ফাইপি ঝর্ণা (Faipi Waterfall) বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার থাইকং পাড়ায় অবস্থিত একটি অনিন্দ্য সুন্দর বুনো ঝর্ণা। ব্যোম ভাষায় ফাইপি শব্দের অর্থ হাতির বাঁধা। এর মানে হলো যে রাস্তায় হাতি চলতে পারে না সেই রাস্তায় অবস্থিত ঝর্ণা। থাইকং পাড়ার উত্তরের দিকে রয়েছে কেওক্রাডাং, পূর্বে মদক রেঞ্জ, পশ্চিমে আছে কপিতাল আর দক্ষিণে তাজিংডং পাহাড়। ঝুম বর্ষায় ফাইপি ঝর্ণার পানি খানিকটা ঘোলা হলেও বর্ষার পরে স্বচ্ছ সাদা জলের দেখা মিলবে। অফট্রেইলের এই ঝর্ণার রূপ, মাধুর্য এবং দুর্গমতা এটিকে অন্যসব ঝর্ণার থেকে করেছে আকর্ষণীয়। ঝর্ণার পথের দুর্গমতার কারনে এই ঝর্নার খুম কম সংখ্যক পর্যটকদেরই পা পড়েছে। ফাইপি এমন একটি ঝর্ণা যেখানে পৌঁছানোর গল্পটাই আসল পুরস্কার।
এই রুটে দৈনিক ৬–৮ ঘণ্টা হাঁটতে হবে। শারীরিক প্রস্তুতি ছাড়া নামবেন না।
প্রো টিপ: সময় থাকলে থানচি দিয়ে ঢুকে রুমা দিয়ে বের হন (বা উল্টো) — একই পথে দুবার হাঁটার একঘেয়েমি এড়াবেন, আর বাকলাই + কেওক্রাডং + ফাইপি একসাথে কভার হবে।
কোথায় থাকবেন ও খাবেন
বিলাসবহুল কিছু আশা করবেন না — এখানে থাকার একমাত্র উপায় আদিবাসী পাড়ার জুম ঘর বা বাঁশ-কাঠের কটেজ।
পাড়ার কারবারির সঙ্গে কথা বলে থাকার ব্যবস্থা হবে — গাইডই সেটি করে দেবে।
খরচ: জনপ্রতি রাত ১০০–১৫০ টাকা
খাবার: আগে থেকে বললে জুমের চাল, দেশি মুরগি, ডিম, পাহাড়ি সবজি রান্না করে দেয় — প্রতিবেলা ১৫০–২০০ টাকা
সবচেয়ে ভালো উপায়: রুমা/থানচি বাজার থেকে চাল, ডাল, আলু, তেল, মসলা, ডিম, শুকনো মাছ কিনে নিয়ে যান। গাইড ও স্থানীয়রা রান্না করে দেবে — খরচ কমবে, খাবারও নিশ্চিত হবে।
বিদ্যুৎ নেই বা খুব সীমিত (সোলার), মোবাইল নেটওয়ার্কও নেই ধরে নিন।
পোশাক ও জুতা: ভালো গ্রিপযুক্ত ট্রেকিং জুতা বা স্থানীয় প্লাস্টিক স্যান্ডেল (বাজারে পাবেন, কাদায় দুর্দান্ত কাজ করে), থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, দ্রুত শুকায় এমন টিশার্ট, রেইন কোট বা পঞ্চো
নিরাপত্তা: ফার্স্ট এইড বক্স, প্যারাসিটামল, ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপ্টিক, জোঁকের জন্য লবণ, ওডোমস/মশা তাড়ানোর স্প্রে, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বা লাইফস্ট্র
Leave a Comment