লেপচাজগত

ভালো লেগেছে
4
Ratings
রেটিংস ৪.৮২ (১৭ রিভিউ)

লেপচাজগত (Lepchajagat), দার্জিলিং এর পাহাড়ঘেরা একটি গ্রাম যা অফবীট লাভারদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ব্রিটিশরা আসার পর পরিচিতি পেয়েছিল এই আদিবাসী গ্রাম এখন যা জনপ্রিয় ‘উইকেন্ড ডেস্টিনেশন’! মধুচন্দ্রিমার জন্যও আদর্শ জায়গা। ওক, পাইন, রডোডেনড্রনে মোড়া রাস্তার দু’ধার। ‘মেঘ এখানে গাভীর মতো চরে’— যা মাঝে মাঝেই ঢেকে দেয় কাঞ্চনজঙ্ঘাকে। আকাশের মুখ ভার না থাকলে অবশ্য কাঞ্চনজঙ্ঘা হতাশ করবে না আপনাকে। সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখার স্বর্গীয় অভিজ্ঞতাটা কিছুতেই মিস্‌ করবেন না। বাহারি ফুল ছাড়াও প্রচুর পাখি চোখে পড়বে এখানে। ফায়ার-টেল্‌ড সানবার্ডের মতো বিরল প্রজাতির পাখিও। হাঁটতে বেরিয়ে ক্যামেরা রেডি রাখবেন সব সময়। আর বাইনোকুলারও। ফরেস্ট ট্রেল ধরে যতদূর মন চায় হেঁটে বেড়ান। পাশেই রয়েছে বিশাল চা-বাগানও। বিরল প্রজাতির কিছু অর্কিডের দেখা মেলে এই গ্রামে।

দার্জিলিং থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে লেপচাজগত। হাতে যদি বেশি সময় থাকে, লেপচাজগত ট্যুর প্যাকেজেই ঢুকিয়ে নিতে পারেন মিরিক, ঘুম, মানেভঞ্জন, বাতাসিয়া লুপ বা জোরপোখরির মতো জায়গাগুলো। কালিম্পং-কার্শিয়ংও ঘুরে আসা যায় এখান থেকে। এতগুলো জায়গা যাওয়ার সময় না থাকলে লেপচাজগৎ থেকে গাড়ি নিয়েই ঘুম মনাস্ট্রি, মিরিক লেক দেখে আসুন।

কখন যাবেন

লেপচাজগত এ যাওয়ার সেরা সময় অক্টোবর থেকে এপ্রিল।

কিভাবে যাবেন

শিলিগুড়ি থেকে ভাড়া বা শেয়ারড জীপে যেতে পারেন। কলকাতা থেকে বাস বা ট্রেনে নিউ জলপাইগুড়ি, বিমানে গেলে বাগডোগরা চলে যান। এরপর ভাড়া বা শেয়ারড জীপে। দার্জিলিংয়ে যাওয়ার পথে ঘুম’এ নেমেও শেয়ার ট্যাক্সিতে যেতে পারেন।

লেপচাজগতে কোথায় থাকবেন

থাকার ঠিকানা বলতে ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেস্ট ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড এর রিসোর্টই সবচেয়ে জনপ্রিয়। আগে থেকে বুকিং করে রাখতে পারেন। এ ছাড়া অন্যান্য হোম স্টে’র ব্যবস্থাও রয়েছে লেপচাজগত এ।

  • পাখরিন হোমস্টে, লেপচাজগত। রবিন তামাং (ফোন: ০৯৬১৪২৭০০৪৪, ০৮৩৪৮৯২৪৩৫৫)
  • আমায়রা হোমস্টে, করবিয়া, কার্শিয়াং। নিমেশ রাই (ফোন: ০৮১৪৫৭২৮১২৭)।
  • কাঞ্চনকন্যা হোম স্টে – 9593565309 ( শ্রী পাসাং তামাং )
  • সালাখা হোমস্টে – +919547491418, +9647744853
  • রেনু হোমস্টে – 06294293776, Tariff- 900/- per head per day.
  • Silver Pine Homestay – Om Prakash Gupta – 9733053840, 9564945661
  • লেপচা জগতে পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন নিগমের বাংলোতেও থাকতে পারেন। যোগাযোগ: কেবি ১৯, সেক্টর ৩, সল্টলেক, কলকাতা-৭০০০৯৮। ফোন: ০৩৩-২৩৩৫-০০৬৪, ২৩৩৫-৮৩২০।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending

  1. প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এই জায়গাটা খুবই পরিচিত । যারা দার্জিলিং এর কোলাহল থেকে দূরে থাকতে ভালোবাসেন তাদের জন্য এই গ্রাম স্বপ্নের মতো । লেপচাজগতে আপনার বিশেষ কিছু করার নেই বা দেখার নেই । সকালে ঘুম থেকে উঠে মিনিট পাঁচেক হাঁটলেই পৌছে যাবেন সানরাইজ ভিউ পয়েন্টে । নিচে দার্জিলিং শহরটা পুরো দেখতে পাবেন । আবহাওয়া ভালো থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা এখান থেকে খুব ভালো দেখা যায় । যারা Photography ভালোবাসেন আপনাদের জন্য subject এর অভাব হবে না । এক দু ঘণ্টা সময় এখানে অনাআসে কাটিয়ে দেওয়া যায় । তারপর ব্রেকফাস্ট সেরে একটা ট্যাক্সি ভাড়া করে Darjeeling Sightseeing এ বের হতে পারেন । তবে একটা বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, আর সেটা হলো বর্ষার সময় এখানে বেশ জোঁকের উত্পাত আছে ।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  2. যারা লোক সমাগম থেকে দূরে পাহাড়ি নির্জনতা পছন্দ করেন তারা সকলে যেন একবার Lepchajagat অবশ্যই ঘুরে আসবেন – খুব ভালো লাগবে। পাইন জঙ্গলের মধ্যে মেঘ-কুয়াশার এই যুগলবন্দী আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  3. আবহাওয়া খারাপ থাকার জন্যে লেপচাজগতে কাঞ্চনজঙ্ঘা এর দেখা পাইনি। এক ঝলক দেখা গিয়েছিল মেঘের ফাঁক দিয়ে ৫ মিনিটের জন্য। সেটা বাদ দিলে আমার চোখে লেপচাজগত খুবই সাধারণ। যারা লাভা, লোলেগাঁও, রিশপ ঘুরে এসেছেন তাদের কাছে খুব একটা আহামরি কিছু মনে নাও হতে পারে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পাওয়া গেলে লেপচাজগত ঘুরতে যাওয়া মানে সময় নষ্ট বলে মনে হয়েছে আমার কাছে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  4. লেপচাজগৎ খুব মিস্টি একটা পাহাড়ি গ্রাম। নির্জনতা এই গ্রামের মূল সম্পদ। পাহাড়ি শিশুগুলো মায়ের পিঠে চেপে কি সুন্দর নেমে যাচ্ছে পাহাড়ের নিচে। কেউ একমনে গাড়ি পরিস্কার করছে। কেউ ফুটবল এ ব্যস্ত। ২টো কি ৩টে দোকান। সব মিলিয়ে একটা সুন্দর প্রকৃতি। আর সব থেকে বড় প্রাপ্তি হাত বাড়লেই কাঞ্চনজঙ্ঘা। চোখ জুড়ানো কাঞ্চনজঙ্ঘা।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  5. কাঞ্চনকন্যা হোমস্টে

    লেপচাজগতের অসাধারণ নিস্তব্ধতায় পাইনের সারি গুনতেগুনতে পাসাং তামাং এর আতিথেয়তায় কীকরে যে দুদিন কেটেগেল বুঝতেই পারিনি। এই পুরো পরিবারটা যেভাবে আমাদের, বিশেষ করে আমার ৭২ বছরের বৃদ্ধ বাবাকে আগলে রেখেছিল, নিজের বাড়ির অভাব বুঝতে দেয়নি। এখানের খাবারের স্বাদ,পরিমান ও রকমারিত্ব ভোলার নয়। বিশেষ করে আমি যে বিষয়টা আপনাদের বলতে চাই তা হল এদের বিছানা। প্রতিটি বিছানায় electric blanket/mattress পাতা আছে, যার উত্তাপ নিজের পছন্দ মত control করা যায়। বিশ্বাস করুন, 3° ঠান্ডা এরকাছে হার মেনেছে কিন্তু এর জন্য একটা পয়সাও বেশি দিতে হয়নি আমাদের। আমি এর আগে অনেক জায়গায় গিয়েছি, অনেক হোমস্টেতে থেকেছি কিন্তু এমন সুব্যবস্থা কোথাও পাইনি। আপনারা যারা শীতে লেপচাজগত যাওয়ার প্লানিং করছেন কাঞ্চনকন্যা হোমস্টে এর নামটা মাথায় রাখতে পারেন। এখানে থাকলেই বুঝতে পারবেন এটি অন্যদের থেকে আলাদা কেন?

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  6. বর্তমান এর আধুনিক পরিষেবা সুবিধা থেকে বেশ দূরে এখন ও ” নাম না জানা ফুলের দেশ ” মেঘেরদের ঠিকনা লেপচাজাগৎ। মোবাইল নেটওয়ার্ক এর প্রতুলটায় Social Media থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়ে খুঁজে পেয়েছিলাম একটা অন্য ভালোলাগা। দল বাধা পাইন গাছের বন, নাম না জানা পাখির ডাক আর এক টানা ঝিঝির গান ফেসবুক এর অনুপস্থিতি বুঝতে দিলো না। গল্পে পড়েছিলাম মেঘেরা নাকি পাহাড় এ খেলা করে, এই গল্পোটা গল্পোই থেকে যেত যদি না লেপচাজগৎ যাওয়া হতো। বড়োই খাম খেয়ালই লেপচার মেঘের। আমাদের কলকাতার তপ্ত হৃদয় সূর্য যেন লেপচায় কোনো লাজুক লাবণ্যময়ী নারী যে মেঘের ঘোমটার আড়ালে মুখ লুকায় বারবার। কিন্তু যখনই ঘোমটার আড়াল সরে তখনই নিজের আলোয় কোহিনূর করে দেয় পাইন গাছের থেকে গড়িয়ে পড়ে কুয়াশায় জলকে আর নিজের উষ্ণ পরশ মাখিয়ে দেয় প্রকৃতির কোনায় কোনায়।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  7. Reservation এর বহুচর্চিত টেনশন কাটিয়ে সপরিবারে মহানবমীর সকালে পৌঁছে গেলাম লেপচাজগৎ। অসাধারণ এই জায়গা। কপাল একান্তই খারাপ থাকায় দেখতে পাইনি কাঞ্চন জঙ্ঘার শোভা কিন্তু প্রানভরে উপভোগ করেছি পাইন বনের আর পাহাড়ের সাথে মেঘের লুকোচুরি খেলা। চোখ জুড়িয়ে গেছে নাম না জানা বহু ফুলের সৌন্দর্য্যে। আমাদের সারা ট্যুরে খুঁজে পেয়েছি অদ্ভুত সুন্দর সব ফুল।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  8. শহুরে কোলাহল ছড়িয়ে মেঘের রাজত্বে এ যেন এক অন্য স্বর্গীয় জগত। সহজ সরল মানুষ, অসাধারণ মোমো, ক্রিস্টাল ক্লিয়ার কাঞ্চনজংঘা, মেঘের মুলুক আর জমাটি ঠান্ডা এই হলো এই জায়গার আকর্ষন।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  9. অনেক পাহাড় ঘুরেছি কিন্তু বর্ষায় পাহাড় যে কত সুন্দর হতে পারে সেটা নাহয় একবার দেখেই আসুন। কথা দিচ্ছি চোখ আর মন দুটোই ভরে যাবে। কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা একবার এর জন্যও পাইনি কিন্তু সত্যি বলতে সেটা আশাও করি নি। গিয়েছিলাম পাইন আর মেঘ দেখতে, তাই সেটা দেখে আল্লাদে আট নয় চোদ্দো খানা হয়ে ফিরেছি।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  10. যদি প্রকৃতির মধ্যে ডুবে তার সরল স্নিগ্ধ সৌন্দর্য উপভোগ করতে চান তো কিছু সময় কাটান এখানে। আর কতদিন এমনি থাকবে বলা যায় না। একের পর এক বাড়ি বা হোটেল বা রিসোর্ট হলেই সর্বনাশ হবে যেমন মিরিকের সর্বনাশ হয়েছে। আমি ৪০ বছর আগেও গিয়েছি কত প্রাকৃতিকভাবে সুন্দর ছিলো আর এখন উন্নয়নের নামে সর্বনাশ হচ্ছে। এবার গিয়ে খুবই খারাপ লেগেছে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  11. যারা লোক সমাগম থেকে দূরে পাহাড়ি নির্জনতা পছন্দ করেন তারা সকলে যেন একবার Lepchajagat অবশ্যই ঘুরে আসবেন – খুব ভালো লাগবে। পাইন জঙ্গলের মধ্যে মেঘ-কুয়াশার এই যুগলবন্দী আপনাকে মুগ্ধ করবেই।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  12. লেপচাজগৎ থেকে ঘুরে আসুন জোড়পোখড়ি। সুখিয়াপোখড়ি বাজার হয়ে জোড়পোখড়িতে গিয়ে একটা সুন্দর লেক নাম কালীয়দমন লেক দেখে আসা যায়। লেকের মাঝে পাঁচমাথার সাপ আর চারপাশে পাইনের ফরেস্ট। অসাধারন এক জায়গা।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  13. এক শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ। এখান থেকে দিনে কাঞ্চনজঙ্ঘা আর রাতের দার্জিলিং…উফ..!!!

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  14. লেপচাজগৎ কিন্তু প্রকৃতিপ্রেমিকদের জায়গা। পাহাড়ের উল্টোদিকে দার্জিলিংকে সুন্দরভাবে দেখা যায়। দেখা যায় ভালোবাসার কাঞ্চনজঙ্ঘাকে। পাবেন পাইন, ধুপি গাছের ভিড়ে প্রকৃতিকে। ভালো লাগতে বাধ্য।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  15. লেপচাজগত বরাবর আমার ভাললাগার মধ্যে একটা জায়গা। অফিস ছুটির ফাকে টুক করে একটু ঠান্ডার ছোয়া নিতে, একটু ফ্রেশ অক্সিজেন এর খোঁজে ছুটে যাই এখানে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  16. নিজের সাথে একটু একান্তে সময় কাটানোর জন্যে বড্ড ভালো একটা জায়গা, হয়ত ফ্যামিলি নিয়েও 🙂

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  17. দার্জিলিংয়ের এত কাছে এত নির্জন জায়গা আর কোথাও আছে বলে আমার মনে হয় না। যাঁরা দার্জিলিং যাবেন বলে ঠিক করেছেন তাঁরা একদিনের জন্য অন্তত লেপচাজগতে গিয়ে থেকে আসুন। তাহলে পাহাড়কে ভাল ভাবে অনুভব করতে পারবেন। আর দার্জিলিঙের আসল সৌন্দর্য লেপচাজগতে না থাকলে বুঝতে পারবেন না। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে গিয়ে যাঁরা টাইগার হিল থেকে নানা কারনে বিফল মনোরথে ফিরে এসেছেন তারা কিছুটা হলেও আশা করি লেপচাজগতে সেই দুঃখ ভুলতে পারবেন।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না