকাতা নিয়ে রোগীদের সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
না। TMC শুধু মেডিকেল ভিসাধারী বিদেশি রোগীদের নিবন্ধন করে। অ্যাটেনডেন্টদেরও Medical Escort (MX) ভিসা লাগবে।
ক্যান্সার নিশ্চিত হওয়ার রিপোর্ট থাকলে রেফারেল লেটার ছাড়াই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায়। তা না হলে ডাক্তারের রেফারেল লেটার বা ক্যান্সারের রিপোর্ট সঙ্গে নিতে হবে।
হাসপাতাল জানায়, চিকিৎসার মান একই। Private ক্যাটাগরিতে খরচ বেশি, তবে আলাদা কেবিন পাওয়া যায় এবং সরাসরি কনসালট্যান্ট দেখেন। General ক্যাটাগরিতে খরচ কম, আর শেয়ার করা ওয়ার্ডে থাকতে হয়। নির্দিষ্ট কোনো ডাক্তার দেখাতে চাইলে Private ক্যাটাগরি নিতে হবে।
হ্যাঁ। TMC-র প্রেমাশ্রয় হাসপাতাল থেকে ১ কিমির মধ্যে এবং রোগী ও আত্মীয়দের জন্য কম খরচে থাকার ব্যবস্থা। এর জন্য TMC-র চিকিৎসার কাগজ দেখাতে হয়।
হ্যাঁ। মেডিকেল ভিসাধারী রোগী ও অ্যাটেনডেন্টদের ভারতে পৌঁছানোর ১৪ দিনের মধ্যে FRRO/FRO-তে নিবন্ধন করতে হবে।
আরও পড়ুন: সিএমসি ভেলোর: বাংলাদেশি রোগীদের গাইড | অ্যাপোলো হাসপাতাল চেন্নাই: বাংলাদেশি রোগীদের গাইড
দ্রষ্টব্য: এই লেখার তথ্য নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আপডেট করা, এবং শুধু সাধারণ ধারণা দেওয়ার জন্য। ডাক্তারের প্রাপ্যতা, ফি, খরচ, ফ্লাইট, সীমান্ত আর ভিসার নিয়ম যেকোনো সময় বদলাতে পারে। যাত্রার আগে অবশ্যই সরাসরি হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করে নিন। এটি চিকিৎসা-পরামর্শ নয়।
আমাদের সবার ভ্রমণ নিরাপদ হোক, এটাই হোক আমাদের সকলের চাওয়া।