পহেলা বৈশাখ

রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪
রমনা বটমূল
জন
জন

পহেলা বৈশাখ (Pohela Boishakh), বাংলা পঞ্জিকার প্রথম মাস বৈশাখের ১ তারিখ যা বাংলা সনের প্রথম দিন, তথা বাংলা নববর্ষ। বাংলাদেশে প্রতি বছর ১৪ই এপ্রিল এই উৎসব পালিত হয়। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পহেলা বৈশাখের মূল অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের সঙ্গীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বছরের সূর্যকে আহ্বান। পহেলা বৈশাখ সূর্যোদয়ের পর পর ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে গান গেয়ে নতুন বছরকে আহ্বান জানান। স্থানটির পরিচিতি বটমূল হলেও প্রকৃতপক্ষে যে গাছের ছায়ায় মঞ্চ তৈরি হয় সেটি বট গাছ নয়, অশ্বত্থ গাছ। বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ, সেই সাথে আধুনিক কালে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার দিন ও পহেলা বৈশাখ।

ভোরে রমনার বটমূলে যাওয়াঃ এটি মূলত এখন আমাদের অলিখিত সাংবিধানিক বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। খুব ভোরে সূর্য যখন ডিমের কুসুমের মত, তখন খুব সুন্দর সুন্দর কিছু মানুষ লাল-সাদা সহ বাহারি রঙের পোষাক পরে এক সাথে গান গাইছে, আর তাঁদের কে ঘিরে তাল দিচ্ছে হাজার হাজার মানুষ, তাও আবার অসংখ্য গাছপালা বিশিষ্ট একটি জায়গায়- ব্যাপারটা আসলেই উপভোগ্য।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হৈচৈ করাঃ বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় চির-বসন্তের বাগান। আর আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হল সেই বাগানের মধ্যে বাগান। বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলায় জয়লাভ থেকে শুরু করে যে কোন জাতীয় উৎসবে এই প্রাঙ্গণটি হয়ে ওঠে রঙ্গিন। তাই যারা হৈচৈ করতে পছন্দ করেন তারা চলে আসতে পারেন চারুকলার শোভাযাত্রায়, টি এস সি বা কলা ভবনের অনুষ্ঠানে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পেয়ে যাবেন গ্রাম বাংলার মেলার পরিবেশ। মানুষ চালিত নাগর দোলায় দোল খেতে পারেন আপনার শিশুকে নিয়ে। আর ভাগ্য ভাল থাকলে পেয়ে যাবেন কুলফি আইসক্রিম।

পুরান ঢাকায় পেট পূজাঃ যারা আমাদের উর্বশী টিমের মত ভোজন রসিক, তারা চলে যেতে পারেন পুরান ঢাকায়, আর খেতে পারেন ঠাটারি বাজারের স্টার এর খাসির লেগ-রোস্ট, ফালুদা নাজিরা বাজারের গরুর চাপ, হাজির বিরিয়ানি নাজিরা বাজার থেকে বঙ্গবাজারের দিকে আসতে বিঊটির প্রাণ জুড়ানো লেবুর শরবত, দাম পড়বে ১৫ টাকা লাল বাগের কেল্লার কাছে নান্নার স্পেশাল মোরগ পোলাও বা রয়েলের পেস্তাবাদামের শরবত। চকবাজারে নুরানির শরবত, লাচ্ছি। লাচ্ছি পড়বে ১৫ টাকা আর আপনি যদি স্পেশাল লাচ্ছি খেতে চান তাহলে দাম পড়বে ২৫ টাকা যেহেতু পুরান ঢাকার বেশীরভাগ মানুষ ব্যবসায়ী, তাই, আমাদের পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী কর্মকাণ্ড-হালখাতার সাথে আপনার পরিচয় হয়ে যেতে পারে।

রবীন্দ্র সরোবরে সন্ধ্যা কাটানোঃ যারা ভাবছেন, এত রোদের মধ্যে ঘোরাঘুরি করার কি দরকার? তারা সারাদিন বাসায় কাটিয়ে চলে আসতে পারেন বিকেলে ধানমন্ডীর লেকের পাশে রবীন্দ্র সরোবরে। সন্ধায় মুক্ত মঞ্চে চলবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আর আপনি সেটা উপভোগ করবেন গরু বা মুরগির চাপ সাথে গরম লুচি, অথবা চটপটী ফুচকা দিয়ে। আর গরুর দুধের এলাচ চা তো আছেই সেই সাথে। সত্যি কথা বলতে আপনার সময়টা খারাপ যাবে না।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ঃ যারা মানুষের ভিড় ছেড়ে একটু খোলা হাওয়ায় যেতে চান তাঁদের জন্য সবচেয়ে ভাল হবে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে আপনি প্রকৃতির কাছাকাছি থেকে নতুন বছরকে বরণ করে নিতে পারবেন। আর যাদের সময় আছে তাঁরা ইচ্ছা করলে সন্ধ্যায় নানা রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন।

সোনারগাঁও লোকশিল্প যাদুঘরঃ সত্যি বলতে বাংলাদেশের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিকে ধারণ করে আছে ঢাকার অদূরে সোনারগাঁও এর লোক শিল্প যাদুঘর। সেই সাথে আপনি যেতে পারেন পানাম নগরে যা আপনাকে নিয়ে যাবে আমাদের সোনালী অতীতে। জামদানি শাড়ী কিভাবে হয় তা নিজের চোখে দেখে আসতে পারবেন আর ইচ্ছা করলে কিনতেও পারবেন। পহেলা বৈশাখের সবচেয়ে বড় মেলা গুলোর মধ্যে একটিও দেখা হয়ে যাবে আপনার।

দিক নির্দেশনা

মন্তব্য বন্ধ আছে।