বালি ভ্রমণ পূর্ববর্তী প্রস্তুতি/গাইডলাইন

যুক্ত করা হয়েছে

ইন্দোনেশিয়া Visa on Arrival করে দেওয়ার পর থেকে অনেকেই ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার প্ল্যান করছেন, তাই কিছু ইনফোরমেশন শেয়ার করলাম যা আপনাদের কাজেও আসতে পারে। হুট করে সিদ্ধান্ত তাই ঝড়ের গতিতে ইন্দোনেশিয়া ভ্রমণ নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে লাগলাম। ট্রাভেলার ছিলাম আমরা ৩ জন। আমি, আলি, শাহেদ (মালেশিয়াবাসি)। রাতে গুগল করতাম ৩ জন বালি নিয়ে। ইনফরমেশন কালেক্ট করে শেয়ার করতাম বাকি দুইজনকে।

bali বালি

  • ইন্দোনেশিয়া “Visa on Arrival” যা আপনার সবাই জানেন। ইন্দোনেশিয়ান এম্বাসির ওয়েবসাইটে মেনসন করা আছে কিছু এয়ারপোর্ট আর সী-পোর্ট। ভিসা সম্পর্কিত কিছু ইনফরমেশন নিলাম ইন্দোনেশিয়ান এম্বাসিতে কল দিয়ে, কিছু নিলাম Bali.com এবং কিছু অন্যান্য ওয়েবসাইট থেকে। কিছু ওয়েবসাইটে লেখা ছিলো “Apply abroad before ariving Bali” যা নিয়ে আমরা চিন্তিত ছিলাম কিন্তু ইন্দোনেশিয়ান এম্বাসিতে কল দিয়ে জানতে পারলাম যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট হোল্ডারদের অন্য কোনো দেশের ভিসার দরকার নাই ইন্দোনেশিয়ার On Arrival Visa এর জন্য।
  • Air Ticket – ঢাকা থেকে ইন্দোনেশিয়ার কোনো ডিরেক্ট ফ্লাইট নেই, তার জন্য মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স, সিংগাপুর এয়ারলাইন্স, এয়ার এশিয়ার টিকেট করা লাগবে।ডিরেক্ট ঢাকা-বালি-ঢাকা এয়ারটিকেট করাটাই বেশি ভালো। ঢাকা-কুয়ালালামপুর এক ফ্লাইট আবার কুয়ালালামপুর-বালি আরেক ফ্লাইট, এভাবে টিকেট করবেন না, বেশি ভাগ সময় সমস্যা হতে পারে, ডিরেক্ট এক এয়ারলাইন্স এর টিকেট করাই ভালো।
  • বুকিং ডট কম থেকে হোটেল বুক করে নিতে পারেন। হোটেল রিসার্ভ করে গেলে অনেক সময় বাচে, না হলে দেখা যায় হোটেল খুঁজতে খুঁজতে অনেক সময় চলে যায়। এয়ারপোর্ট এ অনেক সময় হোটেলের রিসার্ভেশনের পেপার দেখতে চায়। বুকিং ডট কমের সার্ভিস ভালোই। হোটেল Booking.com থেকে বুক করে থাকলে আপনি ১টি মেইল পাবেন, মেইলটা মনে করে প্রিন্ট করে নিয়েন।
  • হোটেল সিলেক্ট করবেন এমন এক জায়গায় যেখানে দিন-রাত জমজমাট থাকে। আমার মতে Legian এর আশেপাশে হোটেল নেওয়াটা ভালো। Kuta এর সবচাইতে জমজমাট জায়গা হলো Legian Street।
  • যাওয়ার আগে হাল্কা কিছু শপিং করে নিতে পারেন, বালিতে গরম থাকে বছরের বেশি ভাগ সময়ই, তাই পাতলা টি-শার্ট, শর্ট পেন্ট, স্লিপার নেওয়াটাই ভালো। বালি যেহেতু বিচ এরিয়া তাই সাথে Sport Camera/ Action Camera নিতে পারেন। ক্যামেরার টাকা উসুল হবেই হবে।
  • বালিতে কোথায় কোথায় যেতে চান তার লিস্ট বালি যাওয়ার আগেই করে নেওয়া ভালো তাতে সময় বাঁচে, আবার খরচও বাঁচবে।
  • বালি এয়ারপোর্ট নামার পর হোটেল যাওয়ার জন্য ট্যাক্সি নেওয়ার সময় অনেক হাই লেভেলের দামাদামি করা লাগবে। For an example- এয়ারপোর্ট থেকে Legian এর ভাড়া চেয়েছিল ৪ লক্ষ রুপি, অনেক দামাদামির পর ১ লক্ষ রুপিতে রাজি ট্যাক্সিচালক।
  • ডলার এক্সচেঞ্জ করার সময় ইন্দোনেশিয়ান রুপি ভালো মত গুনে নিবেন। আমরা যেখানে ১ লক্ষকে ইংলিশে বলি 1 lac, ইন্দোনেশিয়াতে ১ লক্ষকে বলে one hundred thousand. প্রথম প্রথম কিছুটা কনফিউজড হবেন, তাই আপনাদের প্রস্তুতির জন্য কিছু উদাহরন দেওয়া হলো- 2,30,000= Two hundred thirty thousand, 6,00,000= Six hundred thousand. ভালো মতো আয়ত্ত্ব করে নিবেন।
  • বালিতে মটরসাইকেল/গাড়ি রেন্ট নিতে পারেন ঘুরার জন্য। যদি বাইক চালাতে পারেন তাহলে তো কথাই নাই। বাইক রেন্ট ১ লক্ষ রুপি ১ দিনের জন্য (দামাদামি করলে কিছুটা কমে পেতে পারেন), গাড়ির ভাড়া ডিপেন্ড করে আপনি কি গাড়ি নিচ্ছে, অটো/মেনুয়্যল, গাড়ির বেলায়ও দামাদামি করতে হবে। গাড়ি রেন্ট নেওয়ার জন্য Driving License (বাংলাদেশের হলেও হবে) আর Passport দেখালেই হবে, ওরা License/Passport জমাও রাখবে না। গাড়ি রেন্ট নিলে ভালো করে ওদের নিয়ম/কানুন গুলো মনে রাখবেন। কোনো গাইডের দরকার নাই যদি আপনি ড্রাইভ পারেন আর সাথে গুগল ম্যাপ থাকে। চলে যান গাড়ি নিয়ে যেখানে দুই চোখ যায় কিন্ত ট্রাফিক আইন মেনে।
  • বালি (Bali) সী ফুডের জন্য বেস্ট। অনেক রকমের সী ফুড আইতেম আছে। কিন্ত খাবার আগে নিশ্চিত হয়ে নেন হালাল নাকি। আমার মত গরিব হলে বলবো Mcdonalds আছে না।
  • বালিতে অনেক রকমের সী এক্টিভিটিস আছে যেমন- স্কুবা ডাইভিং, সী ওয়াক ইত্যাদি। ৩/৪ রকমের সী এক্টিভিটিসের জন্য গুনতে হবে আনুমানিক $100।
  • বালিতে কিছু জায়গা আছে যেখানে বানরদের আতংক কিঞ্চিত বেশি। যেমন Uluwatu temple, Blue point beach এসব জায়গায় গেলে ক্যামেরা, মানিব্যাগ, সানগ্লাস এমনকি জুতা সাবধানে। এমনও হয় যে বানররা তাদের গাংস্টার বাহিনী নিয়ে আপনার নিজ পা থেকে আপনার স্লিপার নিয়ে পার্ট নিয়ে চলে যাবে কিন্ত আপনি কিছুই করতে পারবেন না। তাই সাবধান।
  • বালিতে আমি যা দেখলাম, বাংগালিদের প্রতি ওদের ধারণা ভালোই, তাই আমরা এমন কোনো কাজ না করি যাতে আমাদের প্রতি ওদের ধারনার পরির্তন হয়।

শেষে একটা কথা বলতে চাই, বালি যাওয়ার আগে দরকার হলে ৩ দিনের টানা ঘুম দিয়ে যান যাতে বালিতে ঘুম নামক জিনিসটা আপনাদের ঘুরার মাঝে দেখা না দেয়। ইচ্ছামত ঘুরেন, রেস্ট নিবেন দেশে আসার পর। আমাদের ৫ দিনের ট্রিপে ঘুমের দেখা বেশি হলে ১০/১১ ঘন্টা হবে আনুমানিক। সময় নস্ট হয় এমন কাজ থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন। আমরা সময় বাচানোর জন্য অনেক সময় বীচ থেকে ভেজা কাপড় পরেই অন্য ডেস্টিনেশনে চলে গিয়েছি। ৩ দিন দুপুরে লাঞ্চ করি নি কিন্তু অসুস্থ হই নি, জীবিত আছি।

ইনশাআল্লাহ, ইনফোরমেশন গুলো আপনাদের কাজে আসবে।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।