faipi-waterfall-01

ফাইপি ঝর্ণা

১
জন
ধরন ঝর্ণা
অবস্থান বান্দরবান
পড়ার সময় ৫ মিনিটস
সময়কাল ৫ দিন
বাজেট ৯,০০০ টাকা

ফাইপি ঝর্ণা (Faipi Waterfall) বাংলাদেশের বান্দরবান জেলার থাইকং পাড়ায় অবস্থিত একটি অনিন্দ্য সুন্দর বুনো ঝর্ণা। ব্যোম ভাষায় ফাইপি শব্দের অর্থ হাতির বাঁধা। এর মানে হলো যে রাস্তায় হাতি চলতে পারে না সেই রাস্তায় অবস্থিত ঝর্ণা। থাইকং পাড়ার উত্তরের দিকে রয়েছে কেওক্রাডাং, পূর্বে মদক রেঞ্জ, পশ্চিমে আছে কপিতাল আর দক্ষিণে তাজিংডং পাহাড়। ঝুম বর্ষায় ফাইপি ঝর্ণার পানি খানিকটা ঘোলা হলেও বর্ষার পরে স্বচ্ছ সাদা জলের দেখা মিলবে। অফট্রেইলের এই ঝর্ণার রূপ, মাধুর্য এবং দুর্গমতা এটিকে অন্যসব ঝর্ণার থেকে করেছে আকর্ষণীয়। ঝর্ণার পথের দুর্গমতার কারনে এই ঝর্নার খুম কম সংখ্যক পর্যটকদেরই পা পড়েছে। ফাইপি এমন একটি ঝর্ণা যেখানে পৌঁছানোর গল্পটাই আসল পুরস্কার।

থাইকং পাড়ার ভৌগোলিক অবস্থান:

দিককি আছে
উত্তরকেওক্রাডং
পূর্বমদক রেঞ্জ
পশ্চিমকপিতাল
দক্ষিণতাজিংডং

অর্থাৎ আপনি থাকবেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়াগুলোর ঠিক মাঝখানে।

কখন যাবেন

  • সেপ্টেম্বর–নভেম্বর (সর্বোত্তম): পানি স্বচ্ছ ও সাদা, প্রবাহ ভালো, ট্রেইল তুলনামূলক নিরাপদ। ফাইপির আসল রূপ এই সময়েই।
  • জুন–আগস্ট (ঝুম বর্ষা): ঝর্ণা ভয়ংকর সুন্দর, কিন্তু পানি ঘোলা, পথ পিচ্ছিল, জোঁকের উপদ্রব, ফ্ল্যাশ ফ্লাডের ঝুঁকি। অনভিজ্ঞদের জন্য নয়।
  • ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি: ট্রেকিংয়ের জন্য আরামদায়ক ও শুকনো, তবে পানি অনেক কমে যায়।
  • মার্চ–মে: গরম, পানি প্রায় নেই। এড়িয়ে চলুন।

ফাইপি ঝর্ণায় যাওয়ার উপায়

ঢাকা থেকে বান্দরবান

ফকিরাপুল, সায়েদাবাদ বা আরামবাগ থেকে শ্যামলী, এস আলম, সেন্টমার্টিন পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ।

  • নন-এসি: ৫৫০–৯০০ টাকা
  • এসি: ১০০০–১৫০০ টাকা
  • সময়: ৭–৮ ঘণ্টা (রাতের বাস ধরাই ভালো, ভোরে পৌঁছে সেদিনই রুমা/থানচি রওনা দিতে পারবেন)
রুট ১ — রুমা হয়ে (তুলনামূলক জনপ্রিয়)

Time needed: 5 days

রুমা বাজার থেকে বগালেক/কেওক্রাডংয়ের দিকে বিকেল ৪টার পর কোনো পর্যটকবাহী গাড়ি ছাড়ার অনুমতি নেই। তাই দুপুরের আগে রুমা পৌঁছান।

  1. দিন ১

    বান্দরবান → রুমা বাজার (বাস/চান্দের গাড়ি, ১০০–১২০ টাকা, ৩–৪ ঘণ্টা) → গাইড ও অনুমতি সংগ্রহ → চান্দের গাড়িতে বগালেক → রাত্রিযাপন

  2. দিন ২

    বগালেক → দার্জিলিং পাড়া → কেওক্রাডং (৩–৪ ঘণ্টা ট্রেক) → পাসিং পাড়া → থাইকং পাড়া → রাত্রিযাপন

  3. দিন ৩

    থাইকং পাড়া → ফাইপি ঝর্ণা (অফট্রেইল, খাড়া নামা-ওঠা) → ফিরে থাইকং পাড়ায় রাত

  4. দিন ৪–৫

    একই পথে ফিরতি ট্রেক → রুমা → বান্দরবান → ঢাকা

রুট ২ — থানচি হয়ে (এক্সট্রিম ট্রেকারদের জন্য)
  1. দিন ১: বান্দরবান → থানচি (৭৯ কিমি, সাড়ে ৪–৫ ঘণ্টা) → গাইড ও অনুমতি → থানচিতে রাত
  2. দিন ২: থানচি → বোর্ডিং পাড়া → শেরকর পাড়া → বাকলাই পাড়া (বাংলাদেশের সবচেয়ে উঁচু ঝর্ণা বাকলাই এখানেই — দেখে নিন) → রাত
  3. দিন ৩: বাকলাই পাড়া → থাইকং পাড়া → রাত
  4. দিন ৪: থাইকং পাড়া → ফাইপি ঝর্ণা → থাইকং পাড়ায় ফেরত
  5. দিন ৫–৬: ফিরতি ট্রেক

এই রুটে দৈনিক ৬–৮ ঘণ্টা হাঁটতে হবে। শারীরিক প্রস্তুতি ছাড়া নামবেন না।

প্রো টিপ: সময় থাকলে থানচি দিয়ে ঢুকে রুমা দিয়ে বের হন (বা উল্টো) — একই পথে দুবার হাঁটার একঘেয়েমি এড়াবেন, আর বাকলাই + কেওক্রাডং + ফাইপি একসাথে কভার হবে।

কোথায় থাকবেন ও খাবেন

বিলাসবহুল কিছু আশা করবেন না — এখানে থাকার একমাত্র উপায় আদিবাসী পাড়ার জুম ঘর বা বাঁশ-কাঠের কটেজ।

  • পাড়ার কারবারির সঙ্গে কথা বলে থাকার ব্যবস্থা হবে — গাইডই সেটি করে দেবে।
  • খরচ: জনপ্রতি রাত ১০০–১৫০ টাকা
  • খাবার: আগে থেকে বললে জুমের চাল, দেশি মুরগি, ডিম, পাহাড়ি সবজি রান্না করে দেয় — প্রতিবেলা ১৫০–২০০ টাকা
  • সবচেয়ে ভালো উপায়: রুমা/থানচি বাজার থেকে চাল, ডাল, আলু, তেল, মসলা, ডিম, শুকনো মাছ কিনে নিয়ে যান। গাইড ও স্থানীয়রা রান্না করে দেবে — খরচ কমবে, খাবারও নিশ্চিত হবে।
  • বিদ্যুৎ নেই বা খুব সীমিত (সোলার), মোবাইল নেটওয়ার্কও নেই ধরে নিন।
খরচ গাইড

আনুমানিক খরচ (৫ দিন, ৬ জনের দল, জনপ্রতি)

দল বড় হলে জনপ্রতি খরচ কমে। ৬–৮ জনের দল আদর্শ।

খাতআনুমানিক খরচ
ঢাকা–বান্দরবান–ঢাকা বাস১২০০–১৮০০ টাকা
বান্দরবান–রুমা/থানচি যাওয়া-আসা৩০০–৫০০ টাকা
চান্দের গাড়ি (বগালেক রিজার্ভ, শেয়ার্ড)৭০০–১০০০ টাকা
গাইড + পোর্টার (শেয়ার্ড)১৫০০–২৫০০ টাকা
থাকা (৪ রাত)৫০০–৭০০ টাকা
খাওয়া১৫০০–২০০০ টাকা
মোট৬,০০০–৯,০০০ টাকা

যা অবশ্যই সাথে নেবেন

  1. পোশাক ও জুতা: ভালো গ্রিপযুক্ত ট্রেকিং জুতা বা স্থানীয় প্লাস্টিক স্যান্ডেল (বাজারে পাবেন, কাদায় দুর্দান্ত কাজ করে), থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট, দ্রুত শুকায় এমন টিশার্ট, রেইন কোট বা পঞ্চো
  2. নিরাপত্তা: ফার্স্ট এইড বক্স, প্যারাসিটামল, ব্যান্ডেজ, অ্যান্টিসেপ্টিক, জোঁকের জন্য লবণ, ওডোমস/মশা তাড়ানোর স্প্রে, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বা লাইফস্ট্র
  3. অন্যান্য: হেডল্যাম্প ও অতিরিক্ত ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাংক (২টি), শুকনো খাবার-খেজুর-চকলেট-গ্লুকোজ, খাবার স্যালাইন, ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ কভার, দড়ি, ছোট টর্চ, পলিথিন (ভেজা কাপড়ের জন্য)
  4. ব্যাগ যত হালকা, ট্রেক তত সহজ — এটাই পাহাড়ের এক নম্বর নিয়ম।

সতর্কতা ও দায়িত্ব

  1. ফ্ল্যাশ ফ্লাড: ঝর্ণার খুমে থাকা অবস্থায় উপরে বৃষ্টি হলে হঠাৎ পানি বাড়তে পারে। গাইডের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মানুন।
  2. একা যাবেন না, রাতে ট্রেক করবেন না। সন্ধ্যার আগেই পাড়ায় পৌঁছান।
  3. আদিবাসী সংস্কৃতির প্রতি সম্মান: ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন। জুম ক্ষেতে ঢুকবেন না। উচ্চস্বরে গান-হইচই করবেন না।
  4. Leave No Trace: প্লাস্টিকের বোতল, চিপসের প্যাকেট, পলিথিন — সব ফেরত নিয়ে আসুন। ফাইপি এখনো অকলুষিত, সেটা আপনার হাতেই রক্ষা পাবে।
  5. সীমান্ত সচেতনতা: মদক রেঞ্জ ও তাজিংডং অঞ্চল সীমান্তঘেঁষা। গাইড যে পথে নিতে চাইবে না, জোর করবেন না।
  6. ইনস্যুরেন্স ও ইমার্জেন্সি কনট্যাক্ট: পরিবারের কাউকে সম্পূর্ণ রুট প্ল্যান দিয়ে যান, কারণ ভেতরে নেটওয়ার্ক পাবেন না।

একই ট্রিপে যা দেখে নিতে পারেন

বগালেক · কেওক্রাডং · জাদিপাই ঝর্ণা · চিংড়ি ঝর্ণা · দার্জিলিং পাড়া · পাসিং পাড়া (রুমা রুটে) — এবং বাকলাই ঝর্ণা · তমাতুঙ্গী · তাজিংডং (থানচি রুটে)।

গন্তব্য

ফাইপি ঝরণা, বাংলাদেশ

পথ ও দিকনির্দেশ দেখতে ম্যাপ খুলুন।

গুগল ম্যাপে দেখুন

ADAR BEPARI / TRAVEL WEAR

ভ্রমণের গল্প থাকুক পোশাকেও।

সব টি-শার্ট দেখুন