শান্তিনিকেতন পৌষমেলা

সোমবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০২৪
বোলপুর ডাকবাংলো মাঠ
জন
জন

পৌষমেলা হল ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বীরভূম জেলার শান্তিনিকেতনে (Shantiniketan) অনুষ্ঠিত একটি বার্ষিক মেলা ও উৎসব। প্রতি বছর ৭ পৌষ এই মেলা শুরু হয় এবং চলে তিন দিন ধরে। তবে দোকানিরা সারা পৌষ মাস ধরেই মেলাপ্রাঙ্গনে দোকান দিতে পারেন। এই মেলার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল বাংলা লোকসংগীতের (বিশেষত বাউল গান) অনুষ্ঠান।

পৌষমেলায় বাংলা লোকসংস্কৃতির আয়োজন করা হয়। লোকসংগীত সঙ্গে লোকনৃত্য ও লোকক্রীড়ার অনুষ্ঠিত হয়। এই মেলায় পশ্চিমবঙ্গের সকল অঞ্চলের সাংস্কৃতিক নিদর্শনের প্রদর্শনী হয়। মেলাতে আপনি পাবেন হরেক মাল ৭ টাকা থেকে শুরু করে, জামা কাপড়, শীতবস্ত্র, ঘর সাজানোর সামগ্রী, থালা বাসন, বেতের তৈরী সামগ্রী, ডোকরা সামগ্রী, শীতল পাটির জিনিস, মাটির জিনিস। এসবের সাথে বাহারি রকমের খানাপিনা তো আছেই, বিশেষ করে মথুরা কেক, ধুকি পিঠে আর নাগরদোলা। স্থানীয় ছাপা কাপড়ের সামগ্রী ও কুটির শিল্প এই মেলায় পাওয়া যায়।

পৌষ মেলায় প্রায় ১,৫০০টি স্টল দেওয়া হয়। মেলা উপলক্ষে তিন দিনে কমবেশি ১০,০০০ পর্যটক এর সমাবেশ হয় এখানে। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, শান্তিনিকেতনে প্রতিদিন গড়ে ৩,৫০০ পর্যটক আসেন। কিন্তু পৌষ উৎসব, বসন্ত উৎসব, রবীন্দ্রপক্ষ ও নববর্ষ উপলক্ষে শান্তিনিকেতনে দৈনিক ৪০,০০০ বা তারও বেশি পর্যটক আসেন। তবে শান্তিনিকেতনে পর্যটক নিবাসের সংখ্যা মাত্র ৮৫ এবং তাতে সর্বাধিক ১,৬৫০ জনের থাকার ব্যবস্থা থাকায় সবাই শান্তিনিকেতনে থেকে যেতে পারেন না। যদিও এখানে বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে ভাড়ায় ঘর পাওয়া যায়।

বর্তমানে বিভিন্ন কারনে অনেক বদল ঘটেছে এই মেলার। বদলে গেছে মেলার স্থানও, সেই সাথে বদলেছে মেলার রূপ, মাধুর্য, মেলার আয়তনও। বর্তমানে দুই বছর ধরে এই মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বোলপুর ডাকবাংলো মাঠে।

শান্তিনিকেতনের পৌষমেলার ইতিহাস

১৮৪৩ সালের ২১ ডিসেম্বর (১২৫০ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ) দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর কুড়ি জন অনুগামীকে নিয়ে রামচন্দ্র বিদ্যাবাগীশের থেকে ব্রাহ্মধর্ম গ্রহণ করেন। এটিই শান্তিনিকেতনের পৌষ উৎসবের মূল ভিত্তি। ১৮৯১ সালের ২১ ডিসেম্বর (১২৯৮ বঙ্গাব্দের ৭ পৌষ) শান্তিনিকেতনে একটি ব্রাহ্মমন্দির স্থাপিত হয়। ১৮৯৪ সালে ব্রাহ্মমন্দিরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী স্মরণে মন্দিরের উল্টোদিকের মাঠে একটি ছোট্টো মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। পরবর্তী কালে মেলার পরিধি বৃদ্ধি পেলে তা স্থান পায় পূর্বপল্লির মাঠে, যা বর্তমানে পৌষ মেলার মাঠ নামে পরিচিত। ১৮৯৪ সাল থেকে ধারাবাহিক ভাবে আয়োজিত হয়ে আসছে পৌষমেলা। এত বছরের ইতিহাসে মোট দুইবার বন্ধ থেকেছে পৌষমেলা। ১৯৪৩ সালে দেবেন্দ্রনাথের শতবর্ষে মন্বন্তরের কারণে এবং ১৯৪৬ সালে সাম্প্রদায়িক অশান্তির কারণে মেলা আয়োজন সম্ভব হয়নি।

পৌষমেলা কখন অনুষ্টিত হয়?

প্রতিবছর ৭ ই পৌষ (ইংরেজি ২৩ ডিসেম্বর) ভোরবেলায় সানাই এর মধ্যে দিয়ে পৌষমেলার শুভ সূচনা হয়। ৮ ই পৌষ অর্থাৎ 24 ডিসেম্বর বাজি পোড়ানো হয়। মাঝে বিভিন্ন কারণে কিছু বছর এই বাজি পড়ানো বন্ধ ছিল।

দিক নির্দেশনা