মারাইংছা হিল (Maraingcha Hill) বান্দরবানের লামা উপজেলার মিরিন্জায় সমতল ভূমি হতে ১৮০০ ফুট উপরে অবস্থিত একটি মেঘের রাজ্যের সর্বোচ্চ পাহাড়। এখানে প্রায়শই মেঘের উড়াউড়ি দেখা যায়। বিশেষ করে ঘুম ভেঙ্গে সকালে দেখা মিলবে মেঘের সমুদ্রের। এই মারাইংছা হিলের সবচাইতে আকর্ষণীয় সময় হল সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত। এই দুইটাই দারুণভাবে উপভোগ্য এখানে।
চারিদিকে সবুজে ঘেরা শুধু পাহাড়। মেঘ ও কুয়াশাচ্ছন্ন পাহাড়গুলোর সাথে আকাশের মিতালী নজর কেড়ে নিবে যেকোন পর্যটকের। বিরক্তহীন দিন রাত কাটিয়ে দেওয়া যাবে এই মারাইংছা হিল এর চূড়ায় বসে বসে। এখানে গড়ে ওঠা রিসোর্ট এবং জুমঘরের বারান্দা থেকে দেখা যাবে লামা ও আলীকদম উপজেলাসহ কক্সবাজার জেলার সুদূরের বিস্তৃর্ণ এলাকাসমূহ। চারিদিকে সবুজ, উঁচু-নিচু পাহাড়। পূর্বেদিকে তাকালেই লামা উপজেলা শহর। আরেকটু দূরে তাকালে আলীকদম উপজেলা এবং পশ্চিমে চোখ ফেললেই কক্সবাজার জেলা। রাত হলে দূরের বাতির আলোগুলো মিটমিট করে জ্বলে উঠে। সবই যেন শিল্পীর তুলিতে আঁকা ছবি।
পাহাড়ে এত সুন্দর পরিবিশে রাত কাটানোর জন্য এর চাইতে সুন্দর স্থান কম আছে। তাছাড়া গাড়ি থেকে নেমে মাত্র ১০ মিনিটের সোজা পথে হেঁটেই এখানে পৌছানো যায়।
ঢাকা থেকে যারা মারাইংছা হিল যেতে চান তাঁরা কক্সবাজার যাওয়ার পথে চকরিয়া বাস স্টেশনরানেমে পড়ুন। সেখান থেকে লামা-আলীকদম পথে চান্দের গাড়ি, সিএনজি বা বাসে করে মিরিঞ্জা বাজার যাওয়া যায়। চকরিয়া থেকে বাসে গেলে ভাড়া পরবে ৬০ টাকা আর চান্দের গাড়িতে গেলে জনপ্রতি ভাড়া গুনতে হবে ৯০ টাকা। মিরিঞ্জা বাজার থেকে আপনাকে ১০ মিনিট হেঁটে আপনার কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌছাতে হবে।
মারাইংছা হিলে থাকবার জন্যে প্রতিনিয়তই গড়ে উঠছে নানা ডিজাইনের, নানা সুবিধা সম্বলিত রিসোর্ট। বর্তমানে মিরিঞ্জা এবং মারাইংছা হিল এলাকায় ৩০ এর অধিক রিসোর্ট এবং মাচাং/জুমঘর গড়ে উঠেছে। এদের মধ্যে অন্যতম –
এছাড়া পর্যটকরা চাইলে লামা যেয়ে অবস্থান করতে পারবেন। তবে লামা যেহেতু পাহাড়ি এলাকা এবং বিশেষ করে রাত্রিযাপনের সুযোগ-সুবিধা সীমিত, তাই আগে থেকেই বুকিং করে যাওয়া ভালো। সব মিলিয়ে লামা উপজেলায় তংথমাং রিসোর্ট এন্ড রেস্টেুরেন্টে ২০ জন এবং অনন্য রিসোর্টে ৫০ জন পর্যটক থাকার ব্যবস্থা আছে। এছাড়া লামা বাজারে মানসম্মত আবাসিত হোটেল সী-হিল, মাছ বাজারে জেলা পরিষদ গেস্ট হাউজ, প্রিজন হোটেল ও মিরিঞ্জা হোটেলে শতাধিক লোক থাকার ব্যবস্থা আছে।
মারাইংছা হিলে গড়ে উঠা প্রত্যেকটি রিসোর্টে তিন বেলা খাবার জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজ রয়েছে। এই খাবারের প্যাকেজ গুলো ৮০০ টাকা থেকে ১,১০০ টাকার মধ্যে। এসকল প্যাকেজে সকালের নাস্তায় থাকে ডিম-খিচুড়ি অথবা খিচুড়ি-মুরগির মাংস। দুপুরে থাকে সাদা ভাত, সাথে ডাল, সবজি, সালাত ও মুরগির মাংস। রাতে মুরগির মাংস, সাথে পরোটা। এছাড়া গেস্টরা চাইলে সন্ধ্যায় ক্যাম্পফায়ার করে বারবিকিউ করার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে অনেকেই আছে খরচ বাঁচাতে মিরিঞ্জা বাজারে যেয়ে লোকাল খাবারের দোকান থেকে খেয়ে থাকেন।
Leave a Comment