বালি ভ্রমণে কিছু দরকারি তথ্য

যুক্ত করা হয়েছে
ভালো লেগেছে
1

যারা বালি (Bali) যাবেন বা যাওয়ার ইচ্ছা আছে তাদের জন্য আমার এ লেখা যা কিছুটা হলেও আপনার সাহায্যে আসবে। বালি দ্বীপ আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দর জায়গা। একটা জায়গায় এতো কিছু দেখার আছে যা আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। হাতে সময় না নিয়ে গেলে আফসোস করতে হবে।

বালি ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) একটি দ্বীপ এলাকা ও প্রদেশ। বালি ও তার আশেপাশের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপমালা নুসা পেনিদা, নুসা লেমবনগান ও নুসা সেনিনগান নিয়ে প্রদেশ গঠিত হয়েছে। এর রাজধানী দেনপাসার দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত।

বালিতে যাওয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা যেটা তা হলো ইন্দোনেশিয়া অন এরাইভাল ভিসা (On arrival visa) হওয়ায় ভিসা নিয়ে ঝামেলা পোহাতে হয় না। শুধু প্লেনের টিকেট থাকলেই চলে। মালিন্দো, থাই এয়ার, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স , মালয়শিয়ান এয়ারের বিমানে আপনি বালি যেতে পারেন। টিকেটের দাম ২২০০০-৪০০০০ টাকার মধ্যে উঠানামা করে।

মালিন্দো এক্ষেত্রে সাশ্রয়ী হবে। যাত্রার যত আগে টিকেট কাটা সম্ভব হবে তত সাশ্রয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কুয়ালামপুরে ১ ঘন্টার ট্রানজিটসহ বালি পৌছাতে সময় লাগে ৬ ঘন্টা। বাংলাদেশের সাথে ২ ঘন্টার ব্যবধান ইন্দোনেশিয়ার।

বালি

ইন্দোনেশিয়ার ইমিগ্রেশনে যে জিনিসগুলো দেখতে চাইবে তা হলো আপনি কতদিনের জন্য ওখানে যাচ্ছেন, যে হোটেলে থাকবেন তার বুকিং কনফার্মেশন পেপার, পাসপোর্ট ডলার এন্ডর্স করা কিনা। সব দেখে আপনার পাসপোর্টে এন্ট্রি ভিসা দিয়ে দিবে ৩০ দিনের জন্য।

কারেন্সি

লাখ লাখ টাকা নিমিষেই খরচ করার যায়গা এই ইন্দোনেশিয়া। ১০০ ডলার ভাংগালেই আপনি পেয়ে যাবেন ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া। ১ লক্ষ রুপিয়া মানে বাংলদেশি ৬১৫ টাকা মনে রাখলেই হবে। টাকা ভাংতি অবশ্যই অথরাইজড মানি চেঞ্জার থেকে করবেন নয়তো প্রতারিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এয়ারপোর্ট থেকে অল্প কিছু ডলার ভাংতি করে নেবেন ট্যাক্সি ভাড়া দেয়ার জন্য। এয়ারপোর্টে একটু কম দেয় মানি চেঞ্জে।

ট্রান্সপোর্ট

এয়ারপোর্ট থেকে যখন বের হবেন তখন এয়ারপোর্ট ট্যাক্সি সার্ভিস না নিয়ে চেষ্টা করবেন যেন বাইরে গিয়ে ব্লু বার্ড ট্যাক্সিতে মিটারে যেতে। মিটারে আপনার ৩০-৪০ হাজার রুপিয়া বাংলাদেশি টাকায় যা ১৮০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যেই থাকবে। আর এয়ারপোর্ট থেকে নিলে এই একই দুরত্বে ভাড়া নিবে ৭৫ হাজার থেকে দেড় লক্ষ রুপিয়া।

কোথায় থাকবেন

বালিতে হোটেল ভাড়া তুলনামুলক অনেক কম। বাংলাদেশি টাকা ১৫০০ থেকে ৪০০০ টাকার মধ্যে অনেক ভালমানের হোটেল পাওয়া যাবে ব্রেকফাস্ট সহ। বুকিং.কম/আগোডা.কম থেকে যাওয়ার আগেই হোটেল বুক করে যাওয়া উচিত। এলাকা হিসেবে কুটা বিচ বা লেগিয়ান বিচের আশেপাশেই হোটেল নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

কি খাবেন

বালিতে ইন্দনেশিয়ার লোকাল খাবার নাসি গোরেন, নাসি আয়াম, মি আয়াম খেতে পারেন। দাম পরবে ৩০ হাজার রুপিয়া থেকে শুরু করে ৬০ হাজার রুপিয়া এছাড়া ম্যাকডোনালডস, কে এফসি, বারগার কিং তো আছেই। দামটাও বেশ কম। আর সি ফুড লাভারসদের জন্য তো এ এক স্বর্গ রাজ্য। কম খরচে অনেকরকম সি ফুড খেতে পারবেন।

কোথায় ঘুরবেন

যেদিন পৌছাবেন সেদিন কুটা বিচে বিকেল টা ঘুরে বেড়াতে পারেন। বিচের পাশে খুব সুন্দর কিছু রেস্টূরেন্ট সন্ধ্যা টা কাটিয়ে দিন অথবা জিম্বারান বিচে সানসেট দেখে বিচ ডিনার করতে পারেন যদি কাপল হয়ে থাকেন। এখানে খাবারের দাম অন্য জায়গার তুলনায় একটু বেশি। রাতে বিচওয়াক বা ডিসকভারি মার্কেট ঘুরে দেখতে পারেন। রাত ৮টার পরে মার্কেট অবশ্য বন্ধ হয়ে যায়।

বালি

বালিতে দর্শনীয় স্থানসমুহের মধ্যে যেতে পারেন নুসা দুয়া, উলুওয়াতু, পাদাম পাদাম বিচ, কিন্তামানি মাউন্ট বাটুর, উবুদ (Ubud), তানালক মন্দির, মাংকি ফরেস্ট (Monkey Forest)। এ জায়গাগুলো যেতে হলে অবশ্যই আপনাকে একটা গাড়ি ভাড়া করে নিতে হবে সারাদিনের জন্য (১০/১২ ঘন্টা). কিন্তামানি মাউন্ট বাটুর, উবুদ এক দিকেই পরবে। তানালট অন্য দিকে আর নুসাদুয়া আর উলুওয়াতু আরেকদিকে। তাই একদিনে সব দেখতে পাবেন না। কিন্তামনি উবুদ ঘুরে আসতে হলে সকাল সকাল ট্যাক্সি ভাড়া করে বের হয়ে পড়বেন। জীবন্ত আগ্নেয়গিরি দেখতে পাবেন যা থেকে মাত্র কিছুদিন আগেও অগ্নুৎপাত হলো। ওখানে দুপুরের লাঞ্চ করে নিতে পারবেন ১৫০০ টাকা পরবে জনপ্রতি ব্যুফে তে। আসার পথে উবুদে রাইস টেরেস , মানকি ফরেস্ট আর জলপ্রপাত দেখতে পাবেন। এখানেও চাইলে ট্রাডিশনাল বোরোঙ নাচ দেখতে পারেন। সকালে গিয়ে সন্ধ্যার মধ্যেই ফিরে আসতে পারবেন। বাংলাদেশী টাকায় ভাড়া পড়বে ৩৫০০ টাকার মতো। এসব জায়গায় ঢুকতে আপনার টিকেট কাটতে হবে।

বালি

উলুওয়াতু মন্দির, পাদাম পাদাম বিচ গেলে ওখানে সানসেট টা দেখতে ভুলবেন না। অসাধারণ এক দৃশ্য। সূর্য ডোবার পরে ওখানে বালিনেস নাচ আর ওদের ঐতিহ্যবাহী কেসাক নাচ দেখতে পারবেন তবে তার জন্য টিকেট কাটতে হবে। এই এলাকায় বাদঁরের বাঁদরামি টা একটু বেশি। সুযোগ পেলেই সানগ্লাস , ক্যাপ, খাবার চুরি করে ভাগবে। সময়ের অভাবে তানালট আমাদের যাওয়া হয়নি। কুটা থেকে ২০ কিমি দূরে। এখানেও আপনি উলুয়াতুরের মতো সমুদ্রের উপর মন্দির আর সানসেট দেখতে পাবেন। বালির দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম।

আর অবশ্যই যাবেন গিলি আইল্যান্ড। আমার দেখা বালি’র সব থেকে সুন্দর জায়গা এই গিলি আইল্যান্ড। গিলি তে ৩ টা দ্বীপ আছে গিলি ত্রাওয়ানগান, গিলি মেনো আর গিলি এয়ার। গিলি ত্রাওয়ানগানে এক রাত থাকবেন সুন্দর কোনো রিসোর্টে। ভাড়া পড়বে বাংলাদেশী টাকায় ২০০০-৬০০০ টাকার মধ্যে। ছবির মতো সুন্দর গিলি তে কোনো গাড়ি বা যানবাহন নেই। ঘোড়ার গাড়ি আর সাইকেল হচ্ছে বাহন। ঘন্টা হিসেবে সাইকেল ভাড়া করে ঘুরতে পারবেন এই দ্বীপটাতে। এখানে আপনি স্নোরকেলিং করতে পারবেন জনপ্রতি দেড় লাখ রুপিয়া তে। ৪ ঘন্টার এই ট্যুরে আপনাকে গিলি মেনো আর গিলি এয়ার ঘুরে টার্টেল রিফ,ফিশ রিফ আর কোরাল আইল্যান্ড ঘুরে দেখাবে স্পিড বোটে আর সমুদ্রের নিচে সাঁতার কেটে আসবেন লাইফ জ্যাকেট, মাস্ক পরে। অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে। রাতে বিচ পার্টি তে ডিজে’র তালে তালে সময়টা উপভোগ করতে পারেন। বালি থেকে গিলি যেতে আপনাকে ফাস্ট বোট এর টিকেট করতে হবে। জনপ্রতি ৫ লক্ষ রুপিয়া বা বাংলাদেশী ৩০০০ টাকার মতো খরচ পরবে রিটার্ন টিকেট সহ। অনলাইনে বা ট্যুর গাইড থেকেও টিকেট কিনতে পারেন তবে দাম নিয়ে একটু দামাদামি করে কমাতে পারবেন। ওরাই আপনাকে হোটেল থেকে পিক করে ওদের গাড়িতেই পাদাম হারবারে পৌঁছে দিবে। গাড়িতে ১.৩০ ঘন্টা লাগে জেটিতে যেতে। ওখান থেকে গিলি পৌঁছাতে বোটে লাগবে ২ থেকে ২.৩০ ঘন্টা।

বালি

যদি আপনার গিলি তে যাওয়া না হয় তবে অবশ্যই যাবেন নুসা দুয়া বীচে। ওখানে আপনি ওয়াটার রাইড, আন্ডার ওয়াটার এক্টিভিটিস গুলো করতে পারবেন। চাইলে এখানেও এক রাত কাটিয়ে নিতে পারবেন।

সব খরচ মিলিয়ে জনপ্রতি ৪০,০০০/- টাকায় আরামদায়ক এক ভ্রমন করতে পারবেন।

মোটামুটি যতটুকু সম্ভব চেষ্টা করলাম বালি ট্যুরের বিস্তারিত জানানোর। আশা করি একটু হলেও উপকার পাবেন। পরিশেষে একটা কথা মনে রাখবেন যেখানেই ঘুরবেন দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন তাই পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কিছু করবেন না।

  • 88
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    88
    Shares

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।