মুর্শিদাবাদ

ভালো লেগেছে
0
ট্রিপ
২ দিন

মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) যার আরেক নাম The Land of Nawabs. অতীতের মুকসুদাবাদই আজকের মুর্শিদাবাদ। সপ্তাহান্তে দুটো দিন কাটানোর জন্য ঐতিহাসিক শহর মুর্শিদাবাদ বেশ ভালো। নবাবী আমলের বাংলার রাজধানী মুর্শিদাবাদ এক চরম বিশ্বাসঘাতকতার সাক্ষী।

টোটো কিংবা অটোতে চেপে চলে আসুন হাজারদুয়ারি প্রাসাদে। ত্রিতলবিশিস্ট এই প্রাসাদে ৯০০ টি আসল ও ১০০ টি নকল দিয়ে মোট হাজার দরজা থাকায় এর নাম হাজারদুয়ারি। বর্তমানে এটি মিউজিয়াম। এক-এক করে দেখে নিন ৩০০ ফুট চওড়া ইমামবাড়া, মদিনা মসজিদ,নবাব ওয়াসিফ আলি মির্জার নিউ প্যালেস, বাচ্চাওয়ালি তোপ এবং ঘড়িঘর। হাজারদুয়ারি দেখে চলে যান চক মসজিদ। তারপর একে একে দেখে নিন চাঁদনি বাজার, জাহানকোষা কামান, কাঠগোলা বাগান, জগৎ শেঠের বাড়ি, নসিপুর রাজবাড়ি, কাটরা মসজিদ, মতিঝিল আর ফুটি মসজিদ। এ ছাড়াও রয়েছে মীরজাফরের সমাধি, ভাগীরথীর তীরের কাছের ঘন্টাঘর। নদীর ওপারের খোশবাগে দেখে নিন সিরাজের সমাধিস্থল। আলাদা গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে আসতে পারেন পলাশির ঐতিহাসিক প্রান্তর। সন্ধেয় ভাগীরথীর বুকের নৌবিহার করতে ভুলবেন না।

হাজারদুয়ারি প্রসাদ

মুর্শিদাবাদের সবচাইতে বিখ্যাত এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় দ্রষ্টব্যস্থান এই হাজারদুয়ারি। সত্যি বলতে কি – মুর্শিদাবাদের সঙ্গে এখন হাজারদুয়ারীর নাম অঙ্গাঙ্গী ভাবেই জড়িত, আর তাই হয়তো কলকাতা থেকে মুর্শিদাবাদ যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের নামও এই প্রাসাদের নামেই – “হাজারদুয়ারী এক্সপ্রেস”।

মুর্শিদাবাদে গঙ্গার পাশেই বিশাল এলাকা জুড়ে এই প্রাসাদের ব্যাপ্তি। সমস্ত এলাকার পরিমাপ প্রায় ৪১ একর। বিশাল সেই জমিতে যেমন রয়েছে হাজারদুয়ারী প্রাসাদ, ঠিক তেমনই রয়েছে আরো কিছু দর্শনীয় স্থাপত্য ও বস্তু – যেমন বিশাল ইমামবাড়া, সিরাজের আমলের মদিনা, বাচ্চাওয়ালী কামান, ঘড়ি মিনার ইত্যাদি।

হাজারদুয়ারী প্রাসাদটি নির্মিত হয় ১৮২৯ থেকে ১৮৩৭ সালের মধ্যে, নবাব হুমায়ূন জা-এর আমলে। এটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৮২৯ সালের ৯ই আগস্ট, আর শেষ হয় ১৮৩৭ সালের ডিসেম্বর মাসে। স্থপতি ছিলেন ডানকান ম্যাকলিওড কোম্পানী। রাজকীয় এই প্রাসাদটি তৈরি হয়েছিল নবাবের বাসস্থান ও সেই সময়ের সরকারী কাজের জন্যে। প্রাসাদের মূল প্রবেশপথের সামনে দুটি সিংহের মূর্তি, আর ওপরে ওঠার ছত্রিশটি সিঁড়ি। সেই সিঁড়ির ধাপ নীচ থেকে ওপর দিকে কিছুটা সরু হয়ে উঠে গেছে। তাই সবচাইতে নীচের সিঁড়িটি যেখানে ১০৭ ফিট লম্বা, সেখানে ওপরের সিঁড়ির দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৬৪ ফিট। সামনে, পাশে, পিছনে বিশাল বিশাল থাম দিয়ে তৈরি এই প্রাসাদ – সেই থামের মোট সংখ্যা ৫২ । হাজারদুয়ারী নাম হয়েছে এই প্রাসাদের এক হাজারটি দরজার জন্যে। বলা হয় এখানে আছে মোট নশোটি আসল দরজা, আর সেই সঙ্গে একশোটি নকল দরজা। তিনতলা এই বিশাল প্রাসাদে ঘরের সংখ্যা বোধ হয় একশোরও , এবং প্রত্যেকটি ঘরই বিশাল। ১৯৭৭ সালে আর্কিওলজিকাল সার্ভের অধীনে আসা এই প্রাসাদ এখন সম্পূর্ণ রূপেই একটি মিউজিয়াম, আর সেই মিউজিয়াম আমাদের দেশের প্রধান মিউজিয়ামের একটি। কত কিছু যে দেখার আছে এখানে, তা বলে শেষ করা যায় না। বিভিন্ন গ্যালারিতে আছে বহু পেন্টিং, ছবি, অস্ত্রশস্ত্র, পোশাক, বই, পুঁথি, পাল্কি, সিংহাসন, ঝাড়বাতি, আয়না, মার্বেলের স্ট্যাচু, আসবাবপত্র এরকম বহু সামগ্রী, আর সেগুলির বৈচিত্র্য বা ঐতিহাসিক মূল্যও কিছু কম নয়। যেমন, এখানকার অস্ত্রাগারে আছে প্রায় ২৬০০ রকমের অস্ত্র। তার মধ্যে আবার আছে নবাব সিরাজদ্দৌলা ও আলিবর্দীর তলোয়ার ও বহু নল বিশিষ্ট বন্দুক, নাদির শাহের শিরস্ত্রাণ, মিরকাশিমের কামান, ছোরা, হাতির দাঁতের হাতলওয়ালা ছোরা, গন্ডারের খড়্গ থেকে তৈরি হওয়া ঢাল, এমনকি সিরাজকে হত্যার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত মহম্মদী বেগের ছোরাও। পেইন্টিং গ্যালারিতে আছে দেশী বিদেশী বহু শিল্পীর বহু বিখ্যাত পেন্টিং – যেমন রবার্ট ক্লাইভের দেওয়ানি লাভ, Burial of Sir John Moore, Adam & Eve, বিভিন্ন যুদ্ধের ছবি, নবাবদের প্রতিকৃতি ইত্যাদি। লাইব্রেরীতে আছে অজস্র বই, পুঁথি, চুক্তিপত্র, দলিল, আবুল ফজল লিখিত আইন-ই-আকবরীর পাণ্ডুলিপি, হারুণ-অল-রসিদের হাতে লেখা কোরাণ। আছে রূপোর পালকি, হাতির দাঁতের পালকি, রূপোর সিংহাসন, রূপোর ড্রেসিং টেবিল, বিশাল বিশাল ঝাড় বাতি, সূক্ষ ছুঁচ এর কাজ করা কার্পেট, পোর্সেলিনের ফুলদানি ও জার, নবাবদের বিশেষ ধরণের খাওয়ার প্লেট, (যার মধ্যে বিষাক্ত কিছু খাবার দিলে তা ভেঙে যেত বলে কথিত ) – এইরকম অজস্র সব সামগ্রী।

তিনতলা এই মিউজিয়ামের পুরোটা ভাল করে খুঁটিয়ে দেখতে গেলে হয়তো সারাদিন লেগে যেতে পারে, তাতেও হয়তো সব কিছু দেখা নাও যেতে পারে। এছাড়া আছে যা দেখা হল, তা মনে রাখার ব্যাপার। কারণ ভেতরে ছবি তোলা সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ, ক্যামেরা, মোবাইল সব বাইরে জমা রেখে তবেই ভেতরে ঢুকতে পারা যায়। তাই, যা যা দেখা যায় ভেতরে, তার জন্যে শুধু স্মৃতিই সম্বল, যদিও সব কিছু মনে রাখা সত্যিই দুষ্কর।

ইমামবাড়া

ইমামবাড়া, হাজারদুয়ারীর ঠিক বিপরীত দিকে অনস্থিত এটি। এটি একটি সাদা রঙের সুবিশাল প্রাসাদ। এখনে সাধারণ লোকের প্রবেশ বারন আছে। একমাত্র মহরমের সময় এটি সাধারণ লোকের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সেই সময় এই খানে অনেক লোকের সমাবেশ হয় এবং এই সময় এখানে একটি খুব বড় মেলাও হয়।

ঘড়ি মিনার

হাজারদুয়ারীর মাঠের ভিতর ইমামবারা ও প্রাসাদের মধ্যে এই বড় ঘড়ি মিনারটি অবস্থিত। এই মিনারটির উপরে একটি বড় ঘড়ি আছে। লোক মুখে সোনা যায় যে এই ঘড়ির শব্দ শুনে মুর্শিদাবাদের সাধারণ মানুষ তখন সময় জানতে পারতো।

সিরাজ-উদ-দ্দৌলার মদিনা

এই মদিনাটি সিরাজের সময়ের একমাত্র নিদর্শন। নবাব সিরাজদ্দৌলা নিজে এই মদিনার জন্য কারবালা থেকে পবিত্র মাটি মাথায় করে এনেছে। কথিত আছে নবাবের মা আমিনা বেগম প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে তার পুত্র নবাব হলে মদিনার পবিত্র মাটি নিয়ে এসে বহু মূল্যবান রত্ন দিয়ে দরজা তৈরি করবেন। শোনা যায় মীর কাশিম পরে নবাব হলে তিনি মুঙ্গেরে রাজধানী স্থানান্তরিত করবার সময় এই মদিনার ধনরত্ন মুঙ্গেরে নিয়ে যায়। এই মদিনার দরজাটি কেবল মাত্র মহরমের সময় খুলে দেওয়া হয়, আর বাকি সময় বন্ধ থাকে।

বাচ্চাওয়ালি তোপ

হাজারদুয়ারীর উত্তর দিকে একটি বাধানো বেদির উপর এই বড় কামানটি রাখা আছে। এরই নাম হলো বাচ্চাওয়ালি তোপ। এই কামান টিকে নবাব হুমায়ুন জার সময় নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। ১৬৮৭ খ্রিস্টাব্দে জনার্দন কর্মকার এই কামান তৈরি করেছে বলে শোনা যায়। এই কামান টিতে তিনটি চেম্বার আছে এবং কামান দাগবার সময় ১৮ সের বারুদ প্রয়োজন হতো। লোক মুখে শোনা যায় যে এই কামানটি মাত্র একবার দাগা হয়েছিল এবং এর প্রচন্ড শব্দ ১০ মাইল পর্যন্ত ছড়িয়ে পরেছিল এবং অনেক গর্ভবতী মহিলার গর্ভপাত ঘটে গিয়েছিল। সেই কারণে এই কামানের নাম হয় বাচ্চাওয়ালী তোপ। এর দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট এবং ওজন ১৬,৮৮০ পাউন্ড। এই ঘটনার পর থেকে এই কামান দাগা বন্ধ হয়ে যায়।

ওয়াসেফ মঞ্জিল বা নিউ প্যালেস

এটি হাজারদুয়ারীর পিছনের দিকের গেট দিয়ে বের হলে কিছুটা গিয়ে দেখা যায়। আসলে এটি এখন মুর্শিদাবাদের সরকারী দপ্তর হিসাবে বব্যহার করা হয়। এই প্রাসাদের চার পাসে বড় বাগান আছে কিন্তু বাগানটি সে রকম ভাবে সাজানো নয়।

চক মসজিদ

এটিও হাজারদুয়ারীর পিছনের গেট দিয়ে বের হলে ওয়াসেফ মঞ্জিলটা পার হয়ে যেতে হয়। এই মসজিদটি ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত। এটির ভিতরে প্রবেশ করা যায় না কিন্তু আপনি বাইরে থেকে ছবি তুলতে পারেন।

কাঠগোলা বাগান বাড়ি

কাঠগোলা একটি অলঙ্কৃত, চারতলা, মনোরম উদ্যানগুলির সাথে সজ্জিত প্রাসাদমণ্ডল। মেনশনের সামনের দিকটি সঠিকভাবে তৈরি করা হয়েছে। কাঠগোলার অভ্যন্তরটি আমদানিকৃত উপকরণ দিয়ে ১৯ শতকের শেষদিকে তৈরি করা হয়েছিল। এখানে কাঠগোলা গার্ডেন হাউসে উইলিয়াম ওয়াটস এবং ওয়ালশ পলাশীর যুদ্ধের তিন দিন পরে মীর জাফর এবং রাজা রাই দুর্লভের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন এবং যুদ্ধের আগে তাদের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ পরিশোধের বিষয়ে সম্মানিত করেছিলেন। ক্লাইভ, ওয়াটস, লুক স্ক্র্যাটন, মিরান এবং রাই দুর্লভও ২৯ শে জুন, ১৯৭৫ সালে এখানে উপস্থিত ছিলেন, যখন ক্লাইভ ওমিচাঁদের সাথে চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

আদিনাথ মন্দির

কাঠগোলা কমপ্লেক্সটিতে ১৮ তম শতাব্দীর আদিনাথ মন্দির ছিটমহল রয়েছে, যা হ্যারেক চাঁদ ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে তৈরি করেছিলেন। সাধারণত জৈন শৈলীর অলঙ্কার এই জৈন মন্দিরকে একটি অনন্য সৌন্দর্য দেয়।

ঘোরার প্ল্যান

নিজেরা একটু উদ্যোগ নিলে অনেক কম খরচে ঘোরা যায়। কলকাতা থেকে সকালের ট্রেনে স্টেশনে এসে একটি টুকটুক ভাড়া করে নিজেদের বুক করা হোটেলে চলে আসুন। চাইলে একবারে ওনাকেই ২ দিনের জন্যে কথা বলে নিয়ে নিন। ১২০০ রুপির মতো দিতে হবে সেক্ষেত্রে। স্টেশন থেকে হোটেল, হোটেল থেকে sightseeing এবং পরেরদিন হোটেল থেকে স্টেশনে পৌছে দেবেন একই টোটো চালক।

  • হোটেলে বেলা ১২ টার মধ্যে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে টোটো করে ভাগীরথি নদী পেরিয়ে চলে যান খোশবাগ। নবাব আলিবর্দ্দী খাঁ, নবাব সিরাজ-উ-দ্দৌলার সমাধিস্থল খোশবাগ।
  • খোশবাগ দেখে চলে যান ভট্টাবাটী ধামের পুরোনো শিব মন্দির দেখতে। মন্দিরের গায়ে পোড়ামাটির কাজ অসাধারণ।
  • এরপর যাবেন কিরীটেশ্বরী মন্দির দেখতে। একান্নপীঠের একটি হল এইটি, এখানে দেবীর কিরীট পড়েছিল।
  • এরপরের গন্তব্য চারবাংলা মন্দির। চারবাংলা মন্দির যাবার পথে পড়বে, ডাহাপাড়া জগদ্বন্ধু ধাম।
  • জগদ্বন্ধু ধাম দেখে চলে যান চারবাংলা মন্দিরের টেরাকোটার কাজ দেখতে। আজিমগনঞ্জ থেকে বেশ দূরে ভাগীরথির ধারে এই মন্দিরের গায়ে নানা দেবেদবীর মূর্তি খোদাই করা আছে।
  • একটু দূরেই রাণী ভবানী প্রতিষ্ঠিত শিবমন্দির দেখে চলে আসুন রোশনীবাগে। সুজাউদ্দিনের সমাধি দেখে, নদী পেরিয়ে চলে আসুন মোতিঝিলে। এখানে লাইট এন্ড সাউন্ড শো দেখে, কিছুটা সময় কাটিয়ে ফিরে যান হোটেলে।
  • পরের দিন একই টোটোতে বেরিয়ে পড়ুন তোপখানার উদ্দেশ্যে। এখানে দেখবেন জাহানকোষা কামান। তারপর, চলে যান মুর্শিদকুলি খাঁর সমাধি দেখতে কাটরা মসজিদে।
  • এরপরের গন্তব্য কাঠগোলা প্যালেস, এন্ট্রি ফী – ৩৫/৪০ জন প্রতি। গাইড ফি ৫০ টাকা মাত্র – একটি দলের জন্য। যাওয়ার পথে পড়বে ভগ্নপ্রায় ফুটি মসজিদ। কাঠগোলা প্যালেসে বোটিং করার ব্যবস্থা আছে। আছে জৈন মন্দির, পাখিরালয়। এখানেই ‘এক যে ছিল রাজা’ মুভির শ্যুটিং হয়েছিল।
  • কাঠগোলা বাগান দেখে পরপর দেখে নিন জগৎ শেঠের বাড়ী, নশীপুর রাজবাড়ি, রাধামাধবের মন্দির ইত্যাদি। ফেরার পথে জাফরাগঞ্জে মীরজাফরের বাড়ি এবং সমাধি দেখে আসুন মুর্শিদকুলি খাঁর কন্যা আজিমুন্নেসার সমাধি দেখতে।
  • এরপর হোটেলে ফিরে ফ্রেশ হয়ে চলে আসুন হাজারদুয়ারী চত্বরে। দেখে নিন ইমামবাড়া, “মদিনা”, ঘড়িঘর, বাচ্চাওয়ালী তোপ, হলুদ মসজিদ। সবশেষে হাজারদুয়ারী প্যালেস ও মিউজিয়াম। প্যালেস কিছু দরজা নকল, সিমেন্টের। দেখবেন অস্ত্রাগার, আর্টগ্যালারী, লাইব্রেরী । প্যালেস ও জগৎ শেঠের বাড়ীতে এক বিশেষ ধরনের আয়না দেখতে পাবেন, যাতে কেউ নিজের মুখ দেখতে পারে না।
  • এখান থেকে কিনতে পারেন পিতলের খেলনা কামান, শাড়ী ইত্যাদি। দ্বিতীয় দিনে, বেশীরভাগ স্থানেই টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হবে, গাইড নেবার জন্য জোর করবে।

এছাড়াও মুর্শিদাবাদে আরও অনেক জায়গা আছে যেগুলি খুব কম পরিচিত কিন্তু সেগুলোর সাথে অনেক ইতিহাস জড়িত। যেমন: চাঁদ সদাগরের বাড়ি (জজান), পঞ্চমুখি মহাদেব (বাগডাঙ্গা), পুরোনো সম্ভ্রান্ত গ্রাম পাঁচথুপি, বহরমপুর সমাধিস্থল, খেরুর মসজিদ, নিমতিতা রাজবাড়ী, কাশিমবাজার এর দুটি রাজবাড়ী, ডাচ সমাধি প্রভৃতি।

কিভাবে যাবেন

যারা কলকাতায় থাকেন তারা কলকাতা স্টেশন থেকে সকাল ৬.৫০ এর সময় আপ – হাজারদুয়ারি এক্সপ্রেস (13113) এ চড়ে মাত্র ৩.৩০ ঘন্টার মধ্যে পৌঁছে যেতে পারেন মুর্শিদাবাদ। যদিও শিয়ালদহের পরবর্তীতে এই ট্রেন এর স্টপেজে ব্যারাকপুর তার পরে রানাঘাট। দ্বিতীয় ক্লাস এর সিটিং রিসারভেশন এর ভাড়া মাত্র ৯০ টাকা। এছাড়াও অনেক জেনারেল কম্পার্টমেন্ট রয়েছে সিট পেতে অসুবিধা হয় না।

এছাড়া যারা উত্তর ২৪ পরগনা বা নদীয়া থাকেন তাদের জন্য রানাঘাট স্টেশন থেকে একটা মুর্শিদাবাদ স্প্যেশাল ট্রেন রয়েছে সকাল ৯.২০ মিনিটে – রানাঘাট – লালগোলা EMU (31773) – ফাঁকা থেকে ট্রেনটি সিট পেতে অসুবিধা হয় না – ভাড়া মাত্র ৩৫ টাকা। এই ট্রেন টি বনগাঁ থেকে রানাঘাট আসে স্পেসাল ট্রেন হিসাবে এবং তাঁর পর এই ট্রেনটি রানাঘাট – লালগোলা EMU হিসাবে চলতে শুরু করে ১১.৫০ নাগাদ পৌঁছে দেয় নবাবদের শহর মুর্শিদাবাদ।

কোথায় থাকবেন

হাজারদুয়ারী প্যালেসের কাছে প্রচুর বাজেট হোটেল আছে, আছে ইয়ুথ হোস্টেলও। তবে গঙ্গার ধারে ‘হোটেল অন্বেষা’ বেশ ভালো।

  • হোটেল অন্বেষা (09434115470)
  • ফ্রেন্ডস হোটেল (৯৭৩২৬০৯০৮৪)
  • হোটেল মঞ্জুষা (03482270321 ভালো বাগান আছে)। ভাড়া ৭০০-১০০০ টাকা
  • হোটেল ইন্দ্রজিৎ (9836381994)
  • হোটেল সম্রাট (03482251147)

তবে মনে রাখবেন, উপরিউক্ত হোটেলগুলিতে কিন্তু 5* সুবিধা পাবেন না।

গাইড

কার্ত্তিক ঘোষ (973385560/9775856705), এছাড়া হাজারদুয়ারীর কাছে অনেক গাইড পাবেন। ওখান থেকেও কথা বলে নিয়ে নিতে পারেন।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।