বাংলাদেশের রাঙ্গামাটির কাপ্তাইতে গড়ে ওঠা প্রথম হোমস্টে  গরবা গুদি হোমস্টে

গরবা গুদি হোমস্টে

০
জন
ধরন হোটেল
অবস্থান রাঙ্গামাটি
পড়ার সময় ৫ মিনিটস

রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকের নীল জল আর সবুজ পাহাড়ের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এক অনন্য প্রাকৃতিক নীড় হলো ‘গরবা গুদি’ হোমস্টে (Gorba Gudi HomeStay) যা রাঙ্গামাটিতে গড়ে ওঠা প্রথম হোম স্টে। ইট-পাথরের যান্ত্রিক জীবন থেকে দূরে, সম্পূর্ণ গ্রামীণ ও পাহাড়ি আমেজে অবকাশ যাপনের জন্য রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে এটি একটি চমৎকার পর্যটন স্পট ও আবাসন।

সাবেক সাংবাদিক এবং আদিবাসী নারী উদ্যোক্তা নিলীমা চাকমা (নিলা চাকমা দিদি) এর হাত ধরে কাপ্তাই হ্রদের একটি নির্জন দ্বীপে এই ব্যতিক্রমী হোমস্টেটি গড়ে উঠেছে।

প্রকৃতির শান্ত নীড় ও পরিবেশ

কাপ্তাই হ্রদের চারপাশের টলমলে পানি আর মাঝে ছোট এক দ্বীপে শান্ত শান্ত পরিবেশে অবস্থিত এই হোমস্টে। সকালে এক কাপ চা হাতে নিয়ে জানালা দিয়ে হ্রদ আর পাহাড়ের মিতালি দেখার জন্য এই জায়গা অতুলনীয়। এখানে রয়েছে পাখির ডাক, বুকভরা নির্মল বাতাস আর হ্রদের পানির ছলছল শব্দ। শহরের কোলাহল ভুলে প্রকৃতির স্পন্দনে নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার এক নিখাদ সুযোগ মেলে এখানে।

থাকার ব্যবস্থা

কৃত্রিম আধুনিক রিসোর্টের চাকচিক্য এড়িয়ে এখানে থাকার জন্য রয়েছে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী কিছু ব্যবস্থা:

  1. মাটির ঘর: মাটির তৈরি সুশীতল কামরা, যা গরমেও বেশ প্রশান্তি দেয়। ভেতরে খুব সাধারণ আসবাব—একটি খাট, টেবিল ও সেলফ রয়েছে। ঘরের কাঠের জানালায় রয়েছে রঙের আল্পনা, যা দিয়ে বাইরের পাহাড়-হ্রদের রূপ দেখা যায়।
  2. বাঁশের তৈরি মাচাং ঘর: ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি ধাঁচে তৈরি বাঁশের মাচাংয়ে থাকার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতাও নেওয়া যায় এখানে।
  3. তাঁবু: যারা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য ক্যাম্পিং বা তাঁবুর চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে।
  4. আধুনিকায়ন ও নতুন কটেজ: পর্যটকদের সুবিধার্থে হোমস্টেটিতে বর্তমানে এটাচড ওয়াশরুমসহ উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা (হাই ও লো কমোড এবং টাইলস ফিনিশিং) এবং নতুন কটেজ যুক্ত করে সেবা আরও স্মুথ করা হয়েছে।

পাহাড়ি খাবারের স্বাদ ও আতিথেয়তা

গরবা গুদি হোম স্টের অন্যতম বড় আকর্ষণ হলো এখানকার ঘরোয়া পাহাড়ি খাবার। খাবার পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী মাচাং ঘরে, যেখানে বাঁশ দিয়ে তৈরি ‘মেজাং’ (খাবার রাখার বিশেষ মোড়া)-এর ওপর খাবার রেখে হাঁটু মুড়িয়ে পাটিতে বসে খেতে হয়।

  1. মেন্যু: কাপ্তাই হ্রদের তাজা সুস্বাদু মাছ, পাহাড়ি মুরগি, হরেক রকমের পাহাড়ি ভর্তা ও স্থানীয় তাজা সবজি।
  2. বিশেষ আকর্ষণ: হোমস্টের দ্বীপে থাকা বিভিন্ন ফলের গাছ থেকে সরাসরি ফল পেড়ে খাওয়ার সুযোগও রয়েছে পর্যটকদের জন্য।

খরচ ও প্যাকেজ

গরবা গুদিতে থাকা-খাওয়ার খরচ বেশ সাশ্রয়ী ও বাজেট-বান্ধব।

  1. থাকার খরচ (সাধারণ রেট): মাটির ঘর বা মাচাংয়ে থাকার জন্য প্রতি রাতের খরচ প্রায় ৩০০ টাকা এবং তাঁবুতে থাকার জন্য প্রতি রাত প্রায় ৩৫০ টাকা। (রুমের ধরন ও সুবিধাভেদে খরচ কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে)।
  2. খাবার খরচ: মাত্র ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পেটপুরে তিনবেলা ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নেওয়া যায়।
  3. গ্রুপ প্যাকেজ: সাধারণত ৫ বা ততোধিক জনের গ্রুপের জন্য খাওয়া-দাওয়াসহ পার পারসন বা জনপ্রতি আনুমানিক ১৫০০ টাকার প্যাকেজও অফার করা হয়ে থাকে।

আশেপাশের আকর্ষণ

গরবা গুদি হোমস্টে থেকে মাত্র ৪-৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে স্থানীয় আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ‘চাকমা বাজার’ (যা স্থানীয়ভাবে ধানপাতা বাজার নামে পরিচিত)। হোমস্টে থেকে নৌকা ভাড়া করে সহজেই এই বাজারে যাওয়া যায়, যেখানে পাহাড়িদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া যায়।

যাওয়ার উপায়

দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আপনাকে প্রথমে চট্টগ্রাম অথবা সরাসরি রাঙামাটি/কাপ্তাই আসতে হবে। এরপর নৌকায় করে মূল দ্বীপে পৌঁছাতে হবে। নিচে সহজ দুটি রুট দেওয়া হলো:

রুট ১: ঢাকা/চট্টগ্রাম হয়ে কাপ্তাই নেভী ক্যাম্প রুট (সবচেয়ে সহজ)
  1. ঢাকা থেকে কাপ্তাই: ঢাকার সায়দাবাদ বা ফকিরাপুল থেকে সরাসরি কাপ্তাইগামী দূরপাল্লার বাস (যেমন: শ্যামলী, সৌদিয়া বা ডলফিন) পাওয়া যায়।
  2. নেভী ক্যাম্প ঘাট: বাসে করে সরাসরি কাপ্তাই নেভী ক্যাম্প ঘাটে নামবেন। (যদি চট্টগ্রাম থেকে আসেন, তবে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে কাপ্তাইগামী বাসে উঠে নেভী ক্যাম্পে নামতে পারবেন)।
  3. বোটের মাধ্যমে হোমস্টে: কাপ্তাই নেভী ক্যাম্প ঘাট থেকে গরবা গুদি হোমস্টেতে যাওয়ার জন্য বোট (ইঞ্জিন চালিত নৌকা) পাওয়া যায়। ঘাট থেকে নৌকায় চড়ে হ্রদ পার হয়ে সরাসরি দোখাইয়া পাড়া বা হোমস্টের ঘাটে নেমে যেতে পারবেন।
রুট ২: রাঙামাটি শহর হয়ে জীবতলী রুট
  1. ঢাকা থেকে রাঙামাটি: ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে করে রাঙামাটি শহরে পৌঁছান।
  2. জীবতলী ঘাট: রাঙামাটি শহর থেকে সিএনজি বা লোকাল ট্রান্সপোর্টে চলে আসুন জীবতলী (Jibtali) নামক এলাকায়। এটি মূলত জীবতলী আর্মি ও নেভী ক্যাম্পের বিপরীত পাশে অবস্থিত।
  3. বোটের মাধ্যমে হোমস্টে: জীবতলী ঘাট থেকে স্থানীয় নৌকা বা বোট রিজার্ভ করে সহজেই হ্রদের মাঝখানের এই দ্বীপে (গরবা গুদি হোমস্টে) পৌঁছাতে পারবেন।

বিশেষ পরামর্শ: কাপ্তাই নেভী ক্যাম্প বা জীবতলী ঘাটে পৌঁছানোর পর কোনো সমস্যা হলে সরাসরি তাদের দেওয়া অফিশিয়াল নম্বরে কল করলে হোমস্টের প্রতিনিধিরাই আপনাকে বোট বা যাতায়াতের সঠিক গাইডলাইন দিয়ে সাহায্য করবেন।

যাঁরা খুব কম খরচে যান্ত্রিকতা থেকে দূরে গিয়ে খাঁটি পাহাড়ি জীবনযাত্রা ও প্রকৃতির স্বাদ পেতে চান, তাঁদের জন্য রাঙামাটির Gorba Gudi HomeStay একটি আদর্শ গন্তব্য।

হোটেলের সুবিধাসমূহ

থাকার সময় যা যা পাবেন, একনজরে।

  • সকালের নাস্তা আছে
  • নিজস্ব রেস্টুরেন্ট আছে
  • ওয়াইফাই নেই
  • গাড়ি পার্কিং নেই
  • পিক এন্ড ড্রপ নেই
  • সার্বক্ষনিক বিদ্যুৎ সার্বক্ষনিক

অন্যন্য সুবিধাসমূহ

রিসোর্টটিতে রুমের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় এবং খাবার আগে থেকে তৈরি করার প্রয়োজনে যাওয়ার অন্তত ২-৩ দিন আগে বুকিং নিশ্চিত করা আবশ্যক।

যোগাযোগ এর ঠিকানা

বুকিং বা জিজ্ঞাসার জন্য সরাসরি যোগাযোগ করুন।

দোখাইয়া পাড়া, মগবান ইউনিয়ন, জীবতলী আর্মি ও নেভী ক্যাম্পের বিপরীতে, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটি

ইমেইল

ADAR BEPARI / TRAVEL WEAR

ভ্রমণের গল্প থাকুক পোশাকেও।

সব টি-শার্ট দেখুন