বাই রোডে নেপাল ভ্রমণ

যুক্ত করা হয়েছে
ভালো লেগেছে
0
ট্রিপ
৭ দিন
খরচ
১৫০০০ টাকা

সড়ক পথে যারা নেপাল ভ্রমন করতে চান তাদের কিছু বিষয় জেনে রাখা ভাল।সড়ক পথে নেপাল যেতে হলে ইন্ডিয়ান ট্রান্সিট ভিসা দরকার আর ইন্ডিয়ান ট্রান্সিট ভিসার জন্য অবশ্যই আপনাকে আগে নেপাল এর ভিসা নিতে হবে।

নেপাল এর ভিসার জন্য যা যা প্রয়োজন

  • Nepal Embassy Dhaka এর ওয়েবসাইট এ VISA Option এ একটা ফর্ম দেয়া আছে সেটা ডাউনলোড করে হাতে লিখতে হবে।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র এর ফটোকপি।
  • পাসপোর্ট সাইজ ছবি।
  • পাসপোর্ট এর ফটোকপি।
  • আপনি যদি চাকুরীজীবী হন অবশ্যই No Objection Certificate লাগবে।
  • যাওয়া এবং আসা ২ টার টিকেট জমা দিতে হবে।
  • হোটেল বুকিং এর ফটোকপি।
  • ছাত্র হলে ভার্সিটি কতৃপক্ষ দ্বারা সত্যায়িত সনদ পত্র এবং রিকমান্ডেশন লেটার।

সব কাগজ পত্র ঠিক থাকলে ১ কর্ম দিবসে নেপাল ভিসা দিয়ে দেয়। এর পর ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসা নিয়ে নিতে হবে এবং ভিসা ফর্ম এ অবশ্যই পোর্ট সিলেক্ট করবেন By Road Changrabandha\raniganj এবং আপনার যাত্রার তারিখ এর সাথে টিকেট এর তারিখ মিল থাকতে হবে। কারন এই তারিখ এর উপর আপনি ভিসা পাবেন।

অনেক সময় ভিসা ডেলিভারি ডেট যাত্রার তারিখ ছাড়িয়ে যায়। তবে এটা নিয়ে চিন্তার কোন কারন নেই কারন আপনার যাত্রার তারিখ এর আগেই ভিসা ডেলিভারি এসএমএস চলে আসবে। অনেক সময় যদিও এসএমএস আসেও না।

ঢাকা থেকে শ্যামলি, হানিফ, পিঙ্কি পরিবহন, মানিক এক্সপ্রেস, শাহ্‌ আলী, লালন পরিবহন সহ অনেক গাড়ি পাবেন বুড়িমারি যায়। বুড়িমারি থেকে ইমিগ্রেশন শেষ করে চলে যান চেংরাবান্দা। চেংরাবান্দা থেকে ইমিগ্রেশন শেষ করে ট্যাক্সি করে চলে যাবেন রানীগঞ্জ ভাড়া নিবে ২০০০ রুপি। রানিগঞ্জ ইমিগ্রেশন এ ২০০ রুপি নিবে পার পারসন। জেনে রাখা ভালো, রানিগঞ্জ ইমিগ্রেশনে আপনার পাসপোর্ট এর ১ম পেজ, ইন্ডিয়ান ট্রানজিট ভিসার পেজ এর ফটোকপি জমা দিতে হবে।

ফেওয়া লেক

রানিগঞ্জ এবং কাকারভিটা ইমিগ্রেশন সময় সকাল ৬.০০- সন্ধ্যা ৬.০০। রানীগঞ্জ ইমিগ্রেশন শেষে ১০ রুপি অটো ভাড়া দিয়ে চলে যান কাকারভিটা ইমিগ্রেশনে। ওখানে আপনাকে ৩০০ ইন্ডিয়ান রুপি দিতে হবে। নেপাল ইমিগ্রেশন থেকে আপনি আপনার ডলার/রুপি ভাঙ্গিয়ে নেপালি রুপি করে নিতে পারেন। চেংরাবান্দাতে কিন্তু নেপালি রুপি পাওয়া যায় না কারন ইন্ডিয়াতে নেপালি রুপি চলে না তবে আপনি ইন্ডিয়ান রুপি নেপালে চলাতে পারেন তবে কিছু কিছু জায়গায় চলে না।

নেপাল ভ্রমণ বিষয়ে আপনাকে অবশ্যই সময় এর দিকে সঠিক খেয়াল রাখতে হবে। কাকারভিটা থেকে কাঠমান্ডু সর্বশেষ বাস ছাড়ে বিকাল ৫ টায়। সময় লাগবে ১২-১৪ ঘণ্টা। পাহাড়ি আকা বাকা রাস্তা দিয়ে চলে যান কাঠমুন্ডু থামেলে। কাঠন্মুন্ডু এর থামেল হলো মিডিল পয়েন্ট। এখানে হোটেলও পাবেন আবার সাইট সিইং ও করতে পারবেন। Durbar Square, Pasupati nath tempale, Swayambhunath, Boudha Stupa etc এগুলো কাঠমান্ডু এর টুরিস্ট স্পট। বলে রাখা ভালো, পুরো নেপালে আপনি বাস এর টিকেট বাস টার্মিনাল থেকে করার চেষ্টা করবেন কারন নেপালে রাস্তায় রাস্তায় অনেক Agency আছে তারা টিকেট দিবে ঠিক কিন্তু দাম অনেক বেশি আর যেমন বাস এর কথা বলবে দিবে আরেক রকম।

কাঠমুন্ডুতে New Bus Park টার্মিনাল থেকে পোখারার বাস পাবেন, আগের দিন টিকেট কেটে রাখা ভালো। ভাড়া পরবে ৫৫০-৬৫০ রুপি সময় লাগবে ৮ ঘন্টা। লাস্ট বাস ছাড়ে সকাল ৭ টায়। পোখারা শহর অনেক সুন্দর এবং পরিস্কার পরিছন্ন। এখানে আপনি ভাল মানের কিছু হোটেল পাবেন খুব আল্প দামে। নেপালে খাবার এর দাম অনেক সুতরাং যা কিছু খাবেন দামাদামি করে নিবেন। বলা চলে নেপাল সব কিছুর দাম অনেক বেশি।

অন্নপূর্ণা

হোটেলে কথা বললে আপনি তাদের কাছে পোখারার সাইট সিইং এর জন্য গাড়ি পেয়ে যাবেন। ভাড়া পরবে ৫০০০-৬০০০ রুপি। ভোর ৫ টায় গাড়ি আপনাকে হোটেল থেকে নিয়ে যাবে সারানকোট। সেখানে সূর্যদয় দেখতে পারবেন আর সাথে পাবেন আন্নাপূর্ণা এক অপরুপ সৌন্দর্য। এর পর গাড়ি আপনাকে নিয়ে যাবে Bindhya basini temple এরপর হোটেল গাড়ি পৌঁছে দেবে সকালের নাস্তা করার জন্য। সকালের নাস্তা শেষে চলে যান পোখারার সবচেয়ে সুন্দর জায়গা ফেওয়া লেক। ১ ঘন্টার জন্য বোট ভাড়া পাবেন ৬৫০ রুপিতে। একে একে করে Devi’s Falls, Peace Pagoda ইত্যাদি আপনাকে টাক্সিতে করে নিয়ে যাবে।

এরপর পোখারার পৃথিবী চত নামে জায়গা থেকে কাকারভিটা এর বাস পাবেন, ভাড়া পরবে ১৬০০-১৮০০ রুপি। বাস ছাড়ার সময় বিকাল ৫ টা সময় লাগবে ১২-১৪ ঘন্টা। ঠিক একই ভাবে পর্যায় ক্রমে সকল বডারের ফরমালিটিস শেষ করে ফিরে আসুন আপনার প্রিয় বাংলাদেশে।

ঘুরতে গিয়ে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের নিজেদের দায়িত্ব সুতরাং ঘুরতে গিয়ে পরিবেশ নোংরা না করি। 
×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

  • 22
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    22
    Shares