কার্তিক ব্রত

ইভেন্টের তারিখঃ শনিবার, ২ নভেম্বর ২০১৯
শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম ( সোনারগাঁ, নারায়নগঞ্জ )

আপনজনের কল্যাণ কামনায় প্রতি বছর কার্তিক মাসের শেষ ১৫ দিনের প্রতি শনি ও মঙ্গলবার উপবাস বা কার্তিক ব্রত পালন করেন লোকনাথভক্তরা। কার্তিক ব্রত, রাখের উপবাস, গোসাইর উপবাস কিংবা ঘৃত প্রদীপ প্রজ্জ্বলন – লোকনাথভক্তদের কাছে এই উৎসব নানা নামেই পরিচিত৷ উপবাসে লোকনাথ ভক্তরা কলাপাতা, ফুল, ধান-দূর্বা, মাটির প্রদীপ, ঘি, ডাব ও দুধ ইত্যাদি নিয়ে আগরবাতি বা ধূপ জ্বালিয়ে উন্মুক্ত ময়দানে নারী-পুরুষ লোকনাথের মূর্তির সামনে সারিবদ্ধভাবে বসেন। এসময় তারা সামনে কলাপাতার ওপর ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রার্থনা করেন। অপেক্ষায় থাকেন সূর্য ডোবার৷

সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে পড়লে ঘিয়ের প্রদীপে আগুন জ্বালান ভক্তরা৷ অন্ধকার ভেদ করে তখন ভক্তদের পবিত্র প্রদীপালোকে আলোকিত হয় চারপাশ এবং প্রদীপ প্রজ্জ্বলন শেষে ভাঙা হয় উপবাস। প্রদীপ জ্বালানো হলে ধূপের ধোয়ায় আচ্ছন্ন আশ্রমে প্রার্থনায় মগ্ন হন পুণ্যার্থীরা ৷ আপনজনের জন্য কল্যাণ কামনা করেন তাঁরা৷ সাথে বসে মেলা।

এই তিরোধান উৎসবে অংশগ্রহণ করতে প্রতিবেশী দেশ ভারত, নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কাসহ দেশের হাজারো লোকনাথ ভক্ত বারদী আশ্রমে এসে সমবেত হন। ঢাকা শহরের স্বামীবাগ এলাকার লোকনাথ আশ্রমেও শত শত ভক্ত রাখের উপবাস পালনে মিলিত হন কার্তিকের শেষ পনের দিনের শনি ও মঙ্গলবার৷ ১৫ থেকে ৩০ কার্তিক – এই ১৫ দিনের প্রতিটি শনি ও মঙ্গলবার এই ব্রত অনুষ্ঠান হয়ে থাকে

সেই হিসেবে এই বছরে নভেম্বর মাসের ০২, ০৫, ০৯, ১৩ এই দিনগুলোতে এবার কার্তিক উপবাসের সময়। ঠিক সন্ধ্যাবেলায়। চাইলে আপনিও যেতে পারেন আর দেখে আসতে পারেন অন্যরকম কিছু দৃশ্য।

কেন এই উৎসব

কথিত আছে কলেরা-বসন্তের হাত থেকে বাঁচার জন্য কার্তিক মাসে উপবাস পালন এবং আশ্রম প্রাঙ্গণে ঘিয়ের প্রদীপ ও ধূপ জ্বালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বাবা লোকনাথ৷ এরপর থেকে লোকনাথ ভক্তরা তাই কার্তিক মাসে এই উৎসব পালন করেন৷

কিভাবে যাবেন

গুলিস্তানের মওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামের গেট থেকে বোরাক এসি, নন এসি বাস ভাড়া ৫৫-৪৫ টাকা মুগড়াপাড়া পর্যন্ত। ৪০ মিনিটের পথ। লোকাল অটোরিকশা নিয়ে বাঘারপাড়া পর্যন্ত ২০ মিনিটের পথ। অটোরিকশা ভাড়া প্রতিজন ৩০ টাকার মতো।

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

দিক নির্দেশনা