মাওলিননং

ভালো লেগেছে
4
ট্রিপ
৫ দিন
খরচ
১৩০০০ টাকা

ভারতের মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার মাওলিননং (Mawlynnong) গ্রামটি এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন গ্রামের স্বীকৃতি পেয়েছে পরপর দুবার আন্তজার্তিক ট্রাভেল ম্যাগাজিনের থেকে। এর আগে ২০১৩ সালেও এ গ্রামটি এশিয়ার পরিচ্ছন্ন গ্রামের স্বীকৃতি পায়। ওয়ার্ল্ড ক্লিনেস্ট ভিলেজ (World Cleanest Village) বলা হয় গ্রামটাকে! এ গ্রামটিতে স্বাক্ষরতার হার ১০০ শতাংশ। মাতৃতান্ত্রিক এই গ্রামে নিয়ম অনুযায়ী পারিবারিক সম্পত্তি মায়ের থেকে পরিবারের সবথেকে ছোট মেয়ের হাতে যায়। এই গ্রামের যাবতীয় বর্জ্য বাঁশ দিয়ে তৈরি ছোট ছোট ডাস্টবিনের মধ্যে সংগ্রহ করা হয়। তারপরে সেই বর্জ্য থেকেই সার তৈরি করা হয়।

ঘন নীল আকাশ, সবুজে ভরা গাছগাছালি, রকমারি ফুলবাহারি, কত প্রজাপতির ওড়াউড়ি। সুন্দর করে বাড়িগুলো সাজানো। এ গ্রামের সবাই শিক্ষিত। সুন্দর রুচির ছাপ সর্বত্র। ডাস্টবিনগুলোও সুন্দর, অদ্ভুত। না শুধু গ্রামকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রেখেই যে পৃথিবীর সেরা গ্রাম, তা নয়। গ্রামের মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ, বাড়িঘর, সব কিছু একদম ঝকঝকে, তকতকে। এখানে কেউ যত্রতত্র কিছু ফেলতে পারে না, মদ খাওয়ার অনুমতি নেই বাইরে। কারোর সঙ্গে বিরূপ ব্যবহার করা যায় না, ফুল তোলা বা গাছের পাতা ছেড়াও নিষেধ। রয়েছে আরও নিয়মবিধি।

গ্রামের কোনও বাসিন্দাই যত্রতত্র আবর্জনা ফেলেন না বরং এখন তারা প্লাস্টিকের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার ওপরে জোর দিয়েছেন। গ্রামের জঙ্গল এবং সবুজায়ন রক্ষা করতে মাওলিননংয়ের (অনেকে লিখে মাউলিননং) বাসিন্দারা নিয়মিত গাছ লাগান।

শিলং থেকে মাওলিননংয়ের দূরত্ব মাত্র ৯০ কিলোমিটার। ভারত এবং বাংলাদেশের সীমান্তে পাহাড়, জঙ্গল, ঝর্নায় ঘেরা এই গ্রামটি মেঘালয়ের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে উঠে এসেছে। গ্রামের পাহাড়ি একটি ঝর্নার উপরে গাছে শিকড়ের তৈরি সাঁকোও (Living root Bridge) পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণের স্থান।

কিভাবে যাবেন

বাংলাদেশ থেকে যেতে হলে তামাবিল-ডাউকি পোর্টের ভিসা নিতে হবে। ডাউকি থেকে ট্যাক্সি যোগে মাওলিননং যাওয়া যায়। অথবা আপনার প্ল্যানে যদি শিলং ট্যুর থেকে থাকে তাহলে শিলং থেকে ট্যাক্সিযোগে এই গ্রামে এসে ঘুরে যেতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন

থাকার জন্যে আপনাকে শিলং এ হোটেলের ব্যবস্থা করতে হবে। দিনে যেয়ে দিনে ফেরা যায় বলে সাধারনত পর্যটকরা শিলং এই থাকার ব্যবস্থা করে থাকে।

মাওলিননং এ থাকার জন্যে বেশ কিছু হোমস্টে এর ব্যবস্থা আছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো – Ila Jong (09615043027), Ha La Rympei (+91 9615823660), আরেকটি হলো ভিলেজ গেস্ট হাউজ। যোগাযোগ যার সাথে করতে হবে তার নাম ক্যারল (Carol) 09436104844.খরচ পরবে দিনপ্রতি ১৭০০-১৮০০ রুপী।

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

  1. Good

  2. তেমন কিছু নেই, অল্প কয়েকটা ঘর নিয়ে ছোট্ট একটা গ্রাম, কিছু সুন্দর অর্কিড আছে। ব্যক্তিগত ভাবে আমার মন ছুঁতে পারে নি।

  3. গ্রামের প্রতিটি রাস্তাই পাকা। বাড়িগুলো সব বাঁশ আর কাঠ দিয়ে তৈরি, আহামরি যে সুন্দর তা কিন্তু নয়। তবু পরিচ্ছন্নতার জন্য মনে হল এখানে একরাত কাটাতে পারলে ভালো হতো। বাড়িগুলোর সামনে পিছনে শুধুই ফুলগাছ।

  4. এত সুন্দর ছবির মতো গ্রাম এবং এখানকার সহজ সরল জীবনযাপন দেখে ভেবেছিলাম হয়তো এখানকার মানুষজন বেশ অতিথি বৎসল হবেন।কিন্তু আমার home stay এবং তার আশপাশের লোকজনের ব্যবহার কিছুটা হতাশ করল। এক তো ভাষা এখানকার একটা বিরাট সমস্যা। তার ওপর কোনো সাহায্য র জন্য home stay লোকদের কাছে কিছু বললেই অদ্ভুতভাবে তাদের বিরক্তির যেন শেষ নেই। কোনোরকমে আমায় ঘরটা গছিয়ে দিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ। এমনকি খাবার তাও আমাকে নিজে বাইরে গিয়ে জোগাড় করতে হলো। আমি খরচ কমাবার জন্য public বা shared transport করে শিলং আস্তে চেয়েছিলাম কিন্তু তারা আমাকে বোঝালো যে আমাকে পুরো গাড়ি ভাড়া করতে হবে এছাড়া কোনো উপায় নেই। ভাড়াও চাইলো অনেক বেশি কিন্তু পরদিন ভোরবেলা বেরোতেই দেখি এদের কথা আসলে মিথ্যে। দিব্যি share sumo ছাড়ছে শিলংয়ের। চেপে বসলাম কিন্তু স্থানীয় মানুষজন বোধহয় আমায় ঠিক পছন্দ করছিলো না। এমন ভাবে তাকাচ্ছিল যেন আমি বিদেশি। আবার স্থানীয় লোকেদের যে ভাড়া ২৫০ টাকা দিতে হয় আমায় দিতে হলো ৬০০ টাকা। অনেক রাজ্যেই shared বা public transport এ ঘুরেছি কোথাও এমন অভিজ্ঞতা হয়নি। যেভাবে বাণিজ্যিক মানসিকতা মাওলিনোঙ কে গ্রাস করছে,আর অন্য ভাষা ভাসির মানুষদের প্রতি যে অন্তর্নিহিত বিমাতৃসুলভ আচরণ এরা মনে পুষে রাখছে তাতে করে ভয় হয় এখানকার এই সৌন্দর্যটাই না শেষ হয়ে যায়।

  5. গ্রামটা ভালোকরে ঘুরে দেখলাম, গ্রামটি এতো সুন্দর ভাবে সাজানো যে প্রত্যেকটি স্থান আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে লাগলো। গাছ ভর্তি ফুল ও ফলের সমাবেশ যেনো প্রকৃতিকে এক অপূর্ব শোভায় শোভিত করছে, ফুলের আকর্ষণে বিভিন্ন রঙের পাখিরা যেনো সেখানে ভিড় জমিয়েছে, সত্যি মনটা ভালো হয়ে গেলো গ্রামটির অতুলনীয় সৌন্দর্য দেখে।

  6. গ্রামটা ভালো করে ঘুরে দেখেছিলাম, গ্রামটি এতো সুন্দর ভাবে সাজানো যে প্রত্যেকটি স্থান আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে লাগলো। গাছ ভর্তি ফুল ও ফলের সমাবেশ যেনো প্রকৃতিকে এক অপূর্ব শোভায় শোভিত করছে, ফুলের আকর্ষণে বিভিন্ন রঙের পাখিরা যেনো সেখানে ভিড় জমিয়েছে, সত্যি মনটা ভরে গেলো গ্রামটির অতুলনীয় সৌন্দর্য দেখে।

  7. গ্রামটির প্রবেশপথে নানা রঙের পাহাড়ি অর্কিড আর বুনো গাছপালায় সাজানো স্বাগত একটুকরো লম্বা মতো বাগান আর ওয়েলকাম সাইনবোর্ড। তার সামনে শান বাঁধানো অনেকখানি প্রশস্ত জায়গা গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য। সবকিছু তকতকে পরিষ্কার।