এক ট্রেকেই সবুজ উপত্যকা আর শুকনো, পাথুরে পাহাড়—দুই রকম দৃশ্য দেখতে চাইলে হাম্পতা পাস (Hampta Pass Trek) দারুণ একটি রুট। ভারতের হিমাচল প্রদেশে এই ট্রেক শুরু হয় মানালির দিক থেকে। বন, পাহাড়ি ফুল আর ছোট ছোট জলধারা পেরিয়ে পাসে উঠবেন। ওপারে নামলেই লাহৌলের একেবারে আলাদা চেহারা।
হাম্পতা পাস কুল্লুর সঙ্গে লাহৌলের চন্দ্রা উপত্যকাকে যুক্ত করেছে। এটি পির পাঞ্জাল পর্বতমালায়, প্রায় ৪,২৭০ মিটার বা ১৪ হাজার ফুট উঁচুতে। সরকারি পোর্টাল ও ট্রেক অপারেটরদের হিসাবে উচ্চতায় সামান্য পার্থক্য আছে। এই রুটে সরাসরি স্পিতি পৌঁছাবেন না; পাস পার হয়ে নামবেন লাহৌলের দিকে। কাছের রোহতাং পাস দিয়েও কুল্লু–লাহৌলে যাওয়া যায়, তবে হাম্পতা পাসের মূল পথটা পায়ে হাঁটার।
ট্রেক গাইড / এক নজরে
হাম্পতা পাস ট্রেক এক নজরে
হাম্পতা পাস ট্রেক
- বেইসক্যাম্প
- মানালি; শুরু জোবরা
- দূরত্ব
- ২৪–২৬কিমি
- উচ্চতা
- ৪,২৭০মিটার
- ব্যাপ্তিকাল
- ৫–৬দিন
- কাঠিন্য
- মধ্যম (Moderate)
সহজকঠিন
- সেরা সময়
- জুন–সেপ্টেম্বর
- জানু
- ফেব
- মার্চ
- এপ্রি
- মে
- জুন — সেরা সময়
- জুল — সেরা সময়
- আগ — সেরা সময়
- সেপ্টে — সেরা সময়
- অক্টো
- নভে
- ডিসে
- অঞ্চল
- হিমাচল প্রদেশ
- ট্রেকের ধরন
- ক্যাম্পিং
- উপযুক্ত
- ভালো ফিটনেস আছে এমন নতুন ও অভিজ্ঞ ট্রেকার
- অভিজ্ঞতা
- আগের অভিজ্ঞতা কাজে আসে; বিগেনার হলে প্রস্তুতি ও গাইড দরকার
কখন যাবেন
সাধারণত জুন থেকে সেপ্টেম্বর এই ট্রেক করা হয়। তবে শুধু মাস দেখে বুকিং না করে যাওয়ার আগে বরফ, বৃষ্টি আর রাস্তার latest update নিন।
জুন থেকে জুলাইয়ের শুরু: বরফ দেখার সুযোগ
এই সময়ে পাসের কাছে বরফ থাকতে পারে। বরফের পরিমাণ বেশি হলে রুট বা ক্যাম্প বদলাতে হয়। ছবি দেখে সহজ মনে হলেও বরফের ওপর হাঁটতে সঠিক gear আর গাইডের সাহায্য দরকার।
জুলাই–আগস্ট: সবুজ পাহাড় আর বৃষ্টি
পথের সবুজ আর ফুল এই সময়ে খুব সুন্দর লাগে। সঙ্গে বৃষ্টির প্রস্তুতিও রাখতে হবে। ভেজা পথে পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, নদী বা জলধারায় পানিও বেড়ে যেতে পারে।
সেপ্টেম্বর: পরিষ্কার পাহাড় দেখার ভালো সময়
পাহাড়ের পরিষ্কার view চাইলে সেপ্টেম্বর ভালো পছন্দ। তবু আবহাওয়া ভালো থাকবেই—এমন নিশ্চয়তা নেই। নভেম্বরকে এই ট্রেকের নিয়মিত season ধরে প্ল্যান করবেন না।
কিভাবে যাবেন ও ট্রেক রুট
দিল্লি বা চণ্ডীগড় থেকে বাস বা গাড়িতে মানালি পৌঁছাতে পারেন। মানালি থেকে গাড়িতে জোবরা, তারপর হাঁটা শুরু। বাংলাদেশ থেকে গেলে ফ্লাইট, ভিসা আর ভারতে প্রবেশের নিয়ম আগে যাচাই করে নিন। মানালিতে ট্রেক শুরুর অন্তত এক দিন আগে পৌঁছান; ফেরার সময়ও একটি buffer day রাখলে সুবিধা হবে।
রুট: জোবরা → চিকা → বালু কা ঘেরা → হাম্পতা পাস → শিয়া গোরু → ছাত্রু (Chhatru)। ছাত্রু থেকে গাড়িতে মানালি ফেরা হয়।
ক্যাম্পের জায়গা অনুযায়ী মোট হাঁটা প্রায় ২৪–২৬ কিলোমিটার। সাধারণত চার দিন হাঁটা থাকে, আর গাড়ির যাতায়াতসহ পুরো প্ল্যান পাঁচ–ছয় দিনের। পাস পার হওয়ার দিনেই সবচেয়ে বেশি সময় আর শক্তি লাগে।
সম্ভাব্য পাঁচ দিনের ট্যুর প্ল্যান
এটি মানালি থেকে মানালি পাঁচ দিনের একটি স্যাম্পল ট্যুর প্ল্যান। বরফ, বৃষ্টি বা রাস্তার অবস্থার কারণে গাইড ক্যাম্প ও দিনের প্ল্যান বদলাতে পারেন।
- দিন ১: মানালি থেকে জোবরা, তারপর চিকা
মানালি থেকে গাড়িতে জোবরা পৌঁছান। সেখান থেকে চিকা পর্যন্ত অল্প হাঁটা দিয়ে ট্রেক শুরু। প্রথম রাত campsite-এ থাকবেন।
- দিন ২: চিকা থেকে বালু কা ঘেরা
সবুজ মাঠ আর পাহাড়ি জলধারার পাশ দিয়ে বালু কা ঘেরা পৌঁছাবেন। নিজের গতিতে হাঁটুন, তাড়াহুড়ো করে দলের আগে চলে যাবেন না।
- দিন ৩: হাম্পতা পাস পেরিয়ে শিয়া গোরু
এদিন সবচেয়ে বেশি পরিশ্রম হবে। পাস পর্যন্ত চড়াই, তারপর শিয়া গোরুর দিকে খাড়া নামা। পুরোটা মিলিয়ে প্রায় ৯–১০ ঘণ্টা লাগতে পারে। গাইডের নির্দেশ মেনে দলেই থাকুন।
- দিন ৪: শিয়া গোরু থেকে ছাত্রু
হেঁটে ছাত্রু পৌঁছানোর পর ট্রেকের হাঁটার অংশ শেষ। রাস্তা খোলা থাকলে আর আবহাওয়া ভালো থাকলে গাড়িতে চন্দ্রতাল ঘুরে আসতে পারেন।
- দিন ৫: মানালি ফেরা
ছাত্রু থেকে গাড়িতে মানালি ফিরবেন। কিছু টিম চন্দ্রতাল ট্রিপ এই দিন রাখে। ফেরার দিনেই খুব টাইট বাস বা ফ্লাইটের বুকিং না রাখাই ভালো।
চন্দ্রতাল যাওয়ার প্ল্যান থাকলে
চন্দ্রতাল মূল ট্রেকের হাঁটার পথে পড়ে না। ছাত্রু থেকে গাড়িতে আলাদা করে যেতে হয়। রাস্তা খোলা থাকলে আর আবহাওয়া ভালো থাকলে তবেই এই ট্রিপ সম্ভব। তাই শুধু চন্দ্রতালের কথা ভেবে পুরো ট্রেক বুক না করাই ভালো।
হ্রদটি প্রায় ৪,৩০০ মিটার উঁচুতে। স্পিতি ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশনের তথ্য অনুযায়ী সাধারণত জুলাই থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি এখানে গাড়িতে যাওয়ার season থাকে। তবে কোনো নির্দিষ্ট দিনে রাস্তা খোলা আছে কি না আলাদা করে জানতে হবে। সেখানে ATM, মোবাইল নেটওয়ার্ক আর ক্যাম্পে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই—দরকারি প্রস্তুতি আগেই নিন।
পারমিট ও বাজেট
কোন অনুমতি লাগবে
জোবরা যাওয়ার গাড়ির Hamta Pass পারমিট ও congestion charge কে দেখবে, চালক বা trekking team-এর সঙ্গে কথা বলে নিন। এই গাড়ির পারমিটই পুরো ট্রেকের সব অনুমতি নয়। ট্রেক ও ক্যাম্পিংয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র টিম করবে কি না বুকিংয়ের আগে লিখিতভাবে জেনে রাখুন।
প্যাকেজে কি কি আছে জেনে নিন
সব টিমের দাম এক নয়। গাড়ি, খাবার, তাঁবু, গাইড, tax, insurance, gear rent আর ব্যাগ বহনের খরচ প্যাকেজে আছে কি না মিলিয়ে দেখুন। চন্দ্রতালের গাড়ি ও entry fee আলাদা হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে যাতায়াত এবং মানালিতে বাড়তি থাকার বাজেটও রাখুন।
যাওয়ার আগে প্রস্তুতি
হাঁটার অভ্যাস ও দরকারি জিনিস
হাম্পতা পাসকে moderate ট্রেক বলা হয়। তার মানে প্রস্তুতি ছাড়াই চলে যাওয়া যাবে, এমন নয়। আগে থেকে নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ওঠা আর পায়ের strength বাড়ানোর অভ্যাস করুন। ভালো grip-এর ট্রেকিং জুতা, গরম পোশাক, raincoat, headlamp আর পানির বোতল রাখুন। বাকি gear list টিমের কাছ থেকে নিয়ে মিলিয়ে নিন।
পথে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
উচ্চতায় শরীর খারাপ লাগলে গাইডকে সঙ্গে সঙ্গে বলুন। বরফ বা নদী পার হওয়ার সময় দল থেকে আলাদা হবেন না। জরুরি অবস্থায় সাহায্য ও উদ্ধার কীভাবে হবে, আর insurance এই উচ্চতার ট্রেক cover করে কি না আগে জানুন। ক্যাম্পে আবর্জনা ফেলে আসবেন না; যা নিয়ে যাবেন, সঙ্গে ফিরিয়ে আনুন।
হাম্পতা পাস নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
ভালো ফিটনেস থাকলে আর অভিজ্ঞ গাইডের সঙ্গে গেলে প্রথম হিমালয় ট্রেক হিসেবেও করা যায়। তবে পাস পার হওয়ার দিনের লম্বা হাঁটা আর খাড়া ওঠা–নামার জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি দরকার।
মানালি থেকে মানালি সাধারণত পাঁচ–ছয় দিন লাগে। এর মধ্যে প্রায় চার দিন হাঁটা থাকে। যাতায়াতের সময় আলাদা রাখুন, সঙ্গে অন্তত একটি বাফার ডে।
সাধারণ রুটে মোট প্রায় ২৪–২৬ কিলোমিটার। ক্যাম্প কোথায় হচ্ছে আর কোন পথ নেওয়া হচ্ছে, তার ওপর দূরত্ব কিছুটা বদলাতে পারে।
জুন থেকে জুলাইয়ের শুরুর দিকে পাসের কাছে বরফ থাকার সম্ভাবনা বেশি। প্রতি বছর বরফের পরিমাণ এক থাকে না, তাই যাওয়ার আগে গাইডের কাছ থেকে ট্রেইলের আপডেট জেনে নিন।
সব প্যাকেজে থাকে না। এটি আলাদা গাড়ির ট্রিপ, আর রাস্তা ও আবহাওয়া ভালো থাকলেই যাওয়া যায়। গাড়ি ও এন্ট্রি ফি প্যাকেজে আছে কি না আগে জেনে নিন।
ট্রেকের পথে নির্ধারিত ক্যাম্পসাইটে তাঁবুতে থাকতে হয়। তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ, খাবার আর টয়লেটের ব্যবস্থা কী থাকবে, বুকিংয়ের সময় জেনে নিন।
পুরো রুটে নেটওয়ার্ক থাকবে ধরে প্ল্যান করবেন না। চন্দ্রতাল এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই। বাড়িতে আগে জানিয়ে যান এবং দরকারি তথ্য অফলাইনে রেডি রাখুন।
এই রুটে অভিজ্ঞ স্থানীয় গাইড বা ভালো ট্রেকিং টীমের সঙ্গে যাওয়াই ভালো। বরফ, নদী পার হওয়া, পথ চেনা আর জরুরি সাহায্যের বিষয়গুলো আগে নিশ্চিত করুন।
আমাদের সবার ভ্রমণ নিরাপদ হোক, এটাই হোক আমাদের সকলের চাওয়া।