ডুয়ার্স

ভালো লেগেছে
5
Ratings
রেটিংস ৪.৮২ (১৭ রিভিউ)

শিলিগুড়ি শহর থেকে সামান্য দূরেই রয়েছে অসাধারন এক ট্র্যাভেল ডেস্টিনেশন – ডুয়ার্স। ডুয়ার্স ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে ভূটান সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। ডুয়ার্স পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও আসাম রাজ্যের সংলগ্ন এলাকায় এবং পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। এখানকার বসবাসকারী মানুষজনেরা বাংলা, আসমিয়, নেপালি ভাষা বলে। ডুয়ার্স বিগত দুই দশক ধরে একটি খুব জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র নামে খ্যাতি লাভ করেছে।

ছোটো বড় পাহাড়। পাহাড়ি রাস্তা এঁকে বেঁকে মিশেছে দূরের পাহাড়ে। আঁধো আলো পরিবেশ। কুশায়ার কারণে স্পষ্ট করে সবকিছু দেখা যায় না। তার মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে শাল, সেগুন গাছ। এখানে-ওখানে দু-একটা ঘরবাড়ি। সবকিছু মিলিয়ে ডুয়ার্সের পরিবেশ নিঝুম, নিরিবিলি। অপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য ডুয়ার্স অন্যতম বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা। ডুয়ার্সের প্রাকৃতিক রূপ বারবার জায়গা করে নেয় সাহিত্যে। সমরেশ মজুমদারের “কালবেলা” নিশ্চয় অনেকে পড়ে থাকবেন। চারদিকে সবুজে ঢাকা পাহাড়। ঠান্ডা মনোরম পরিবেশ। প্রকৃতির এমন রূপ দেখে মুগ্ধ হবেন।

Dooars কথার অর্থ দুয়ার বা দরজা। ব্রিটিশ আমলে সেখানকার নাম হয় ডুয়ার্স। প্রকৃতির সৌন্দর্য তো আছেই, তাছাড়াও সেখানে রয়েছে চাপরামারি, গজলডোবা, বক্সা টাইগার রিসার্ভ, বক্সা ফর্ট, গরুমারা জাতীয় উদ্যান, চেলসা, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান, রাজাভাতখাওয়া, বিন্দু, হাসিমারা, গোঁরবাতান, ঝালংয়ের মতো সুন্দর জায়গা। প্রথমেই ঘুরে দেখুন গোরুমারা / গরুমারা আর চাপরামারি। সেখানে রয়েছে অভয়ারণ্য। ১৯৪৯ সাল থেকে এটি অভয়ারণ্য, এর আগে অবশ্য তা শিকার করা প্রাণীদের সংরক্ষণকেন্দ্র ছিল। গোরুমারা জঙ্গলে ক্যাম্প করতে পারেন। রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হবে। কিছু সময় সেখানে কাটিয়ে বেরিয়ে পড়ুন ডুয়ার্সের উদ্দেশে।

ডুয়ার্স উত্তরবঙ্গে অবস্থিত একটি সুনামধন্য পর্যটন কেন্দ্র। ডুয়ার্স ভারতের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে ভূটান সংলগ্ন আলাকার অবস্থিত। ডুয়ার্স পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ও আসাম রাজ্যের সংলগ্ন এলাকায় এবং পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত। এখানকার বসবাসকারী মানুষজনেরা বাংলা, আসমিয়, নেপালি ভাষা বলে। ডুয়ার্স বিগত দুই দশক ধরে একটি খুব জনপ্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র নামে খ্যাতি লাভ করেছে। এখানকার বিশেষ কিছু জায়গা হলো – বক্সা টাইগার রিসার্ভ, বক্সা ফোর্ট, গরুমারা জাতীয় উদ্যান, চেলসা, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান, রাজাভাতখাওয়া, বিন্দু, হাসিমারা, গোরুবাথান ইত্যাদি।

চালসা গৌরীগাঁও

লাটাগুড়ি গরুমারা তো রিসোর্টের মেলা। ৩১ নাম্বার জাতীয় সড়কের দুইধারে তো রিসোর্ট, হোটেলের মেলা। এর বাইরে যদি একটু অফবিট সবুজ খোঁজেন তাহলে ঠিকানা হলো লাটাগুড়ি গরুমারা থেকে ২০ কিমি আগে (মালবাজারের দিকে) চালসা। সেখান থেকে ১ কিমি উপরে গৌরীগাঁও। ছোটো এক অফবিট জনপদ। কিন্তু চারিদিকে সবুজের মেলা। সবুজের কোলেই থাকবেন আক্ষরিক অর্থে। পায়ে পায়ে ঘুরে নেবেন কিলকূট চা বাগান, হিলটপ। হিলটপ থেকে দেখবেন চাপড়ামারী ফরেস্টের উপরের অংশ এবং চালসা ভিউ পয়েন্ট থেকে প্রকৃতি।

গোরুবাথান এবং ফাগু

নিউ মাল স্টেশন থেকে নেমেই চলে যান গোরুবাথান। বাজার পেরিয়ে ২ কিমি গেলেই চারিদিকে পাহাড় এবং এক অপূর্ব নদী। নাম চেল খোলা। এটি একটি পিকনিক স্পট। পাহাড়ে ঘেরা খরস্রোতা চেল নদীর ধারে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটিয়ে দিন বুঝতেই পারবেন না। চেল খোলা থেকে সোজা এক কিমি গেলেই ফাগু গ্রাম। এক মনাসট্রি আছে। নাম। ফাগু মনাসট্রি। এরপর এই রাস্তা ধরেই চলে যাওয়া যায় ঝান্ডি, লাভা। সে আর আরেক সার্কিট।

ঝালং বিন্দু পারেন

লাটাগুড়ি চালসা হয়ে খুনিয়া মোড় থেকে ঘুরে আসা যাক ভুটানের সীমান্তে। ঝালং, বিন্দু, পারেন গ্রাম থেকে। ঝালং একটি অপূর্ব সুন্দর গ্রাম। ঝালং খোলা এবং রঙ্গু খোলা নিয়ে বাস। দূর থেকে দেখা যায় ভুটান। এখানে এক মনাসট্রি আছে। ঝালং দিয়েই বয়ে চলেছে জলঢাকা নদী। ঝালং খোলা এবং রঙ্গু খোলা জলঢাকা নদীতেই মিশেছে।

ঝালং থেকে যাওয়া যাক ছবির মত গ্রাম পারেন। ১২ কিমি দূরত্ব। পারেন থেকে আর একটু এগোলেই ভারতের শেষ গ্রাম বিন্দু। এরপরই ভুটান সীমান্ত। বিন্দুতে আছে জলঢাকা জলবিদ্যুৎ ব্যারেজ। ওপারেই ভুটান। অনেক সময় হেঁটেও ঘুরে আসা যায়। ভুটান থেকে ভুটানিরা হেঁটেই বাজার করতে চলে আসে।

সামসিং সুলতানাখোলা রকি আইল্যান্ড

লাটাগুড়ি গরুমারা হয়ে চালসা মোড় সেখান থেকে মেটেলি হয়ে প্রথমেই যাওয়া যাক চা বাগানের গ্রাম সামসিং। কালিমপং জেলায় সামসিং, রকি আইল্যান্ড এবং সুলতানে খোলা। চারিদিকে সবুজ চা বাগানের। মধ্যে সামসিং গ্রাম।

সামসিং পেরিয়ে মিনিট কুড়ির পথ রকি আইল্যান্ড। মূর্তি নদী এখানে বড় বড় পাথরের মধ্যে এক অপূর্ব সুন্দর মনোরম ট্যুরিস্ট স্পট তৈরী করেছে। বর্ষায় কিছুটা বিপদজনক। অন্য সময় পিকনিক এবং জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট রকি আইল্যান্ড। ঘন্টা খানেক সময় কিভাবে বেরিয়ে যাবে ধরতেই পারবেন না।

রকি আইল্যান্ড পেরিয়ে চলুন কমলালেবুর দেশ সুলতানে খোলা। ঝুলন্ত ব্রীজের জন্য সুলতানে খোলা বিখ্যাত। আর শীতকালে হাতের নাগালে কমলালেবু দেখতে/খেতে চাইলে সুলতানে খোলা আসতেই হবে। আসলে কমলা লেবু (সুনতালা) আর ছোটোনদী (খোলা) নিয়ে সুলতানেখোলা।

কখন যাবেন

জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পার্ক বন্ধ থাকে।

কিভাবে যাবেন

ঢাকার কল্যাণপুর থেকে এসআর, শ্যামলীসহ আরো কিছু পরিবহনের বাসে বুড়িমারী যাওয়া যায়। ভাড়া ৭০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। ওপার থেকে টাটাসুমোয় লাটাগুড়ি পৌঁছতে লাগে তিন ঘণ্টা। ভাড়া তিন হাজার টাকা। শেয়ারের জিপে জনপ্রতি ভাড়া ৩৫০ টাকা। এক রাত লাটাগুড়ি তো আরেক রাত চাপরামারিতে থাকতে পারেন। লাটাগুড়ির গরুমারা জঙ্গল ক্যাম্পে থাকতে ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসারের (জলপাইগুড়ি) সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। বন বিভাগের আবাসে ভাড়া এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া অনেক হোটেলও আছে। আটজনের একটি ভ্রমণদলের দুই দিনে জনপ্রতি খরচ হতে পারে ১০ হাজার টাকা।

অথবা কলকাতা থেকে ট্রেনে করে পৌঁছে যেতে পারেন নিউ জলপাইগুড়ি।

কোথায় থাকবেন

চালসা এবং গরুমারার জঙ্গলে ঢোকার গেটের মাঝখানে জঙ্গল এবং বড়দিঘি চা বাগান। এর মাঝখানেই টিলাবাড়ি। সেখানেই তৈরি হয়েছে রেস্তোরাঁ, পানশালা এবং সময় কাটানোর জায়গা। এর পরেই রয়েছে পশ্চিম ডামডিম। আপালচাঁদ এবং তার ঘেরা জঙ্গলে তৈরি হয়েছে কেন্দ্রটি। দুই শয্যার সুন্দর আটটি কটেজ, রেস্তোরাঁ এবং বন্যপ্রাণীদের দেখার জন্য তৈরি হয়েছে ওয়াচটাওয়ারও। একই ভাবে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের মালবাজার ও চালসার মাঝে সাথকিয়া কেন্দ্রটি। পাশেই রয়েছে নেওড়া এবং সাথকিয়া নদী। মেটেলির ছোট ছোট পাহাড়। এখানে রেস্তোরাঁ, শৌচাগার, ফুডকোর্ট, শিশুদের জন্য পার্কও থাকছে। একই ব্যবস্থা করা হয়েছে নদী, চা বাগান ঘেরা ইনডং এ। চালসা এবং মেটেলির মধ্যে কেন্দ্রটি তৈরি রয়েছে। এ ছাড়া চালসা লাগোয়া মঙ্গলবাড়িতে তৈরি হয়েছে ছ’টি দুই শয্যার কটেজ, একটি আট শয্যার ডরমেটরি। রেস্তোরাঁ ছাড়াও থাকছে নানান সুযোগ সুবিধা।

আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসন বেশ কিছু হোম স্টে তৈরি হয়েছে সরকারি উদ্যোগে এবং এর নাম দিয়েছে ব্লু হোম স্টে। আলিপুরদুয়ার জেলা পর্যটন দপ্তরই বিষয়গুলির দেখভাল করেছে। তৈরি হয়েছে ১২টি হোম স্টে। চারটি চিলাপাতায়, চারটি টোটোপাড়ায়। কুমারগ্রাম ও ফালাকাটায় রয়েছে দুটি করে হোম স্টে।

খাবারের খোঁজ

লাটাগুড়ির চমচম না খেয়ে ফিরবেনই না। এক একটা চমচম ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি। পেল্লাই সাইজের। ১৫০/-, ২০০/-, ৩০০/- টাকা পিস। আসলে এটাই (চমচম) লাটাগুড়ির বিখ্যাত। এছাড়া ছোটো নর্মাল সাইজের ক্যাডবেরী চমচমও পাওয়া যায়। ভয়ানক রকমের সুস্বাদু মিষ্টি। খেলে আপনার ভালো লাগবেই। এছাড়া খেতে পারেন লাটাগুড়ির লাংচা।

বর্ষায় উত্তরবঙ্গ যাবেন আর বোরোলি মাছ খাবেন না তাই কখনো হয়? উত্তরের তিস্তা, জলঢাকা, তোর্সা, কালজানি নদীর রূপালী ফসল হলো বোরোলি মাছ। ইলিশ মাছের মতো দামী। ৭০০-৮০০ টাকা কেজি। একবার খেলে স্বাদ সারাজীবন মনে থাকবে। বর্ষার ডুয়ার্স ভ্রমণে বোরোলি মাছ না খেলে জানবেন আপনার ভ্রমণ অসম্পূর্ন রয়ে গেলো। তবে সাবধান চালানী কমদামী বোরোলি মাছও (৩০০ টাকা কেজি) পাওয়া যায়। এরস্বাদ তুলনামূলক কম।

ঘুরতে যেয়ে পদচিহ্ন ছাড়া কিছু ফেলে আসবো না,
ছবি আর স্মৃতি ছাড়া কিছু নিয়ে আসবো না।।

  • 2
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    2
    Shares
দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।

Sending

  1. ডুয়ার্স ভ্রমণ ছিল সত্যিই এক অনবদ্য অভিজ্ঞতা। ট্রেন থেকেই দেখেছিলাম ময়ুরের নাচ। মনে পরে রাতের বেলায় আমাদের হোটেলে দাতাল হাতির ঢুকে পরা। হোটেল এর ওয়াচ টাওয়ার থেকে আমরা দেখেছিলাম। ডুয়ার্স এর রুপ একবারে সবটা উপভোগ করা যায় না তাই আবার কোন একদিন বেরিয়ে যেতে পারি সেই সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  2. পথের দুপাশে সবুজ ঘন জঙ্গল, আলো আধারির মায়া, বাতাসে কেমন যেন জংলা বুনো গন্ধ! ডুয়ার্সের জঙ্গল সবসময় বেশ মায়াবী এবং রোমাঞ্চকর। ভারতের প্রচুর জঙ্গল ঘুরলেও ডুয়ার্সের বক্সা টাইগার রিজার্ভের মতো এমন রূপে রসে জাতীয় উদ্যান পাওয়া দুষ্কর।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  3. শীতকালে ডুয়ার্সের তাপমাত্রা ৬°-১০° এর মধ্যে থাকে। আমি ও আমার বন্ধুরা গেছিলাম ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। মূর্তি নদীটি অসম্ভব সুন্দর। টলটলে কাচের মতো জল। সামনেই গরুমারা ও চাপরামারি জঙ্গল। চাইলেই জঙ্গল সাফারি করতে পারেন আর উপরি পাওনা হিসেবে অনেক চা বাগান তো আছেই।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  4. বন পাহাড়ের দেশ - ডুয়ার্স

    অরণ্য এবং পাহাড়ের এত সুন্দর মেলবন্ধন এর আগে কোনদিনও দেখিনি। যদিও আমাদের সফর ছিল খুবই স্বল্প সময়ের, তবুও যেটুকু ঘুরেছি তা খুব সুন্দর ভাবেই উপভোগ করেছি।

    বাগান ঘেরা রিসোর্ট, বিস্তীর্ণ চা বাগান, জল ও পাথরের কোলাকুলি, মেঘ পাহাড়ের লুকোচুরির বর্ণনা বা বিশেষ করে বৃষ্টি ভেজা অরণ্যের যে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নিজের চোখে দেখেছি তা লিখে বর্ণনা করা যাবে না। বার বার মনে হয়েছে যেন সেখানেই হারিয়ে যাই এবং সেই স্মৃতি এখনও মনে এমন ভাবে গেঁথে রয়েছে, যার টানে অনেকবার সেখানে ছুটে যাওয়া যায়।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  5. আমার ডুয়ার্স ট্যুরে ছিলো ঝালং, বিন্দু, মূর্তি, সুনতালেখোলা, সামসিং, রকি আইল্যান্ড, লালিগুরাস ঘোরা। ডুয়ার্স অনেক বড়ো আমরা তার সামান্য ছোঁয়া টুকু নিয়েছি। পরে আবার যাওয়ার ইচ্ছা রইলো।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  6. রকি আইল্যান্ড

    নদী যখন ঝর্ণা হয়ে যায় তার নাম দিতে পারো রকি আইল্যান্ড। নদীর নাম মূর্তি। ঝর্ণা, নুড়ি ,পাহাড় কিছু আদুরে গাছ আর সেলফিপ্রেমী অজস্র মানুষের ভিড়ের নাম রকি আইল্যান্ড।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  7. বর্ষায় ডুয়ার্সকে যে এতো অপরূপ সুন্দর লাগে তা আগে জানা ছিল না। চারিপাশে কেবল সবুজের সমাবেশ এবং বিশুদ্ধ বাতাস, যেটা শহরবাসীদের কাছে আজকাল ভীষণ অপরিচিত! রাস্তার দুপাশের চা বাগানগুলো এখানকার পরিবেশে এক আলাদা মাত্রা যোগ করেছে! এছাড়াও যেটি মূল আকর্ষণ ছিল সেটি হলো বর্ষায় চনমনে হয়ে ওঠা মূর্তি নদী আর সেখানে স্নান না করাটা অনেকটা বোকামিই হবে আমার মতে।

    তাই সবশেষে এই ট্যুর টাকে পাহাড়, নদী, জঙ্গল, চা বাগান এসবের একটি কম্বো প্যাক বললে খুব একটা ভুল হবে না!

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  8. ডুয়ার্স বলতে কি বোঝায়? লাটাগুড়ি, জলদাপাড়া, হলং এর বনবাংলো, নাকি মূর্তি, মেটেলি, রাজাভাতখাওয়ার রিসোর্ট? তার আশে পাশের জঙ্গলটাও না হয় ধরেই নিলাম, জন্তু জানোয়ারগুলোও! ব্যাস?

    আমার মনে হয়, ডুয়ার্স মানে আরো অনেক বিস্তৃত কিছু! জঙ্গল ডুয়ার্সের সিগনেচার হলে, চা বাগান গুলোও তাই! সমতলে নেমে আসা পাহাড়ি নদী, নাম না জানা গ্রাম, অনেক দূরে দূরে থাকা ঐতিহ্যবাহী শহর, পাহাড়ের শুরু, সব নিয়েই ডুয়ার্স! সত্যি যদি ডুয়ার্স বেড়াতে চান, হাতে দিন দশেক সময় রেখে চলতে হবে! বনানী, পল্লীশ্রী, চা বাগান, রাজতান্ত্রিক নাগরিক সভ্যতার ছায়া, নীলচে সবুজ পাহাড়, মাইলের পর মাইল জুড়ে একটানা ধুধু পথ, রাস্তার পাশের হোটেলের মোটা চালের ভাত-মাছ, টিনের চালের বাড়ি, বাঁশের বেড়া দেওয়া বাড়ি, আর সমতলে নেমে আসা বুকে চড়া নিয়ে টিকে থাকা ও বর্ষায় মারাত্মক হয়ে ওঠা পাহাড়ি নদীগুলি, বাঁশঝাড়ে ঢাকা পুকুরগুলি, সেখানকার ঢিমেতালে বয়ে চলা জীবনপ্রবাহ,আদিবাসী সংস্কৃতি, সবকিছু নিয়েই ডুয়ার্স!

    ডুয়ার্স সুন্দরী, ডুয়ার্স মোহময়ী- রহস্যে ঘেরা উত্তরবঙ্গ তথা উত্তর পূর্ব ভারতের একটা সবুজ টুকরো! তিনদিনেই শেষ করবেন না ডুয়ার্স অভিযান, যদি একবারে না পারেন, হাতে সময় না থাকে, আবার যান, বারে বারে যান, বিভিন্ন দিকে ঘুরে আসুন! ডুয়ার্স বৈচিত্রের সম্ভার নিয়ে আপনাদের অপেক্ষায় থাকে, পরতে পরতে তার রহস্যভেদ হয়, একবারে নয়!

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  9. ডুয়ার্স অনেক বিস্তৃত জায়গা। তার বিভিন্ন ভাগ আছে, একেকটার একেকরকম আকর্ষণ। কোনদিকে বনের বিস্তার আবার কোনদিকটা পাহাড়, নদী, ঝোরা। সাধারণত পূর্ব ডুয়ার্স এবং পশ্চিম ডুয়ার্স এই দুভাগে বেড়ানো যায়। পুরোটা একসঙ্গে ভালোভাবে কভার করা যায় না।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  10. ছোটোবড় পাহাড়। পাহাড়ি রাস্তা এঁকেবেঁকে মিশেছে দূরের পাহাড়ে। আঁধোআলো পরিবেশ। কুশায়ার কারণে স্পষ্ট করে সবকিছু দেখা যায় না। তার মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে শাল, সেগুন গাছ। এখানে-ওখানে দু-একটা ঘরবাড়ি। সবকিছু মিলিয়ে ডুয়ার্সের পরিবেশ নিঝুম, নিরিবিলি।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  11. যারা সত্যি প্রকৃতিকে ভালোবাসেন বা প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখতে ভালবাসেন, ঘুরতে পারেন সবুজের দেশ ডুয়ার্স এ। কি নেই ডুয়ার্স এ? জঙ্গল, পাহাড়, নদী, ঝর্ণা, মাঝে মাঝে মেঘের খেলা, বন্য প্রাণীদের ডাক, আর যেটা না বললে বাকি থেকে যায়, এখানকার লোকেদের আতিথেয়তা। তাই আমার মনে হয় ডুয়ার্স এক এবং অদ্বিতীয়।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  12. হাতে যদি সময় থাকে তবে দেরী না করে ঘুরে আসুন ডুয়ার্স। লাটাগুড়ি অরন‍্যে বিশুদ্ধ বাতাস কলকাতাতে তো অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছু নয়। ধূপঝোরার গাছবাড়ি সাথে ঐরাবৎ এর পিঠে বনবিহার, ভাগ‍্য সহায় হলে হরিণের দল, গণ্ডার, বাইসন এর দেখাও পাবেন। আর ময়ূর তো আপনার এই কয়েকদিনের সাথী। মূর্তি নদীর ধারে একটা দিন না কাটালে পাহাড়ী নদীর রূপ দেখা যাবে না। সামসিং‍ এর চা বাগান,ঝালং,বিন্দু কোনোটাই বাদ দেওয়া যায় না। গুরুমারা, জলদাপাড়া অরন‍্যের শোভা দেখে চলুন বক্সা জয়ন্তীর দিকে। চিলেপতার অরন‍্যের রূপ, দেড় কিমি হেঁটে পুখুরি লেক দেখার পর শরীরের ক্লান্তি মিটে যায়। বাড়ী ফেরার আগে কোচ রাজাদের বাড়ী আর মদনমোহন মন্দিরের দর্শনটা করেই ট্রেনে উঠুন।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  13. যদি সবুজ প্রকৃতি, ক্ষরস্রোতা নদী আর ওয়াচ টাওয়ারে বসে অফুরন্ত বন্যপ্রাণ দেখতে চান, তবে বর্ষায় একবার ডুয়ার্স থেকে ঘুরে আসুন।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  14. চাপড়ামারি ওয়াচটাওয়ার ঘোরার জন্য মূর্তি থেকে অনুমতি পত্র,গাড়ি ভাড়া ও গাইড নিতে হবে। গাড়ি ভাড়া 1000/- গাইড 180/- টিকিট 60/- প্রতি জন।

    গরুমারা জঙ্গল সাফারির জন্য অনুমতি পত্র গরুমারা থেকে নিতে হবে।গাড়ি করে জঙ্গলের মধ্যে (30/40 km)ঘোরার ভাড়া 1700/- টাকা। গাইড 160/- টাকা।এবং টিকিট 25/- টাকা প্রতি জন।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  15. অরণ্য আর প্রকৃতির শান্ত কোলাহল বর্জিত রূপ অন্তর দিয়ে অনুভব করতে পারলেই ডুয়ার্স ভালো লাগবে নয়তো আপনি আশাহত হতে পারেন।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  16. Great Place for Nature Lovers

    Dooars is a great place for nature lovers, who loves to travel in quite and peaceful place to feel the beauty of nature. Gorumara Jungle Safari experience was awesome at afternoon. Also nearby places are worth travelling for.

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না

  17. ভালোলাগার ডুয়ার্স

    অপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য ডুয়ার্স অন্যতম বেড়াতে যাওয়ার ঠিকানা। ডুয়ার্সের প্রাকৃতিক রূপ বারবার জায়গা করে নেয় সাহিত্যে। চারদিকে সবুজে ঢাকা পাহাড়। ঠান্ডা মনোরম পরিবেশ। প্রকৃতির এমন রূপ মুগ্ধ করে রাখে।

    আপনার কাছে এই রিভিউ সাহায্যপূর্ণ মনে হয়েছে? হ্যাঁ না