তিলিচো লেক

ভালো লেগেছে
2
ট্রেকিং গ্রেড
বিস্তারিত দেখুন

তিলিচো লেক (Tilicho Lake) পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু লেকগুলোর একটি যা নেপালের মানাং জেলার অন্তর্গত এবং এই লেকটি অন্নপূর্না সার্কিট ট্রেকের একটা অংশ হিসেবে বিবেচিত। সি লেভেল থেকে লেকটির উচ্চতা ৪৯১৯ মিটার (১৬,১৩৮ ফিট) এবং লেকের পারের সর্বোচ্চ উচ্চতা প্রায় ৫৩০০ মিটার (১৭,১৫০ ফিট)। লেকের সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ৪ কিলোমিটার এবং সর্বাধিক প্রস্থ ১.২ কিলোমিটার। গুগল অবশ্য তিলিচোকেই সর্বোচ্চ হিসেবে দেখায় কিন্তু উইকির মতে তিব্বতের কয়েকটি লেক আছে যেগুলো তিলিচোর চেয়ে কয়েকশ মিটার উচু।

মূলত ৪ দিনেই তিলিচো লেক ট্রেকটি কমপ্লিট করা যায়। কয়েক বছর আগে অবশ্য ১০ দিনের মত লেগে যেত। তখন মানাং পর্যন্ত গাড়ি চলাচল ছিল না। অনেকেই চামে ভিলেজ থেকে ট্রেক শুরু করত। তবে ট্রেক শুরুর আগে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড থেকে পারমিশন নিতে হয়। পারহেড ৪০০০ নেপালি রুপি এর মতো লাগবে। পারমিশন নেয়ার সময় তাঁরা আপনার কাছে হেলথ ইন্স্যুরেন্স চেয়ে থাকবে। এই রুটে ট্রেকারদের ৯০% ই ইউরোপিয়ান, অস্ট্রেলিয়ান এবং প্রায় সবার কাছেই হেলথ ইন্স্যুরেন্স থেকে থাকে। সাথে কয়েক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি আর পাসপোর্টের ফটোকপি রাখতে হবে। পারমিশন পেয়ে গেলে পরের দিন ভোরে কাঠমান্ডু থেকে বেসিশহর চলে যাবেন। কাঠমান্ডু থেকে বেসিশহর যেতে ৭/৮ ঘন্টা লেগে যাবে। গাড়িতে গেলে খরচ পরবে ১০ হাজার রুপি আর লোকাল বাসে গেলে পরবে পারহেড ৬০০ রুপি করে। ভোর ৫ টার মধ্যেই বাস ছেড়ে দেয়। বেসিশহরে ১ রাত থাকার পর পরেরদিন সকালে মানাং এর উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন। শেয়ার জিপে পারহেড ২০০০ রুপিতেই মানাং যেতে পারবেন তবে আপনাকে প্রচুর বারগেইন করতে হবে। মানাং যেতে কয়েকটা চেকপোস্ট পরবে, সবগুলাতেই এন্ট্রি করে নেবেন।

ট্রেক সারসংক্ষেপ
  • উচ্চতাঃ ৪৯১৯ মিটার (১৬,১৩৮ ফিট)
  • ট্রিপ সময়কালঃ ৭ দিন ট্রেক
  • সেরা সময়ঃ মার্চ থেকে মে এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর

এক্লেমাটাইজেশনের জন্য মানাং এ দুইরাত থাকতে পারেন। চাইলে গঙ্গপূর্না লেক আর আইস লেক ট্রেক করতে পারেন এই সময়ের মধ্যে। মানাং থেকে ট্রেক শুরু করে প্রথমদিন চাইলে খাংসার থাকতে পারেন, সেক্ষেত্রে শর্ট ট্রেক হয়ে যাবে। পরের ভিলেজেও থাকতে পারেন তবে সবসময় রুম পাওয়া যায়না সেখানে। আর একদিনেই যদি তিলিচো বেইজ ক্যাম্প যেতে পারেন তবে তো খুবই ভাল। জেনে রাখা ভালো, তিলিচো বেইজ ক্যাম্প খুবই এক্সপেন্সিভ। এখানে এক প্লেট ডাল, ভাত, সবজির দাম ৮৫০ রুপি, একটা ডিম ভাজি ৪০০ রুপি, এক কাপ চা ১০০ রুপি।

যাইহোক তিলিচো বেইজ ক্যাম্প থেকে তিলিচো লেকে যাওয়ার জন্য ভোর চারটায় রওনা দিতে পারেন। কারন দুপুরের পর থেকে প্রচন্ড বাতাস শুরু হয়। লেকে উঠতে ৬/৭ ঘন্টা লেগে যাবে। নামতে লাগবে দেড়-দুই ঘন্টা। তিলিচো লেকের কিছুটা উপরে তিলিচো হাই ক্যাম্প আছে, সেখানে থাকা যায়।

রুট প্ল্যান

  • কাঠমান্ডু- বেসিশহর
  • বেসিশহর- মানাং
  • মানাং- খাংসার
  • খাংসার- তিলিচো বেইজ ক্যাম্প
  • বেইজ ক্যাম্প- তিলিচো লেক- বেইজক্যাম্প
  • বেইজক্যাম্প- খাংসার
  • খাংসার- বেসিশহর
  • বেসিশহর- কাঠমান্ডু

যা যা সাথে নিতে হবে

  • ব্যাকপ্যাক
  • ট্রেকিং পুল
  • রেইনকোট বা পঞ্চ
  • সানহ্যাট
  • সানস্ক্রিন ক্রিম
  • কোল্ড ক্রিম
  • সানগ্লাস
  • ট্রেকিং শু
  • স্যান্ডেল
  • ট্রেকিং প্যান্ট ২ টা
  • টিশার্ট ৩/৪ টা
  • উলেন সোয়েটার
  • ডাউন জ্যাকেট
  • কান টুপি
  • মোজা -৩/৪ জোড়া
  • হাতমোজা
  • লিপজেল
  • ব্যাসিক মেডিসিন
  • ব্যান্ডেজ
  • ব্রাশ
  • পেস্ট
  • শ্যাম্পু ইত্যাদি।
  • পাওয়ার ব্যাংক
  • মোবাইল
  • হেডফোন
  • চার্জার
  • নট মেন্ডাটরিঃ ক্যামেরা, এক্সট্রা ব্যাটারি, এক্সট্রা কার্ড
বি.দ্রঃ ট্রেইলে যে কোন ধরনের অপচনশীল বস্তু ফেলা থেকে সর্বদা বিরত থাকতে হবে। স্নিকারস, চিপ্সের প্যাকেট প্লাস্টিক কিংবা পলিথিন জাতীয় জিনিসগুলো ব্যাকপ্যাকে রেখে নির্দিষ্ট কোন স্থানে ফেলতে চেষ্টা করবেন। কারো ছোটখাটো প্রয়োজনে সাধ্যমত সাহায্য করার মানসিকতা রাখতে হবে।
লেখাঃ গৌতম মল্লিক

×

করোনা (COVID-19) ভাইরাস থেকে সতর্ক থাকতে যা করনীয়ঃ

  • সবসময় হাত পরিষ্কার রাখুন। সাবান দিয়ে অন্তত পক্ষে ২০ সেকেন্ড যাবত হাত ধুতে হবে।
  • সাবান না থাকলে হেক্সিসল ব্যবহার করুন। হেক্সিসল না থাকলে হ্যান্ড সেনিটাইজার ব্যবহার করুন।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে দূরে থাকুন, যতটুকু সম্ভব ভীড় এড়িয়ে চলুন।
  • বাজারে কিছু স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন, করলে হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিন।
  • টাকা গোনা ও লেনদেনের পর হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন।
  • ওভার ব্রিজ ও সিড়ির রেলিং ধরে ওঠা থেকে বিরত থাকুন।
  • পাবলিক প্লেসে দরজার হাতল, পানির কল স্পর্শ করতে টিস্যু ব্যবহার করুন।
  • হাত মেলানো, কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন।
  • নাক, মুখ ও চোখ চুলকানো থেকে বিরত থাকুন।
  • হাঁচি কাশির সময় কনুই ব্যবহার করুন।
  • আপনি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত না হয়ে থাকেন তবে মাস্ক ব্যবহার আবশ্যক নয় তবে আক্রান্ত হলে সংক্রমণ না ছড়াতে নিজে মাস্ক ব্যবহার করুন।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকুন। Stay Home, Stay Safe.

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।