বান্দরবানের রুমা উপজেলায় বগালেকের একদম কোলঘেঁষে অবস্থিত বগালেক আর্মি কটেজ (সেনাবাহিনী কটেজ) এই অঞ্চলের সবচেয়ে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক আবাসন বিকল্প। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত এই কটেজটি স্থানীয় আদিবাসী বাঁশের কটেজগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন। মাত্র ৩টি রুম থাকায় এটি বেশ একচেটিয়া (Exclusive) একটি আবাসন — এবং সেটাই এর বিশেষ আকর্ষণ।
খাবারের ব্যবস্থা
কটেজে নিজস্ব কোনো রেস্তোরাঁ নেই। আপনি চাইলেই কটেজের পাশের বম আদিবাসী পরিচালিত ছোট দোকান থেকে আগে থেকে অর্ডার করলে খাবার নিয়ে সমস্যা হবে না। রাতে BBQ পার্টি করতে চাইলে গাইডকে আগে থেকে জানালে তিনি স্থানীয় দেশি মুরগি কিনে লেকের পাড়ে বারবিকিউর ব্যবস্থা করে দেন।
- সাধারণ মেনু: ভাত, পাহাড়ি দেশি মুরগি, ডাল, পাহাড়ি সবজি, ভর্তা
- খরচ: জনপ্রতি ১৫০–৩৫০ টাকা/বেলা
বুকিং পদ্ধতি ও যোগাযোগ
বুকিং প্রক্রিয়া
যেহেতু এটি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত কটেজ, তাই বুকিং প্রক্রিয়া সাধারণ হোটেলের মতো নয়:
- আর্মি রেফারেন্স: পরিচিত কোনো সেনা কর্মকর্তা বা সদস্যের মাধ্যমে বুকিং করলে সবচেয়ে সহজ ও নিশ্চিত হয়
- সাধারণ পর্যটক: রেফারেন্স না থাকলেও সিট খালি থাকা সাপেক্ষে সরাসরি ফোনে বুকিং সম্ভব
- অনলাইন বুকিং নেই: কোনো বুকিং ওয়েবসাইটে এই কটেজ পাওয়া যায় না
বুকিং টিপস
- ভ্রমণের কমপক্ষে ১–২ সপ্তাহ আগে বুকিং নিশ্চিত করুন, কারণ মাত্র ৩টি রুম থাকায় এটি দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়
- শীতকালীন সিজনে (নভেম্বর–জানুয়ারি) চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে — এ সময় আরও আগে বুকিং দেওয়া উচিত
- বুকিং করার নাম্বার পরিবর্তন হতে পারে — ভ্রমণের আগে অবশ্যই যাচাই করে নিন।
দ্রষ্টব্য: ভাড়া সিজন ও কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবর্তনযোগ্য। সম্পূর্ণ কটেজ একসাথে বুক করলে মোট খরচ প্রায় ১৪,৫০০ টাকা/রাত, যেখানে মোট ১৭–১৯ জন থাকতে পারবেন। বড় গ্রুপের জন্য এটি বেশ সাশ্রয়ী।
কটেজে থাকার আগে যা জানতে হবে
- NID/পাসপোর্টের ৫–৬ কপি ফটোকপি সাথে রাখুন — রুমা ও বগালেক আর্মি চেকপোস্টে জমা দিতে হবে
- পাওয়ার ব্যাংক অবশ্যই আনুন — সোলার বিদ্যুৎ সীমিত, চার্জিং সুবিধা নিশ্চিত নয়
- সন্ধ্যার পর লেকে নামা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ
- বিকেল ৪টার পরে রুমা বাজার থেকে বগালেকের দিকে যাত্রা করা যায় না — সময়মতো রওনা দিন