ভারতের ট্রানজিট ভিসা প্রসেসিং সিস্টেম

যুক্ত করা হয়েছে
ভালো লেগেছে
0

প্রথমেই একটা কথা ক্লিয়ার হয়ে নিন – ট্রানজিট ভিসা এর জন্যে আবেদন করলেই যে পাওয়া যাবে এমনটা নাও হতে পারে, ভিসা মিসও হতে পারে। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে মিস হবার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যায়, একদমই নগণ্য। তাই আপনি সকল সাবধানতা অবলম্বন করে ও সকল প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহকারে ভিসার আবেদনপত্র ভিসা সেন্টারে সাবমিট করবেন। ট্রানজিট ভিসা এর ফর্ম কিভাবে পূরণ করতে হয় এবং প্রয়োজনীয় কি কি কাগজপত্র সাথে জমা দিতে হয় – এসব নিয়েই এ পোষ্ট।

  • ট্রানজিট ভিসার আবেদনে অবশ্যই ডাবল এন্ট্রি দিতে হবে।
  • Expected date of journey হবে ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করার দিন।
  • অবশ্যই পিতা মাতার “previous nationality” ঘরটা পূরণ করবেন। যদিও এটা “mandatory option” না কিন্তু এটা অবশ্যই পূরণ করতে হবে নাহলে অকারনে ঝামেলা পোহাতে হবে। আমার মনে হয় ফর্মের উল্লেখিত অপশনগুলোর উত্তর আপনার জানা থাকলে সব গুলো পূরণ করে নিয়ে যাওয়াই ভালো।
  • চেষ্টা করবেন একদিন পূর্বে অনলাইন ফরম (http://indianvisa-bangladesh.nic.in/visa/) পূরণ করে নেয়ার। বার বার চেক করে শিওর হয়ে নিবেন আপনি যে অসব ইনফো দিচ্ছেন তা সবকিছু স্টহিক আছে কিনা।
  • যাদের একাধিক পাসপোর্ট তারা অবশ্যই দুটো পাসপোর্টের সকল তথ্য চেক করে নিবেন যেমন; বাবার নামের বানান, মায়ের নামের বানান, নিজের জন্ম তারিখ এবং স্থান। ভুল থাকলে আগে পাসপোর্ট অফিস থেকে সংশোধন করিয়ে পরে ভিসার জন্য জমা দিবেন। ভুল থাকলে কোন অবস্থাতেই পাসপোর্ট জমা নেয় না।
  • “Expected date of arrival” হবে বাংলাদেশ থেকে যাত্রার তারিখের পরের দিন। মানে যেইদিন আপনি ইন্ডিয়া পৌঁছাবেন। ধরুন, আপনি বাসের টিকিট কেটেছেন ১৫ তারিখ রাতে, তাহলে আপনার “Expected date of arrival” হবে ১৬ তারিখ।
  • যদি তারা আপনাকে ফিরিয়ে দেয় এবং পরের দিন আসতে হয় তাহলে আবার নতুন করে ৬০০/- টাকা ভিসা প্রসেস্যিং ফি দেয়া লাগবে।
  • মানি এক্সচেন্জ থেকে এনডোর্স করলে সেটা এখন আর গ্রহনযোগ্য হয় না।
  • travel another country before india ঘরে no হবে এবং travel another country after india ঘরে yes হবে।
  • Port of Entry & Exit দুটোই হবে Chengrabanda/Jaygaon ভুটানের জন্য আর নেপালের জন্য Chengrabanda/Ranigonj
  • ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দিবে না সুতরাং ব্যাগ নিবেন না। ফাইলে করে নিয়া যান দরকারি জিনিস পত্র।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • MRP পাসপোর্ট।
  • পুরাতন থাকলে অবশ্যই সংযোজন করে নিয়ে যাবেন কেননা অন্য পাসপোর্ট থাকলে সেটা সংযুক্ত না থাকলে জমা নিবে না।
  • ২ কপি “2X2” ছবি।
  • অনলাইনে পূরণ করা ফর্মের প্রিন্ট করা কপি।
  • পাসপোর্টের ৩ কপি ফটোকপি (শুধু MRP)। যদি পূর্বের ভিসা থেকে থাকে তাহলে সেগুলোরও ফটোকপি।
  • কনফার্ম বাস টিকিট, রিটার্ন টিকেট সহ। সেটা হোক এসি বা নন এসি। বর্ডার পর্যন্ত হলেই হবে।
  • হোটেল বুকিং এর কনফার্মেশন এর প্রিন্ট কপি। booking.comagoda.com প্রভৃতি বুকিং সাইট থেকে আপনি খুব সহজেই হোটেল বুকিং করতে পারেন।
  • জন্ম সনদ অথবা ন্যশনাল আইডি কার্ডের ফটোকপি। (Both if possible) অথবা যেটা দিয়ে পাসপোর্ট করা হয়েছে।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট অথবা এন্ডোরসমেন্টের অরিজিনাল কপি এবং ফটোকপি। তবে মনে রাখবেন মানি এক্সচেন্জ থেকে এনডোর্স করলে সেটা গ্রহনযোগ্য হবে না।
  • স্টুডেন্ট হলে আইডি কার্ডের ফটোকপি। চাকুরীজীবী হলে NOC (No Objection Certificate) এবং ভিসিটিং কার্ডের মূলকপি । ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্সের ফটোকপি ও মূলকপি এবং ভিসিটিং কার্ডের মূলকপি।
  • স্টুডেন্ট হলে বাবার ভিসিটিং কার্ডের কপি। (if possible)
  • ইউটিলিটি (গ্যাস/বিদ্যুৎ/পানি) বিলের মূলকপি বং ফটোকপি। অবশ্যই ৩ মাসের পুরাতন নয়। বিলের উপর যে বর্তমান ঠিকানা আছে হুবুহু এক ঠিকানা দিতে হবে আপনার পূরণ করা ফর্মেও।

সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই অনেক সমস্যায় পরেন। তাই হালকা একটু সতর্ক হলে এই ধরনের সমস্যা খুব সহজেই এড়ানো সম্ভব।

তথ্য সহযোগীতায়ঃ Ashab Anis Joy

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares