বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের গহীনে লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের সবচেয়ে দুর্গম ও সবচেয়ে কম দেখা ঝর্ণাগুচ্ছ। তৈন খাল (টোয়াইন খাল) ধরে ভেতরে ঢুকলে একের পর এক উন্মোচিত হয় থানকোয়াইন, ক্রেতাং ১-২-৩, পালংখিয়াং, লাদমেরাগ আর জামরুম ১-৫ — চার দিনে আটটিরও বেশি জলপ্রপাত।
এই ট্রেইলে কোনো হোটেল নেই, রেস্টুরেন্ট নেই, মোবাইল নেটওয়ার্ক নেই, বিদ্যুৎ নেই। আছে শুধু ম্রো ও ত্রিপুরা আদিবাসীদের মাচাং ঘর, জুমের চালের ভাত আর পাহাড়ের নিস্তব্ধতা। এটি অ্যাডভেঞ্চার ট্রেইল — ছুটি কাটানোর রিসোর্ট নয়।
| ঝর্ণা | বৈশিষ্ট্য | অবস্থান |
|---|---|---|
| থানকোয়াইন | ট্রেইলের প্রথম বড় আকর্ষণ, প্রশস্ত ধারা | দৌছড়ি বাজার থেকে ২–২.৫ ঘণ্টা |
| ক্রেতাং ১, ২, ৩ | তিন স্তরে বিভক্ত বুনো ঝর্ণা, ট্রেইলের সবচেয়ে গহীন অংশ | রেম্বক পাড়া থেকে ১–২ ঘণ্টা |
| পালংখিয়াং | পাহাড়ের গভীরে স্বচ্ছ পানির প্রাকৃতিক পুল — গোসলের জন্য সেরা | হাজিরাম/রেম্বক পাড়ার ট্রেইল |
| লাদমেরাগ | বিশাল পাথুরে দেয়াল বেয়ে নামা প্রায় ২৮০ ফুট উঁচু ধারা | পালংখিয়াং থেকে ~১ কিমি |
| জামরুম ১–৫ | একটি নয়, ধারাবাহিক পাঁচটি ক্যাসকেড | লাদমেরাগ থেকে ~১.৫ কিমি |
| সময় | ঝর্ণার রূপ | ট্রেকিং | রায় |
|---|---|---|---|
| সেপ্টেম্বর – অক্টোবর | পূর্ণ যৌবন | কঠিন, পিচ্ছিল | ছবি ও রূপের জন্য সেরা |
| নভেম্বর – ডিসেম্বর | মধ্যম, শান্ত নীল | সহজ ও নিরাপদ | সোলো ও প্রথমবারের জন্য সেরা |
| জানুয়ারি – ফেব্রুয়ারি | কমে আসে | সহজ, তবে হাঁটা বেশি | ঠিক আছে |
| মার্চ – এপ্রিল | প্রায় শূন্য | — | যাবেন না |
| মে – আগস্ট | তীব্র | অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ | নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বেশি |
সার্কিটের জন্য আদর্শ সময়: অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি — ঝর্ণায় ভালো পানি থাকে, ট্রেইল শুকিয়ে আসে, জোঁক কমে যায়, আর প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও কম।
| পরিবহন | কাউন্টার | ছাড়ার সময় | ভাড়া (নন-এসি) |
|---|---|---|---|
| শ্যামলী এনআর ট্রাভেলস | আরামবাগ / সায়েদাবাদ / কলাবাগান | রাত ১০:০০–১১:৩০ | ১,০৫০–১,২০০ টাকা |
| হানিফ এন্টারপ্রাইজ | ফকিরাপুল / গাবতলী / পান্থপথ | রাত ৯:৩০–১১:০০ | ১,০৫০–১,২০০ টাকা |
দূরত্ব প্রায় ৩৯৩ কিমি, সময় ৯–১০ ঘণ্টা। সকাল ৭:০০–৮:০০টায় আলীকদম পৌঁছাবেন। টিকিট Shohoz/BDTickets বা কাউন্টারে ফোন করে আগেই নিশ্চিত করুন।
কক্সবাজারগামী যেকোনো বাসে (হানিফ, শ্যামলী, সেন্টমার্টিন, ইউনিক) চকরিয়া নামুন → বাস/জিপ/চান্দের গাড়িতে আলীকদম (১.৫–২ ঘণ্টা, ১০০–১৫০ টাকা)। সরাসরি বাসের টিকিট না পেলে এটিই ভরসা।
ঢাকা
↓ রাতের বাস, ৯–১০ ঘণ্টা
আলীকদম পানবাজার ← [সেনা ক্যাম্প + থানা: অনুমতি] [বাজার-সদাই]
↓ অটো/টমটম, ২০–৩০ টাকা
আমতলী ঘাট
↓ ইঞ্জিন নৌকা, তৈন খাল, ২–২.৫ ঘণ্টা
দৌছড়ি বাজার ← [দৌছড়ি আর্মি ক্যাম্প: দ্বিতীয় রিপোর্টিং] [ট্রেকিং শুরু]
↓ ঝিরিপথ, ২–২.৫ ঘণ্টা
থানকোয়াইন ঝর্ণা
↓
হাজিরাম পাড়া — বেজক্যাম্প
├─→ ঝিরি ধরে উপরে: পালংখিয়াং → লাদমেরাগ → জামরুম ১–৫
└─→ ৩–৪ ঘণ্টা: রেম্বক পাড়া → ১–২ ঘণ্টা: ক্রেতাং ১, ২, ৩
হাজিরাম পাড়া ও রেম্বক পাড়া দুটোই বেজক্যাম্প হিসেবে ব্যবহার হয়। ঝর্ণা দেখার সিকোয়েন্স গাইড ঠিক করবেন — পানির উচ্চতা, ঝিরির অবস্থা ও পাড়ায় জায়গা আছে কি না তার ওপর ভিত্তি করে। নিচের প্ল্যানটি একটি প্রোপজড প্ল্যান, তবে গাইডের পরামর্শে দিন ২ ও ৩ অদলবদল হতে পারে।
| সময় | কাজ |
|---|---|
| ২০:০০ | ব্যাগ চূড়ান্ত চেক — NID ফটোকপি, ফার্স্ট এইড, পাওয়ার ব্যাংক, ড্রাই ব্যাগ |
| ২২:০০ | কাউন্টারে পৌঁছে আলীকদমের বাসে ওঠা |
রুট: আলীকদম → আমতলী ঘাট → দৌছড়ি বাজার → থানকোয়াইন → হাজিরাম পাড়া হাঁটা: ২.৫–৩ ঘণ্টা | রাত: হাজিরাম পাড়া
| সময় | কাজ |
|---|---|
| ০৭:০০ | আলীকদম পৌঁছানো, পানবাজারে ভারী নাস্তা |
| ০৮:০০ | গাইডের সাথে সাক্ষাৎ। আলীকদম সেনা ক্যাম্প ও থানায় NID জমা দিয়ে অনুমতি |
| ০৮:৪৫ | পানবাজারে ৪ দিনের বাজার — চাল, ডাল, তেল, লবণ, মসলা, আলু-পেঁয়াজ, ডিম, দেশি মুরগি, শুকনো খাবার |
| ০৯:৩০ | অটো/টমটমে আমতলী ঘাট |
| ১০:০০ | ইঞ্জিন নৌকায় তৈন খাল ধরে যাত্রা — মাতামুহুরীর শাখা, গিরিখাতের অসাধারণ দৃশ্য |
| ১২:৩০ | দৌছড়ি বাজার। আর্মি ক্যাম্পে দ্বিতীয় ধাপের রিপোর্টিং। হালকা দুপুরের খাবার |
| ১৩:৩০ | ঝিরিপথ ধরে ট্রেকিং শুরু |
| ১৫:০০ | থানকোয়াইন ঝর্ণা — প্রথম ঝর্ণা, গোসল ও ছবি |
| ১৬:৩০ | হাজিরাম পাড়া পৌঁছানো, মাচাং ঘরে ব্যাগ রাখা |
| সন্ধ্যা | গাইডের সাথে দিন ২ ও ৩-এর ক্রম চূড়ান্ত করা (আবহাওয়া ও পানির অবস্থা দেখে) |
| রাত | জুমের চালের ভাত, দেশি মুরগি ও পাহাড়ি সবজি। তাড়াতাড়ি ঘুম |
রুট: হাজিরাম পাড়া → পালংখিয়াং → লাদমেরাগ → জামরুম ১–৫ → রেম্বক পাড়া হাঁটা: ৭–৯ ঘণ্টা (সার্কিটের সবচেয়ে কঠিন দিন) | রাত: রেম্বক পাড়া
| সময় | কাজ |
|---|---|
| ০৫:৩০ | ঘুম থেকে ওঠা — আজ দিন লম্বা, আলো নষ্ট করা যাবে না |
| ০৬:৩০ | নাস্তা (নুডলস/খিচুড়ি + ডিম)। দুপুরের জন্য শুকনো খাবার ও গ্লুকোজ প্যাক |
| ০৭:০০ | ঝিরি ধরে উপরের দিকে ট্রেকিং শুরু |
| ০৯:৩০ | পালংখিয়াং ঝর্ণা — স্বচ্ছ পানির প্রাকৃতিক পুলে সাঁতার ও বিশ্রাম (৪৫ মিনিট) |
| ১১:০০ | ~১ কিমি এগিয়ে লাদমেরাগ ঝর্ণা — প্রায় ২৮০ ফুট উঁচু পাথুরে দেয়াল। ওয়াইড শটের জন্য পিছিয়ে গিয়ে ছবি তুলুন |
| ১২:৩০ | ঝর্ণার পাশে বসে শুকনো দুপুরের খাবার |
| ১৩:৩০ | ~১.৫ কিমি এগিয়ে জামরুম ঝর্ণা (১–৫) — একের পর এক পাঁচটি ক্যাসকেড। গাইডের সাথে ঠিক করুন কতটা উপরে উঠবেন |
| ১৫:৩০ | রেম্বক পাড়ার দিকে রওনা |
| ১৭:৩০ | রেম্বক পাড়া পৌঁছানো, ঝিরিতে গোসল |
| রাত | ম্রো/মারমা পরিবারের সাথে ডিনার। কাল ক্রেতাং — গাইডের সাথে সময় ঠিক করা |
সময় কম পড়লে: জামরুম ৩-এর পর উপরে না উঠে ফিরে আসুন। অন্ধকারে ঝিরিপথ চলা এই ট্রেইলে সবচেয়ে বড় বিপদ। সন্ধ্যা ৫টার পর ট্রেকিং = নো।
রুট: রেম্বক পাড়া → ক্রেতাং ১, ২, ৩ → রেম্বক পাড়া → হাজিরাম পাড়া হাঁটা: ৬–৭ ঘণ্টা | রাত: হাজিরাম পাড়া
| সময় | কাজ |
|---|---|
| ০৬:০০ | ঘুম থেকে ওঠা, নাস্তা |
| ০৭:০০ | ব্যাকপ্যাক পাড়ায় রেখে শুধু পানি, ক্যামেরা ও ফার্স্ট এইড নিয়ে বের হওয়া |
| ০৮:৩০ | ক্রেতাং ১ — সার্কিটের মূল লক্ষ্য |
| ০৯:৩০ | ক্রেতাং ২ — গাইডের নির্দেশনা ছাড়া পাথর বেয়ে উঠবেন না |
| ১০:৩০ | ক্রেতাং ৩ — সবচেয়ে গহীন ও বুনো স্তর |
| ১২:০০ | রেম্বক পাড়ায় ফিরে দুপুরের খাবার ও বিশ্রাম |
| ১৪:০০ | ব্যাগ নিয়ে হাজিরাম পাড়ার দিকে নামা (৩–৪ ঘণ্টা) |
| ১৭:৩০ | হাজিরাম পাড়া — শেষ রাত। আদিবাসী জীবনযাত্রা দেখা, গাইড ও কারবারির সাথে গল্প |
শেষ রাতটা হাজিরাম পাড়ায় কাটালে দিন ৪-এর হাঁটা মাত্র ২–২.৫ ঘণ্টায় নেমে আসে — বাস ধরার চাপ থাকে না। রেম্বক পাড়ায় থেকে গেলে দিন ৪ হয়ে যায় ৫–৬ ঘণ্টার দৌড়।
রুট: হাজিরাম পাড়া → দৌছড়ি → আমতলী → আলীকদম → ঢাকা হাঁটা: ২–২.৫ ঘণ্টা | রাত: বাসে
| সময় | কাজ |
|---|---|
| ০৬:৩০ | নাস্তা, পাড়ার সবাইকে বিদায় ও পারিশ্রমিক পরিশোধ |
| ০৭:৩০ | ফিরতি ট্রেকিং শুরু |
| ১০:০০ | দৌছড়ি বাজার — আর্মি ক্যাম্পে ট্রিপ সমাপ্তির রিপোর্ট |
| ১০:৩০ | নৌকায় আমতলী ঘাটের উদ্দেশ্যে (ভাটির টানে কিছুটা দ্রুত) |
| ১২:৩০ | আমতলী ঘাট → অটোতে আলীকদম |
| ১৩:০০ | আলীকদমে ভারী দুপুরের খাবার, গোসল, কাপড় পাল্টানো |
| ১৫:০০ | আলীর গুহা ঘুরে দেখা — টর্চ সাথে নিন |
| ১৮:৩০ | কাউন্টারে ফেরা, রাতের খাবার |
| ২০:০০ | ঢাকার বাসে ওঠা → পরদিন ভোরে ঢাকা |
স্ট্যামিনা ও ছুটি বেশি থাকলে একই পথে ফিরে না এসে সামিট করে অন্য দিক দিয়ে বেরিয়ে আসা যায় — এটি সত্যিকারের সার্কিট, কোনো ব্যাকট্র্যাক নেই।
| দিন | রুট | রাত |
|---|---|---|
| দিন ১ | দৌছড়ি → থানকোয়াইন → হাজিরাম পাড়া | হাজিরাম পাড়া |
| দিন ২ | পালংখিয়াং → লাদমেরাগ → জামরুম ১–৫ | রেম্বক পাড়া |
| দিন ৩ | ক্রেতাং ১, ২, ৩ → শাকলাই পাড়ার দিকে চড়াই | শাকলাই পাড়া |
| দিন ৪ | তংওই পাড়া → কির্সতং পাহাড় সামিট (~২,৯০০+ ফুট) → অবতরণ | খেমচং পাড়া (~২,০০০ ফুট) |
| দিন ৫ | সাইংপ্রা ঝর্ণা ১ ও ২ → ২১ কিলো পয়েন্ট (আলীকদম–থানচি সড়ক) → চান্দের গাড়ি/মোটরসাইকেলে আলীকদম (~৩০০ টাকা/জন) → ঢাকার বাস | বাসে |
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:
পার্বত্য চট্টগ্রামের এই এলাকা নিরাপত্তার দিক থেকে সংবেদনশীল। দুই ধাপে অনুমতি নিতে হয়:
সাথে যা রাখবেন
যা মনে রাখতেই হবে
| খরচের খাত | বিবরণ | টাকা (BDT) |
|---|---|---|
| বাস ভাড়া | ঢাকা–আলীকদম–ঢাকা (আপ-ডাউন) | ২,১০০ – ২,৪০০ |
| স্থানীয় যাতায়াত | আলীকদম ↔ আমতলী ঘাট | ২০০ – ৪০০ |
| নৌকা ভাড়া | আমতলী ↔ দৌছড়ি (রিজার্ভ, আপ-ডাউন) | ১,৫০০ – ২,৫০০ |
| গাইড ফি | ৪ দিন @ ১,০০০–১,৫০০ | ৪,০০০ – ৬,০০০ |
| থাকা | হোমস্টে ৩ রাত @ ১৫০–২০০ | ৪৫০ – ৬০০ |
| খাওয়া | রান্না/মিল @ ১৫০–২০০ প্রতি মিল | ১,৫০০ – ২,২০০ |
| বাজার-সদাই | চাল, ডাল, তেল, মুরগি, সবজি, মসলা | ৭০০ – ১,২০০ |
| অন্যান্য | শুকনো খাবার, ফার্স্ট এইড, আলীর গুহা, বিবিধ | ৬০০ – ১,০০০ |
| সর্বমোট (সোলো) | ১১,০০০ – ১৬,৩০০ |
| দলের আকার | জনপ্রতি আনুমানিক খরচ |
|---|---|
| ২ জন | ৮,৫০০ – ১১,০০০ টাকা |
| ৪–৫ জন | ৭,০০০ – ৯,০০০ টাকা |
| ৮–১০ জন | ৬,০০০ – ৮,০০০ টাকা |
| ১২–১৫ জন | ৫,৫০০ – ৭,৫০০ টাকা |
খরচ কমানোর ৩টি কৌশল
- নৌকা ও গাইড ফি-ই মূল খরচ — এগুলো দলে ভাগ হয়। আলীকদম বাস স্ট্যান্ড বা আমতলী ঘাটে একই রুটের অন্য গ্রুপ পেলে যুক্ত হয়ে যান।
- নিজেরা রান্না করুন — পাড়ায় প্রতি মিল ১৫০–২০০ টাকার বদলে বাজার করে রান্না করলে অর্ধেকে নেমে আসে।
- এক্সটেন্ডেড সার্কিটে নৌকা একমুখী — ৭০০–১,২০০ টাকা সেভ।
এই ট্রেইলে খাবার নিয়ে প্রত্যাশা কম রাখুন। ট্রেইলে ঢোকার পর কোনো দোকান বা রেস্টুরেন্ট নেই — পুরো ৪ দিনের বাজার আলীকদম পানবাজার থেকেই করতে হবে।
পানবাজারে যা কিনবেন – চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, লবণ, হলুদ-মরিচ-ধনে গুঁড়া, পেঁয়াজ-রসুন-আদা, আলু, শুকনো মরিচ, ডিম (২ ডজন), দেশি মুরগি (গাইডের পরামর্শে পাড়াতেও কেনা যায়), চা-পাতা, চিনি।
ট্রেইলে সাথে রাখুন
পাড়ায় খাওয়া : প্রতি মিল ১৫০–২০০ টাকায় স্থানীয়রা রান্না করে দেবেন — তবে সংখ্যা ও দাম গাইডের সাথে দিন ১-এই স্পষ্ট করে নিন। পরে ভুল বোঝাবুঝি হলে গহীন পাহাড়ে বিকল্প নেই।
ব্যাকপ্যাক ৫–৬ কেজির নিচে রাখুন। ৪ দিন ধরে খাড়া চড়াইয়ে প্রতি অতিরিক্ত কেজি দ্বিগুণ কষ্ট দেবে।
এই ট্রেইলের প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু ঝর্ণা নয় — ম্রো, ত্রিপুরা ও মারমা সম্প্রদায়ের সরল জীবনযাত্রা। আপনি তাঁদের বাড়িতে অতিথি।
রূপের জন্য সেপ্টেম্বর–অক্টোবর; নিরাপত্তা ও আরামের জন্য নভেম্বর–ডিসেম্বর
৪ দিন ৩ রাত ট্রেইল + যাওয়া-আসার ২ রাত বাস = ৫ দিন ছুটি ধরুন
সোলো ১১,০০০–১৬,৩০০; ১০ জনের দলে জনপ্রতি ৬,০০০–৮,০০০
হ্যাঁ, বাধ্যতামূলক — গাইড ছাড়া অনুমতিই মিলবে না
টানা ৪ দিন দৈনিক ৬–৯ ঘণ্টা পিচ্ছিল ঝিরি ও চড়াই — প্রথমবারের ট্রেকারদের জন্য কঠিন
আগে ৩ দিনের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ (থানকোয়াইন + ক্রেতাং) করুন, পরে পূর্ণ সার্কিট
ট্রেইল ও রাত্রিযাপনের অনুমতি আগেই যাচাই + NID ফটোকপি
দিন ২-এ চার ঝর্ণা একসাথে ঠেসে দেওয়া এবং সন্ধ্যার পর হাঁটা
বাসের টিকিট কাটার আগেই আলীকদমের স্থানীয় গাইড বা উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে নিশ্চিত করুন — (১) কুরুকপাতা ট্রেইল খোলা আছে কি না, (২) পাড়ায় রাত্রিযাপনের অনুমতি মিলবে কি না। এই দুটির যেকোনো একটি “না” হলে ৪ দিনের সার্কিট সম্ভব নয়।
Leave a Comment