ক্ষীরাই

ভালো লেগেছে
0
ট্রিপ
১ দিন
খরচ
১০০০ টাকা

কাঁসাই নদীর তীরে অবস্থিত ক্ষীরাই (Khirai) একটি স্বপ্নের গ্রাম, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার একটি ছোট্ট স্টেশন। যেখানে একবার গেলে পরের বার আসার ইচ্ছা হবেই। কয়েক বছর ধরেই ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে ক্ষীরাই একটি পরিচিত নাম হয়ে উঠেছে। এতো রকম ফুলের চাষ এবং তার বিচিত্র রূপ, কখন ২-৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাবে বুঝতে পারবেন না। ক্ষীরাই যেন দৈনন্দিন জীবনের ব্যস্ততার মাঝে বেঁচে থাকার অক্সিজেন। বিঘার পর বিঘা জমিতে ফুটে আছে হরেক রকমের রঙ-বেরঙের ফুল। ট্রেনে যেতে যেতেই যা দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। স্টেশনে নেমে প্ল্যাটফর্মের পিছনের দিকের রাস্তা ধরে সোজা হাঁটতে হবে প্রায় দেড় কিলোমিটার। এখানে কোন পাকা রাস্তা নেই। পাকা রাস্তা তো দুর অস্ত, কোন রাস্তা নেই বললেই ঠিক হবে। রেললাইনের পাশ ধরে লাল কাঁকুড়ে মাটির যে সরু রাস্তা আছে সেই বরাবর সোজা হাঁটা লাগাতে হবে। যেই লাইনের পাশ ধরে হাঁটতে হবে সেখান দিয়ে অহরহ দূরপাল্লার ট্রেন ছুটছে। তাই সাবধানে চলা জরুরী। হাঁটতে হাঁটতে কাঁসাই ব্রীজ পরবে। সেখান থেকে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমেই ফুলেদের স্বর্গরাজ্য, The land of Flowers.

যতোদুর চোখ যাবে দিগন্ত জুড়ে ফুলেদের রাজত্ব। চারদিকে শুধুই রঙিন ফুলের বাহার। তার মাঝে সরু আল ধরেই হাঁটতে হবে। ফুলেদের পাশাপাশি কিছু সব্জিও আছে। ব্রীজের একপাশের ফুল দেখে ক্ষান্ত না হয়ে হেঁটে রেললাইনের অপর প্রান্তে চলে যান। সেদিকে যেতেই মন কেড়ে নিবে ড্রইং খাতায় ছোটবেলায় আঁকা গ্রামের সেই মনকাড়া দৃশ্য। ছোট ছোট কিছু মাটির বাড়ি, সামনে গোয়াল ঘর, সেখানে যেন গরুগুলো কিছু অচেনা মানুষ দেখে ডাক ছেড়ে আহ্বান জানাচ্ছে। ধান কেটে নেওয়ার পর পরিত্যক্ত জমি। গাছভরা তেঁতুল, পেঁপে, নারকেল। এদিকেও বিঘা বিঘা জমি জুড়ে গাঁদা ফুলের চাষ হয়।

একদিনে ঘুরে আসার জন্য ক্ষীরাই দারুন তবে শুকনো খাবার, জল অবশ্যই নিয়ে যাবেন। কারন মাঠের মাঝে কিচ্ছু পাবেন না। আর গ্রামে কোন থাকার জায়গা বা হোটেল নেই।

কখন যাবেন

ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার আগেই যাবেন না হলে ফুল কমে যাবে। ওই লাইনে সারারাতই ট্রেন চলে, সব থেকে ভালো যদি ভোর ৬ টার আগে পৌঁছাতে পারেন। ভোরের ক্ষীরাই কিন্তু অপরূপ। না হলে বেলার দিকে যাবেন যেন বিকেলটা ওখানে কাটিয়ে আসতে পারেন।

কিভাবে যাবেন

হাওড়া থেকে খড়গপুর বা মেদিনীপুর লোকাল, যে কোন একটাতে উঠতে হবে। দুই ঘন্টার মত সময় লাগে ট্রেনে যেতে। পাসকুরার পরের স্টেশন হলো ক্ষিরাই। স্টেশনে নেমে তিন নম্বর লাইন ধরে বরাবর পাসকুরা দিকে ২.৫ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হবে। কিছুদূর যাওয়ার পর পড়বে কংসাবতী বা কসাই নদী। নদীর দুদিকেই ফুলের চাষ হয়। ২-৩ ঘণ্টা কি করে কেটে যাবে সত্যি টের পাওয়া যায় না।

এছাড়া পাশকুড়া লোকালে পাশকুড়া নেমে টোটো পাবেন, বলবেন কাঁসাই ব্রিজ যাব।

কিছু জরুরী তথ্য

  • রেললাইনের পাশের রাস্তা ভালো নয়, খুব সরু। বয়স্ক মানুষেরা একটু সাবধানতা অবলম্বন করবেন গেলে।
  • ক্ষীরাই স্টেশনে বা আশেপাশে কোন দোকান নেই, তাই জল বা কিছু শুকনো খাবার সঙ্গে রাখবেন।
  • ওখানে কোন বাথরুম নেই, একমাত্র ক্ষীরাই বা পাশকুড়া স্টেশন ছাড়া। সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে পায়ে হেঁটে করতে হবে। কোনরকম পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পাবেন না।
  • ক্ষীরাইতে গিয়ে ফুল দেখুন। দয়া করে ফুল ছিঁড়বেন না 🙏 মনে রাখবেন, এটা তাঁদের জীবিকা, তাঁদের অন্নসংস্থান।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।