ভেলোর CMC হাসপাতাল (Christian Medical College, Vellore) ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের ভেলোর শহরে অবস্থিত দেশটির অন্যতম পুরোনো ও সম্মানিত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান। প্রতি বছর হাজার হাজার বাংলাদেশি রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে যান। প্রথমবার যাওয়ার আগে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। প্রশ্ন জাগে: মেডিক্যাল ভিসা কীভাবে পাবেন, অ্যাপয়েন্টমেন্ট কোথায় নেবেন, কোন বিভাগে দেখাবেন, থাকবেন কোথায়, খাবেন কী, টাকা কীভাবে নেবেন। এই এক পোস্টে আমরা ২০২৫-২০২৬ সালের সর্বশেষ সরকারি ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে ভেলোর CMC হাসপাতাল যাত্রার A থেকে Z গুছিয়ে দিলাম। উদ্দেশ্য একটাই, যেন একজন রোগী ও তাঁর পরিবার নিশ্চিন্তে প্রস্তুতি নিতে পারেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: ভিসার নিয়ম, ফি ও হাসপাতালের প্রক্রিয়া সময়ে সময়ে বদলায়। যাত্রার আগে অবশ্যই CMC-র অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও IVAC থেকে তথ্য মিলিয়ে নিন। এই লেখা চিকিৎসা পরামর্শ নয়।
ভেলোর CMC হাসপাতাল: পরিচিতি ও বাংলাদেশিরা কেন যান
১৯০০ সালে মার্কিন চিকিৎসক ড. আইডা স্কাডারের হাত ধরে ছোট একটি ক্লিনিক হিসেবে CMC-র যাত্রা শুরু। আজ এটি একটি বিশাল শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, যার একাধিক ক্যাম্পাস রয়েছে। এটি একটি অলাভজনক মিশনারি প্রতিষ্ঠান, তাই বেসরকারি কর্পোরেট হাসপাতালের তুলনায় খরচ তুলনামূলক কম বলে রোগীদের অভিজ্ঞতায় শোনা যায়।
বাংলাদেশি রোগীদের পছন্দের কারণ
- আস্থা: বহু দশকের সুনাম, অভিজ্ঞ চিকিৎসক এবং নিয়মমাফিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পদ্ধতি।
- তুলনামূলক কম খরচ: পরামর্শ ফি ও পরীক্ষার খরচ প্রকাশ্যে জানানো থাকে, বিল নিয়ে লুকোছাপা কম।
- এক ছাদের নিচে সব: পরীক্ষা, রিপোর্ট, ফার্মেসি ও ভর্তি সবই হাসপাতালের ভেতরে।
- বাংলা-বান্ধব পরিবেশ: হাসপাতালের আশেপাশে প্রচুর বাঙালি হোটেল, লজ ও দোকান আছে, অনেক দোকানদার ও অটোচালক কাজ চালানোর মতো বাংলা বোঝেন।
টাউন ক্যাম্পাস ও রানিপেট ক্যাম্পাস
CMC-র মূল হাসপাতাল ভেলোর শহরের কেন্দ্রে, যাকে “টাউন ক্যাম্পাস” বলা হয়। আন্তর্জাতিক রোগীদের রেজিস্ট্রেশন অফিস (IRO) এখানেই। তবে অনেকগুলো বড় বিভাগ এখন শহর থেকে প্রায় ২০-২৫ কিমি দূরের রানিপেট ক্যাম্পাসে চলে গেছে। CMC-র অফিসিয়াল তালিকা অনুযায়ী রানিপেট ক্যাম্পাসে রয়েছে: কার্ডিওলজি, কার্ডিওথোরাসিক সার্জারি, নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি, নেফ্রোলজি, ইউরোলজি, হেমাটোলজি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, হেপাটোলজি, HPB সার্জারি, পালমোনারি মেডিসিন, মেডিক্যাল অনকোলজি। এ ছাড়া আছে ভাসকুলার সার্জারি ও ট্রমা সার্জারি। আপনার বিভাগ কোন ক্যাম্পাসে, তা জেনেই থাকার জায়গা ঠিক করুন। হাসপাতালের নিজস্ব শাটল বাস দুই ক্যাম্পাসের মধ্যে চলাচল করে বলে রোগীরা জানান, সময়সূচি সেখানে গিয়ে জেনে নিন।
ভেলোর CMC হাসপাতাল: কোন রোগে কোন বিভাগ
রোগীদের অভিজ্ঞতা, ব্লগ ও ফেসবুক গ্রুপের আলোচনা থেকে দেখা যায়, বাংলাদেশিরা মূলত নিচের সমস্যাগুলো নিয়ে CMC যান। আমরা ইচ্ছা করেই নির্দিষ্ট কোনো ডাক্তারের নাম সুপারিশ করছি না, কারণ ডাক্তাররা বদলি হন, অবসরে যান বা ছুটিতে থাকেন। ভুল নামের পেছনে ছুটলে সময় ও টাকা দুই-ই নষ্ট হয়।
সমস্যা অনুযায়ী বিভাগ (Department)
- হার্টের সমস্যা, বুকে ব্যথা, ভাল্ভের রোগ: Cardiology; অপারেশনের প্রয়োজন হলে Cardiothoracic Surgery (রানিপেট)।
- কিডনি রোগ, ডায়ালাইসিস, কিডনি প্রতিস্থাপন: Nephrology; পাথর বা প্রোস্টেট সমস্যায় Urology (রানিপেট)।
- লিভার, পাকস্থলী, অন্ত্র, পিত্তথলি: Gastroenterology ও Hepatology; অপারেশনে HPB Surgery (রানিপেট)।
- ক্যান্সার: Medical Oncology (রানিপেট), Radiation Oncology এবং সংশ্লিষ্ট সার্জিক্যাল বিভাগ।
- রক্তের রোগ (থ্যালাসেমিয়া, লিউকেমিয়া, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া), বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট: Haematology। CMC-র এই বিভাগটি বিশেষভাবে পরিচিত।
- ব্রেইন, স্নায়ু, খিঁচুনি, স্ট্রোক, মেরুদণ্ড: Neurology ও Neurosurgery (রানিপেট)।
- হাড়, জয়েন্ট, মেরুদণ্ডের ব্যথা: Orthopaedics; বাত-জাতীয় রোগে Rheumatology।
- ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, হরমোন: Endocrinology।
- শিশুদের রোগ: Child Health (Paediatrics) এবং শিশু সার্জারি।
- শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুস: Pulmonary Medicine (রানিপেট)।
- চোখ, নাক-কান-গলা, চর্মরোগ, মানসিক স্বাস্থ্য: যথাক্রমে Ophthalmology, ENT, Dermatology, Psychiatry।
- কী সমস্যা নিশ্চিত নন: General Medicine বা পুরো শরীরের চেকআপের জন্য Master Health Check-up।
সঠিক ডাক্তার বা ইউনিট বাছাই করবেন যেভাবে
- প্রতিটি বিভাগে কয়েকটি “ইউনিট” থাকে, প্রতিটি ইউনিটের প্রধান একজন অভিজ্ঞ কনসালট্যান্ট। অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় বিভাগের বিবরণ ও কনসালট্যান্টের তালিকা দেখা যায়।
- বাংলাদেশের আপনার চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন কোন বিভাগে দেখানো উচিত। রিপোর্ট দেখে তিনি সঠিক দিক দেখাতে পারবেন।
- প্রথমবার “New General” নিলে ইউনিটের যেকোনো ডাক্তার দেখবেন; “New Private” নিলে নির্দিষ্ট কনসালট্যান্ট বেছে নেওয়া যায়।
- ফেসবুক গ্রুপে কারও সুপারিশ শুনলে CMC-র ওয়েবসাইটে মিলিয়ে নিন তিনি এখনো সেখানে আছেন কিনা।
- প্রয়োজনে ডাক্তারই আপনাকে অন্য বিভাগে রেফার করবেন, তাই প্রথম পরামর্শটি সঠিক বিভাগে নেওয়াই আসল।
মেডিক্যাল ভিসা: আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ভেলোর CMC হাসপাতাল বা ভারতের যেকোনো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যেতে হলে অবশ্যই মেডিক্যাল ভিসা নিতে হবে। ট্যুরিস্ট ভিসায় চিকিৎসা করতে গেলে সমস্যায় পড়তে পারেন। রোগীর ভিসার নাম Medical (M1), আর সঙ্গী বা অ্যাটেনডেন্টের ভিসা Medical Attendant (M2)। সাধারণত সর্বোচ্চ দুইজন অ্যাটেনডেন্ট যেতে পারেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিস্তারিত তালিকা পাবেন আমাদের ইন্ডিয়ান মেডিকেল ভিসার কাগজপত্র গাইডে। চোখের চিকিৎসা নিয়ে জানতে দেখুন সিএমসি চক্ষু হাসপাতাল নিয়ে প্রশ্ন ও উত্তর।
ধাপ ১: CMC থেকে ইনভাইটেশন লেটার
CMC-র অফিসিয়াল নির্দেশনা অনুযায়ী, মেডিক্যাল ভিসার ইনভাইটেশন লেটার পেতে ওয়েবসাইট থেকে “AYUSH INFO FORM” নামের এক্সেল শিটটি ডাউনলোড করে পূরণ করুন। এরপর [email protected] ঠিকানায় ইমেইল করুন। সঙ্গে পাসপোর্টের কপি ও রোগের রিপোর্ট দিলে কাজ সহজ হয়। নতুন রোগীর ক্ষেত্রে আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখলে ভালো। বিস্তারিত দেখুন CMC-র ইনভাইটেশন লেটার পেজে।
ধাপ ২: অনলাইন ভিসা আবেদন ও IVAC-এ জমা
- indianvisa-bangladesh.nic.in ওয়েবসাইটে অনলাইন ফর্ম পূরণ করুন এবং প্রিন্ট নিয়ে স্বাক্ষর করুন।
- IVAC-এর ওয়েবসাইট থেকে জমার তারিখ (স্লট) নিন। IVAC-এর নোটিশ অনুযায়ী ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনা কেন্দ্রে জরুরি মেডিক্যাল ভিসার জন্য সীমিত স্লট খোলা আছে।
- নির্ধারিত দিনে কাগজপত্রসহ IVAC-এ জমা দিন। রোগী ও প্রত্যেক অ্যাটেনডেন্টের আলাদা আবেদন লাগবে।
- ফি: IVAC-এর ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসা ফি নেই, তবে ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে প্রতি আবেদনে ভিসা প্রসেসিং ফি ১,৫০০ টাকা (সব মিলিয়ে)।
- ভিসা পেতে কতদিন লাগবে তার কোনো নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা নেই; হাতে যথেষ্ট সময় রেখে আবেদন করুন এবং অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখুন।
মেডিক্যাল ভিসার ডকুমেন্ট চেকলিস্ট
ভারতীয় হাইকমিশন ঢাকার সর্বশেষ (আগস্ট ২০২৬) তালিকা অনুযায়ী রোগীর (M1) যা লাগবে:
- মূল পাসপোর্ট, জমার দিন থেকে কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ এবং অন্তত ২টি খালি পাতা
- পুরোনো পাসপোর্ট (যদি থাকে)
- সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে ২x২ ইঞ্চি রঙিন ছবি
- জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের কপি
- ঠিকানার প্রমাণ: বিদ্যুৎ, গ্যাস বা ল্যান্ডফোন বিলের কপি (৬ মাসের বেশি পুরোনো নয়)
- আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ: গত ৬ মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, অথবা কমপক্ষে ২০০ মার্কিন ডলার এনডোর্সমেন্ট (৩ মাসের বেশি পুরোনো নয়), অথবা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড বা ট্রাভেল কার্ডের কপি
- পেশার প্রমাণ: চাকরিজীবী হলে অফিসের সনদ বা সরকারি আদেশ (GO), ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স, ছাত্র হলে আইডি কার্ড, অবসরপ্রাপ্ত হলে অবসরের কাগজ
- বাংলাদেশের ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ও মেডিক্যাল রিপোর্ট
- CMC থেকে পাওয়া অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা ইনভাইটেশন লেটার
- কিডনি বা লিভার প্রতিস্থাপনের মতো অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র
অ্যাটেনডেন্টের (M2) জন্য: ওপরের ব্যক্তিগত কাগজপত্র, রোগীর ভিসা আবেদনের কপি এবং রোগীর সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ (যেমন বিয়ের সনদ বা জন্মনিবন্ধন)। রোগী শিশু হলে বাবা-মাকে অবশ্যই অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে যেতে হবে। পূর্ণ তালিকা দেখুন ভারতীয় হাইকমিশনের ডকুমেন্ট তালিকায়। হাইকমিশন প্রয়োজনে অতিরিক্ত কাগজ চাইতে পারে।
ভিসা নিয়ে জরুরি সতর্কতা
- IVAC-এর পরামর্শ অনুযায়ী, যে হাসপাতালের নামে ভিসা দেওয়া হয়েছে শুধু সেখানেই চিকিৎসা নিতে হবে। হাসপাতাল বদলাতে চাইলে FRRO-র অনুমতি লাগবে, নইলে ভবিষ্যতে ভারত ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
- ভিসায় যে প্রবেশপথ (পোর্ট) উল্লেখ থাকে, শুধু সেই পথেই প্রবেশ করুন। যেমন বেনাপোল-পেট্রাপোল দিয়ে যেতে চাইলে আবেদনের সময় সড়কপথ বেছে নিন।
- দালালের মাধ্যমে “নিশ্চিত ভিসা” বা “দ্রুত স্লট” কেনার প্রস্তাব থেকে দূরে থাকুন।
ভেলোর CMC হাসপাতাল অ্যাপয়েন্টমেন্ট, রেজিস্ট্রেশন ও পুলিশ ভেরিফিকেশন
অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া
CMC-র FAQ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক রোগীরাও ওয়েবসাইটের “Make online appointment” অপশন থেকে নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারেন। বিভাগ বেছে নিয়ে বিবরণ পড়ুন, তারপর পেমেন্ট করুন। পেমেন্ট করা যায় নেট ব্যাংকিং, ভারতীয় ডেবিট কার্ড বা আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডে। বাংলাদেশের অনেক ব্যাংকের ডুয়েল কারেন্সি বা আন্তর্জাতিক কার্ড এখানে কাজ করে, তবে কার্ডে ডলার এনডোর্সমেন্ট থাকতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের স্লিপ প্রিন্ট করে সঙ্গে নিন।
অফিসিয়াল কনসালটেশন ফি (প্রাইভেট রোগী)
CMC-র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হালনাগাদ ফি (২০২৬):
- নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট, প্রথমবার (কনসালটেশন ও হসপিটাল নম্বর কার্ডসহ): ৯৯০ রুপি
- একই ইউনিটে ৯০ দিনের মধ্যে আবার দেখানো: ৪৭০ রুপি
- অন্য ইউনিট বা বিভাগে প্রথমবার: ৯০০ রুপি
- ৩ মাস পর যেকোনো রিপিট অ্যাপয়েন্টমেন্ট: ৯০০ রুপি
- জেনারেল রোগী, প্রথমবার: ৩৫০ রুপি; রিপিট: ২৩০ রুপি
পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, ভর্তি ও অপারেশনের খরচ আলাদা এবং রোগ অনুযায়ী অনেক বদলায়। CMC কোনো প্যাকেজ মূল্য প্রকাশ করে না; ডাক্তার দেখানোর পর সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে “Cost Estimate” চেয়ে নিন।
পৌঁছে প্রথম কাজ: IRO রুম 900B
- ভেলোরে পৌঁছে রোগী ও সব অ্যাটেনডেন্ট মূল পাসপোর্ট নিয়ে টাউন ক্যাম্পাসের প্রিন্স ম্যানর বিল্ডিংয়ের International Relations Office (IRO), রুম 900B-এ যান (এক্সিট গেটের কাছে)।
- সঙ্গে নিন অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের কপি, আগের সব রিপোর্ট এবং থাকার ঠিকানা।
- বিদেশি রোগীদের অনলাইনে প্রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হয় না; IRO-র কর্মীরাই রেজিস্ট্রেশন করে দেন এবং সেখানেই নতুন হসপিটাল নম্বর ও ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়।
- এই হসপিটাল নম্বর আজীবনের জন্য, পরে যেকোনো বিভাগে এটিই ব্যবহার হবে। হারিয়ে ফেলবেন না।
- রাজ্য সরকারের আদেশ অনুযায়ী প্রতিবার CMC-তে এলেই IRO-তে নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ রেজিস্ট্রেশন
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা অনেকে ভুলে যান। CMC-র FAQ অনুযায়ী, IRO-তে রেজিস্ট্রেশনের পর পুলিশ ভেরিফিকেশন ফর্ম পূরণ করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় থানায় রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, রোগী ও সব আত্মীয়ের জন্য। এরপর পুলিশের সিলসহ ফর্মের ফটোকপি IRO-তে জমা দিতে হয়। এটি না করলে চিকিৎসা ও ফেরার পথে সমস্যা হতে পারে। আপনার লজ বা হোটেলকেও আইন অনুযায়ী বিদেশি অতিথির তথ্য (C-Form) জমা দিতে হয়, তাই পাসপোর্টের কপি দিন।
ভর্তি, ভিসা বাড়ানো ও দ্রুত অ্যাপয়েন্টমেন্ট
- ভিসার মেয়াদ কম অথচ অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেরিতে পেলে IRO 900B বা সিলভার গেট 600-এর কর্মীদের সঙ্গে কথা বলুন, তাঁরা আগের তারিখ পেতে সাহায্য করেন।
- রোগী ভর্তি হলে এবং ভিসা বাড়ানোর দরকার হলে চিকিৎসক থেকে “Visa extension letter” নিন; C-Form-এর জন্য IRO-তে যোগাযোগ করুন। ভিসা বাড়ানোর আবেদন ভারতের অনলাইন FRRO পোর্টালে করতে হয়।
- রোগী ওয়ার্ডে ভর্তি হলে একজন নারী অ্যাটেনডেন্ট রাখা বাধ্যতামূলক, তাই একা যাওয়ার পরিকল্পনা করবেন না।
ঢাকা থেকে ভেলোর যাওয়ার উপায়
ভেলোরের কাছের বড় বিমানবন্দর চেন্নাই (প্রায় ১৩৫ কিমি) ও বেঙ্গালুরু (প্রায় ২২৫ কিমি)। নিকটতম বড় রেলস্টেশন কাটপাডি জংশন (Katpadi Junction), যা হাসপাতাল থেকে প্রায় ৭-১২ কিমি। রোগীর শারীরিক অবস্থা ও বাজেট অনুযায়ী পথ বেছে নিন। ভারতে ডলার খরচের সুবিধার জন্য ট্রাভেল কার্ড নিয়ে আমাদের লেখাটি পড়ে নিতে পারেন।
বিমানপথ: ঢাকা থেকে চেন্নাই
সবচেয়ে আরামদায়ক উপায়, বিশেষ করে অসুস্থ বা বয়স্ক রোগীর জন্য। ঢাকা থেকে সরাসরি বা কলকাতা হয়ে চেন্নাই ফ্লাইট পাওয়া যায়; রুট ও এয়ারলাইন সময়ভেদে বদলায়, তাই টিকিট কাটার আগে দেখে নিন। চেন্নাই থেকে ট্রেনে কাটপাডি যেতে সাধারণত ২-৩ ঘণ্টা লাগে, অথবা ট্যাক্সি বা বাসে সরাসরি ভেলোর যাওয়া যায়। হুইলচেয়ার লাগলে টিকিট কাটার সময়ই এয়ারলাইনকে জানান।
সড়ক ও রেলপথ: বেনাপোল হয়ে কলকাতা, তারপর ট্রেন
- ঢাকা থেকে বাসে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর পার হয়ে কলকাতা। ভিসায় অবশ্যই এই পোর্ট থাকতে হবে।
- অথবা ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন, যা দর্শনা-গেদে পথে চলে। চলাচল কখনো বন্ধ বা সীমিত থাকে, তাই যাত্রার আগে সর্বশেষ অবস্থা জেনে নিন।
- কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে চেন্নাই বা বেঙ্গালুরুগামী অনেক ট্রেন কাটপাডিতে থামে। যাত্রা সাধারণত ২৪-৩০ ঘণ্টার।
- বিদেশিরা ভারতীয় রেলের ওয়েবসাইটে কিছু নিয়ম মেনে অনলাইনে টিকিট কাটতে পারেন, আবার কলকাতার ফেয়ারলি প্লেসের বিদেশি পর্যটক কোটা কাউন্টার থেকেও কাটা যায়। ট্রেনের টিকিট আগেভাগে কাটুন, কারণ এই রুটে ভিড় অনেক।
- খরচ কম হলেও লম্বা যাত্রা, তাই দুর্বল রোগীর জন্য কলকাতা থেকে চেন্নাই ফ্লাইট নেওয়া ভালো।
কাটপাডি স্টেশন থেকে হাসপাতাল
স্টেশনের বাইরে ২৪ ঘণ্টা অটো ও ট্যাক্সি পাওয়া যায়। স্থানীয় লজের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী অটো ভাড়া আনুমানিক ২০০-২৫০ রুপি, ট্যাক্সি ২৫০-৩৫০ রুপি, আর লোকাল বাসে ২০ রুপির কম। স্টেশনে নামার পর অনেক চালক একসাথে ঘিরে ধরতে পারেন; শান্ত থাকুন, আগে ভাড়া ঠিক করে নিন। রাতে ভাড়া কিছুটা বেশি হতে পারে।
থাকার ব্যবস্থা: লজ, গেস্ট হাউস নাকি ভাড়া বাসা
ভেলোর CMC হাসপাতাল টাউন ক্যাম্পাসের ঠিক সামনে ও আশেপাশে অসংখ্য লজ, হোটেল ও গেস্ট হাউস রয়েছে। বাংলাদেশিরা বেশি থাকেন বাবু রাও স্ট্রিট (Babu Rao Street), বেরি বাক্কালি স্ট্রিট, গান্ধী রোড ও আশেপাশের গলিতে। হাঁটা দূরত্বে থাকলে ভোরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ধরা সহজ হয়।
কোন ধরনের থাকা আপনার জন্য
- বাজেট লজ বা ডরমিটরি: শেয়ার্ড টয়লেটসহ সবচেয়ে কম খরচের রুম। একজন বা দুজন অল্প দিনের জন্য গেলে উপযুক্ত।
- অ্যাটাচড বাথসহ রুম: রোগীর জন্য আরামদায়ক; এসি নিলে খরচ আরও বাড়ে। গরমের মৌসুমে ভেলোর খুব গরম, তাই এসি বা অন্তত ভালো ফ্যান দেখে নিন।
- রান্নার সুবিধাসহ রুম বা ফ্ল্যাট: কয়েক সপ্তাহ বা মাসের জন্য থাকলে সবচেয়ে সাশ্রয়ী। অনেক লজে ছোট রান্নার জায়গা থাকে, আর হাঁড়ি-পাতিল ও ছোট গ্যাস সিলিন্ডার ভাড়ায় পাওয়া যায়।
- ট্রাস্ট বা দাতব্য গেস্ট হাউস: কিছু ধর্মীয় বা সামাজিক সংগঠন কম খরচে থাকার ব্যবস্থা রাখে, তবে কিছু জায়গা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের জন্য সংরক্ষিত।
রুম ঠিক করার আগে যা দেখবেন
- ভাড়া প্রতি জনের নাকি প্রতি রুমের, সাপ্তাহিক বা মাসিক ছাড় আছে কিনা স্পষ্ট করে জেনে নিন।
- বিদেশি অতিথি রাখার অনুমতি এবং C-Form জমার ব্যবস্থা আছে কিনা জিজ্ঞেস করুন।
- ২৪ ঘণ্টা চেক-ইন, পরিষ্কার বিছানা ও পানির ব্যবস্থা দেখুন।
- রানিপেট ক্যাম্পাসে চিকিৎসা হলে শাটল বাসের স্টপের কাছে বা রানিপেটের দিকে থাকার কথা ভাবুন।
- প্রথম ১-২ দিন রুম নিয়ে এলাকা দেখে তারপর লম্বা সময়ের জন্য চুক্তি করুন, আগাম পুরো টাকা দেবেন না।
- গুগল ম্যাপের রিভিউ ও পরিচিতদের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে নিন।
খাবারের ব্যবস্থা: ভেলোরে বাঙালি খাবার
খাবার নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। ভেলোরকে অনেকে মজা করে “মিনি বাংলা” বলেন। CMC-র আশেপাশে, বিশেষ করে বাবু রাও স্ট্রিট ও গান্ধী রোডে, প্রচুর বাঙালি হোটেল রয়েছে। সেখানে ভাত, ডাল, ভাজি, মাছের ঝোল, মুরগি ও গরু-খাসির মাংস পাওয়া যায়। হালাল খাবারের দোকানও আছে।
হোটেলে খাওয়া নাকি নিজে রান্না
- অল্প দিনের জন্য: বাঙালি হোটেলে খাওয়াই সুবিধাজনক। কিছু ব্লগে বাঙালি রেস্তোরাঁর নাম পাওয়া যায় (যেমন বাবু রাও স্ট্রিটের কয়েকটি), তবে মান ও দাম বদলায়, তাই নিজে যাচাই করুন।
- লম্বা সময়ের জন্য: রান্নার সুবিধাসহ রুম নিয়ে নিজে রান্না করলে খরচ কমে এবং রোগীর জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার নিশ্চিত হয়। বাবু রাও স্ট্রিটে সবজি, মাছ, মাংস ও মুদি সব পাওয়া যায়।
- টিফিন সার্ভিস: কিছু হোটেল রুমে খাবার পৌঁছে দেয়, ডাক্তারের দেওয়া খাদ্য তালিকা অনুযায়ী অর্ডার দিন।
- দক্ষিণ ভারতীয় ইডলি, দোসা ও “মিলস” সস্তা ও হালকা, একবার চেখে দেখতে পারেন।
রোগীর খাবারে সতর্কতা
দক্ষিণ ভারতের রান্নায় ঝাল ও তেঁতুল বেশি থাকে। ডায়াবেটিস, কিডনি বা লিভারের রোগী হলে লবণ, তেল ও ঝাল নিয়ে হোটেলে আগেই বলে দিন। সবসময় ফোটানো বা বোতলজাত পানি পান করুন, রাস্তার কাটা ফল ও খোলা শরবত এড়িয়ে চলুন।
টাকা-পয়সা, সিম কার্ড ও আনুমানিক খরচ
ডলার এনডোর্সমেন্ট ও কার্ড
- বাংলাদেশ থেকে বিদেশে নগদ ডলার নেওয়ার সীমা ও চিকিৎসার জন্য বাড়তি বৈদেশিক মুদ্রার কোটা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়মে নির্ধারিত। সর্বশেষ সীমা আপনার ব্যাংক থেকে জেনে নিন এবং পাসপোর্টে এনডোর্সমেন্ট করিয়ে নিন।
- চিকিৎসার জন্য বেশি অর্থ দরকার হলে হাসপাতালের ইনভাইটেশন বা কস্ট এস্টিমেট দেখাতে পারেন। এভাবে ব্যাংকের মাধ্যমে বৈধ উপায়ে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার ব্যবস্থা আছে কিনা ব্যাংকে জিজ্ঞেস করুন।
- ডুয়েল কারেন্সি বা আন্তর্জাতিক কার্ড সঙ্গে রাখুন। CMC-র অনলাইন পেমেন্টে আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ করা হয়। কার্ডে ভারতের জন্য লেনদেন চালু আছে কিনা আগে নিশ্চিত হোন।
- সব টাকা এক জায়গায় রাখবেন না; নগদ, কার্ড ও পাসপোর্ট আলাদা আলাদা রাখুন।
রুপি ভাঙানো ও UPI
- বর্ডার, বিমানবন্দর ও কলকাতার মানি এক্সচেঞ্জে ডলার ভাঙানো যায়। ভেলোরে হাসপাতালের আশেপাশেও লাইসেন্সধারী মানি চেঞ্জার পাওয়া যায় বলে রোগীরা জানান; রেট তুলনা করুন এবং রসিদ নিন।
- ভারতে দোকানপাটে UPI (QR কোড দিয়ে পেমেন্ট) খুব জনপ্রিয়, কিন্তু সাধারণত ভারতীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছাড়া বিদেশিরা এটি সহজে ব্যবহার করতে পারেন না। কিছু বিদেশি পর্যটকের জন্য প্রিপেইড UPI সুবিধা চালু হলেও তা সব জায়গায় পাওয়া যায় না, তাই হাতে নগদ রুপি রাখুন।
- হাসপাতালের পেমেন্ট কাউন্টার ও CHRIS কার্ড (হসপিটাল কার্ডে আগাম টাকা জমা রাখার ব্যবস্থা) সম্পর্কে IRO বা কাউন্টারে জেনে নিন। চিকিৎসা শেষে কার্ডের অবশিষ্ট টাকা ফেরতের নিয়মও জিজ্ঞেস করুন।
ভারতীয় সিম কার্ড
পাসপোর্ট, ভিসার কপি, ছবি ও স্থানীয় ঠিকানা দিয়ে বিদেশিরা ভারতীয় সিম নিতে পারেন। কলকাতা বা চেন্নাইয়ে নেমেই নিয়ে নিলে ডাক্তার, লজ ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়। সিম চালু হতে কিছু সময় লাগতে পারে। বাংলাদেশের নম্বরে রোমিং চালু রাখলে OTP পেতে সুবিধা হয়।
আনুমানিক খরচের ধারণা
- ভিসা প্রসেসিং ফি: জনপ্রতি ১,৫০০ টাকা (IVAC, আগস্ট ২০২৫ থেকে)।
- CMC প্রাইভেট কনসালটেশন: প্রথমবার ৯৯০ রুপি (CMC, ২০২৬)।
- কাটপাডি থেকে হাসপাতাল: অটো ২০০-২৫০ রুপি, ট্যাক্সি ২৫০-৩৫০ রুপি (আনুমানিক)।
- পরীক্ষা, ওষুধ, ভর্তি, অপারেশন, থাকা-খাওয়া ও যাতায়াত: রোগ ও সময়ভেদে অনেক বদলায়। ডাক্তারের কাছ থেকে লিখিত এস্টিমেট নিয়ে বাজেট করুন এবং অন্তত ২০-৩০% বাড়তি হাতে রাখুন।
প্রতারণা এড়ানোর টিপস ও যাত্রার চূড়ান্ত চেকলিস্ট
দালাল ও প্রতারণা থেকে সাবধান
- CMC-র কোনো অফিস বাংলাদেশে আছে বলে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে উল্লেখ নেই। “CMC ঢাকা অফিস” বা “সিরিয়াল এজেন্ট” দাবি করা কাউকে টাকা দেবেন না। অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও ইনভাইটেশন লেটারের জন্য সরাসরি CMC-র ওয়েবসাইট ও IRO ইমেইল ব্যবহার করুন।
- হাসপাতালের গেটে “দ্রুত ডাক্তার দেখিয়ে দেব” বলা লোকদের এড়িয়ে চলুন। সব পেমেন্ট অফিসিয়াল কাউন্টার বা ওয়েবসাইটে করুন এবং রসিদ নিন।
- স্টেশনে কিছু চালক কমিশনের জন্য নির্দিষ্ট লজে নিয়ে যেতে চান; আগে থেকে ঠিক করা ঠিকানায় যান।
- প্রয়োজনে CMC-তে “Personal Guide” সুবিধা আছে, যা হাসপাতালের ভেতরে জিজ্ঞেস করে নিতে পারেন।
ব্যাগে যা অবশ্যই রাখবেন
- রোগী ও অ্যাটেনডেন্টদের মূল পাসপোর্ট, ভিসা এবং প্রতিটির কয়েকটি ফটোকপি
- CMC-র ইনভাইটেশন লেটার ও অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্টের প্রিন্ট
- আগের সব মেডিক্যাল রিপোর্ট, এক্স-রে, CT/MRI ফিল্ম ও সিডি, প্রেসক্রিপশন, ডিসচার্জ সামারি (তারিখ অনুযায়ী ফাইলে সাজানো)
- বর্তমানে চলমান ওষুধ, অন্তত কয়েক সপ্তাহের
- কয়েক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- এনডোর্স করা ডলার, আন্তর্জাতিক কার্ড ও কিছু নগদ রুপি
- থাকার ঠিকানা ও জরুরি ফোন নম্বর লেখা একটি কাগজ
- পাতলা সুতির কাপড়, ছাতা, পানির বোতল, মোবাইল চার্জার ও পাওয়ার ব্যাংক
- সব কাগজের স্ক্যান কপি নিজের ইমেইল বা ক্লাউডে
ছোট কিন্তু কাজের কিছু টিপস
- CMC-তে কাজ খুব ভোরে শুরু হয়, লাইনও লম্বা হয়। আগের রাতে কাগজ গুছিয়ে রাখুন এবং সময়মতো পৌঁছান।
- পরীক্ষার স্লিপ, রিসিট ও রিপোর্ট একটি ফাইলে রাখুন। স্লিপ হারালে আবার লাইনে দাঁড়াতে হতে পারে।
- ডাক্তারকে কী জিজ্ঞেস করবেন তা আগেই কাগজে লিখে নিন; ইংরেজিতে অসুবিধা হলে অন্য রোগীর সাহায্য নিন।
- ফেরার টিকিট খোলা রাখুন বা পরিবর্তনযোগ্য নিন, কারণ চিকিৎসা কতদিন লাগবে আগে থেকে বলা কঠিন।
- দেশে ফেরার আগে পুরো রিপোর্ট, ডিসচার্জ সামারি ও ফলো-আপের তারিখ বুঝে নিন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
হ্যাঁ। চিকিৎসার জন্য রোগীকে মেডিক্যাল ভিসা (M1) এবং সঙ্গীদের মেডিক্যাল অ্যাটেনডেন্ট ভিসা (M2) নিতে হবে। ট্যুরিস্ট ভিসায় চিকিৎসা নেওয়া উচিত নয়।
CMC-র ওয়েবসাইট থেকে AYUSH INFO FORM ডাউনলোড করে পূরণ করুন এবং [email protected] ঠিকানায় ইমেইল করুন। আগে অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখলে সুবিধা হয়।
IVAC-এর ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা ফি নেই, তবে ১০ আগস্ট ২০২৫ থেকে প্রতি আবেদনে ১,৫০০ টাকা ভিসা প্রসেসিং ফি দিতে হয়।
CMC-র প্রকাশিত হালনাগাদ তালিকা অনুযায়ী প্রাইভেট রোগীর প্রথম অ্যাপয়েন্টমেন্ট ৯৯০ রুপি, যার মধ্যে হসপিটাল কার্ডও আছে। জেনারেল রোগীর ক্ষেত্রে ৩৫০ রুপি। পরীক্ষা ও ওষুধের খরচ আলাদা।
রোগী ও সব অ্যাটেনডেন্ট মূল পাসপোর্ট, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও রিপোর্ট নিয়ে টাউন ক্যাম্পাসের প্রিন্স ম্যানর বিল্ডিংয়ের IRO রুম 900B-তে যাবেন। সেখানেই রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট হয়।
হ্যাঁ। IRO-তে রেজিস্ট্রেশনের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোগী ও সব আত্মীয়কে থানায় রেজিস্ট্রেশন করে সিলসহ ফর্মের কপি IRO-তে জমা দিতে হয়। না করলে চিকিৎসা ও ফেরার পথে সমস্যা হতে পারে।
হ্যাঁ। হাসপাতালের আশেপাশে, বিশেষ করে বাবু রাও স্ট্রিটে অনেক বাঙালি হোটেল, লজ ও রান্নার সুবিধাসহ রুম আছে। ভাড়া ও মান সরাসরি যাচাই করে নিন।
বহির্বিভাগে দেখানো যায়, তবে CMC-র নিয়ম অনুযায়ী রোগী ওয়ার্ডে ভর্তি হলে একজন নারী অ্যাটেনডেন্ট বাধ্যতামূলক। তাই অন্তত একজন সঙ্গী নিয়ে যাওয়াই ভালো।
ভেলোর CMC হাসপাতালে চিকিৎসার যাত্রা লম্বা হলেও সঠিক প্রস্তুতি থাকলে অনেক ঝামেলা এড়ানো যায়। কাগজপত্র গুছিয়ে, অফিসিয়াল সূত্র থেকে তথ্য মিলিয়ে এবং দালাল এড়িয়ে চললে আপনার ও আপনার প্রিয়জনের চিকিৎসা হবে নিশ্চিন্ত। প্রিয়জনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।
আমাদের সবার ভ্রমণ নিরাপদ হোক, এটাই হোক আমাদের সকলের চাওয়া।