দাওয়াইপানি

ভালো লেগেছে
3

দাওয়াইপানি (Dawaipani) দার্জিলিংয়ের কাছে ৬৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এক অদ্ভুত সুন্দর গ্রাম, যেখানের প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি বাড়ি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার হাতছানি রয়েছে। হিমালয়ের কোলে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে মোড়া শান্ত, নিরিবিলি একটা পাহাড়ি গ্রাম। পর্যটকদের কাছে একটু অফবিট ঠিকই কিন্তু যাঁরা প্রকৃতি ভালোবাসেন, তাঁদের কাছে স্বর্গরাজ্য।

দার্জিলিং এর টাইগার হিলের উল্টোদিকে এবং দার্জিলিং শহর থেকে দূরত্ব মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরে জঙ্গলে ঘেরা গ্রাম দাওয়াইপানি। শান্ত এই গ্রামটি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা ছাড়াও আরও বেশ কিছু শৃঙ্গের অপার্থিব সৌন্দর্য মন ভালো করে দেবে। নামচির চারধাম এবং সামদ্রুপসে মঠও স্পষ্ট দেখা যায় এখান থেকে। আর দেখা যায় দার্জিলিং শহর। সূর্য ডুবলে দার্জিলিং-এর দিকে তাকাবেন, মনে হবে যেন দীপাবলি চলছে। প্রত্যেক রাতে এভাবেই আলোয় সেজে ওঠে গোটা শহর। দাওয়াইপানি থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্তের দৃশ্য আসাধারণ। পাহাড় চড়ার সুযোগও আছে এখানে। আর যাঁরা পাখি ভালোবাসেন, জানা-অজানা বিচিত্র সব পাখি দেখে দিন কাটিয়ে দেবেন অনায়াসে। ফটোগ্রাফির জন্যও আদর্শ এই জায়গা।

দার্জিলিং ম্যাল থেকে পশ্চিমের পাহাড়ে চোখ মেলে দিলে সবুজের সাম্রাজ্যের মাঝখানে মুখ লুকিয়ে দাওয়াইপানি গ্রাম এর খোঁজ মিলে। গাড়ির রাস্তা অনেকটা ঘুরে গেলেও আকাশপথে উড়ে যাওয়া সম্ভব হলে দু’জায়গার দূরত্ব মাত্র ৪ কিমি। যদিও খুব অল্প কিছুদিন হলো পরিচিতির আলো পেয়েছে। আকাশ যদি পরিষ্কার থাকে তবে তো দাওয়াইপানি তুলনাহীন। পাহাড়ের অনেকটা দূর পর্যন্ত যেন গড়িয়ে নেমে গিয়েছে গাড়ি চলার একমাত্র রাস্তা। একের পর এক হাড় হিম করা হেয়ারপিন বেন্ড নয়াবস্তি থেকে পুরানাবস্তি পর্যন্ত। এই রাস্তার ধারেই যাবতীয় বাড়িঘর, প্রাইমারি স্কুল ইত্যাদি। নীচের দিকে ধাপে ধাপে চাষের জমি। ইতিউতি ঝাড়ু গাছের ঝোপ। গ্রামের পাকদণ্ডী বেয়ে পায়ে পায়ে হেঁটে বেড়ানো আর দু’চোখ ভরে নিসর্গের রূপ দেখা ছাড়া অন্য কোনও কাজ নেই দাওয়াইপানিতে।

ব্যস্ত ঘোরাঘুরি নয়, চুপচাপ নির্জনে প্রকৃতির রূপসুধা পানে মন হলে দাওয়াইপানি চলে যান। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের যে রংবাহারি শোভা দেখবেন বরফাবৃত হিমালয়ের বুকে, তা সহজে ভুলতে পারবেন না। সম্প্রতি অনেকগুলি হোম স্টে তৈরি হয়েছে মূল রাস্তার গায়ে। সবগুলি থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান। পুরো দাওয়াইপানি গ্রামটাই যেন ভিউপয়েন্ট। দার্জিলিংয়ের মতো রাত থাকতে উঠে ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে টাইগার হিলে যাওয়ার কোনও দরকার নেই, এখানে কষ্ট করে হাত বাড়িয়ে জানলার পর্দা সরিয়ে দিলেই হল। বাকি দিন সকাল থেকে সন্ধ্যে গ্রামের মানুষের সহজ সরল মিশুকে স্বভাব ও তুলনাহীন অতিথিপরায়ণ মনের পরিচয় পেয়ে ভ্রমণ অন্য মাধুর্যে ভরে উঠবে। হিমালয়ের চেনা-অচেনা পাখি দেখায় মন হলে তো সোনায় সোহাগা। কয়েকটি মনোরম নেচার ট্রেল রয়েছে গ্রামের আশেপাশে। নিরাপদ পার্বত্য অরণ্য প্রকৃতিপড়ুয়ার মুক্ত পাঠশালা। হোম স্টে-র সদস্যরাই আধবেলার পদযাত্রায় আপনার গাইড হবেন।

দর্শনীয়স্থান সমূহ

কুয়াশায় ঘেরা পাহাড়, জঙ্গলের অজানা-অচেনা গাছপালা – সব নিয়ে জায়গাটি অনবদ্য। দাওয়াইপানির আশেপাশে বিখ্যাত কয়েকটি চা বাগিচা রয়েছে – যেমন গ্লেনবার্ন, লামাহাট্টা, তাকদা চা বাগান। যে কোনো একটায় ঘুরে আসতে পারেন সহজেই। বাগান থেকে চা তোলা কিংবা প্রক্রিয়াকরণ দেখতে পাবেন সরাসরি। চেখে নিতে পারেন বাগানের টাটকা চা। দার্জিলিং শহর তো ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে। সেখানে একদিনের সফরে গিয়ে ঘোরাঘুরি, কেনাকাটা, খাওয়াদাওয়া করে ফিরে আসতে পারবেন। আরও কয়েকটি হিল স্টেশনে এখান থেকে যাওয়া যায়। যেমন লামাহাট্টা, সিটং অথবা কালিম্পং

ভ্রমণের সেরা সময়

দাওয়াইপানিতে সারা বছরই ঠান্ডা থাকে। তবে বর্ষার সময়ে প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়। তখন না যাওয়াই ভালো। বছরের অন্য যে কোনো সময়ে আপনি এই গ্রামে ঘুরে আসতে পারেন। তবে পর্যাপ্ত গরম জামা নিতে ভুলবেন না।

যাওয়ার উপায়

কলকাতা থেকে ট্রেনে যেতে চাইলে হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশন থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছতে হবে। এনজেপি বা শিলিগুড়ি থেকে দাওয়াইপানির দূরত্ব ৮১ কিমি ও জোরবাংলো থেকে ১৫ কিমি। NJP থেকে গাড়ি ভাড়া ৩৫০০ টাকা, সময় নেয় কম বেশি ৩ – সাড়ে ৩ ঘন্টা। খরচ কমাতে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং গামী শেয়ার জিপে জোরবাংলো এসে সেখান থেকে গাড়িতে চলা যায় দাওয়াইপানি। শেয়ারের ভাড়া জনপ্রতি ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা।

কলকাতা থেকে প্লেনে বাগডোগরা নেমেও দাওয়াইপানি যাওয়া যায়। এয়ারপোর্ট থেকে ৭৫ কিলোমিটার পেরিয়ে দাওয়াইপানি পৌঁছতে ৩ ঘণ্টার মতো লাগবে।

দাওয়াইপানি থেকে দার্জিলিংয়ের দূরত্ব ২০ কিমি। সময় লাগে ১ ঘন্টা। গাড়ি ভাড়া ২০০০ টাকা।

কোথায় থাকবেন

দাওয়াইপানিতে থাকবার জন্য ৮-১০ টা হোম স্টে আছে। ভাড়া থাকা-খাওয়া জনপ্রতি প্রতিদিন ১২৫০ টাকা। বারবিকিউ করতে চাইলে হাফ কেজি ৪০০ টাকা।

  • রোভার্স স্টে, ফোন নম্বর – ৯০০৭১৩৮৫০৪
  • বীরেনস হোম স্টে, ফোন নম্বর – ৯৬৪১৪৫২৭১৮
  • সিদ্ধার্থ হোম স্টে, ফোন নম্বর: ৭৭৯৭৪৪৪৫৩৫
  • হামরো হোম’ হোম স্টে, কলকাতা বুকিংয়ের ফোন: (০৩৩)২৫৫৫-০২৬২, ২৪৩০ ৪৬৪১
  • Bloomdale Community Homestay, যোগাযোগঃ Prabhat Rai – 7001559588
×

করোনার প্রাদুর্ভাব বেরে যাওয়ায় অনেক ট্যুরিষ্ট প্লেস গুলোতে ভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই সেখানে ভ্রমণের প্ল্যান করলে আগে থেকে ভালো ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে যাবেন।

দিক নির্দেশনা

আপনার রিভিউ দিন

* বাধ্যতামূলক ভাবে পূরণ করতে হবে।