ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স

ভালো লেগেছে
1
ট্রেকিং
সহজ
Ratings
রেটিংস ( রিভিউ)

বর্ষাকালে ভারতের উত্তরাঞ্চলের উত্তরাখন্ডে ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স (Valley of Flowers) এ বসে ফুলের জলসা। যোশিমঠ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে ঘানঘারিয়া থেকে এই ‘ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স’ – এর এলাকা শুরু। প্রায় ৮৭ স্কোয়ার কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত এর এলাকা। স্থানীয় মানুষদের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘ফুলোঁ কি ঘাটী’, সেই ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স এ ৫২১ রকম প্রজাতির লতা, গুল্ম ও বৃক্ষের আবাসস্থল। ৩০০ প্রজাতির ফুল ফোটে এখানে। পার্বত্য আলপাইন ফুল এবং অন্যান্য বিরল প্রজাতির উদ্ভিদও এখানে দেখা যায়। ঘাংঘারিয়ার বন অফিস বা ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স-এর কনজারভেশন প্রজেক্ট অফিস থেকে অনেক তথ্য পাওয়া যায় যা একটু জেনে গেলে ফুল চিনতে সুবিধা হয়। সঙ্গে এক জন ফুল বিশেষজ্ঞ গাইড নিলে সুবিধা হয়।

ভারতের উত্তরাখণ্ডে ভিউন্দর বুগিয়াল আর সিকিমের ইয়ুমথামের কাছে যে ইয়ুমথাম উপত্যকা আছে সেখানে ফুলের সংখ্যা ও বিভিন্নতা জগতে আর কোথাও অলব্ধ। দুটিকেই ফুলের উপত্যকা বলা যায়, কিন্তু পৃথিবীতে ফুলের উপত্যকা বা ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স বলতে ভিউন্দর উপত্যকাকেই বোঝায়।

সৌন্দর্যের ডালি মেলে ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স মানুষকে আহ্বান করছে যেমন তেমনি এই সৌন্দর্যের আড়ালে আছে বিপদের হাতছানিও। কারণ এই ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স এ বাস করে কালো ভাল্লুক থেকে ‘স্নোপার্ড লেপার্ড’, ‘মাস্ক ডিয়ার’।

শুধু ফুল নয়, ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স এর যত্রতত্র ছড়িয়ে আছে নানা ধরণের ঔষধির গাছ। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বিরচ, রডোডেনড্রন এবং ব্রহ্ম কমল। প্রচলিত আছে, রাম-রাবণের যুদ্ধের সময় যখন লক্ষণ আহত হয়ে পড়েন তখন হনুমান সঞ্জীবনীর খোঁজ করতে এখানে এসেছিলেন। হনুমান এখানকার পাহাড় থেকে সঞ্জীবনী নিয়ে গিয়েছিলেন।

ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স জাতীয় উদ্যানের কাছাকাছি চারটি নতুন ট্রেক রুট খুলে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে একটি হল কুন্থখাল-হনুমানচট্টি ট্রেক রুট। ৪৫ বছর বন্ধ থাকার পর এটি ২০১৫ সালে খুলে দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়টি হল লতা গ্রাম থেকে ডিব্রুঘেতা ট্রেক রুট। জোশীমঠ থেকে ১৫ কিমি দূরে লতা গ্রাম আসা যায় গাড়িতে। তৃতীয় রুটটি হলো দ্রোণগিরির পাথুরে পথ ধরে ১৩ কিমি। এখানে ট্রেকাররা কাক ভূষণ্ডি তালের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। আর চতুর্থ ট্রেকিং রুটটি ৩২০০ মিটার থেকে ৪০০০ মিটার উচ্চতায় চেনাব উপত্যকা দিয়ে।

ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স যাওয়ার উৎকৃষ্ট সময়

নভেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স বরফের চাদরে ধাকা থাকে। বছরের অন্যান্য সমযে এখানে সুন্দর সুন্দর ফুল দেখা যায়। জুলাই এবং আগস্ট মাসে সবথেকে বেশি ফুল দেখা যায় এখানে।

টিকেট মুল্য

এখানে জনপ্রতি ১৫০ টাকার (বিদেশি হলে ৬৫০ টাকা) টিকিট কেটে উপত্যকায় ঢুকতে হয়।

ভ্যালি অফ ফ্লাওয়ার্স যাওয়ার উপায়

কলকাতার হাওড়া স্টেশন থেকে দুন, উপাসনা বা কুম্ভ এক্সপ্রেসে হরিদ্বার। হরিদ্বারকে উত্তরাখন্ডের গেটওয়ে বলা হয়। হরিদ্বার থেকে টাটা সুমো রির্জাভ করে গোবিন্দঘাট চলে যান। ভাড়া নিবে আনুমানিক ৭২০০-৮০০০ রুপী। চাইলে রাতে চামোলিতে থেকে যেতে পারেন। চামোলি থেকে গোবিন্দঘাট ৩ ঘন্টার দূরত্ব।

অথবা হরিদ্বার থেকে সরাসরি বাস বা ভাড়া গাড়িতে যোশিমঠ চলে যেতে পারেন। ওখানে রাত কাটিয়ে সকালে আধ ঘণ্টার দূরত্বে গোবিন্দঘাট।

গোবিন্দঘাট থেকে আপনাকে অনুমতি নিতে হবে। বেলা তিনটার পর আর সেই অনুমতি দেয়া হয় না। অনুমতি মিললে নাম এন্ট্রি করার পর একটা স্টিকারযুক্ত কার্ড দিবে। ওখান থেকে ৩৫ রুপি করে প্রতিজনের ভাড়ায় জীপে চেপে পুলনা যা মাত্র চার কিমি দূরেই অবস্থিত। পুলনা গিয়ে ঘোড়া নিতে পারেন। ভাড়া পড়বে ৬০০ রুপি করে।

রাতে ঘাংরিয়াতে থেকে যান। রুম ভাড়া পড়বে ১৩০০-১৫০০ রুপি। এবার একটু রেস্ট নিয়ে নিন। কারণ পরের দিন মূল গন্তব্য valley of flowers (vof) যেতে হবে।

সকালে ঘুম থেকে উঠে রওনা দিন vof এর উদ্দেশ্যে। ঘাংগারিয়া থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার যাবার পর রাস্তা দুদিকে গেছে। বামে ভ্যালী অফ ফ্লাওয়ার্স আর সোজা গেছে শিখদের তীর্থস্থান হেমকুন্ড সাহিব। সকাল আটটায় গেট খুলে দেয়। ভারতীয়দের জন্য ১৫০ রুপি আর বিদেশীদের জন্য ৬০০ রুপি।

প্রথম দিন – গোবিন্দঘাট থেকে ঘাংরিয়া ১-৩ কিলোমিটার। রাস্তায় চড়াই- উতরাই সামান্য।
দ্বিতীয় দিন – ঘাংরিয়া থেকে ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্স ৩ কিলোমিটার।

কোথায় থাকবেন

যোশিমঠ, গোবিন্দঘাট, ঘাংরিয়ায় গাড়োয়াল মণ্ডল বিকাশ নিগমের টুরিস্ট লজ। ডাবল বেডের ভাড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। ডর্মিটরিতেও থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। আছে নানা ধরনের হোটেল ও ধর্মশালা।

  • 4
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    4
    Shares
দিক নির্দেশনা

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending

  1. ভ্যালী অফ ফ্লাওয়ার্স, প্রকৃতির নিজের হাতে তৈরী এক অকৃত্রিম সৌন্দর্যের খনি। সৌভাগ্য হয়েছিল সেখানে যাওয়ার। হরিদ্বার থেকে বাস বা গাড়িতে গোবিন্দঘাট। সেখানে একরাত থেকে পরদিন স্থানীয় গাড়ীতে ৩ কিমি দূরের পুলনা পৌঁছে হাঁটা শুরু। ১১ কিমি রাস্তার শেষে ঘাংঘারিয়া। সেখানে রাত্রিবাস। পরদিন সকালে ৫ কিমি হেঁটে ভ্যালী অফ ফ্লাওয়ার্স। বিকেলের মধ্যে ঘাংঘারিয়া ফিরে রাতে থেকে তারপর দিন আবার একই পথে ফিরে আসা।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না