বাংলাদেশের পাহাড়ি ট্রেকিং রুটের মধ্যে ‘থানচি-রুমা সার্কিট’ নিঃসন্দেহে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর, বৈচিত্র্যময় ও চ্যালেঞ্জিং ট্রেইলগুলোর একটি। এই ট্রেইলে যেমন রয়েছে মেঘছোঁয়া পাহাড় চূড়া ও শান্ত পাহাড়ি পাড়া, তেমনই রয়েছে গভীর জঙ্গল ও বুনো সব ঝর্ণা। আমাদের এবারের আর্টিকেলে স্থানগুলোর বিস্তারিত বর্ণনায় না গিয়ে পুরো ট্রেইলটি কীভাবে সম্পন্ন করবেন, তার একটি সুসংগঠিত ও বাস্তবসম্মত রুট প্ল্যান নিচে উপস্থাপন করা হলো:
থানচি-রুমা সার্কিট ট্রেকের মোট খরচ মূলত নির্ভর করে দলের সদস্য সংখ্যা এবং ব্যক্তিগত খরচের অভ্যাসের ওপর। যেহেতু চাঁদের গাড়ি ও গাইডের খরচ নির্দিষ্ট, তাই ৬ থেকে ৮ জনের দল হলে প্রতিজনের খরচ সবচেয়ে সাশ্রয়ী হয়। ঢাকা থেকে গিয়ে পুরো ট্রেক শেষ করে ঢাকা ফেরা পর্যন্ত (৫ রাত / ৬ দিন) সম্ভাব্য খরচের একটি বাস্তবসম্মত হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
৬–৮ জনের দল হলে: আনুমানিক ৳৮,৫০০ – ৳১০,৫০০ (জনপ্রতি)
৩–৪ জনের ছোট দল হলে: আনুমানিক ৳১১,৫০০ – ৳১৪,০০০ (জনপ্রতি)
টিম সাইজ: চাঁদের গাড়িতে সাধারণত ৮–১০ জন আরামসে বসা যায়। তাই ৬–৮ জনের টিম বানালে জিপ ও গাইড খরচ অনেকটাই কমে আসে।
নগদ টাকা (Cash): থানচি বাজারের পর পুরো ট্রেইলে কোনো এটিএম বা অনলাইন পেমেন্ট (বিকাশ/নগদ) নেটওয়ার্ক কাজ করবে না। তাই বান্দরবান সদর বা থানচি থেকেই প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ ক্যাশ টাকা সাথে রাখুন।
শুকনো খাবার: থানচি বা বান্দরবান থেকেই ট্রেইলের শুকনা খাবার ও ওআরএস কিনে নিন; গহীন পাড়াগুলোতে এসবের দাম তুলনামূলক বেশি হতে পারে বা নাও পাওয়া যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ ট্রেইল টিপস
গাইড নির্বাচন: থানচি থেকে এমন গাইড নিতে হবে যিনি রুমা পর্যন্ত পুরো সার্কিট এবং থাইক্ষ্যংয়ের বুনো ট্রেইলগুলোতে (তারতে/তারপি/ফাইপি) সম্পূর্ণ অভিজ্ঞ।
জাতীয় পরিচয়পত্র ও অনুমতি: থানচি ও রুমা দুই উপজেলাতেই নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হয়। তাই প্রত্যেকের NID/পাসপোর্টের কমপক্ষে ৮–১০ কপি ফটোকপি সঙ্গে রাখুন।
শারীরিক প্রস্তুতি: এই সার্কিটে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় চড়াই ও পিচ্ছিল ঝিরিপথে হাঁটতে হয়। ভালো গ্রিপযুক্ত ট্রেকিং জুতো, ট্র্যাকিং পোল, ওয়াটারপ্রুফ ব্যাকপ্যাক ও ওআরএস সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।
Leave a Comment