ঢাকা-কলকাতা মৈত্রী ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়াসহ বিস্তারিত

যুক্ত করা হয়েছে
ভালো লেগেছে
3

মৈত্রী এক্সপ্রেস (Maitree Express) ট্রেন হচ্ছে ঢাকা থেকে কলকাতা আসা-যাওয়ার সবচেয়ে সহজ ও আরামদায়ক মাধ্যম যা অল্প খরচে চলে যেতে পারে। এছাড়াও ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার সরাসরি বাস চালু আছে। এই পোস্টে মৈত্রী ট্রেন এবং বাস দুটোরই দরকারি বিষয়গুলো বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি অনেকের উপকারে আসবে।

মৈত্রী এক্সপ্রেস

মৈত্রী ট্রেন ঢাকা থেকে কখন ছাড়ে?

মৈত্রী ট্রেন ঢাকা থেকে সকাল ৮ টা ১০ মিনিটে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। এই ট্রেনের টিকিট কাটতে হবে কমলাপুর রেল স্টেশন এবং চট্টগ্রাম রেল স্টেশন থেকে। ঢাকা টু কলকাতা ট্রেনের টিকিট আর কোথাও বিক্রি করে না।

মৈত্রী ট্রেনের রিটার্ন টিকিট ঢাকা থেকে কাটা যাবে?

জ্বি পারবেন তবে কলকাতা টু ঢাকার ট্রেনের টিকিট কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে শুধু কাটতে পারবেন। কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ২০% টিকিট দিতে পারে। আর বাকি ৮০% টিকিট কলকাতা কাউন্টার থেকে দিয়ে থাকে।

কলকাতার কোথা থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেট টাকা যাবে?

কলকাতা থেকে মৈত্রী এর টিকিট কাটতে হবে ফেয়ারলী প্লেস অথবা কলকাতা স্টেশনে গিয়ে। কলকাতা-ঢাকা ট্রেনের টিকিট আর কোথাও বিক্রি করে না।

  1. ফেয়ারলী প্লেস: সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত টিকিট দেওয়া হয়।
  2. কলকাতা স্টেশন: বিকাল ৪ টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত টিকিট দেয়া হয়। স্টেশনের ২য় তলায় যেতে হবে মৈত্রী ট্রেনের টিকিটের জন্য।

টিকিট কাটার জন্য প্রথমে পাসপোর্ট দেখিয়ে ফর্ম নিতে হবে। ফর্মে সিরিয়াল নাম্বার লিখে দিবে। তারপর ফর্ম পূরন করে অপেক্ষা করতে হবে। সিরিয়াল অনুযায়ী ডাকা হবে টিকিট নেয়ার জন্য।

কোন কোন দিন মৈত্রী ট্রেন চলে এবং কোন দিন বন্ধ থাকে?

মৈত্রী ট্রেন নিম্নোক্ত দিনগুলোতে চলাচল করে শুধু। সপ্তাহের বাকি দিনগুলো বন্ধ থাকে।

  • ঢাকা থেকে কলকাতাঃ শুক্রবার (৩১০৭), শনিবার (৩১১০), রবিবার (৩১০৭), বুধবার (৩১১০)।
  • কলকাতা থেকে ঢাকাঃ শনিবার (৩১০৮), সোমবার (৩১০৮), মঙ্গলবার (৩১০৯), শুক্রবার (৩১০৯)।

মৈত্রী ট্রেনের ভাড়া কত করে?

ঢাকা থেকে কলকাতা ট্রেনের ভাড়াঃ

  • AC কেবিন – ২৫২২ টাকা + ৩৭৮ টাকা (ভ্যাট)+ ৫০০ টাকা ট্রাভেল ট্যাক্স = ৩৪০০ টাকা
  • AC চেয়ার – ১৭৪৮ টাকা +২৫২ টাকা ( ভ্যাট ) + ৫০০ ট্রাভেল ট্যাক্স = ২৫০০ টাকা। শিশুদের জন্য ৫০% ডিস্কাউন্ট হবে যদি ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে বয়স হয়ে থাকে নতুবা ফুল ভাড়া দিয়ে টিকিট কাটতে হবে। পাসপোর্ট অনুসারে বয়স ধরা হয়ে থাকে।
    ট্রাভেল ট্যাক্স প্রতিজনের জন্য ৫০০ টাকা করে যা টিকিট এর টাকার সাথে যুক্ত।

কলকাতা থেকে ঢাকা ট্রেনের ভাড়াঃ

  • AC কেবিন – ২০১৫ রুপি
  • AC চেয়ার – ১৩৪৫ রুপি

টিকিট কখন পাওয়া যাবে?

কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে সকাল ৯ টা থেকে রাত ৭ টা পর্যন্ত টিকিট দেওয়া হয়। আর ৩০ দিন আগ পর্যন্ত অগ্রিম টিকিট নিতে পারবেন।

ব্যাগের ওজন কত কেজি পর্যন্ত নিতে পারবেন?

একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তি ৩০ কেজি পর্যন্ত ফ্রি নিতে পারবেন মানে একটা লাগেজে ৩০ কেজি পর্যন্ত নিতে পারবেন আর শিশুদের ক্ষেত্রে ২০ কেজি পর্যন্ত মানে সাথে যদি বাচ্চা থাকে তার জন্য ২০ কেজি পর্যন্ত ফ্রি নিতে পারবেন।

ব্যাগের ওজন (৩০ কেজি) বেশি হলে কত চার্জ দিতে হবে?

৩১ কেজি থেকে ৫০ কেজি হলে প্রতি কেজিতে ২ ডলার করে এক্সট্রা ফি দিতে হবে এবং ৫০ কেজি + হলে প্রতি কেজিতে ১০ ডলার করে গুনতে হবে।

ঢাকা থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন কখন পৌছায়?

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে সকাল ৮ টা ১০ মিনিটে ছাড়বে আর কলকাতা পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে। তবে মাঝে মধ্যে লেট হতে পারে সেক্ষেত্রে রাত ৮টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কলকাতা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ট্রেন কখন পৌছাবে?

কলকাতা থেকে সকাল ৭ টা ১০ মিনিটে ছাড়ে আর ঢাকা আসে সন্ধ্যা ৭ টার একটু আগে। যদি দেরি হয় তাহলে সেটা রাত ৮/৯ টা পর্যন্ত হতে পারে। এই ভ্রমনে সর্বমোট ১১ ঘণ্টা সময় লেগে থাকে। তবে মাঝে মাঝে দেরি হলে হয়তো সর্বোচ্চ ১৩ ঘণ্টা লাগতে পারে। মোট ঢাকা টু কলকাতা ৪০০ কি.মি. পথ যেতে হয়। আর ট্রেনের স্পিড থাকে ৪০/৪২ কি.মি. ঘন্টায়।

মৈত্রী ট্রেনের ইমিগ্রেশন কখন কোথায় করা হয়ে থাকে?

ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার সময়ঃ

ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌছানোর পর আপনার কাজ হবে ইমিগ্রেশন ফর্ম নিয়ে সেটা পূরণ করা। ফর্ম এর মধ্যে পাসপোর্ট ইনফো এবং ভিসা ইনফো ঠিকভাবে লিখেবেন। যাওয়ার সময় কাস্টমস সেরকম কিছু জিজ্ঞেস করে না। হাতে একটু সময় নিয়ে আগে থাকে স্টেশনে পৌঁছাবেন। কলকাতা স্টেশনে পৌছানোর আগেই ট্রেনে একটা ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশন ফর্ম দিবে সেটা ঠান্ডা মাথায় পূরন করবেন। ফর্মে ঠিকানা ও ফোনের জায়গায় আপনার হোটেলের ঠিকানা ও ফোন নম্বর দিবেন, যারা আত্মীয়ের বাসায় উঠবেন তারা আত্মীয়ের ঠিকানা ও তার পুরো নাম ঠিকানার জায়গায় লিখবেন এবং তার ফোন নাম্বার দিবেন। ট্রেন থামার পর ইমিগ্রেশন লাইনে দাড়াবেন। তখন একটি ডিকলারেশন ফর্ম দিবে, সেটি পূরন করবেন ফর্মের দুদিকে বাংলা/ইংরেজী দুটি ভাষাই আছে যেকোন একভাবে পূরন করবেন। মনে রাখবেন – চাকুরীজীবীদের NOC সাথে রাখা আবশ্যক

কলকাতা থেকে ঢাকা আসার সময়ঃ

কলকাতা স্টেশনে প্রথম কাজ হল ডিকলারেশন ফর্ম নিয়ে পূরন করে ইমিগ্রেশনে দাড়ানো। ইমিগ্রেশনের আগে ও পরে ৩/৪ বার ব্যাগেজ ও বডি চেক হবে কুকুর, মেশিন, BSF দ্বারা এবং এগুলো খুব দ্রুতই হয়ে যায়। আর এসব কারনে স্টেশনে ৬টার দিকে পৌছে যাওয়াই ভাল। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে পৌঁছানোর পর কেবিন যাত্রী ও চেয়ার কোচ যাত্রীদের আালাদা লাইন করা হয় এবং প্রথম দিকের যাত্রীদের সময় নিয়ে কাস্টম, ইমিগ্রেশন করা হয় আর শেষের দিকে যাত্রীদের দ্রুত ইমিগ্রেশন করে ছেড়ে দেয়।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    9
    Shares