চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে ঐতিহ্যবাহী জব্বারের বলি খেলা এর ১০৮তম আসর বসবে মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল)। প্রতিবছর বৈশাখের ১২ তারিখে এ বলি খেলার আয়োজন করা হয়। বিকেল সাড়ে ৩টায় লালদীঘি মাঠে শুরু হবে এ বলি খেলা। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় কুস্তি বলি খেলা নামে পরিচিত। গতবছর ২০০ জন বলি প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে নাম লিখিয়েছেন। বলিখেলায় অংশ নিতে কক্সবাজারের টেকনাফ, রামু, চকরিয়া ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী, পটিয়া, সাতকানিয়া এবং পার্বত্য অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বলীরা লালদীঘি পাড়ে ছুটে যায়।
ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে বাংলা ১৩১৬ সালের ১২ বৈশাখ (ইংরেজি ১৯০৯ সালের ২৫ এপ্রিল) বলি খেলা বা মল্লযুদ্ধ দিয়ে সূচিত হয় এ বলি খেলা ও বৈশাখী মেলা। চট্টগ্রামের বদরপাতি এলাকার সওদাগর (ব্যবসায়ী) আবদুল জব্বার এটি শুরু করেছিলেন বলে মৃত্যুর পর তার নামেই উৎসবের নামকরণ হয় ‘জব্বারের বলি খেলা ও বৈশাখী মেলা’।
বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার সম্ভাব্য সূচি
- মেলা শুরু: ২৪ এপ্রিল ২০২৭ (শনিবার) থেকে লালদীঘি মাঠ ও এর আশপাশে ৩ দিনব্যাপী লোকজ মেলা শুরু হবে।
- মূল বলীখেলা: ২৫ এপ্রিল ২০২৭ (রোববার) বিকেলে লালদীঘি ময়দানের মূল মঞ্চে বলীখেলা অনুষ্ঠিত হবে।
- মেলা শেষ: ২৬ এপ্রিল ২০২৭ (সোমবার) এই উৎসব ও মেলা শেষ হবে।
কিভাবে যাবেন
চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে যাওয়ার জন্য ঢাকা এবং অন্যান্য অঞ্চল থেকে যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই সহজ। উৎসবের সময় প্রচণ্ড ভিড় থাকে, তাই যাতায়াত ও হোটেল বুকিং আগে থেকে গুছিয়ে রাখা ভালো।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার উপায়
- ট্রেন: কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সোনার বাংলা, সুবর্ণ এক্সপ্রেস বা মহানগর প্রভাতীতে করে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে (বটতলী) যেতে পারেন।
- বাস: সায়েদাবাদ, ফকিরাপুল বা মহাখালী থেকে গ্রীন লাইন, হানিফ, শ্যামলী বা এনা পরিবহনের এসি/নন-এসি বাসে যাওয়া যায়।
- আকাশপথ: শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ, ইউএস-বাংলা বা নভোএয়ারের ফ্লাইটে মাত্র ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছানো সম্ভব।
চট্টগ্রাম স্টেশন/বাস টার্মিনাল থেকে লালদীঘি ময়দান
- দূরত্ব: চট্টগ্রাম মূল রেলওয়ে স্টেশন বা দামপাড়া বাস টার্মিনাল থেকে লালদীঘি ময়দানের দূরত্ব মাত্র ২ থেকে ৩ কিলোমিটার।
- যানবাহন: স্টেশন বা টার্মিনাল থেকে সরাসরি সিএনজি অটোরিকশা বা রিকশা নিয়ে লালদীঘি পাড় বা লালদীঘি ময়দানে চলে যেতে পারবেন।
- সতর্কতা: বলীখেলার দিন (২৫ এপ্রিল) লালদীঘির চারপাশের প্রায় ১-২ কিলোমিটার রাস্তায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। তাই কিছুটা পথ হেঁটে যেতে হবে।
থাকার ব্যবস্থা
বলীখেলা ও বৈশাখী মেলার কারণে দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটক আসেন, তাই এপ্রিলের শুরুতেই হোটেল রুম বুক করে রাখা নিরাপদ। লালদীঘির খুব কাছেই স্টেশন রোড, জিইসি মোড় এবং আগ্রাবাদ এলাকায় বিভিন্ন বাজেটের ভালো আবাসিক হোটেল রয়েছে।
সকলের প্রতি অনুরোধ, এই বর্ষায় এডভেঞ্চার এর নেশায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকবেন। মনে রাখবেন, জীবন একটাই, আর একটা দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। তাই আমাদের সবার ভ্রমণ নিরাপদ হোক এটাই হোক আমাদের সকলের চাওয়া।